ভূমিকা:
মানবজাতির ইতিহাসে যুদ্ধ ও সংঘাতের কালপঞ্জি বেশ দীর্ঘ। তবে ২০ শতকের প্রথমার্ধে পরপর ঘটে যাওয়া দুটি বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে যেভাবে চুরমার করে দিয়েছিল, তা মানবজাতিকে আগে কখনো দেখতে হয়নি। কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু, ধ্বংসাবশেষ, অভাব আর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতারা উপলব্ধি করেছিলেন যে, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এমন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন যা শুধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিস্পত্তি করবে না, বরং নতুন কোনো মহাযুদ্ধের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেবে। সেই সুদূরপ্রসারী ভাবনা ও বিশ্বজনীন চেতনার চূড়ান্ত ফসল হলো সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations)।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ কেবল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা নয়; এটি বিশ্বের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর এক যৌথ অঙ্গীকার। ১৯৪৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক আলোচনা, মানবকল্যাণ, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে আসছে। যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ পাঠকদের জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর প্রেক্ষাপট, কাজের পরিধি এবং এর সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই নিবন্ধে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক পটভূমি, এর গঠনের পেছনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি, মূল উদ্দেশ্য, নীতি, অঙ্গসংগঠনসমূহের ভূমিকা এবং আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় এর অপরিসীম গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক পটভূমি:
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ এক রাতে বা হঠাৎ কোনো একটি বৈঠকের মাধ্যমে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে ছিল কয়েক দশকের ব্যর্থতা, শিক্ষা এবং মিত্রশক্তির সুদীর্ঘ আলোচনা।
লীগ অব নেশনস (League of Nations)-এর ব্যর্থতা:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) ভয়াবহতা দেখার পর আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালে ‘লীগ অব নেশনস’ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই সংস্থাটির কিছু মৌলিক দুর্বলতা ছিল:
- এতে সামরিক শক্তি বা নিজস্ব বাহিনী ছিল না।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এই সংস্থায় যোগ দেয়নি।
- শক্তিশালী দেশগুলোর আগ্রাসী মনোভাব (যেমন ইতালি কর্তৃক আবিসিনিয়া আক্রমণ বা জাপানের মাঞ্চুরিয়া দখল) থামাতে লীগ অব নেশনস ব্যর্থ হয়।
- ফলস্বরূপ, ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে লীগ অব নেশনস-এর কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।
আটলান্টিক সনদ (Atlantic Charter, 1941):
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ১৯৪১ সালের আগস্ট মাসে যুদ্ধজাহাজ ‘ওগাস্টা’-তে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তারা আটলান্টিক সনদে স্বাক্ষর করেন, যা পরবর্তীতে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
মস্কো ও তেহরান ঘোষণা (১৯৪৩):
১৯৪৩ সালে মস্কো সম্মেলনে চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় যে, যুদ্ধের পর একটি নতুন আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই বছরের শেষের দিকে তেহরান সম্মেলনে তিন প্রধান নেতা (রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্ট্যালিন) এই পরিকল্পনার প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন।
ডামবার্টন ওকস সম্মেলন (১৯৪৪):
ওয়াশিংটন ডিসির ডামবার্টন ওকসে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রস্তাবিত বিশ্বসংস্থার একটি প্রাথমিক নীল নকশা তৈরি করা হয়। এখানে সংস্থাটির গঠনপ্রণালী, যেমন—সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।
সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন ও সনদ স্বাক্ষর (১৯৪৫):
১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। দীর্ঘ আলোচনার পর তারা ১১২টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত ‘জাতিসংঘ সনদ’ (UN Charter) প্রস্তুত করেন। ২৫ জুন সর্বসম্মতিক্রমে সনদটি গৃহীত হয় এবং ২৬ জুন ৫০টি দেশ এতে স্বাক্ষর করে (পরবর্তীতে পোল্যান্ড স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠাকালীন ৫১তম সদস্য হয়)।
আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু:
১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাক্ষরকারী দেশ কর্তৃক এই সনদ অনুমোদিত হয়। ফলে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘জাতিসংঘ দিবস’ পালিত হয়।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর ৪টি প্রধান উদ্দেশ্য:
জাতিসংঘ সনদের প্রথম অনুচ্ছেদে (Article 1) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ চালনার ৪টি প্রধান উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
- আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা: যেকোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধ বন্ধ করা, আগ্রাসন রোধ করা এবং শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনা।
- রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা: জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল দেশের সমান অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রগুলোর সংহতি বাড়ানো।
- আন্তর্জাতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান: দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, অনাহার, মহামারী দূর করা এবং মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা: আন্তর্জাতিক লক্ষ্য ও উন্নয়নমূলক কাজগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি সার্বজনীন কেন্দ্র হিসেবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ভূমিকা পালন করা।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর মূল নীতিসমূহ:
জাতিসংঘ সনদের ২য় অনুচ্ছেদে (Article 2) বলা হয়েছে, এর লক্ষ্যসমূহ পূরণের জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিম্নলিখিত নীতিগুলো মেনে চলতে বাধ্য:
- সদস্যদের সার্বভৌম সমতা: ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র কিংবা সামরিকভাবে শক্তিশালী-দুর্বল সকল সদস্য রাষ্ট্রই সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর চোখে সমান।
- সনদের প্রতি আনুগত্য: সনদ অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব প্রতিটি রাষ্ট্রকে সততা ও আন্তরিকতার সাথে পালন করতে হবে।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি: যেকোনো আন্তর্জাতিক বিরোধ বা সংঘাত আলোচনা, মধ্যস্থতা, সালিশি বা আইনি উপায়ে মেটাতে হবে, যেন শান্তি বিঘ্নিত না হয়।
- আক্রমণ ও বলপ্রয়োগ বর্জন: অন্য কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হুমকি বা শক্তি প্রয়োগ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনস্তক্ষেপ: যেকোনো রাষ্ট্রের একান্ত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা প্রশাসনিক বিষয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ হস্তক্ষেপ করবে না (আন্তর্জাতিক শান্তি হুমকির মুখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া এর ব্যতিক্রম)।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর প্রধান ৬টি অঙ্গসংগঠন:
একটি বিশালাকার বিশ্ব সংস্থাকে সচল রাখতে এর কাজের পরিধিকে ৬টি মূল অঙ্গসংগঠনে ভাগ

- সাধারণ পরিষদ (General Assembly): এটি সংস্থার মূল নীতি-নির্ধারণী অংশ। সব সদস্য রাষ্ট্র এখানে সমান ভোটাধিকার উপভোগ করে।
- নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council): বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এটি সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ। এর সদস্য সংখ্যা ১৫টি (৫টি স্থায়ী এবং ১০টি অস্থায়ী)। স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর veto power (ভেটো ক্ষমতা) রয়েছে।
- অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC): শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশ্ব অর্থনীতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে নিবেদিত বিভিন্ন এজেন্সির সমন্বয় করে।
- ওসিয়ত পরিষদ (Trusteeship Council): পরাধীন অঞ্চলের শাসনভার তদারকি ও তাদের স্বাধীনতায় সাহায্য করার জন্য গঠিত হয়েছিল (১৯৯৪ সাল থেকে এর কাজ স্থগিত)।
- আন্তর্জাতিক বিচারালয় (ICJ): নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। রাষ্ট্রগুলোর আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করা এর কাজ।
- সচিবালয় (Secretariat): সাধারণ সম্পাদক বা Secretary-General-এর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রশাসনিক দপ্তর যা সংস্থার দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্বশান্তিতে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর গুরুত্ব:
বিগত আট দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব রাজনীতি পরিচালনা এবং যেকোনো সংকট নিরসনে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ অপরিসীম অবদান রেখেছে।
| ক্ষেত্র | সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর ভূমিকা ও অর্জিত সাফল্য |
| বিশ্বশান্তি ও সংঘাত নিরসন | কোরীয় যুদ্ধ, সুয়েজ সংকট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন দেশের গৃহযুদ্ধে শান্তিরক্ষী বাহিনীর (Peacekeeping Forces) মাধ্যমে শান্তি বজায় রেখেছে। |
| মানবাধিকার সুরক্ষা | ১৯৪৮ সালে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR) তৈরি করে বিশ্বজুড়ে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার সনদ তৈরি করেছে। |
| মানবিক ও জরুরি সহায়তা | UNHCR, WFP এবং UNICEF-এর মাধ্যমে সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন কোটি কোটি মানুষকে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় দিয়েছে। |
| স্বাস্থ্যে বৈশ্বিক বিপ্লব | বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে স্মলপক্স (গুটিবসন্ত) নির্মূল এবং পোলিও দূরীকরণে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। |
| টেকসই উন্নয়ন (SDGs) | ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে বিশ্বব্যাপী ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। |
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর সীমাবদ্ধতা ও সংস্কারের দাবি:
এত সব সাফল্য সত্ত্বেও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ নানা কারণে সমালোচিত হয়েছে:
- ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার: স্থায়ী ৫টি দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) একচ্ছত্র ভেটো পাওয়ারের কারণে অনেক সময় জরুরি সিদ্ধান্ত স্থবির হয়ে পড়ে।
- পাওয়ার পলিটিক্স বা ভূ-রাজনীতি: পরাশক্তিগুলোর সরাসরি সামরিক আগ্রাসনে (যেমন ইরাক বা সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত) সংস্থাটি অনেক সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।
- সংগঠনের পুনর্গঠন দাবি: বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদে ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও আফ্রিকার দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জোরালো দাবি উঠেছে।
উপসংহার:
একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ নিখুঁত না হলেও আধুনিক সভ্যতার টিকে থাকার জন্য এটি অপরিহার্য। সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে যেখানে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে, সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক মহামারী, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ এবং অভিবাসী সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলা করার ক্ষমতা একক কোনো রাষ্ট্রের নেই।
একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জই পারে বিশ্বকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে। সীমাবদ্ধতাগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে দূর করে এই বিশ্বসংস্থাকে নতুন যুগের উপযোগী করে তোলাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান দায়িত্ব।