পৃথিবীর পরিক্রমণ: Class 7 Geography: Incredible Secrets & Complete Guide.

পৃথিবীর পরিক্রমণ: Class 7 Geography: Incredible Secrets & Complete Guide.

Table of Contents

ভূমিকা:

আমরা যে মহাজাগতিক গ্রহে বাস করি, তা কিন্তু এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে নেই। মহাবিশ্বের অন্যান্য জ্যোতিষ্কদের মতো আমাদের পৃথিবীও প্রতিনিয়ত দুটি ভিন্ন গতিতে ঘুরে চলেছে। এর মধ্যে নিজের মেরুরেখার ওপর আবর্তন করার পাশাপাশি সূর্যকে কেন্দ্র করে তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে আসার প্রক্রিয়াটিই হলো পৃথিবীর পরিক্রমণ। এই একটিমাত্র মহাজাগতিক গতির ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে আমাদের ক্যালেন্ডার এবং সমগ্র পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল চালিকাশক্তি।

সপ্তম শ্রেণির ভূগোল বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ে পৃথিবীর পরিক্রমণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ঋতু পরিবর্তন কীভাবে ঘটে, দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য কেন দেখা দেয় এবং ৪ বছর পরপর অধিবর্ষ বা Leap Year কীভাবে তৈরি হয়—এই সমস্ত বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই গতির মধ্যেই। আজকের এই নিবন্ধে আমরা সহজ ভাষায় পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির খুঁটিনাটি সমস্ত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির ভূগোল বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে পৃথিবীর পরিক্রমণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। ঋতুপরিবর্তন কেন হয়, দিন-রাত ছোট-বড় কীভাবে হয়, অধিবর্ষ বা Leap Year কীভাবে তৈরি হয়—এই সমস্ত বিস্ময়কর প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে এই একটিমাত্র গতির মধ্যে। আজকের নিবন্ধে আমরা সপ্তম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পানির মতো সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করব।

পৃথিবীর পরিক্রমণ

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি কি বা কাকে বলে?

পৃথিবী তার নিজের মেরুরেখা বা অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে, নির্দিষ্ট দিকে (পশ্চিম থেকে পূর্বে), নির্দিষ্ট সময় ধরে সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসে। সৌরজগতের এই বার্ষিক গতিকে বলা হয় পৃথিবীর পরিক্রমণ।

  • পৃথিবীর পরিক্রমণ -এর সময়: সূর্যের চারপাশে একবার সম্পূর্ণ ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (বা প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা)। এই সময়কালকে সাধারণ ভাষায় ১ বছর ধরা হয় বলেই একে পৃথিবীর বার্ষিক গতিও বলা হয়ে থাকে।
  • পৃথিবীর পরিক্রমণ -এর গতিবেগ: মহাকাশে পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৯.৮ কিলোমিটার (বা ঘণ্টা প্রতি প্রায় ১,০৭,২০০ কিমি) বেগে সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণ করছে।

পৃথিবীর কক্ষপথ ও কক্ষতল

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার জন্য পৃথিবীর যে পথ রয়েছে, তাকে পৃথিবীর কক্ষপথ (Orbit) বলা হয়। আর এই কক্ষপথটি যে তলে অবস্থান করে, তাকে কক্ষতল (Orbital Plane) বলে।

  1. উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কেপলারের প্রথম সূত্র অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথটি পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়; এটি একটি উপবৃত্ত (Ellipse)। ফলে পরিক্রমণের সময় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না।
  2. কক্ষপথের দৈর্ঘ্য: পৃথিবীর মোট কক্ষপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিলোমিটার।
  3. মেঝের সাথে হেলে থাকা অক্ষ: পৃথিবী তার কক্ষতলের সাথে পুরোপুরি সোজা বা ৯০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে না। পৃথিবীর অক্ষটি তার কক্ষতলের সাথে সবসময় ৬৬.৫° (সাড়ে ৬৬ ডিগ্রি) কোণে হেলে থাকে। এই হেলে থাকার কারণেই পৃথিবীতে ঋতুপরিবর্তন ঘটে।

অপসূর ও অনুসূর অবস্থান

সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর পরিক্রমণ করার সময় উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কারণে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সারা বছর একরকম থাকে না। এর ওপর ভিত্তি করে দুটি বিশেষ অবস্থান তৈরি হয়:

১. অপসূর অবস্থান (Aphelion)

  • তারিখ: ৪ জুলাই।
  • দূরত্ব: প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিলোমিটার।
  • ব্যাখ্যা: ৪ জুলাই তারিখে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ার এই ঘটনাকে পৃথিবীর অপসূর অবস্থান বলা হয়। (মনে রাখার সহজ উপায়: ‘অপ’ অর্থ দূর)।

২. অনুসূর অবস্থান (Perihelion)

  • তারিখ: ৩ জানুয়ারি।
  • দূরত্ব: প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিলোমিটার।
  • ব্যাখ্যা: ৩ জানুয়ারি তারিখে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয়। দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ার এই অবস্থাকে পৃথিবীর অনুসূর অবস্থান বলা হয়। (মনে রাখার সহজ উপায়: ‘অনু’ অর্থ কাছে)।

আরো পড়ুন: পৃথিবীর গতি: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি

অধিবর্ষ বা লিফ ইয়ার (Leap Year) কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা জানি, সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। কিন্তু সুবিধার জন্য আমরা ১ বছর = ৩৬৫ দিন ধরে হিসাব করি।

ফলে প্রতি বছর অবশিষ্ট থেকে যাওয়া ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (বা প্রায় ৬ ঘণ্টা) হিসাব থেকে বাদ পড়ে যায়। এই উদ্বৃত্ত ৬ ঘণ্টাকে সামঞ্জস্য করার জন্য প্রতি ৪ বছর পরপর (৬ ঘণ্টা × ৪ = ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন) ক্যালেন্ডারে ১ দিন যোগ করা হয়।

  • ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ ২৮ দিনের জায়গায় ২৯ দিন করা হয়।
  • যে বছরটিতে ১ দিন যোগ করা হয়, সেই বছরটি ৩৬৫ দিনের বদলে ৩৬৬ দিন হয়। এই বছরটিকে অধিবর্ষ বা Leap Year বলা হয়।
  • নিয়ম: সাধারণ সালকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে যদি কোনো ভাগশেষ না থাকে (যেমন: ২০২৪), তবে সেটি Leap Year। তবে শতাব্দীর বছরের ক্ষেত্রে (যেমন: ১৯০০, ২০০০) সালটিকে ৪১০ দিয়ে ভাগ করতে হয়।

মুক্তিবেগ ও জিপিএস (GPS)-এর ধারণা

সপ্তম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায়ে কিছু কৌতূহলোদ্দীপক শব্দ রয়েছে যা জানা অত্যন্ত জরুরি:

  • মুক্তিবেগ (Escape Velocity): কোনো বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার বা তার বেশি বেগে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে তা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ পার হয়ে মহাকাশে চলে যায়, আর নিচে ফিরে আসে না। একে মুক্তিবেগ বলে।
  • জিপিএস (GPS – Global Positioning System): কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো জায়গার অবস্থান, দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশ সঠিকভাবে জানার আধুনিক প্রযুক্তিকে জিপিএস বলা হয়।

পৃথিবীর পরিক্রমণ -এর ফল: ঋতুপরিবর্তন ও দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির সবচেয়ে বড় এবং দৃশ্যমান ফলাফল হলো পৃথিবীতে বিভিন্ন ঋতুর আগমন এবং দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি। সারা বছর জুড়ে পৃথিবীর ৪টি বিশেষ অবস্থান নিচে আলোচনা করা হলো:

তারিখঅবস্থানের নামবিষুব সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যউত্তর গোলার্ধে ঋতুদক্ষিণ গোলার্ধে ঋতু
২১ মার্চমহাবিষুব (Spring Equinox)দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা দিন, ১২ ঘণ্টা রাত)বসন্তকালশরৎকাল
২১ জুনকর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice)উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাতগ্রীষ্মকালশীতকাল
২৩ সেপ্টেম্বরজলবিষুব (Autumnal Equinox)দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা দিন, ১২ ঘণ্টা রাত)শরৎকালবসন্তকাল
২২ ডিসেম্বরমকরসংক্রান্তি (Winter Solstice)উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাতশীতকালগ্রীষ্মকাল

পৃথিবীর পরিক্রমণ -এর ৪টি মূল অবস্থানের বিশদ বিবরণ:

  1. ২১ জুন (কর্কটসংক্রান্তি): এই দিনে সূর্য কর্কটক্রান্তিরেখার (২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় (১৪ ঘণ্টা) এবং রাত সবচেয়ে ছোট (১০ ঘণ্টা) হয়।
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর (জলবিষুব): এই দিনে সূর্য বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে পৃথিবীজুড়ে দিন ও রাত সমান হয়। উত্তর গোলার্ধে তখন শরৎকাল।
  3. ২২ ডিসেম্বর (মকরসংক্রান্তি): এই দিনে সূর্য মকরক্রান্তিরেখার (২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তর গোলার্ধে তখন সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত হয় এবং শীতকাল বিরাজ করে।
  4. ২১ মার্চ (মহাবিষুব): এই দিনে সূর্য পুনরায় বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে আবার সমগ্র পৃথিবীতে দিন ও রাত সমান হয়। উত্তর গোলার্ধে তখন আনন্দদায়ক বসন্তকাল।

আরো পড়ুন: জোয়ার ও ভাটা: (High Tide and Low Tide)

মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ (Land of Midnight Sun)

নরওয়ের উত্তরভাগে অবস্থিত হামারফেস্ট (Hammerfest) বন্দরে মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত গভীর রাতেও দিগন্তরেখায় সূর্যকে দেখা যায়। তাই নরওয়েকে ‘মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ’ বলা হয়। পৃথিবীর পরিক্রমণ এবং পৃথিবীর মেরুরেখার হেলে থাকার কারণেই মেরু অঞ্চলে এই সুমেরুপ্রভা ও কুমেরুপ্রভার সৃষ্টি হয়।

সপ্তম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায় ‘পৃথিবীর পরিক্রমণ’:

পৃথিবীর পরিক্রমণ: পৃথিবী, সৌরজগৎ ও মহাবিশ্ব

১. মহাকর্ষ বল কাকে বলে?

উত্তর: মহাবিশ্বে সব বস্তুই পরস্পরকে আকর্ষণ করে বা নিজের দিকে টানে। এই আকর্ষণ বলকেই মহাকর্ষ বল বলে।

২. সূর্য পৃথিবীর তুলনায় কত গুণ বড়?

উত্তর: সূর্য পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়।

৩. পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র বা তারা কোনটি?

উত্তর: সূর্য হলো পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র বা তারা।

৪. আমাদের ছায়াপথের নাম কী?

উত্তর: আমাদের ছায়াপথের নাম আকাশগঙ্গা (Milky Way)।

৫. সূর্যের শক্তির কত অংশ আলো ও উত্তাপ রূপে প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়?

উত্তর: সূর্যের মোট শক্তির ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ আলো ও উত্তাপ রূপে প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।

পৃথিবীর পরিক্রমণ: পৃথিবীর গতি ও অক্ষ সংক্রান্ত ধারণা

৬. পৃথিবীর গতি কয়টি?

উত্তর: পৃথিবীর গতি দুটি।

৭. পৃথিবীর গতি দুটি কী কী?

উত্তর: আহ্নিক গতি বা আবর্তন গতি এবং বার্ষিক গতি বা পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি।

৮. পৃথিবীর আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি কাকে বলে?

উত্তর: সূর্যকে সামনে রেখে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তন করছে। পৃথিবীর অক্ষকেন্দ্রিক এই গতিকে আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি বলে। এতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা।

৯. পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতি কাকে বলে?

উত্তর: নিজ অক্ষের ওপর আবর্তন করতে করতে পৃথিবী নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর এই গতিকে পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতি বলে। এতে সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন (১ বছর)।

১০. পরিক্রমণ গতির আরেক নাম বার্ষিক গতি কেন?

উত্তর: সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন সময় লাগে। ৩৬৫ দিন সময়কে এক বছর (বর্ষ) বলে। তাই পরিক্রমণ গতির আরেক নাম বার্ষিক গতি।

১১. পৃথিবীর অক্ষ কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবী যে কাল্পনিক রেখার চারদিকে আবর্তন করে, তাকেই পৃথিবীর অক্ষ বা Earth’s Axis বলে।

১২. পৃথিবীর কয়টি মেরু ও কী কী?

উত্তর: পৃথিবীর দুটি মেরু— উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু।

১৩. নিরক্ষরেখার আরেক নাম কী?

উত্তর: নিরক্ষরেখার আরেক নাম বিষুবরেখা।

১৪. আমাদের দেশ ভারতবর্ষ কোন গোলার্ধে অবস্থিত?

উত্তর: আমাদের দেশ ভারতবর্ষ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।

১৫. পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে সূর্যকে পরিক্রমণ করে?

উত্তর: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সূর্যকে পরিক্রমণ করে।

১৬. পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে নিজের অক্ষের চারদিকে আবর্তন করে?

উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে আবর্তন করে।

১৭. পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতির বেগ কত?

উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতির বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (বা ঘণ্টা প্রতি প্রায় ১,০৭,২০০ কিমি)।

১৮. পৃথিবী তার কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে?

উত্তর: পৃথিবী তার কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬½° (সাড়ে ৬৬ ডিগ্রি) কোণে হেলে থাকে।

পৃথিবীর পরিক্রমণ: কক্ষপথ, কেপলারের সূত্র ও বিশেষ অবস্থান

১৯. পৃথিবীর কক্ষপথ কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবী যে নির্দিষ্ট পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, সেটাই হলো পৃথিবীর কক্ষপথ।

২০. পৃথিবীর কক্ষতল কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীর কক্ষপথ মহাশূন্যে যে কাল্পনিক সমতলে অবস্থিত, তাকেই পৃথিবীর কক্ষতল বলে।

২১. পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি কেমন?

উত্তর: পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার।

২২. সূর্য পৃথিবীর কক্ষতলের কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: সূর্য পৃথিবীর কক্ষতলের ফোকাস বা নাভিতে অবস্থিত।

২৩. কে সর্বপ্রথম গ্রহদের গতি সংক্রান্ত সূত্র প্রণয়ন করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী কেপলার সর্বপ্রথম গ্রহদের গতি সংক্রান্ত সূত্র প্রণয়ন করেন।

২৪. কেপলারের প্রথম সূত্রটি কী?

উত্তর: প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং সূর্য ওই উপবৃত্তের একটি ফোকাসে থাকে।

২৫. সূর্য প্রদক্ষিণের সময় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কেমন থাকে?

উত্তর: সূর্য প্রদক্ষিণের সময় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না।

২৬. অপসূর অবস্থান বা Aphelion কাকে বলে?

উত্তর: ৪ জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। একে পৃথিবীর অপসূর অবস্থান বলা হয়।

২৭. অনুসূর অবস্থান বা Perihelion কাকে বলে?

উত্তর: ৩ জানুয়ারি সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। একে পৃথিবীর অনুসূর অবস্থান বলা হয়।

পৃথিবীর পরিক্রমণ: সময় গণন ও ক্যালেন্ডার (দিন, মাস, বছর ও লিপ ইয়ার)

২৮. নিজের অক্ষকে আবর্তন করতে পৃথিবীর কত সময় লাগে?

উত্তর: নিজের অক্ষকে আবর্তন করতে পৃথিবীর ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড (বা প্রায় ২৪ ঘণ্টা) সময় লাগে।

২৯. সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর কত সময় লাগে?

উত্তর: সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (বা প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা) সময় লাগে।

৩০. চান্দ্রমাস কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ পৃথিবীকে প্রায় সাড়ে ২৭ দিনে (বা প্রায় ২৮ দিনে) একবার প্রদক্ষিণ করে। এই সময়টাকে চান্দ্রমাস বলে।

৩১. সৌর বছর কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবী সূর্যকে প্রায় ৩৬৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে। এই সময়টাকে সৌর বছর বলে।

৩২. কোন তারিখটা প্রতিবছর ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় না?

উত্তর: ২৯ ফেব্রুয়ারি তারিখটা প্রতিবছর ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় না।

৩৩. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার কাকে বলে?

উত্তর: হিসাবের সুবিধার জন্য ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হয়। ফলে প্রতিবছর ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড বাড়তি সময় থেকে যায়। এই বাড়তি সময়ের হিসাব ঠিক রাখার জন্য প্রতি চার বছর অন্তর ১টি পুরো দিন (৬ ঘণ্টা × ৪ = ২৪ ঘণ্টা) যোগ করা হয় ক্যালেন্ডারে। ওই একদিন ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে যোগ করে মাসটি হয় ২৯ দিনের, আর বছরটি হয় ৩৬৬ দিনের। ৩৬৬ দিনের এই বছরকে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার বলে।

৩৪. কীভাবে বুঝবে কোনো সালটি অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার কিনা?

উত্তর: শতাব্দী বছরগুলোকে ৪০০ দিয়ে এবং অন্য সাধারণ বছরগুলোকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে যদি কোনো ভাগশেষ না থাকে, তবে সেই বছরটি অধিবর্ষ হবে (যেমন: ২০০৪ সাল অধিবর্ষ, কিন্তু ২৩০০ সাল নয়)।

পৃথিবীর পরিক্রমণ: বিষুব, সংক্রান্তি ও সূর্যের আপাত গতি

৩৫. বিষুব কথার অর্থ কী?

উত্তর: বিষুব কথার অর্থ হলো ‘সমান দিন ও রাত্রি’।

৩৬. কোন দিনটিকে মহাবিষুব বলে?

উত্তর: ২১শে মার্চ দিনটিকে মহাবিষুব বলে।

৩৭. কোন দিনটিকে জলবিষুব বলে?

উত্তর: ২৩শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে জলবিষুব বলে।

৩৮. কোন কোন দিন উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিনরাত্রি সমান হয়?

উত্তর: ২১শে মার্চ (মহাবিষুব) ও ২৩শে সেপ্টেম্বর (জলবিষুব)-এর দিন সমগ্র পৃথিবীতে দিন ও রাত্রি সমান হয়।

৩৯. কোন দিনটিকে কর্কটসংক্রান্তি বলে?

উত্তর: ২১ জুন তারিখটিকে কর্কটসংক্রান্তি বলে।

৪০. কোন তারিখে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় রাত হয়?

উত্তর: ২১ জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় রাত হয়।

৪১. কোন তারিখটিকে মকরসংক্রান্তি বলে?

উত্তর: ২২ ডিসেম্বর তারিখটিকে মকরসংক্রান্তি বলে।

৪২. কোন তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় রাত হয়?

উত্তর: ২২ ডিসেম্বর তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় রাত হয়।

৪৩. সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ দিন কোনটি?

উত্তর: ২১ জুন সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ দিন।

৪৪. সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ দিন কোনটি?

উত্তর: ২২ ডিসেম্বর সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ দিন।

৪৫. সূর্যের দৈনিক আপাত গতি কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবী পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে বলে আপাতদৃষ্টিতে সূর্যকে প্রতিদিন পূর্ব আকাশ থেকে পশ্চিম আকাশে চলাচল করছে বলে মনে হয়। এটাকেই সূর্যের দৈনিক আপাত গতি বলে।

৪৬. সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি বা রবিমার্গ কাকে বলে?

উত্তর: ‘রবি’ শব্দের অর্থ সূর্য এবং ‘মার্গ’ শব্দের অর্থ পথ। আপাতভাবে মনে হয় যে সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখা পর্যন্ত এবং দক্ষিণে মকরক্রান্তি রেখা পর্যন্ত চলাচল করে। এটাই সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি বা রবিমার্গ।

৪৭. সূর্যের উত্তরায়ন কাকে বলে?

উত্তর: ২২ ডিসেম্বর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ছয় মাস ধরে সূর্যের উত্তরমুখী আপাত গতিকে সূর্যের উত্তরায়ন বলে।

৪৮. সূর্যের দক্ষিণায়ন কাকে বলে?

উত্তর: ২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাস ধরে সূর্যের দক্ষিণমুখী আপাত গতিকে সূর্যের দক্ষিণায়ন বলে।

পৃথিবীর পরিক্রমণ: প্রকৃতি, ঋতু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক ঘটনা

৪৯. কী কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়?

উত্তর: পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ এবং পৃথিবীর অক্ষের কৌণিক অবস্থানের (হেলে থাকা) কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়।

৫০. কী কারণে দিন-রাত ছোট-বড় হয়?

উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি এবং হেলানো অক্ষের কারণে দিন-রাত ছোট-বড় হয়।

৫১. কখন ছায়ার দৈর্ঘ্য সবচেয়ে ছোট হয়?

উত্তর: দুপুরে ছায়ার দৈর্ঘ্য সবচেয়ে ছোট হয়।

৫২. কখন ছায়ার দৈর্ঘ্য সবচেয়ে লম্বা হয়?

উত্তর: সকালে ও বিকেলে ছায়ার দৈর্ঘ্য সবচেয়ে লম্বা হয়।

৫৩. ‘বড়দিন’ কি আসলে সবচেয়ে বড় দিন?

উত্তর: না, ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস বা বড়দিন একটি বড় উৎসবের দিন হলেও এটি বছরের সবচেয়ে বড় দিন নয়। তবে এটি দক্ষিণ গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিনের (২২ ডিসেম্বর) ঠিক তিন দিন পর পালিত হয়।

৫৪. কাকে মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ বলা হয় ও কেন?

উত্তর: নরওয়ের হামারফেস্ট বন্দরকে মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ বলা হয়। নরওয়ে, ডেনমার্ক, আলাস্কা, সুইডেন প্রভৃতি স্থানে গভীর রাতেও দিগন্তরেখায় কিছু সময়ের জন্য সূর্যকে দেখা যায় বলে একে মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ বলা হয়।

৫৫. মেরুজ্যোতি কাকে বলে?

উত্তর: দুই মেরুপ্রদেশে টানা ৬ মাস রাতের সময় মাঝে মাঝে আকাশে রামধনুর মতো রঙিন আলোর জ্যোতি দেখা যায়। একে মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) বলে।

৫৬. অরোরা বোরিয়ালিস বা সুমেরুপ্রভা কী?

উত্তর: উত্তর গোলার্ধের বা সুমেরু অঞ্চলের মেরুজ্যোতিকে সুমেরুপ্রভা বা অরোরা বোরিয়ালিস বলে।

৫৭. অরোরা অস্ট্রালিস বা কুমেরুপ্রভা কী?

উত্তর: দক্ষিণ গোলার্ধের বা কুমেরু অঞ্চলের মেরুজ্যোতিকে কুমেরুপ্রভা বা অরোরা অস্ট্রালিস বলে।

৫৮. পৃথিবীর কোথায় সারাবছর দিন-রাত সমান থাকে?

উত্তর: নিরক্ষরেখায় সারাবছর দিন ও রাত সমান থাকে।

৫৯. কোন কোন ঋতুতে বেশিরভাগ দিন নীল আকাশ দেখা যায়?

উত্তর: শরৎ ও বসন্ত ঋতুতে বেশিরভাগ দিন নীল আকাশ দেখা যায়।

৬০. কোন ঋতুতে মাঠের মাটি ফেটে যায়?

উত্তর: গ্রীষ্ম ঋতুতে মাঠের মাটি ফেটে যায়।

৬১. কোন ঋতুতে পুকুরগুলো জলে ভর্তি থাকে?

উত্তর: বর্ষা ঋতুতে পুকুরগুলো জলে ভর্তি থাকে।

৬২. কোন ঋতুতে বন্যার সম্ভাবনা থাকে?

উত্তর: বর্ষা ঋতুতে বন্যার সম্ভাবনা থাকে।

৬৩. কোন ঋতুতে খুব কোকিল ডাকে?

উত্তর: বসন্ত ঋতুতে খুব কোকিল ডাকে।

৬৪. উত্তর গোলার্ধে কোন ঋতুতে সবচেয়ে বড় দিন হয়?

উত্তর: গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন হয়।

৬৫. ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে দক্ষিণ গোলার্ধে আবহাওয়া কেমন থাকে?

উত্তর: ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বা গরম আবহাওয়া থাকে।

৬৬. বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ অভিযানে ডিসেম্বর মাসে কেন যান?

উত্তর: অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করায় অ্যান্টার্কটিকাতে অন্য সময়ের চেয়ে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকে।

পৃথিবীর পরিক্রমণ: পদার্থবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ

৬৭. মুক্তিবেগ কাকে বলে?

উত্তর: কোনো বস্তুকে ন্যূনতম যে বেগে মহাশূন্যের দিকে ছুড়ে দিলে তা সেই গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ আকর্ষণ কাটিয়ে বাইরে চলে যেতে পারে এবং আর ফিরে আসে না, সেই বেগকেই ঐ গ্রহের মুক্তিবেগ বলে।

৬৮. পৃথিবীর মুক্তিবেগ বা escape velocity কত?

উত্তর: পৃথিবীর মুক্তিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিমি।

৬৯. কৃত্রিম উপগ্রহকে ন্যূনতম কত বেগে উৎক্ষেপণ করা হয়?

উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহকে ন্যূনতম ১১.২ কিমি/সেকেন্ড অর্থাৎ মুক্তিবেগে উৎক্ষেপণ করা হয়।

৭০. কোন গ্রহের অক্ষ কক্ষপথের সমতলে অবস্থিত?

উত্তর: ইউরেনাসের অক্ষ কক্ষপথের সমতলে অবস্থিত।

৭১. কোন গ্রহের অক্ষ কক্ষের সঙ্গে লম্বভাবে অবস্থিত?

উত্তর: বৃহস্পতির অক্ষ তার কক্ষের সঙ্গে লম্বভাবে অবস্থিত।

৭২. মেরুপ্রভার অপর নাম কী?

উত্তর: মেরুপ্রভার অপর নাম অরোরা (Aurora)।।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি কেবল ভূগোলের পাঠ্যবইয়ের একটি তাত্ত্বিক বিষয় নয়; এটি আমাদের পুরো পৃথিবীর জীবজগৎ ও প্রকৃতির ছন্দকে চালনা করে। সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর এই অবিরাম ভ্রমণের কারণেই আমরা বছরের বিভিন্ন সময়ে বৈচিত্র্যময় ঋতুর পরিবর্তন দেখতে পাই, দিন-রাতের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটে এবং কৃষিকাজ থেকে শুরু করে আবহাওয়ার সার্বিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

সপ্তম শ্রেণির ভূগোল শিক্ষার ক্ষেত্রে এই মৌলিক বিষয়টি বোঝা অত্যন্ত জরুরি। পৃথিবীর পরিক্রমণ এবং অক্ষের কৌণিক অবস্থানের পারস্পরিক সম্পর্ককে সঠিকভাবে বুঝতে পারলে মহাবিশ্ব, সৌরজগৎ এবং আমাদের প্রিয় পৃথিবী সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যেমন সমৃদ্ধ হয়, তেমনই বিজ্ঞানের প্রতি তাদের কৌতূহল ও আগ্রহ বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *