ভূমিকা:
সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস পাঠ্যসূচির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘ভারতের সমাজ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা’। এই অধ্যায়ে মূলত আনুমানিক খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে ভারতের সামগ্রিক পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তৎকালীন ভারতের সমাজব্যবস্থা কেবল রাজবংশের উত্থান-পতনের ইতিহাস নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, জীবিকা এবং ধর্মীয় চেতনার এক সংমিশ্রণ। এই সময়ে ভারতের অর্থনীতিতে কৃষি ও বাণিজ্যের পাশাপাশি সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোর প্রভাব সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা গ্রামীণ সমাজের বিন্যাসকে বদলে দিয়েছিল।
সাংস্কৃতিক দিক থেকে এই পর্যায়টি ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। একদিকে যেমন নালন্দা ও বিক্রমশীলার মতো মহাবিহারগুলো শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, অন্যদিকে আঞ্চলিক ভাষার বিকাশ ও সাহিত্যের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল এই সময়েই। স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে মন্দির ও স্তূপ নির্মাণের নতুন রীতি ভারতীয় সংস্কৃতির ধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। ধর্মীয় ক্ষেত্রে ভক্তি আন্দোলন এবং সুফিবাদ সামাজিক সংহতির এক নতুন পথ উন্মোচন করে। মূলত মধ্যযুগীয় ভারতের এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনই পরবর্তী আধুনিক ভারতের ভিত গড়ে দিয়েছিল। ‘ভারতের সমাজ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা’ অধ্যায়টি পাঠ করলে আমরা জানতে পারি কীভাবে প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য ও মধ্যযুগের নতুন ভাবনা মিলেমিশে এক মিশ্র সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছিল।

আরো পড়ুন: ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র: অষ্টম শ্রেণী ইতিহাস
ভারতের সমাজ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা:
১. চক্রপাণিদত্ত কে ছিলেন?
চক্রপাণিদত্ত ছিলেন পাল যুগের একজন নাম – করা চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ‘চিকিৎসাসংগ্রহ’ নামক গ্রন্থের রচয়িতা।
২. চক্রপাণিদত্ত কী কী বিষয়ের ওপর বই লিখেছিলেন?
চক্রপাণিদত্ত প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী চরক ও শুশ্রুতের রচনার ওপর টীকা লেখা ছাড়াও ভেষজ গাছগাছড়া, ঔষধের উপাদান, পথ্য প্রভৃতি নিয়েও বই লিখেছিলেন।
৩. কখন ও কীভাবে প্রাচীন বাংলা ভাষার জন্ম হয়?
আনুমানিক ৮০০-১১০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মাগধী অপভ্রংশ ভাষার গৌড়বঙ্গীয় রূপ থেকে ধীরে ধীরে প্রাচীন বাংলা ভাষার জন্ম হয়।
৪. কোন্ যুগীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ছিলেন চক্রপাণিদত্ত?
পাল যুগের একজন বিখ্যাত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ছিলেন চক্রপাণিদত্ত।
৫. ‘চিকিৎসাসংগ্রহ’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
‘চিকিৎসাসংগ্রহ’ গ্রন্থটি চক্রপাণিদত্তের রচনা।
৬. রামপালের রাজধানী কোথায় অবস্থিত ছিল?
রামাবতী নগরে রামপালের রাজধানী অবস্থিত ছিল।
৭. পাল যুগের কয়েকজন সিদ্ধাচার্যের নাম লেখো?
পাল যুগের কয়েকজন সিদ্ধাচার্যের নাম হল লুইপাদ, সরহপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ প্রমুখ।
৮. কাহ্নপাদ কে ছিলেন?
কাহ্নপাদ ছিলেন পালযুগের একজন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য।
৯. চর্যাপদের মধ্যে দিয়ে কোন্ কোন্ ছবি ফুটে ওঠে?
চর্যাপদের মধ্যে দিয়ে পাল যুগের বাংলার পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ছবি ফুটে ওঠে।
১০. অশ্বঘোষ কীভাবে বৌদ্ধধর্মে নির্বাণ বা মুক্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন? অথবা, বৌদ্ধধর্মের হীনযান শাখা নির্বাণ বা মুক্তির ব্যাখ্যায় কী বলে?
মুক্তির ব্যাখ্যায় অশ্বঘোষ বৌদ্ধধর্মে উল্লিখিত নির্বাণ বা লিখেছিলেন যে, প্রদীপের তেল ফুরিয়ে গেলে যেমন তার শিখা নিভে যায়, তেমনই জীবনে ক্লেশ বা দুঃখের অবসান হলে চিরতরে মুক্তি বা নির্বাণ মেলে।
আরো পড়ুন: ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্য
১১. তান্ত্রিক বৌদ্ধমতের জন্ম কীভাবে হয়েছিল?
পাল যুগে মহাযান বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে অন্যান্য দার্শনিক চিন্তাধারা মিলে গিয়ে বজ্রযান বা তন্ত্রযান বা তান্ত্রিক বৌদ্ধমতের জন্ম হয়েছিল।
১২. সিদ্ধাচার্য কাদের বলা হত?
বজ্রযান বা তন্ত্রযান বৌদ্ধমতের নেতাদের বলা হত সিদ্ধাচার্য।
১৩. পাল যুগে বজ্রযান বা তন্ত্রযান ছাড়া প্রচলিত আরও দু – রকমের বৌদ্ধ ধর্মমতের নাম লেখো?
পাল যুগে বজ্রযান বা তন্ত্রযান ছাড়া প্রচলিত আরও দু – রকমের বৌদ্ধ ধর্মমতের নাম হল সহজযান ও কালচকয়ান।
১৪. সহজিয়া কাকে বলা হয়?
পাল যুগে সহজযান বৌদ্ধমতকে সহজিয়া বলা হয়।
১৫. সহজযান ধর্মীয় ভাবনা কীরূপ ছিল?
সহজযান ধর্মীয় ভাবনায় দেবদেবীর স্বীকৃতি ছিল না, মন্ত্ৰ – পুজো আচার – অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ছিল না এবং বলা হয় আত্মা শুদ্ধ হলে তবেই মানুষ নির্বাণ বা চিরমুক্তি লাভ করতে পারে।
১৬. বৌদ্ধ ধর্মমতের মহাযান শাখা নির্বাণ বা মুক্তির কী ব্যাখ্যা দেয়?
বৌদ্ধ ধর্মমতের মহাযান শাখা মুক্তি বা নির্বাণের ব্যাখ্যায় বলে নির্বাণ এমন একটি অবস্থা যেখানে কোনো কিছুই নেই।
১৭. আদি বাংলা ভাষার উদাহরণ পাওয়া যায় কোন্ লেখায়?
আদি বাংলা ভাষার উদাহরণ পাওয়া যায় চর্যাপদে।
১৮. চর্যাপদের পুঁথি কে, কোথা থেকে উদ্ধার করেন?
আচার্য হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে চর্যাপদের পুঁথি উদ্ধার করেন।
১৯. চর্যাপদ কী?
চর্যাপদ হল খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকে লেখা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের কবিতা ও গানের সংকলন।
২০. পাল যুগের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিহারের নাম লেখো?
পাল যুগের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিহারের নাম হল নালন্দা, ওদন্তপুরী (নালন্দার কাছে), বিক্রমশীল (ভাগলপুরের কাছে) , সোমপুরী (রাজশাহি জেলার পাহাড়পুরে), জগদ্দল (উত্তরবঙ্গে), বিক্রমপুরী (ঢাকা জেলা) প্রভৃতি।
২১. পাল আমলের কয়েকজন আচার্যের নাম লেখো?
পাল আমলের কয়েকজন আচার্যের নাম হল শান্তরক্ষিত, শান্তিদেব, কম্বলপাদ ও শবরীপাদ, দীপঙ্কর – শ্রীজ্ঞান (অতীশ), গোরক্ষনাথ, কাহ্নপাদ প্রমুখ।
২২. বাইরের কোন কোন দেশ থেকে ছাত্ররা পড়াশোনার জন্য নালন্দা বৌদ্ধবিহারে আসত?
বাইরের তিব্বত, চিন, কোরিয়া এবং মোঙ্গলিয়া দেশ থেকে ছাত্ররা পড়াশোনার জন্য নালন্দা বৌদ্ধবিহারে আসত।
২৩. নালন্দা বৌদ্ধবিহার তৈরি হয়েছিল কোন সম্রাটদের আমলে?
নালন্দা বৌদ্ধবিহার তৈরি হয়েছিল সম্ভবত গুপ্ত সম্রাটদের আমলে।
২৪. নালন্দা বৌদ্ধবিহারে কতজন শিক্ষক এবং কতজন ছাত্র ছিল?
নালন্দার সমৃদ্ধির যুগে নালন্দা বৌদ্ধবিহারে ১,৫০০ জন শিক্ষক এবং ৮,৫০০ জন ছাত্র ছিল।
২৫. জগদ্দল বৌদ্ধবিহারটি কোথায় অবস্থিত ছিল?
জগদ্দল বৌদ্ধবিহারটি উত্তরবঙ্গে অবস্থিত ছিল।
২৬. নালন্দা মহাবিহার বর্তমান ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
নালন্দা মহাবিহার বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত।
২৭. পাল আমলে কেন বেশি স্তূপ বানানো হয়েছিল?
পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মের অনুরাগী ছিলেন এবং সেই জন্যই পাল শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেশি স্তূপ বানানো হয়েছিল।
২৮. বিক্রমশীল মহাবিহারকে কারা ধ্বংস করেছিল?
বিক্রমশীল মহাবিহারকে ত্রয়োদশ শতকে তুর্কি আক্রমণকারীরা ধ্বংস করেছিল।
২৯. পাল যুগের শিল্পরীতিকে কী বলা হয়?
পাল যুগের শিল্পরীতিকে প্রাচ্য শিল্পরীতি বলা হয়।
৩০. কোন্ কোন্ অঞ্চলে পাল যুগে বৌদ্ধ স্তূপ পাওয়া গেছে?
বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার আসরফপুর গ্রামে, রাজশাহির পাহাড়পুরে, চট্টগ্রামে, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার ভরতপ্ত গ্রামে বৌদ্ধ স্তূপ পাওয়া গেছে।
৩১. বিক্রমশীল মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
পাল সম্রাট ধর্মপাল খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে মগধের উত্তর ভাগে গঙ্গার তীরে আধুনিক ভাগলপুর শহরের কাছে বিক্রমশীল মহাবিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
৩২. বিক্রমশীল মহাবিহারের মহাচার্য কে ছিলেন?
দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (অতীশ) ছিলেন বিক্রমশীল মহাবিহারের একজন অন্যতম মহাচার্য।
৩৩. পাল যুগের বৌদ্ধবিহার কোথায় আবিষ্কৃত হয়েছে?
পাল যুগের বৌদ্ধবিহার (বিক্রমশীল মহাবিহার) মগধের উত্তর ভাগে গঙ্গার তীরে আধুনিক ভাগলপুর শহরের কাছে আবিষ্কৃত হয়েছে।
৩৪. পাল যুগে কোন্ কোন্ দেবদেবীর পুজো করা হত?
পাল যুগে ইন্দ্র, অগ্নি, কুবের, সূর্য, বৃহস্পতি, গঙ্গা, যমুনা, মাতৃকা, শিব, বিষ্ণু প্রমুখ দেবদেবীর পুজো করা হত।
৩৫. পাল যুগে শূদ্র হিসেবে কাদের ধরা হত?
পাল যুগে অ-ব্রাহ্মণদের সবাইকে সংকর বা শূদ্র হিসেবে ধরা হত।
৩৬. পাল যুগের দুজন বিখ্যাত শিল্পীর নাম লেখো?
পাল যুগের দুজন বিখ্যাত শিল্পী হলেন ধীমান ও বীটপাল।
৩৭. খনার বচন বা ছড়াগুলিতে কীসের হদিস মেলে?
খনার বচন বা ছড়াগুলিতে কোন্ ঋতুতে কী ফসল বুনতে হবে, কোন্ ফসলের জন্য কেমন মাটি দরকার, কতটা বৃষ্টির দরকার— এসব নানা কিছুর হদিস মেলে।
৩৮. ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থ দুটির লেখক কে ছিলেন?
‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থ দুটির লেখক হলেন রাজা বল্লাল সেন।
৩৯. লক্ষ্মণ সেনের মন্ত্রী হলায়ুধ বৈদিক নিয়ম বিষয়ে যে বইটি লিখেছিলেন তার নাম কী?
লক্ষ্মণ সেনের মন্ত্রী হলায়ুধ বৈদিক নিয়ম বিষয়ে যে বইটি লিখেছিলেন সেটি হল ‘ব্রাহ্মণসর্বস্ব‘।
৪০. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কবি কে ছিলেন?
লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন ‘গীতগোবিন্দম’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব।
৪১. ‘পবনদূত’ কার লেখা?
পবনদূত কাব্যের রচয়িতা হলেন ধোয়ী।
৪২. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের নাম লেখো?
লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পরত্নের নাম হল জয়দেব, ধোয়ী, গোবর্ধন, উমাপতিধর এবং শরণ।
৪৩. শ্রীনিবাস কে ছিলেন?
সেন যুগের গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন শ্রীনিবাস।
৪৪. কোন রাজার রাজসভায় পঞ্চরত্ন ছিলেন?
রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভায় পঞ্চরত্ন ছিলেন।
৪৫. সেন বংশের কোন রাজাকে কৃষ্ণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে কৃয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
৪৬. বহির্বিশ্বে কোথায় কোথায় খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়কালের ভারতীয় সংস্কৃতির নমুনা মেলে?
বহির্বিশ্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, তিব্বত, চিন ইত্যাদি স্থানে খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়কালের ভারতীয় সংস্কৃতির নমুনা মেলে।
৪৭. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান কোন্ কোন্ মহাবিহারের আচার্য ও অধ্যক্ষ ছিলেন?
দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান সম্ভবত বিক্রমশীল, ওদন্তপুরী এবং সোমপুরী মহাবিহারের আচার্য ও অধ্যক্ষ ছিলেন।
৪৮. অতীশ দীপঙ্কর – শ্রীজ্ঞান কে ছিলেন?
বাঙালি বৌদ্ধ আচার্যদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান ও শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর (আনুমানিক ৯৮০ খ্রিঃ – ১০৫৩ খ্রিঃ)। তিনি দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান নামে সুপরিচিত ছিলেন।
৪৯. অতীশ দীপঙ্কর কার কাছে দীক্ষা নেন?
অতীশ দীপঙ্কর দীক্ষা নেন শীলরক্ষিতের কাছে।
৫০. শীলরক্ষিত কে ছিলেন?
ওদন্তপুরী বিহারের আচার্য ছিলেন শীলরক্ষিত এবং বিখ্যাত বাঙালি মহাযান বৌদ্ধপণ্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের গুরু ছিলেন তিনি।
৫১. অতীশ দীপঙ্করের জন্ম কোথায় হয়েছিল?
অতীশ দীপঙ্করের জন্ম হয়েছিল বঙ্গাল অঞ্চলের বিক্রমণিপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে।
৫২. বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের কবিতা ও গানের সংকলন কী নামে পরিচিত?
বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের কবিতা ও গানের সংকলন ‘চর্যাপদ‘ নামে পরিচিত।
৫৩. কার বাড়ি ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ নামে পরিচিত?
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের বাড়ি ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ নামে পরিচিত।
৫৪. দ্বাদশ শতকের কোন্ মন্দিরের গায়ে রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন গল্পগাথা খোদাই করা হয়েছে?
দ্বাদশ শতকের কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাটের বিরুমন্দিরের গায়ে রামায়ণ ও মহাভারতে বিভিন্ন গল্পগাথা খোদাই করা হয়েছে।
৫৫. কবে কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাটে বিখ্যাত বিমুমন্দির তৈরি হয়?
দ্বাদশ শতকের প্রথম ভাগে কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাটে বিখ্যাত বিয়ুমন্দির তৈরি হয়।
৫৬. তিব্বতের রাজধানীর নাম কী?
তিব্বতের রাজধানীর নাম লাসা।
৫৭. অতীশ দীপঙ্করের সমাধিস্থল কোথায় অবস্থিত?
অতীশ দীপঙ্করের সমাধিস্থল তিব্বতের লাসার কাছে অবস্থিত।
৫৮. অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতে কোন্ ধর্ম প্রচার করেন?
অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতে মহাযান বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন।
৫৯. খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে পৃথিবীর বৃহত্তম বৌদ্ধকেন্দ্র কোথায় ছিল? অথবা, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বৌদ্ধকেন্দ্রের নাম কী?
খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে পৃথিবীর বৃহত্তম বৌদ্ধকেন্দ্র ছিল ইন্দোনেশিয়ার বরোবোদুরের বৌদ্ধমন্দির।
৬০. ‘বাঙালি অতীশ লঙ্ঘিল গিরি তুষারে ভয়ংকর, জ্বালিল জ্ঞানের দীপ তিব্বতে বাঙালি দীপঙ্কর’ —কার রচনা?
প্রদত্ত কবিতার পঙ্ক্তিটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের রচনা।
৬১. আঙ্কোরভাট বিষুমন্দির কোথায় অবস্থিত?
আঙ্কোরভাট বিষ্ণুুমন্দির কম্বোডিয়ায় অবস্থিত।
৬২. আঙ্কোরভাটের মন্দিরটি কোন দেবতার উদ্দেশে নিবেদিত?
আঙ্কোরভাটের মন্দির দেবতা বিষ্ণুর উদ্দেশে নিবেদিত।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায় যে, মধ্যযুগীয় ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এই বিবর্তন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ সময়ের নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তনের ফসল। পাল, সেন এবং সুলতানি আমলের মধ্য দিয়ে ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতে যেমন সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছিল, তেমনি কৃষি ও বাণিজ্যের প্রসারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছিল। বিশেষ করে শিক্ষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে নালন্দা বা বিক্রমশীলার মতো মহাবিহারগুলোর অবদান এবং আঞ্চলিক ভাষার জয়যাত্রা ভারতীয় মেধার উৎকর্ষকে প্রমাণ করে।
সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এই অধ্যায়টি আমাদের শেখায় যে, ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত। ধর্মীয় ক্ষেত্রে ভক্তি আন্দোলন এবং সুফিবাদের প্রভাব সমাজে এক উদার ও সহনশীল বাতাবরণ তৈরি করেছিল, যা আজও ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘ভারতের সমাজ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা’ অধ্যায়টি পাঠ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল অতীতের রাজবংশ বা যুদ্ধবিগ্রহের কথা জানতে পারে না, বরং ভারত কীভাবে একটি মিশ্র ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির দেশে পরিণত হলো, তার এক স্বচ্ছ ধারণা লাভ করে। মূলত, মধ্যযুগের এই আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিই আধুনিক ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।