Class 9 Bengali | নিরুদ্দেশ | প্রেমেন্দ্র মিত্র | Best Complete Questions Answers & Summary Guide.

Class 9 Bengali | নিরুদ্দেশ | প্রেমেন্দ্র মিত্র | Best Complete Questions Answers & Summary Guide.

Table of Contents

ভূমিকা:

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর (Class 9) বাংলা পাঠ্যবই ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’-এর অন্তর্ভুক্ত একটি অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী গল্প হলো কল্লোল যুগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’। আপাতদৃষ্টিতে খবরের কাগজের পাতায় চোখ রেখে আড্ডার ছলে শুরু হওয়া এই গল্পটি আসলে মধ্যবিত্ত পরিবারের মনস্তত্ত্ব, অভিমান, এবং নিখোঁজ সংবাদের আড়ালে থাকা জটিল সামাজিক বাস্তবতার এক অসাধারণ প্রতিফলন।

পরীক্ষা ও মূল্যায়নে ভালো ফলাফলের জন্য গল্পের প্রতিটি স্তরের বিষয়সংক্ষেপ, নামকরণের সার্থকতা, লেখক পরিচিতি এবং প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুশীলন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আজকের এই পোস্টে www.gkpathya.in-এর পক্ষ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের পাঠ্যভিত্তিক সম্পূর্ণ আলোচনা, সহজ ভাষায় বিষয়সংক্ষেপ এবং পর্ষদের নতুন প্রশ্নরীতি অনুযায়ী সম্ভাব্য সমস্ত প্রশ্নোত্তর সহজ ও নিখুঁতভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো। আশা করি, এটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও সম্পূর্ণ করে তুলবে।

নিরুদ্দেশ

‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের বিষয়সংক্ষেপ:

শীতের বিশ্রী দিন ও নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা

গল্পটির সূচনা ঘটে শীতকালের এক মেঘলা, ঝাপসা ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার দিনে। এমন থমথমে দিনে কথক এবং তাঁর বন্ধু সোমেশ একটি ঘরে বসে চা খাচ্ছিলেন। খবরের কাগজ উল্টাতে উল্টাতে কথক দেখতে পান যে, একই পাতায় পরপর সাত-সাতটি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। এই বিজ্ঞাপনগুলো দেখে কথক কৌতুক অনুভব করেন এবং বন্ধু সোমেশকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, নিরুদ্দেশ হওয়াটা আসলে এক ধরনের প্রথা বা নাটক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কথকের মতে, যারা বাড়ি ছেড়ে পালায়, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাবা-মায়ের খুব আদরের ও অভিমানী ছেলে। সামান্য বকাঝকা বা শাসন সহ্য করতে না পেরে তারা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন পরেই যখন তারা খবরের কাগজে বাবার আকুল আবেদন এবং মায়ের কান্নাকাটির কথা পড়ে, তখন তাদের অভিমান ভেঙে যায়। তারা বীরদর্পে বাড়ি ফিরে আসে এবং পরিবারে আবার আনন্দের হাওয়া বয়ে যায়। কথক এই পুরো ব্যাপারটিকে একটি নির্দোষ ও সাময়িক প্রহসন বলেই মনে করেছিলেন।

সোমেশের নীরবতা ও গভীর ট্র্যাজেডির অবতারণা

কথকের এমন হালকা ও কৌতুকপূর্ণ কথায় সোমেশ কিন্তু বিন্দুমাত্র হাসল না বা কৌতূহল দেখাল না। সে অত্যন্ত উদাসীনভাবে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে জানাল যে, নিরুদ্দেশের সব ঘটনা এত সহজ বা সুখান্তক হয় না। সব নিরুদ্দেশই প্রহসন নয়, এর পেছনে এমন এক ভয়ংকর ও নির্মম সত্য লুকিয়ে থাকে যা মানুষের জীবনকে চিরকালের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এরপর সোমেশ কথককে একটি গল্প শোনাতে শুরু করে।

শোভনের গৃহত্যাগ ও বাবার অনুশোচনা

সোমেশের বলা গল্পটি ছিল ‘শোভন’ নামের এক তরুণের। শোভনের বাবা ছিলেন অত্যন্ত ধনী, বদরাগী ও একগুঁয়ে প্রকৃতির জমিদার। একদিন সামান্য কোনো কারণে শোভনের ওপর প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তিনি তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। অভিমানী তরুণ শোভন বাবার সেই কটু কথা সহ্য করতে না পেরে সত্যি সত্যিই ঘর ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

প্রথমে শোভনের বাবা নিজের একগুঁয়েমির কারণে ছেলের খোঁজ করার প্রয়োজন মনে করেননি। কিন্তু দিন, সপ্তাহ ও মাস গড়ালেও শোভন আর ফিরে এলো না। শোভনের মা ছেলের শোকে আকুল হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন এবং নাওয়া-খাওয়া ত্যাগ করেন। স্ত্রীর এমন অবস্থা দেখে এবং দিন দিন শোভনের কোনো খবর না পেয়ে বাবার একগুঁয়েমি ভাঙতে শুরু করে। তিনি খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেন। প্রথমদিকের বিজ্ঞাপনে খানিকটা শাসনের সুর থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে বাবার আকুলতা বাড়তে থাকে। একের পর এক বিজ্ঞাপনে তিনি শোভনকে ফিরে আসার জন্য কাকুতি-মিনতি করতে থাকেন।

শোভনের অনুতপ্ত হয়ে বাড়ি ফেরা

দীর্ঘ দুই বছর পর, বাইরে ঘুরে বেড়ানো শোভনের হাতে একটি খবরের কাগজ আসে। সেখানে নিজের বাবার কাতর আকুতি এবং মায়ের অসুস্থতার কথা পড়ে শোভনের অভিমান গলে জল হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে যে সে কত বড় ভুল করেছে। তার বাবা সত্যিই অনুতপ্ত এবং তার মা তাকে না দেখে আর বাঁচবেন না। অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে শোভন সিদ্ধান্ত নেয় যে সে বাড়ি ফিরে যাবে এবং বাবা-মায়ের চরণে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নেবে।

ফিরে আসার পর নির্মম প্রত্যাখ্যান

অভিমান ভুলে শোভন যখন নিজের জন্মভিটেয় এসে পৌঁছায়, তখন সেখানে এক মর্মান্তিক পরিস্থিতি তার জন্য অপেক্ষা করছিল। শোভন তার ঘরে ঢুকে দেখে যে তার এককালের বদরাগী ও দাপুটে বাবা আজ বয়সের ভারে জীর্ণ, রুগ্ন ও বুড়ো হয়ে গেছেন। শোভন ভেবেছিল বাবাকে দেখে প্রণাম করবে, কিন্তু তাকে দেখেই বৃদ্ধ বাবা ভয়ে ও সংশয়ে কেঁপে উঠে কম্পিত স্বরে বলে ওঠেন— “কে?” শোভন হতবাক হয়ে যায়।

আসলে, শোভন নিরুদ্দেশ হওয়ার পর খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে অনেক প্রতারক ও সুযোগসন্ধানী ছেলে শোভন সেজে সম্পত্তি ও টাকার লোভে তাদের বাড়িতে এসেছিল এবং বৃদ্ধ বাবাকে ঠকিয়েছিল। ক্রমাগত প্রতারিত হতে হতে বৃদ্ধ বাবার বিশ্বাস সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে, রক্ত-মাংসের আসল সন্তান শোভন সামনে এসে দাঁড়ালেও তিনি তাকে চিনতে অস্বীকার করেন এবং তাকে আর একটা ‘নকল শোভন’ বা প্রতারক ভেবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

নিজের ঘরেই ‘নকল সন্তান’ সাজার প্রস্তাব

নিজের বাবার কাছে এমন নির্মম প্রত্যাখ্যান পেয়ে শোভন যখন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন বাড়ির পুরোনো নায়েবমশাই তাকে আড়ালে ডেকে নেন। নায়েবমশাই জানান যে, শোভনের মা এখন মৃত্যুশয্যায়, যেকোনো মুহূর্তে তাঁর প্রাণপাখি উড়ে যেতে পারে। মুমূর্ষু মা শুধু তাঁর হারানো ছেলে শোভনকে একবার দেখার আশায় বুক বেঁধে আছেন। নায়েবমশাই শোভনকে একজন বহিরাগত যুবক ভেবে তার হাতে এক তাড়া টাকার নোট গুঁজে দেন এবং অনুরোধ করেন সে যেন ‘নকল শোভন’ সেজে মুমূর্ষু মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, যাতে বৃদ্ধা শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেন।

আত্মপরিচয় হারিয়ে ‘সোমেশ’-এ রূপান্তর

নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কাছে নিজের পরিচয়ে পৌঁছাতে না পেরে, টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে ‘নকল সন্তান’ হিসেবে দাঁড়ানোর এই প্রস্তাব শোভনের হৃদয়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। নিজের রক্ত, নিজের পরিচয় এবং নিজের মাতৃত্বের অধিকারের ওপর এই চরম আঘাত সে সহ্য করতে পারেনি। যে বাড়িতে সে জন্মেছিল, যে বাবা-মায়ের সে সন্তান ছিল—সেখানেই সে চিরকালের জন্য পর হয়ে গেল। নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের এই মর্মান্তিক ব্যর্থতা তাকে ঘর ছেড়ে চিরকালের জন্য এক অজানা অন্ধকারে ঠেলে দিল।

গল্পের শেষে কথক স্তব্ধ হয়ে যান এবং অনুধাবন করতে পারেন যে, সোমেশ কোনো কাল্পনিক গল্প বলছিল না। সোমেশ নিজেই হলো সেই হতভাগ্য ‘শোভন’, যে নিজের বাড়ি ফিরেও নিজের পরিচয় আর কোনোদিন ফেরত পায়নি এবং চিরদিনের জন্য ‘সোমেশ’ নাম গ্রহণ করে এক অনন্ত নিরুদ্দেশের পথিক হয়ে গেছে।

আরো পড়ুন: এক কথায় প্রকাশ: Ek Kothay Prokash. গুরুত্বপূর্ণ 400+ এক কথায় প্রকাশ:

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

১. ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পটির রচয়িতা কে?

  • (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • (খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • (গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  • (ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    • উত্তর: (গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র

২. দিনের আবহাওয়া কেমন ছিল?

  • (ক) খুব রোদ
  • (খ) প্রবল ঝড়-বৃষ্টি
  • (গ) শীতের দিনে বাদলার মতো অস্বস্তিকর
  • (ঘ) সুন্দর ও মনোরম
    • উত্তর: (গ) শীতের দিনে বাদলার মতো অস্বস্তিকর

৩. কথক খবরের কাগজে একসঙ্গে কয়টি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দেখেছিলেন?

  • (ক) তিনটি
  • (খ) পাঁচটি
  • (গ) সাতটি
  • (ঘ) দশটি
    • উত্তর: (গ) সাতটি

৪. কথকের বন্ধু সোমেশ কী করছিল?

  • (ক) চা খাচ্ছিল
  • (খ) বই পড়ছিল
  • (গ) উদাসীনভাবে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছিল
  • (ঘ) ঘুমাচ্ছিল
    • উত্তর: (গ) উদাসীনভাবে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছিল

৫. কথকের মতে নিরুদ্দেশ হওয়া ছেলেরা কেমন হয়?

  • (ক) খুব ভালো
  • (খ) অত্যন্ত রাগী
  • (গ) বাবা-মায়ের আদরের ও অভিমানী
  • (ঘ) খুব গরিব
    • উত্তর: (গ) বাবা-মায়ের আদরের ও অভিমানী

৬. সোমেশ যে গল্পটি শুনিয়েছিল, তার প্রধান চরিত্রের নাম কী?

  • (ক) রমেশ
  • (খ) সুকুমার
  • (গ) শোভন
  • (ঘ) তপন
    • উত্তর: (গ) শোভন

৭. শোভন কেন বাড়ি ছেড়েছিল?

  • (ক) বাবার ওপর রাগ করে
  • (খ) মায়ের ওপর রাগ করে
  • (গ) পরীক্ষায় ফেল করে
  • (ঘ) চুরি করে
    • উত্তর: (ক) বাবার ওপর রাগ করে

৮. শোভনের বাবা কেমন প্রকৃতির লোক ছিলেন?

  • (ক) খুব শান্ত
  • (খ) বদরাগী ও একগুঁয়ে
  • (গ) খুব কৃপণ
  • (ঘ) খুব দয়ালু
    • উত্তর: (খ) বদরাগী ও একগুঁয়ে

৯. শোভনের বাবা খবরের কাগজে কীসের বিজ্ঞাপন দিতেন?

  • (ক) চাকরির
  • (খ) নিরুদ্দেশের
  • (গ) বাড়ি বিক্রির
  • (ঘ) বিয়ের
    • উত্তর: (খ) নিরুদ্দেশের

১০. শোভন কত বছর পর বাড়ি ফিরেছিল?

  • (ক) এক বছর
  • (খ) দুই বছর
  • (গ) তিন বছর
  • (ঘ) পাঁচ বছর
    • উত্তর: (খ) দুই বছর

১১. শোভন বাড়ি ফিরে তার বাবাকে কেমন দেখেছিল?

  • (ক) খুব বুড়ো ও দুর্বল
  • (খ) আগের মতোই বদরাগী
  • (গ) খুব হাসিখুশি
  • (ঘ) রোগাটে
    • উত্তর: (ক) খুব বুড়ো ও দুর্বল

১২. শোভনকে দেখে তার বাবা কী বলেছিলেন?

  • (ক) তুই ফিরেছিস!
  • (খ) কে?
  • (গ) ভেতরে আয়।
  • (ঘ) তুই আবার এসেছিস?
    • উত্তর: (খ) কে?

১৩. শোভনের বাবার সঙ্গে কার সাদৃশ্য ছিল? (পাঠ্যবইয়ের অনুষঙ্গে: শোভনের চেহারা/ঘটনার সাদৃশ্য)

  • (ক) শোভনের মায়ের
  • (খ) নায়েবমশাইয়ের
  • (গ) একজন কর্মচারীর
  • (ঘ) আর একটি নিরুদ্দেশ ছেলের
    • উত্তর: (ঘ) আর একটি নিরুদ্দেশ ছেলের

১৪. নায়েবমশাই শোভনকে কী বলেছিলেন?

  • (ক) চলে যেতে
  • (খ) বসতে
  • (গ) খেতে
  • (ঘ) মারতে
    • উত্তর: (ক) চলে যেতে

১৫. শোভনের মায়ের কী অবস্থা ছিল?

  • (ক) তিনি সুস্থ ছিলেন
  • (খ) তিনি মুমূর্ষু ছিলেন
  • (গ) তিনি বাইরে গিয়েছিলেন
  • (ঘ) তিনি ঘুমাচ্ছিলেন
    • উত্তর: (খ) তিনি মুমূর্ষু ছিলেন

১৬. মুমূর্ষু মায়ের সান্ত্বনার জন্য নায়েবমশাই শোভনকে কী করতে অনুরোধ করেছিলেন?

  • (ক) ডাক্তার ডাকতে
  • (খ) ওষুধ আনতে
  • (গ) হারানো ছেলে সেজে দেখা দিতে
  • (ঘ) গান গাইতে
    • উত্তর: (গ) হারানো ছেলে সেজে দেখা দিতে

১৭. নায়েবমশাই শোভনের হাতে কী গুঁজে দিয়েছিলেন?

  • (ক) চিঠি
  • (খ) ছবি
  • (গ) নোটের তাড়া
  • (ঘ) খাবার
    • উত্তর: (গ) নোটের তাড়া

১৮. শোভনের গল্পটি আসলে কার জীবনের গল্প?

  • (ক) কথকের
  • (খ) নায়েবমশাইয়ের
  • (গ) সোমেশের
  • (ঘ) শোভনের বাবার
    • উত্তর: (গ) সোমেশের

১৯. “অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা কী হয় জান তো?” – বক্তা কে?

  • (ক) সোমেশ
  • (খ) কথক
  • (গ) শোভন
  • (ঘ) নায়েবমশাই
    • উত্তর: (খ) কথক

২০. ‘মুমূর্ষু’ শব্দের অর্থ কী?

  • (ক) মৃত
  • (খ) মরণাপন্ন
  • (গ) অসুস্থ
  • (ঘ) অজ্ঞান
    • উত্তর: (খ) মরণাপন্ন

আরো পড়ুন: Class 8 English | Someone

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

১. ‘দিনটা ভারী বিশ্রী।’ – দিনটা বিশ্রী কেন?

উত্তর: দিনটি ছিল শীতকালের। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং বৃষ্টির মতো অস্বস্তিকর আবহাওয়া ছিল, যা চারপাশের পরিবেশকে মৃতের মতো অসাড় করে তুলেছিল। তাই দিনটিকে বিশ্রী বলা হয়েছে।

২. খবরের কাগজে কথক কী দেখেছিলেন?

উত্তর: খবরের কাগজে কথক একসঙ্গে সাত-সাতটি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দেখেছিলেন, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত আশ্চর্য এবং কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে হয়েছিল।

৩. কথকের মতে নিরুদ্দেশ হওয়া ছেলেরা সাধারণত কেমন হয়?

উত্তর: কথকের মতে, নিরুদ্দেশ হওয়া ছেলেরা সাধারণত বাবা-মায়ের আদরের এবং অভিমানী হয়। সামান্য বকাঝকা খেয়ে তারা বাড়ি ছাড়ে এবং পরে আবার ফিরে আসে।

৪. সোমেশ কথকের কথায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল?

উত্তর: কথক যখন নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন নিয়ে মজা করছিলেন, তখন সোমেশ কোনো কৌতূহল বা হাসি প্রকাশ করেনি। সে সম্পূর্ণ উদাসীনভাবে শুধু সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছিল।

৫. শোভন কেন নিরুদ্দেশ হয়েছিল?

উত্তর: শোভনের বাবা ছিলেন বদরাগী ও একগুঁয়ে। একদিন সামান্য কারণে তিনি শোভনকে খুব বকাঝকা করেন এবং বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। অভিমানে শোভন সত্যি সত্যিই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

৬. শোভন নিরুদ্দেশ হওয়ার পর তার বাবার অবস্থা কেমন হয়েছিল?

উত্তর: প্রথমদিকে শোভনের বাবা একগুঁয়েমি করে কোনো খোঁজ করেননি। কিন্তু সময় পেরোনোর সাথে সাথে এবং স্ত্রীর কান্নাকাটিতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন এবং খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেন।

৭. শোভন কেন বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

উত্তর: দীর্ঘ দুই বছর পর শোভন বুঝতে পেরেছিল যে তার বাবা সত্যিই অনুতপ্ত এবং তার মা তাকে না দেখে আর বাঁচবেন না। বাবা-মায়ের এই কষ্টের কথা ভেবেই সে বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

৮. বাড়ি ফিরে শোভন তার বাবাকে কেমন দেখেছিল?

উত্তর: বাড়ি ফিরে শোভন দেখেছিল যে তার বাবা সম্পূর্ণ বদলে গেছেন। তিনি আগের মতো বদরাগী নেই, বরং অনেক বুড়ো, দুর্বল এবং রুগ্ন হয়ে পড়েছেন।

৯. শোভনের বাবা শোভনকে দেখে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন?

উত্তর: শোভনকে দেখে তার বাবা তাকে চিনতে অস্বীকার করেন। তিনি কম্পিত স্বরে জিজ্ঞাসা করেন, “কে?” এবং নায়েবমশাইকে বলেন তাকে চলে যেতে দিতে।

১০. শোভনের বাবার এমন আচরণের কারণ কী ছিল?

উত্তর: শোভনের বাবার এমন আচরণের কারণ ছিল যে, এর আগে শোভনের মতো দেখতে অন্য ছেলেরাও নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দেখে টাকা বা সম্পত্তির লোভে তার কাছে এসেছিল। তাই তিনি আসল শোভনকেও নকল ভেবেছিলেন।

১১. শোভনের মায়ের কী অবস্থা ছিল?

উত্তর: শোভনের মা তখন মৃত্যুশয্যায় এবং মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। তিনি তার হারানো ছেলেকে দেখার আশায় মৃত্যুতেও শান্তি পাচ্ছিলেন না।

১২. নায়েবমশাই শোভনকে কী করতে অনুরোধ করেছিলেন?

উত্তর: মুমূর্ষু মায়ের শেষ সান্ত্বনার জন্য নায়েবমশাই শোভনকে অনুরোধ করেছিলেন, সে যেন হারানো ছেলে সেজে একবার তার মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, কারণ তার চেহারা অনেকটা শোভনের মতো।

১৩. নায়েবমশাই শোভনের হাতে কী দিয়েছিলেন এবং কেন?

উত্তর: নায়েবমশাই শোভনের হাতে অনেকগুলো টাকার নোটের তাড়া গুঁজে দিয়েছিলেন। এটি ছিল মুমূর্ষু মায়ের কাছে নকল ছেলে সেজে যাওয়ার পারিশ্রমিক বা ঘুষ।

১৪. গল্প শেষে কথক কী বুঝতে পেরেছিলেন?

উত্তর: গল্প শেষে কথক বুঝতে পেরেছিলেন যে, সোমেশ কোনো কাল্পনিক গল্প বলেনি। সোমেশ নিজেই হলো সেই হতভাগ্য শোভন, যে নিজের বাড়িতে ফিরেও নিজের পরিচয় ফিরে পায়নি।

১৫. ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের কোন্ দিকটি ফুটে উঠেছে?

উত্তর: গল্পে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের একটি ট্র্যাজিক বা মর্মান্তিক দিক ফুটে উঠেছে, যেখানে হারানো ছেলে বাড়ি ফিরে এলেও বাবা-মা তাকে চিনতে পারে না এবং তাকে নকল ছেলে ভেবে দূর করে দেয়।

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

১. ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে শোভনের বাড়ি ফেরা এবং তার পরবর্তী নির্মম পরিণতির বর্ণনা দাও।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে শোভন ছিল এক অভিমানী তরুণ, যে বাবার কটু কথা ও বকাঝকা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর খবরের কাগজে বাবা-মায়ের ব্যাকুল আকৃতি ও কষ্টের কথা বুঝতে পেরে সে অনুতপ্ত হৃদয়ে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু নিজের জন্মভিটেয় ফিরে সে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তা ছিল অত্যন্ত নির্মম ও হৃদয়বিদারক।

  • বাবার কাছে প্রত্যাখ্যান: বাড়ি ফিরে শোভন দেখে তার এককালের দাপুটে বাবা বয়সের ভারে বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কিন্তু শোভনের জন্য সবচেয়ে বড়ো আঘাত ছিল, যখন তার বাবা তাকে চিনতে অস্বীকার করেন। শোভন নিরুদ্দেশ হওয়ার পর খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে অনেক প্রতারক ছেলে ‘নকল শোভন’ সেজে টাকা ও সম্পত্তির লোভে তাদের বাড়িতে এসে বৃদ্ধ বাবাকে ঠকিয়েছিল। ফলে আসল সন্তান সামনে এলেও তার বাবা তাকে আর এক প্রতারক বা ভণ্ড ভেবে দূর করে দেন।
  • নিজের জন্মদাত্রীর কাছে ‘নকল সন্তান’ সাজার প্রস্তাব: পরিস্থিতি চরম ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয় যখন বাড়ির নায়েবমশাই শোভনকে একজন বহিরাগত যুবক ভেবে আড়ালে ডেকে নেন। নায়েবমশাই জানান যে শোভনের মা মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুশয্যায়। মায়ের শেষ সান্ত্বনার জন্য নায়েবমশাই শোভনকে টাকার লোভ দেখিয়ে ‘নকল শোভন’ সেজে মুমূর্ষু মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন।

নিজের ঘরে ফিরে এসে নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কাছেই ভাড়াটে ‘নকল ছেলে’ সাজার এই অপমান ও প্রস্তাব শোভনের আত্মসম্মান ও মাতৃত্ববোধকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। নিজের রক্ত ও অস্তিত্ব প্রমাণে চরম ব্যর্থ হয়ে সে চিরকালের জন্য সোমেশ নাম গ্রহণ করে এক অনন্ত নিরুদ্দেশের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়।

২. “অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা কী হয় জান তো?” — বক্তা কে? নিরুদ্দেশ সম্পর্কে বক্তার ধারণা কী ছিল এবং সোমেশের গল্পের পর সেই ধারণার কী পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর:

বক্তা: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের কথক। তিনি শীতের এক মেঘলা দিনে খবরের কাগজে পর পর সাতটি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দেখে বন্ধু সোমেশকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলেছিলেন।

নিরুদ্দেশ সম্পর্কে বক্তার প্রাথমিক ধারণা:

কথকের ধারণা ছিল যে, খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনগুলো আসলে এক ধরনের সাময়িক নাটক বা প্রহসন মাত্র। তাঁর মতে, অধিকাংশ ছেলেই বাবা-মায়ের খুব আদরের ও অভিমানী হয়। সামান্য শাসন বা বকাঝকা খেয়ে তারা রাগের বশে বাড়ি ছাড়ে। কিন্তু কয়েকদিন পরেই যখন তারা খবরের কাগজে বাবার আকুল আবেদন এবং মায়ের কান্নাকাটির খবর পড়ে, তখন তাদের অভিমান গলে যায়। তারা বীরদর্পে বাড়ি ফিরে আসে এবং পরিবারে আবার আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। নিরুদ্দেশের পুরো বিষয়টিকে কথক ছেলেমানুষি রাগ-অভিমানের এক কৌতুকপূর্ণ খেলা বলে মনে করতেন।

সোমেশের গল্পের পর ধারণার পরিবর্তন:

সোমেশ যখন শোভনের নির্মম জীবনের গল্পটি শোনায়, তখন কথকের এই হালকা ও রসিকতাপূর্ণ ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি বুঝতে পারেন যে সব নিরুদ্দেশ সুখান্তক বা কৌতুকপূর্ণ হয় না; এর পেছনে এক অতল অন্ধকার ও ট্র্যাজিক সত্য লুকিয়ে থাকে। শোভনের মতো কোনো অনুতপ্ত সন্তান যদি সত্যি ঘরে ফিরে আসে, অথচ প্রতারকদের ভয়ে নিজের বাবা-মা তাকে চিনতে না পেরে তাড়িয়ে দেয় এবং নিজের ঘরেই তাকে পর হয়ে যেতে হয়—তবে তা জীবনের চেয়েও বড়ো ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়। সোমেশের গল্প শুনে কথক নিরুদ্দেশের এই নির্মম ও করুণ সত্যটি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন।

৩. ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প অবলম্বনে সোমেশ বা শোভন চরিত্রটির ট্র্যাজেডি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হলো সোমেশ, যার প্রকৃত নাম ছিল শোভন। তার জীবন ও পরিণতির গল্পটি আসলে মানবজীবনের এক গভীর ও নির্মম ট্র্যাজেডির দলিল।

  • অভিমান ও গৃহত্যাগ: শোভন ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অভিমানী এক তরুণ। বাবার ক্ষণিক রাগের বশবর্তী হয়ে বলা কথায় আঘাত পেয়ে সে ঘর ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়। তবে সে অনুভূতিহীন ছিল না; দুই বছর পর বাবা-মায়ের ব্যাকুলতা ও কষ্টের কথা বুঝতে পেরে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে সে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং ঘরে ফিরে আসে।
  • বাবার কাছে প্রত্যাখ্যান: শোভনের ট্র্যাজেডির আসল সূচনা ঘটে নিজের ঘরে পা রাখার পর। যে বাবার কাছে সে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইতে এসেছিল, সেই বাবা তাকে চিনতেই অস্বীকার করেন। তার অনুপস্থিতিতে অনেক প্রতারক ছেলে ‘নকল শোভন’ সেজে সম্পত্তি বা টাকার লোভে এসে বৃদ্ধ বাবাকে প্রতারিত করেছিল। ফলে আসল সন্তান হওয়া সত্ত্বেও শোভন তার বাবার কাছে অন্য একজন প্রতারক বলেই সাব্যস্ত হয়।
  • মায়ের কাছে নকল সাজবার প্রস্তাব: ট্র্যাজেডির চরম মুহূর্ত আসে যখন নায়েবমশাই শোভনকে একজন বহিরাগত ভেবে টাকার লোভ দেখান এবং মুমূর্ষু মায়ের সামনে ‘নকল শোভন’ সেজে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন। নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কাছেই ভাড়াটে সন্তান হিসেবে উপস্থিত হওয়ার এই নির্মম প্রস্তাব তার সন্তানপরিচয় ও আত্মসম্মানকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

নিজের ঘরে ফিরেও আপন পরিচয় হারিয়ে ফেলা এবং বাবা-মায়ের কাছে পর হয়ে যাওয়ার এই চরম অসহায়তাই শোভনকে চিরকালের জন্য ‘সোমেশ’-এ রূপান্তরিত করে। এক উদাসীন, নিঃসঙ্গ ও আত্মপরিচয়হীন জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়াই শোভন চরিত্রের মূল ট্র্যাজেডি।

৪. “শোভনকে একটা কাজ করতে হবে।” — কোন্ কাজের কথা বলা হয়েছে? এই কাজটি শোভনের কাছে কতটা মর্মান্তিক ছিল তা বুঝিয়ে দাও।

উত্তর:

কাজের কথা: প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে দীর্ঘ দুই বছর পর শোভন যখন অনুতপ্ত হয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে, তখন নায়েবমশাই তাকে একটি কাজের অনুরোধ জানান। কাজটি হলো— শোভনকে কিছু টাকার বিনিময়ে একজন ‘ভাড়াটে ছেলে’ বা ‘নকল শোভন’ সেজে মৃত্যুশয্যায় থাকা তার মুমূর্ষু মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে, যাতে মা তাঁর হারানো ছেলেকে দেখার শেষ শান্তিটুকুর মধ্য দিয়ে প্রাণত্যাগ করতে পারেন।

মর্মান্তিকতার কারণ: এই কাজটি শোভনের জন্য ছিল জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও অপমানজনক ঘটনা। কারণ:

  1. আসল সন্তান হয়েও অনাথ: শোভন কোনো প্রতারক বা অচেনা যুবক ছিল না, সে সত্যি সত্যিই ওই পরিবারের হারিয়ে যাওয়া রক্ত-মাংসের সন্তান ছিল।
  2. মাতৃত্ব ও আত্মসম্মানে আঘাত: নায়েবমশাই বা তার বাবা তাকে চিনতে পারেননি। নিজের মায়ের কাছে নিজের পরিচয়ে পৌঁছাতে না পেরে, টাকার বিনিময়ে নিজের মায়ের সামনেই ‘নকল ছেলে’ হিসেবে অভিনয় করার প্রস্তাব তার মাতৃত্ববোধ ও আত্মমর্যাদায় চরম আঘাত হেনেছিল।
  3. পরিচয় পাওয়ার স্থায়ী ব্যর্থতা: নিজের জন্মভিটেয় দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে না পারার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে ভিতর থেকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।

নিজের মায়ের শেষ মুহূর্তের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য নিজের পরিচয়কেই ‘নকল’ হিসেবে গ্রহণ করার এই নির্মম পরিস্থিতি শোভনের কাছে চরম মর্মান্তিক ছিল।

৫. ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর: সাহিত্যের রূপকল্পে গল্প বা উপন্যাসের নাম রচনার মূল বক্তব্য ও অভ্যন্তরীণ ট্র্যাজেডিকে পাঠকের সামনে স্পষ্ট করে তোলে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পটির নামকরণও ঠিক তেমনই তাৎপর্যপূর্ণ।

  • বাহ্যিক নিরুদ্দেশ: গল্পটি শুরু হয় খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিদিনের ‘নিরুদ্দেশ’-এর বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। গল্পের কথক প্রথমে মনে করেছিলেন যে, এসব নিরুদ্দেশ আসলে সাময়িক রাগের বশে ঘর ছাড়া আদুরে ছেলেদের এক ধরনের নাটক বা প্রহসন। অল্প কয়েকদিন পরই তারা বাড়ি ফিরে আসে।
  • বাস্তব ও নির্মম নিরুদ্দেশ: গল্পের প্রধান চরিত্র শোভনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিরুদ্দেশের আসল ট্র্যাজেডি প্রকাশ পায়। বাবার ওপর অভিমান করে শোভন ঘর ছেড়েছিল সত্য, কিন্তু দুই বছর পর যখন সে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এলো, তখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্রতারকদের ধাক্কায় তার বাবা তাকে চিনতে অস্বীকার করেন এবং তাকে অন্য এক প্রতারক ভেবে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
  • আত্মপরিচয় হারানোর চরম নিরুদ্দেশ: শোভনের শারীরিক ঘর ছাড়ার চেয়েও বড়ো নিরুদ্দেশ ঘটেছিল তার মানসিক ও সামাজিক পরিচয়ে। সে নিজের বাড়ি ফিরেও নিজের পরিচয় আর কোনোদিন ফিরে পায়নি। নিজের ঘরে পর হয়ে সে চিরকালের জন্য সোমেশ নাম গ্রহণ করে এক অনন্ত নিরুদ্দেশের পথে পা বাড়ায়।

গল্পটিতে ভৌগোলিক ঘর ছাড়ার ‘নিরুদ্দেশ’ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলার গভীর ‘নিরুদ্দেশ’ রূপায়িত হয়েছে। তাই বলা যায়, ‘নিরুদ্দেশ’ নামকরণটি অত্যন্ত সার্থক, ভাবগম্ভীর ও ব্যঞ্জনাধর্মী হয়েছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *