পৃথিবীর অন্দরমহল: স্তরবিন্যাস, বৈশিষ্ট্য ও বিস্তারিত আলোচনা: prithibir-andarmahal-class-8-geography.
ভূমিকা:
আমরা পৃথিবীর উপরিভাগে বাস করলেও, এর ভেতরের গঠন বা পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে আমাদের ধারণা অনেকটা রহস্যে ঘেরা। ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গভীরতা প্রায় ৬,৩৭০ কিলোমিটার, যেখানে পৌঁছানো মানুষের পক্ষে আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মূলত উত্তাপ, চাপ এবং ঘনত্বের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে আমাদের এই গ্রহের অভ্যন্তরভাগকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে, যা পৃথিবীর বিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে।
পৃথিবীর সৃষ্টি ও অভ্যন্তরের প্রকৃতি:
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে। সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে পৃথিবী ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত ও গলিত গ্যাসীয় পিণ্ড। ধীরে ধীরে শীতল হওয়ার সময় ভারী পদার্থগুলি অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কেন্দ্রে নেমে যায় এবং হালকা পদার্থগুলি উপরিভাগে উঠে এসে কঠিন ভূত্বক গঠন করে।
আজও পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ অত্যন্ত উত্তপ্ত। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা প্রায় ১° সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত তাপ ও চাপের কারণেই মানুষের পক্ষে পৃথিবীর অন্দরমহলে সরাসরি প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে তথ্য জানা কঠিন কেন?
পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপমাত্রা ও চাপ অত্যন্ত বেশি। গভীরে গেলে আধুনিক যন্ত্রপাতিও গলে যায়। এজন্য বিজ্ঞানীরা সরাসরি পর্যবেক্ষণের পরিবর্তে—
- ভূমিকম্প তরঙ্গের গতি ও প্রকৃতি
- আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা
- কৃত্রিম গভীর গর্ত (যেমন রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপের ১২ কিমি গভীর গর্ত)
এসবের সাহায্যে পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তরবিন্যাস:
পৃথিবীর অন্দরমহলকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—
- ভূত্বক (Crust)
- গুরুমণ্ডল (Mantle)
- কেন্দ্রমণ্ডল (Core)
ভূত্বক (Crust):
ভূত্বক হলো পৃথিবীর সর্ববহির্ভাগের শক্ত স্তর, যার উপর আমরা বসবাস করি।
ভূত্বকের গভীরতা:
- মহাসাগরের নিচে: প্রায় ৫ কিমি
- মহাদেশের নিচে: প্রায় ৬০ কিমি
- গড় গভীরতা: প্রায় ৩০ কিমি
ভূত্বকের গঠন:
ভূত্বক প্রধানত দুটি স্তরে বিভক্ত—
SIAL (সিয়াল):
- উপাদান: সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al)
- অবস্থান: মহাদেশীয় ভূত্বক
- শিলা: গ্রানাইট
- ঘনত্ব: 2.6–2.8 গ্রাম/ঘন সেমি
SIMA (সিমা):
- উপাদান: সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়াম (Mg)
- অবস্থান: মহাসাগরীয় ভূত্বক
- শিলা: ব্যাসল্ট
- ঘনত্ব: 2.9–3.3 গ্রাম/ঘন সেমি
👉 সিয়াল ও সিমা স্তরের মাঝখানে কনরাড বিযুক্তি রেখা অবস্থিত।
ভূত্বকের রাসায়নিক উপাদান:
- অক্সিজেন – প্রায় ৪৭%
- সিলিকন – প্রায় ২৮%
বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এমন কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল রয়েছে যেখানে ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ হঠাৎ পরিবর্তিত হয়। এই অঞ্চলগুলিকে বিযুক্তি রেখা বলা হয়।
প্রধান বিযুক্তি রেখা:
- মোহোরোভিসিক (Moho) – ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে
- গুটেনবার্গ – গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে
- লেহমান – অন্তঃকেন্দ্র ও বহিঃকেন্দ্রের মাঝে
গুরুমণ্ডল (Mantle):
ভূত্বকের নীচে এবং কেন্দ্রমণ্ডলের উপরে অবস্থিত স্তরটিকে গুরুমণ্ডল বলে।
গুরুমণ্ডলের বিস্তৃতি:
- গভীরতা: প্রায় ৩০–২৯০০ কিমি
- গড় ঘনত্ব: ৩.৪ – ৫.৭ গ্রাম/ঘন সেমি
গুরুমণ্ডলের উপাদান:
লোহা (Fe), নিকেল (Ni), ক্রোমিয়াম (Cr), ম্যাগনেশিয়াম (Mg), সিলিকন (Si)
গুরুমণ্ডলের বিভাগ:
ক্রোফেসিমা (30–700 কিমি):
- উপাদান: Cr + Fe + Si + Mg
- এখানেই ভূমিকম্প ও আগ্নেয় কার্যকলাপ বেশি দেখা যায়
নিফেসিমা (700–2900 কিমি):
- উপাদান: Ni + Fe + Si + Mg
- এখানে ভূমিকম্পের P তরঙ্গের গতি বেশি
শিলামণ্ডল ও অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার:
- ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের উপরের অংশ মিলিয়ে শিলামণ্ডল
- গভীরতা: প্রায় ১০০ কিমি
শিলামণ্ডলের নিচে গুরুমণ্ডলের দুর্বল স্তরকে বলে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার।
- গ্রিক শব্দ Asthenos → অর্থ দুর্বল
- এখানেই পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়
- এই স্রোতের ফলেই মহাদেশীয় সঞ্চালন, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি
কেন্দ্রমণ্ডল (Core):
গুরুমণ্ডলের নীচে পৃথিবীর কেন্দ্রকে ঘিরে থাকা স্তরটিকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে।
কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- বিস্তৃতি: ২৯০০–৬৩৭০ কিমি
- গড় তাপমাত্রা: প্রায় ৫০০০°C
- গড় ঘনত্ব: ৯.১–১৩.১ গ্রাম/ঘন সেমি
- উপাদান: লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni)
তাই একে নিফে (NiFe) বলা হয়
- উপাদান: লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni)
কেন্দ্রমণ্ডলের বিভাগ:
বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল:
- গভীরতা: ২৯০০–৫১০০ কিমি
- অবস্থা: তরল / সান্দ্র
- এখান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর চৌম্বকত্ব
অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল:
- গভীরতা: ৫১০০–৬৩৭০ কিমি
- অবস্থা: অত্যাধিক চাপের ফলে কঠিন
ভূমিকম্প তরঙ্গ ও পৃথিবীর অভ্যন্তর:
ভূমিকম্পের ফলে দুটি প্রধান তরঙ্গ সৃষ্টি হয়—
- P তরঙ্গ: কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় মাধ্যমে চলতে পারে
- S তরঙ্গ: কেবলমাত্র কঠিন মাধ্যমে প্রবাহিত হয়
এই তরঙ্গগুলির গতিবিধি বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তরবিন্যাস সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।
ভূতাপশক্তি:
পৃথিবীর অভ্যন্তরে নিহিত তাপশক্তিকে ভূতাপশক্তি বলে। এটি একটি অপ্রচলিত ও দূষণহীন শক্তির উৎস।
- প্রথম ভূতাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: ইতালির লারডেয়ালো (1904)
- ভারত: মনিকারন (হিমাচল প্রদেশ)
- আইসল্যান্ডে প্রায় ৩০% বিদ্যুৎ ভূতাপ থেকে উৎপন্ন
উপসংহার:
পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের পৃথিবীর গঠন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ও শক্তির উৎস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়। যদিও মানুষের পক্ষে পৃথিবীর গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়, তবুও আধুনিক বিজ্ঞান ভূমিকম্প তরঙ্গ ও অন্যান্য পরোক্ষ প্রমাণের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্তর্গত রহস্য উন্মোচন করেছে।
MCQ (বহু নির্বাচনী প্রশ্ন):
1. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
ক) ৬০০০ কিমি খ) ৬৩৭০ কিমি
গ) ৬৫০০ কিমি ঘ) ৬৭০০ কিমি
2. পৃথিবীর সর্ববহির্ভাগের স্তর কোনটি?
ক) গুরুমণ্ডল খ) কেন্দ্রমণ্ডল
গ) ভূত্বক ঘ) শিলামণ্ডল
3. ভূত্বকের গড় পুরুত্ব কত?
ক) ৫–১০ কিমি খ) ১০–২০ কিমি
গ) ৩০–৪০ কিমি ঘ) ৭০–৮০ কিমি
4. সিয়াল স্তরের প্রধান উপাদান কোনটি?
ক) সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম খ) সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
গ) লোহা ও নিকেল ঘ) কার্বন ও অক্সিজেন
5. সিমা স্তরের প্রধান উপাদান কী?
ক) সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম খ) সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম
গ) লোহা ও নিকেল ঘ) ক্যালসিয়াম ও সোডিয়াম
6. কনরাড বিযুক্তি রেখা কোন দুটি স্তরের মাঝে অবস্থিত?
ক) ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল খ) সিয়াল ও সিমা
গ) গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল ঘ) বহিঃকেন্দ্র ও অন্তঃকেন্দ্র
7. মোহোরোভিসিক বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
ক) সিয়াল ও সিমার মাঝে খ) ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে
গ) গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে ঘ) কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতরে
8. গুরুমণ্ডলের গভীরতা কত পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক) ১০০০ কিমি খ) ২০০০ কিমি
গ) ২৯০০ কিমি ঘ) ৩৫০০ কিমি
9. গুরুমণ্ডলের কোন অংশে ম্যাগমা অবস্থান করে?
ক) লিথোস্ফিয়ার খ) অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার
গ) কেন্দ্রমণ্ডল ঘ) ভূত্বক
10. পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন স্তর কোনটি?
ক) ভূত্বক খ) গুরুমণ্ডল
গ) বহিঃকেন্দ্র ঘ) কেন্দ্রমণ্ডল
11. গুরুমণ্ডল প্রধানত কোন অবস্থায় থাকে?
ক) কঠিন খ) তরল
গ) অর্ধগলিত ঘ) গ্যাসীয়
12. গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
ক) ভূত্বক–গুরুমণ্ডল খ) সিয়াল–সিমা
গ) গুরুমণ্ডল–কেন্দ্রমণ্ডল ঘ) অন্তঃ–বহিঃকেন্দ্র
13. কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান কী?
ক) সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম খ) লোহা ও নিকেল
গ) অ্যালুমিনিয়াম ও তামা ঘ) ক্যালসিয়াম ও সোডিয়াম
14. বহিঃকেন্দ্রের অবস্থা কী?
ক) কঠিন খ) তরল
গ) অর্ধগলিত ঘ) গ্যাসীয়
15. অন্তঃকেন্দ্রের অবস্থা কী?
ক) তরল খ) গ্যাসীয়
গ) কঠিন ঘ) অর্ধগলিত
16. পৃথিবীর চৌম্বকত্বের জন্য দায়ী কোন স্তর?
ক) ভূত্বক খ) গুরুমণ্ডল
গ) বহিঃকেন্দ্র ঘ) অন্তঃকেন্দ্র
17. P তরঙ্গ কোন কোন মাধ্যমে চলতে পারে?
ক) শুধু কঠিন খ) কঠিন ও তরল
গ) কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় ঘ) শুধু তরল
18. S তরঙ্গ কোন মাধ্যমে চলতে পারে না?
ক) কঠিন খ) তরল
গ) শিলা ঘ) ধাতু
19. ভূমিকম্প তরঙ্গের সাহায্যে কোনটি জানা যায়?
ক) আবহাওয়া খ) পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন
গ) জলবায়ু ঘ) নদীপ্রবাহ
20. পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত কোথায়?
ক) আমেরিকা খ) রাশিয়া
গ) জাপান ঘ) ভারত
21. কোলা উপদ্বীপ কোন দেশে অবস্থিত?
ক) কানাডা খ) নরওয়ে
গ) রাশিয়া ঘ) ফিনল্যান্ড
22. পৃথিবীর গভীরতম খনি কোনটি?
ক) কোলার খনি খ) রবিনসন ডীপ খনি
গ) রানিগঞ্জ খনি ঘ) ঝাড়িয়া খনি
23. রবিনসন ডীপ খনি কোন দেশে অবস্থিত?
ক) ভারত খ) অস্ট্রেলিয়া
গ) দক্ষিণ আফ্রিকা ঘ) ব্রাজিল
24. ম্যাগমা কাকে বলে?
ক) ভূপৃষ্ঠের গলিত পদার্থ খ) ভূগর্ভের গলিত পদার্থ
গ) কঠিন শিলা ঘ) আগ্নেয় শিলা
25. লাভা কাকে বলে?
ক) ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা খ) ভূপৃষ্ঠে বের হওয়া ম্যাগমা
গ) কঠিন শিলা ঘ) অবক্ষেপ
26. উষ্ণ প্রস্রবণ কীসের ফলে সৃষ্টি হয়?
ক) বৃষ্টিপাত খ) ভূগর্ভস্থ তাপের প্রভাবে
গ) নদীপ্রবাহ ঘ) হিমবাহ
27. পশ্চিমবঙ্গের উষ্ণ প্রস্রবণ কোথায়?
ক) পুরুলিয়া খ) বক্রেশ্বর
গ) দার্জিলিং ঘ) জলপাইগুড়ি
28. মনিকারন উষ্ণ প্রস্রবণ ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
ক) উত্তরাখণ্ড খ) হিমাচল প্রদেশ
গ) সিকিম ঘ) জম্মু ও কাশ্মীর
29. ভূতাপশক্তি হল—
ক) জীবাশ্ম শক্তি খ) সৌরশক্তি
গ) অপ্রচলিত শক্তি ঘ) জলবিদ্যুৎ
30. পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপশক্তিকে কী বলে?
ক) সৌরশক্তি খ) ভূতাপশক্তি
গ) রাসায়নিক শক্তি ঘ) তড়িৎশক্তি
31. লিথোস্ফিয়ার কী নিয়ে গঠিত?
ক) শুধু ভূত্বক খ) ভূত্বক ও উপরের গুরুমণ্ডল
গ) গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্র ঘ) শুধু গুরুমণ্ডল
32. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার কোথায় অবস্থিত?
ক) ভূত্বকের উপর খ) লিথোস্ফিয়ারের নিচে
গ) কেন্দ্রমণ্ডলে ঘ) বহিঃকেন্দ্রে
33. পরিচলন স্রোত কোথায় সৃষ্টি হয়?
ক) ভূত্বকে খ) অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে
গ) অন্তঃকেন্দ্রে ঘ) বহিঃকেন্দ্রে
34. মহাদেশীয় ভূত্বকের গঠন কোন স্তর দ্বারা?
ক) সিমা খ) সিয়াল
গ) নি-ফে ঘ) ম্যাগমা
35. মহাসাগরীয় ভূত্বক গঠিত—
ক) সিয়াল দ্বারা খ) সিমা দ্বারা
গ) নিকেল দ্বারা ঘ) অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা
36. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পরিমাণ উপাদান কোনটি?
ক) সিলিকন খ) লোহা
গ) অক্সিজেন ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
37. পৃথিবীর গড় ঘনত্ব কত?
ক) ৪.৫ g/cm³ খ) ৫.৫ g/cm³
গ) ৬.৫ g/cm³ ঘ) ৭.৫ g/cm³
38. কোন তরঙ্গ দ্রুততম?
ক) L তরঙ্গ খ) S তরঙ্গ
গ) P তরঙ্গ ঘ) জল তরঙ্গ
39. L তরঙ্গ কী সৃষ্টি করে?
ক) আগ্নেয়গিরি খ) ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি
গ) ঘূর্ণিঝড় ঘ) বন্যা
40. পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা কত প্রায়?
ক) ২০০০°C খ) ৩০০০°C
গ) ৫০০০°C ঘ) ৭০০০°C
41. পৃথিবীর অন্দরমহল জানার প্রধান উৎস কী?
ক) খনি খ) আগ্নেয়গিরি
গ) ভূমিকম্প তরঙ্গ ঘ) উপগ্রহ
42. আগ্নেয় উদ্গীরণের সময় কোনটি বের হয়?
ক) লাভা খ) ছাই
গ) গ্যাস ঘ) সবকটি
43. পৃথিবীর কেন্দ্রে যাত্রার কাহিনি কোন গ্রন্থে আছে?
ক) Around the World খ) Journey to the Centre of the Earth
গ) Discovery of Earth ঘ) Earth Science
44. Journey to the Centre of the Earth-এর লেখক কে?
ক) চার্লস ডারউইন খ) জুল ভার্ন
গ) নিউটন ঘ) আইনস্টাইন
45. পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগকে কয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে?
ক) ২টি খ) ৩টি
গ) ৪টি ঘ) ৫টি
46. নি-ফে বলতে কী বোঝায়?
ক) নিকেল ও লোহা খ) নাইট্রোজেন ও লোহা
গ) নিকেল ও ফসফরাস ঘ) সোডিয়াম ও লোহা
47. পৃথিবীর অভ্যন্তরের চাপ—
ক) সমান খ) কমে
গ) বাড়তে থাকে ঘ) থাকে না
48. গভীরে যাওয়ার সাথে তাপমাত্রা—
ক) কমে খ) অপরিবর্তিত
গ) বাড়ে ঘ) হঠাৎ কমে
49. পৃথিবীর কোন স্তরে আগ্নেয়গিরির উৎস?
ক) ভূত্বক খ) অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার
গ) অন্তঃকেন্দ্র ঘ) বহিঃকেন্দ্র
50. ভূত্বকের নিচে অবস্থিত স্তর কোনটি?
ক) কেন্দ্রমণ্ডল খ) গুরুমণ্ডল
গ) সিয়াল ঘ) সিমা
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কত?
উত্তর: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭০ কিলোমিটার। - ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব কত?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৬৩৭০ কিলোমিটার। - পৃথিবী কবে সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে। - পৃথিবীর গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: পৃথিবীর গড় ঘনত্ব প্রায় ৫.৫ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার। - ভূত্বকের গড় গভীরতা কত?
উত্তর: ভূত্বকের গড় গভীরতা প্রায় ৩০ কিলোমিটার। - মহাসাগরের নিচে ভূত্বকের গভীরতা কত?
উত্তর: প্রায় ৫ কিলোমিটার। - মহাদেশের নিচে ভূত্বকের গভীরতা কত?
উত্তর: প্রায় ৬০ কিলোমিটার। - ভূত্বকের প্রধান উপাদান কী?
উত্তর: অক্সিজেন। - ভূত্বকের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান কী?
উত্তর: সিলিকন। - ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গ কেবল কঠিন মাধ্যমে চলে?
উত্তর: S তরঙ্গ। - ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গ সব মাধ্যমে চলতে পারে?
উত্তর: P তরঙ্গ। - পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত কোথায়?
উত্তর: রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে। - কোলা গর্তের গভীরতা কত?
উত্তর: প্রায় ১২ কিলোমিটার। - পৃথিবীর গভীরতম খনি কোনটি?
উত্তর: দক্ষিণ আফ্রিকার রবিনসন ডীপ খনি। - পশ্চিমবঙ্গে কোথায় উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে?
উত্তর: বক্রেশ্বর।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
1. পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন কেন?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা ও চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা প্রায় ১° সেলসিয়াস করে বাড়ে। এই অতিরিক্ত তাপে মানুষ বা যন্ত্রপাতি টিকে থাকতে পারে না। তাই পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন।
2. ম্যাগমা কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে অত্যাধিক চাপ ও তাপের ফলে শিলাগুলি গলিত বা বাষ্পমিশ্রিত অবস্থায় থাকে। এই গলিত উত্তপ্ত পদার্থকেই ম্যাগমা বলা হয়।
3. লাভা কাকে বলে?
উত্তর: ভূগর্ভের গলিত ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলা হয়।
4. উষ্ণ প্রস্রবণ কাকে বলে?
উত্তর: ভূগর্ভস্থ জল পৃথিবীর অভ্যন্তরের ভূতাপের সংস্পর্শে এসে উত্তপ্ত হয়ে ফুটতে শুরু করে এবং ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। একে উষ্ণ প্রস্রবণ বলে।
5. বিযুক্তি রেখা কী?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এমন কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল রয়েছে যেখানে ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ হঠাৎ পরিবর্তিত হয়। এই অঞ্চলগুলিকে বিযুক্তি রেখা বলা হয়।
সংজ্ঞাভিত্তিক প্রশ্ন (৩ নম্বর)
1. ভূত্বক কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর সর্ববহির্ভাগে অবস্থিত শক্ত ও পাতলা স্তরটিকে ভূত্বক বলে। এই স্তরের উপরেই মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাস।
2. গুরুমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তর: ভূত্বকের নিচে এবং কেন্দ্রমণ্ডলের উপর বিস্তৃত যে স্তরটি প্রায় ২৯০০ কিমি গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত, তাকে গুরুমণ্ডল বা ম্যান্টল বলে।
3. কেন্দ্রমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তর: গুরুমণ্ডলের নিচে পৃথিবীর কেন্দ্রকে ঘিরে থাকা সর্বাধিক তাপ ও ঘনত্ববিশিষ্ট স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে।
পার্থক্য লেখ:
ম্যাগমা ও লাভার পার্থক্য
| ম্যাগমা | লাভা |
|---|---|
| ভূগর্ভে অবস্থান করে | ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয় |
| অত্যাধিক উত্তপ্ত | তুলনামূলক কম উত্তপ্ত |
| সরাসরি দেখা যায় না | সহজে দেখা যায় |
S তরঙ্গ ও P তরঙ্গের পার্থক্য
| S তরঙ্গ | P তরঙ্গ |
|---|---|
| কেবল কঠিন মাধ্যমে চলে | কঠিন, তরল ও গ্যাসে চলে |
| গতি ধীর | গতি দ্রুত |
| তরলে প্রবেশ করতে পারে না | তরলে প্রবেশ করতে পারে |
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
1. কেন্দ্রমণ্ডল কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: গুরুমণ্ডলের নিচে এবং পৃথিবীর কেন্দ্রকে চারদিক থেকে পরিবেষ্টন করে থাকা স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে। এই স্তরটি গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা দ্বারা গুরুমণ্ডল থেকে পৃথক।
কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- বিস্তৃতি ২৯০০ কিমি থেকে ৬৩৭০ কিমি পর্যন্ত।
- গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস।
- গড় ঘনত্ব ৯.১–১৩.১ গ্রাম/ঘন সেমি।
- প্রধান উপাদান লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni)।
- বহিঃকেন্দ্র তরল এবং অন্তঃকেন্দ্র কঠিন অবস্থায় থাকে।
2. পৃথিবীর অন্দরমহলের স্তরবিন্যাস আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবীর অন্দরমহল প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত—ভূত্বক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
ভূত্বক পৃথিবীর বহিরাবরণ এবং এটি সিয়াল ও সিমা স্তরে বিভক্ত। ভূত্বকের নিচে অবস্থিত গুরুমণ্ডল সবচেয়ে পুরু স্তর। এর উপরের অংশ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার নামে পরিচিত, যেখানে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়। গুরুমণ্ডলের নিচে কেন্দ্রমণ্ডল অবস্থিত, যা পৃথিবীর চৌম্বকত্ব সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
টীকা লেখ:
ভূতাপশক্তি
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে নিহিত তাপশক্তিকে ভূতাপশক্তি বলে। এটি একটি অপ্রচলিত, পুনর্নবীকরণযোগ্য ও দূষণহীন শক্তির উৎস। ইতালির লারডেয়ালোতে ১৯০৪ সালে প্রথম ভূতাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। ভারতে হিমাচল প্রদেশের মনিকারনে ভূতাপশক্তি কেন্দ্র রয়েছে।