পরিনমন — Class 12 Education 4th Semester: Easy Guide & Top 7 Key Features

পরিনমন — Class 12 Education 4th Semester: Easy Guide & Top 7 Key Features

পরিনমন বা Maturation হলো শিশুমনস্তত্ত্ব ও শিক্ষার অন্যতম প্রধান জৈবিক ভিত্তি। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান (Education) পাঠ্যক্রমে শিখন ও পরিনমনের অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর নিশ্চিত করতে এবং বিষয়টির প্রতিটি খুঁটিনাটি সহজ ভাষায় বুঝতে এই সম্পূর্ণ নিবন্ধটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

Table of Contents

ভূমিকা:

মানবজীবনের বিকাশ একটি জটিল ও নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। জন্মের পর থেকে একটি শিশু কীভাবে ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম হয়ে ওঠে, তা বুঝতে হলে পরিনমন ও শিখনের ধারণা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। কোনো বিশেষ অনুশীলন বা বাহ্যিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই অভ্যন্তরীণ জৈবিক নিয়মে যে স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে, মনস্তত্ত্বে তাকেই পরিনমন বলা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিকের Class 12 Education বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ে “শিখন ও পরিনমন” সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রতিটি বোর্ডের পরীক্ষায় নিয়মিত আসে। নিচে এই সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী ২ নম্বর ও ৪ নম্বরের উত্তর কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নিখুঁতভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো।

পরিনমন

পরিনমন কাকে বলে? (Definition of Maturation).

সংজ্ঞা:

বাহ্যিক পরিবেশগত অভিজ্ঞতা বা কোনো প্রকার প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই বংশগত জৈবিক নিয়মে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং মানসিক ক্ষমতার যে স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে, তাকে পরিনমন বলে।

মনোবিদ গেসেলের (Gesell) মতে:“পরিনমন হলো এমন এক জৈবিক অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া যা ব্যক্তির অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশে সাহায্য করে।”

সহজ উদাহরণ:

  • একটি ছোট্ট শিশু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজে থেকে উঠে বসতে, হামাগুড়ি দিতে বা হাঁটতে শেখে।
  • শিশুর বয়সের সাথে সাথে তার হাতের আঙুলের পেশী শক্ত হওয়া, যাতে সে পেন্সিল ধরতে পারে—এটিও পরিনমনের একটি প্রত্যক্ষ ফল।
See also  শিখন: Class 12 শিক্ষা বিজ্ঞান Semester 4: Amazing Definitions, Characteristics & Top Types.

পরিনমনের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Maturation).

স্বতঃস্ফুর্ত ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া (Spontaneous Process)

পরিণমন হলো সম্পূর্ণ একটি অভ্যন্তরীণ, স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত শারীরিক বিকাশ। এর জন্য বাহ্যিক পরিবেশগত কোনো সচেতন চেষ্টা বা কৃত্রিম উদ্দীপকের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট বয়স ও শারীরিক পরিপক্কতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে।

জৈবিক ও বংশগতি নিয়ন্ত্রিত (Biological & Hereditary)

পরিণমন প্রধানত মানবদেহের অভ্যন্তরীণ জৈবিক নিয়মে পরিচালিত হয়। এটি প্রজাতির বংশগত জিন (Gene) ও ক্রোমোজোমীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি প্রজাতির শিশুর শারীরিক বিকাশের একটি নির্দিষ্ট জৈবিক নকশা থাকে, যা পরিণমনকে পরিচালিত করে।

অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ নিরপেক্ষ (Independent of Practice)

শিখনের মতো পরিণমন অর্জনের জন্য প্রতিদিনের বিশেষ অনুশীলন, তালিম বা কোনো প্রথাগত শিক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। উপযুক্ত সময় ও বয়স হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি নিজে থেকেই কাজ করার ক্ষমতা ও উপযুক্ততা লাভ করে।

নির্দিষ্ট বয়সসীমা ও পরিপক্কতা (Specific Age Limit)

পরিণমন আমৃত্যু চলতে থাকে না। মানবদেহের বৃদ্ধি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকাশ একটি নির্দিষ্ট বয়সে গিয়ে (সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক বা ২০-২৫ বছর বয়সের মধ্যে) পূর্ণতা পায় এবং তারপর স্থির বা স্থিমিত হয়ে যায়।

শিখনের পূর্বশর্ত ও সক্ষমতা গঠন (Prerequisite for Learning)

পরিণমন হলো যেকোনো নতুন কাজ শেখার মূল ভিত্তি। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মানসিক দিক থেকে উপযুক্ত পরিণমন না ঘটলে শিশুর পক্ষে কোনো বিষয় শেখা সম্ভব নয়। এটি ব্যক্তির কাজ করার জৈবিক সক্ষমতা তৈরি করে দেয়।

ক্লান্তিহীন স্বতশ্চলতা (Fatigue-Free Process)

যেহেতু পরিণমন কোনো কঠোর শারীরিক পরিশ্রম, সচেতন প্রচেষ্টা বা মানসিক অনুশীলনের ফল নয়, তাই এই স্বাভাবিক জৈবিক বিকাশের প্রক্রিয়ায় শিশুর কোনো শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি বা অবশাদ আসে না।

প্রজাতিক সর্বজনীনতা (Species Universality)

একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত সমস্ত স্বাভাবিক শিশুর ক্ষেত্রে পরিণমনের গতি ও ক্রম প্রায় একই রূপ হয়। যেমন—পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের স্বাভাবিক শিশুই প্রথমে বসতে, তারপর হামাগুড়ি দিতে এবং শেষে হাঁটতে শেখে।

আরো পড়ুন:শিখন: Class 12 শিক্ষা বিজ্ঞান Semester 4:

শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিনমনের গুরুত্ব (Educational Importance).

শিক্ষাবিজ্ঞানে শিক্ষার্থীকে সঠিক সময়ে উপযুক্ত জ্ঞান দান করতে পরিনমনের ভূমিকা অত্যন্ত অপরিসীম। নিচে এর প্রধান ৪টি গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

See also  শিখন: Class 12 শিক্ষা বিজ্ঞান Semester 4: Amazing Definitions, Characteristics & Top Types.

শিখনের প্রস্তুতি গঠন (Readiness for Learning):

পরিনমন হলো যেকোনো শিখনের প্রাথমিক শর্ত। শিশু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মানসিক দিক থেকে পরিপক্ক না হলে তাকে কোনো কিছু শেখানো সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম পেশীর পরিনমন না হলে শিশুকে বর্ণমালা লিখতে শেখানো যায় না।

বৈজ্ঞানিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন:

শিক্ষাবিদ ও পাঠ্যক্রম প্রস্তুতকারকগণ শিক্ষার্থীদের বয়সভিত্তিক পরিনমনের স্তর বিবেচনা করেই উপযুক্ত শ্রেণির পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বইয়ের কাঠিন্যের মান নির্ধারণে পরিনমন প্রধান মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

সঠিক শিক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচন:

শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক মহোদয় শিক্ষার্থীদের পরিনমন স্তরের কথা মাথায় রেখে শিখন পদ্ধতি (যেমন: মূর্ত থেকে বিমূর্ত, খেলাভিত্তিক বা প্রজেক্ট পদ্ধতি) নির্বাচন করেন। ফলে শিখন সহজ ও ফলপ্রসূ হয়।

মানসিক চাপ ও অপচয় রোধ:

শিক্ষার্থীর পরিপক্কতার আগেই তার ওপর কঠিন বিষয় চাপিয়ে দিলে মানসিক ক্লান্তি ও ভীতি সৃষ্টি হয়। পরিনমনের সঠিক মান জানা থাকলে অভিভাবক ও শিক্ষক অনাবশ্যক মানসিক চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, যা অপচয় বন্ধ করে।

শিখন ও পরিনমনের সম্পর্ক (Relationship Between Learning and Maturation).

শিক্ষাবিজ্ঞান (Education) এবং শিশু মনোবিদ্যার (Child Psychology) দৃষ্টিকোণ থেকে শিখন (Learning) এবং পরিণমন (Maturation) দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ধারণা। মানব আচরণের পরিবর্তন ও ব্যক্তিসত্তার সামগ্রিক বিকাশে এদের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।

শিখন ও পরিণমন পৃথক দুটি প্রক্রিয়া হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক। এদের সম্পর্ককে প্রধানত নিম্নলিখিত দিকগুলির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়:

পরিণমন শিখনের মূল ভিত্তি ও পূর্বশর্ত:

পরিণমন হলো যেকোনো শিখনের প্রাথমিক শর্ত বা ভিত্তিপ্রস্তর। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও স্নায়ুতন্ত্রের উপযুক্ত পরিণমন না ঘটলে শিশুর পক্ষে কোনো বিষয় শেখা সম্ভব নয়।

  • উদাহরণস্বরূপ: শিশুর হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম পেশিগুলির পরিনমন না ঘটলে তাকে পেন্সিল ধরে লেখা শেখানো (শিখন) অসম্ভব।

শিখনের সীমা ও সামর্থ্য নির্ধারণ:

পরিণমন কোনো ব্যক্তির শেখার শেষ সীমা বা সর্বোচ্চ সামর্থ্য নির্ধারণ করে দেয়। অর্থাৎ, ব্যক্তির পরিণমন যতটুকু ক্ষমতার সুযোগ দেবে, সচেতন অনুশীলনের মাধ্যমে শিখন ঠিক ততখানিই বিকাশ ঘটাতে পারবে। পরিণমনের স্তরকে অতিক্রম করে অতিরিক্ত জোরপূর্বক শিখন সম্ভব নয়।

স্বতঃস্ফূর্ত সক্ষমতা ও তার প্রয়োগ:

পরিণমন ব্যক্তির মধ্যে সহজাত জৈবিক ক্ষমতা বা সম্ভাবনা তৈরি করে দেয়, আর শিখন সেই সম্ভাবনাকে অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেয়। পরিণমন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে কাজের উপযোগী করে তোলে এবং শিখন সেই কাজকে সুনির্দিষ্ট, নিখুঁত ও দক্ষ করে তোলে (যেমন—সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা)।

পারস্পরিক নির্ভরতা ও ধারাবাহিক বিকাশ:

কেবল পরিণমন ঘটে থেমে থাকলে উপযুক্ত অনুশীলনের (শিখন) অভাবে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের বিকাশ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আবার পরিণমন ছাড়া শিখন অলীক কল্পনা। অর্থাৎ, মানব আচরণের কাঙ্ক্ষিত ও স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য শিখন ও পরিণমন একই মুদ্রার দুটি পিঠের মতো কাজ করে।

See also  শিখন: Class 12 শিক্ষা বিজ্ঞান Semester 4: Amazing Definitions, Characteristics & Top Types.

সংক্ষেপে সম্পর্ক সারণী:

বৈশিষ্ট্যপরিণমন (Maturation)শিখন (Learning)
ভূমিকাদৈহিক ও মানসিক প্রস্তুতি গড়ে তোলে।প্রস্তুত ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নতুন অভিজ্ঞতা দান করে।
অবস্থানশিখনের পূর্ববর্তী স্তর (ভিত্তি)।পরিণমনের পরবর্তী স্তর (বিকাশ)।
ফলাফলকাজ করার ক্ষমতা তৈরি করে।কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

আরো পড়ুন:জাতীয় শিক্ষানীতি 2020:

শিখন ও পরিনমনের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য (Comparison Table)

শিক্ষাবিজ্ঞান (Education) ও মনোবিজ্ঞানের (Psychology) দৃষ্টিকোণ থেকে শিখন (Learning) ও পরিণমন (Maturation) উভয়ই মানব আচরণের পরিবর্তনের সাথে যুক্ত। নিচে সহজ ভাষায় পরীক্ষার জন্য উপযোগী শিখন ও পরিণমনের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের (তুলনামূলক সারণী) বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হলো:

শিখন ও পরিণমনের সাদৃশ্য (Similarities)

  • আচরণের পরিবর্তন: উভয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটে।
  • ব্যক্তিবিকাশে ভূমিকা: শিশু বা ব্যক্তির সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব ও কর্মক্ষমতার বিকাশে উভয় প্রক্রিয়াই সমানভাবে সাহায্য করে।
  • অভিযোজন বা খাপ খাওয়ানো: নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে এবং জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে উভয় প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।
  • শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা: দুটি প্রক্রিয়াই স্নায়ুতন্ত্র ও শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সক্রিয়তার ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।

শিখন ও পরিণমনের বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য (Dissimilarities Table)

তুলনার ভিত্তিশিখন (Learning)পরিণমন (Maturation)
১. প্রকৃতি (Nature)এটি একটি অর্জিত, কৃত্রিম ও পরিবেশগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রক্রিয়া।এটি একটি সম্পূর্ণ সহজাত, স্বাভাবিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া।
২. উৎস ও নিয়ন্ত্রণবাহ্যিক পরিবেশ, অনুশীলন ও চেতনার ওপর নির্ভর করে।বংশগতি এবং অভ্যন্তরীণ জৈবিক নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
৩. বয়সসীমাআমৃত্যু চলতে থাকে; অর্থাৎ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিস্তৃত।এটি নির্দিষ্ট বয়স (প্রাপ্তবয়স) পর্যন্ত ঘটে এবং তারপর থেমে যায়।
৪. অনুশীলন ও প্রশিক্ষণবিশেষ সচেতন অনুশীলন, তালিম ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়।কোনো রূপ বিশেষ অনুশীলন বা প্রথাগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না।
৫. মানসিক সচেতনতা ও প্রেসনাশিখন সম্পন্ন হতে আগ্রহ, মনোযোগ ও প্রেসনার দরকার হয়।এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে বলে কোনো কৃত্রিম প্রেসনার দরকার হয় না।
৬. ক্লান্তি ও মানসিক চাপদীর্ঘ সময় ধরে শিখন প্রক্রিয়া চললে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।এটি স্বতশ্চল জৈবিক বিকাশ হওয়ায় এতে কোনো শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি আসে না।
৭. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যব্যক্তিভেদে শিখনের গতি, পরিমাণ ও দক্ষতা ভিন্ন ভিন্ন হয়।প্রজাতিগতভাবে একই বয়সের শিশুদের মধ্যে পরিণমন প্রায় একই রকম হয়।
৮. আচরণের স্থায়িত্বঅনুশীলনের অভাবে শিখনে অর্জিত জ্ঞান ভুলে যাওয়া বা বিলুপ্ত হতে পারে।পরিণমনের মাধ্যমে অর্জিত অঙ্গসংস্থানিক পরিবর্তনগুলি দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী হয়।

পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর (Class 2 Marks Distribution).

১. পরিণমন কাকে বলে?

উত্তর: অনুশীলনের নির্ভরতা ছাড়াই বংশধারা সূত্রে প্রাপ্ত জৈবিক নিয়মে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মানসিক ক্ষমতার যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ক্রমবিকাশ ঘটে, তাকে পরিণমন বলে।

  • উদাহরণ: বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুর হাঁটার ক্ষমতা অর্জন বা পেন্সিল ধরার জন্য হাতের আঙুলের পেশীর শক্ত হওয়া

২. গেসেলের (Gesell) মতে পরিণমনের সংজ্ঞাটি লিখুন।

উত্তর: বিশিষ্ট শিশু-মনোবিদ আর্নল্ড গেসেল (Arnold Gesell)-এর মতে, “পরিণমন হলো এমন এক জৈবিক অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া যা ব্যক্তির অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশে সাহায্য করে।”

৩. পরিণমনের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লিখুন।

উত্তর:

  • স্বভাবজাত ও জৈবিক: পরিণমন সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত এবং বংশগতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি জৈবিক প্রক্রিয়া।
  • অনুশীলন নিরপেক্ষ: পরিণমন অর্জনের জন্য কোনো বিশেষ কৃত্রিম অনুশীলন বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

৪. শিক্ষাক্ষেত্রে পরিণমনের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করুন।

উত্তর:

  • শিখনের প্রস্তুতি গঠন: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মানসিক পরিণমন না ঘটলে শিশু কোনো বিষয় শিখতে পারে না, তাই পরিণমন শিখনের উপযুক্ত পরিবেশ ও সক্ষমতা তৈরি করে।
  • বয়সভিত্তিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন: শিক্ষার্থীদের বয়সোচিত পরিণমনের স্তর বিচার করে সঠিক শ্রেণীর পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা সহজ হয়।

৫. পরিণমন ও শিখনের মধ্যে দুটি প্রধান বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য লিখুন।

উত্তর:

  • প্রকৃতিগত পার্থক্য: পরিণমন হলো সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া; অন্যদিকে শিখন হলো অর্জিত ও সচেতন পরিবেশগত প্রক্রিয়া।
  • সময়সীমা: পরিণমন একটি নির্দিষ্ট বয়সে (প্রাপ্তবয়সে) গিয়ে থেমে যায়, কিন্তু শিখন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমৃত্যু চলতে থাকে।

৬. পরিণমন ও শিখনের মধ্যে দুটি প্রধান সাদৃশ্য লিখুন।

উত্তর:

  • আচরণগত পরিবর্তন: শিখন এবং পরিণমন উভয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে।
  • ব্যক্তিত্বের বিকাশ: উভয় প্রক্রিয়াই মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও পরিবেশের সাথে অভিযোজন করতে সাহায্য করে।

৭. “পরিণমন হলো শিখনের পূর্বশর্ত”— উক্তিটির অর্থ কী?

উত্তর: কোনো নতুন কাজ বা জ্ঞান অর্জনের জন্য (শিখন) যে দৈহিক ও মানসিক পরিপক্কতার প্রয়োজন হয়, তা পরিণমনের মাধ্যমেই আসে। নির্দিষ্ট দৈহিক বা মানসিক পরিণমন না ঘটলে কোনো শিখনই সম্ভব নয়, তাই পরিণমনকে শিখনের পূর্বশর্ত বলা হয়।

৮. শিখন ও পরিণমনের প্রধান সম্পর্কটি কী?

উত্তর: পরিণমন ও শিখন একে অপরের পরিপূরক। পরিণমন ব্যক্তির মধ্যে শিখন অর্জনের জৈবিক ক্ষমতা বা সম্ভাবনা তৈরি করে, আর শিখন অনুশীলনের মাধ্যমে সেই ক্ষমতাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আচরণকে নিখুঁত করে তোলে।

৯. শিখনসীমা নির্ধারণে পরিণমনের ভূমিকা কী?

উত্তর: একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটা শিখতে পারবে বা তার দক্ষতার সীমা কতদূর বিস্তৃত হতে পারে, তা তার পরিণমনের স্তর দ্বারা নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ, পরিনমন শিখনের ঊর্ধ্বসীমা নির্দিষ্ট করে দেয়।

১০. ক্যাটেলের (Cattell) মতে পরিণমন কী?

উত্তর: মনোবিদ ক্যাটেল-এর মতে, পরিণমন হলো এক প্রকার বৃদ্ধি ও বিকাশ যা মানবদেহের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে এবং আচরণে নতুন ক্ষমতার সঞ্চার করে।

উপসংহার:

উপসংহারে বলা যায়, মানব জীবনের সুষম ও সুস্থ বিকাশে পরিনমন ও শিখনের যৌথ ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিনমন যদি হয় বিকাশের ভিত্তিপ্রস্তর, তবে শিখন হলো সেই ভিত্তির ওপর নির্মিত সুন্দর প্রাসাদ। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে যেকোনো পরিবর্তন বা নতুন পদ্ধতি চালুর আগে শিক্ষার্থীর পরিনমনের স্তর পরিমাপ করা অত্যন্ত জরুরি। আশা করি পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের Class 12 Education পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই নিবন্ধটি আপনাদের সম্পূর্ণ সাহায্য করবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *