ভূমিকা (Introduction):
জীবজগতের প্রতিটি সৃষ্টির দিকে তাকালে এক চমৎকার ও বিস্ময়কর জীবনশৈলীর সন্ধান মেলে। এককোশী অতি ক্ষুদ্র অ্যামিবা থেকে শুরু করে বিশাল বটগাছ কিংবা জটিল মানবদেহ—সবার অস্তিত্ব টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো ‘জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ’ (Control and Coordination in Living Organisms)। পরিবেশের নিত্যনতুন পরিবর্তন, তাপ, আলো, স্পর্শ কিংবা আচমকা কোনো বিপদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিটি জীব যেভাবে সাড়াপ্রদান করে এবং নিজের দেহের অভ্যন্তরীণ সাম্যবস্থা বজায় রাখে, তা এক অনন্য জৈবিক কৌশল।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান সিলেবাসে জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বর বহনের অন্যতম মূল স্তম্ভ। অনেকের কাছেই হরমোন, স্নায়ুতন্ত্র কিংবা চোখের উপযোজন সম্পর্কিত বিষয়গুলো জটিল মনে হতে পারে; কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহজ কৌশল জানা থাকলে এই অধ্যায়ে ১০০% নম্বর তোলা খুবই সহজ!
একটি ছোট্ট লজ্জাবতী গাছের পাতা স্পর্শ করলেই কেন বুজে যায়? সূর্যমুখী ফুল কেন আলোর দিকেই মুখ করে থাকে? কিংবা রাতে হঠাৎ ভয়ের মুখোমুখি হলে কেন আমাদের হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায়? এই সব রোমাঞ্চকর প্রশ্নের উত্তর রয়েছে এই অধ্যায়ে। উদ্ভিদদেহ কীভাবে ফাইটোহরমোনের মাধ্যমে ধীরগতিতে সাড়া দেয় এবং প্রাণীদেহ কীভাবে স্নায়ুতন্ত্রের সাহায্যে চোখের পলকে সংবেদনশীলতা বজায় রাখে—তার সহজ ও স্পষ্ট আলোচনা নিয়ে তৈরি এই মাস্টার গাইডটি। আসুন, মাধ্যমিক পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়টি বিস্তারিতভাবে জেনে নিই!

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান
উদ্দীপক ও সংবেদনশীলতা কী?
- উদ্দীপক (Stimulus): পরিবেশের যেসব পরিবর্তন (যেমন: আলো, উষ্ণতা, স্পর্শ, রাসায়নিক পদার্থ) জীবের দেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং সাড়াপ্রদানে বাধ্য করে, তাদের উদ্দীপক বলে।
- বাহ্যিক উদ্দীপক: আলো, উষ্ণতা, অভিকর্ষ বল, জল।
- অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক: হরমোন, ক্যালসিয়াম আয়ন, কোশের রসস্ফীতি।
- সংবেদনশীলতা (Sensitivity): বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রভাবে জীবের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে।
আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর গবেষণা: ১৯০১ সালে তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদের মধ্যেও স্নায়বিক বা সমতুল্য উদ্দীপনা পরিবাহিত হয়। তিনি ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph) এবং রেজোন্যান্স রেকর্ডার যন্ত্রের সাহায্যে চণ্ডালড়াল (Desmodium gyrans) এবং লজ্জাবতী (Mimosa pudica) উদ্ভিদে সাড়াপ্রদান পরিমাপ করেন।
উদ্ভিদের চলন (Plant Movement)
উদ্ভিদ এক জায়গায় আবদ্ধ থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে, একে উদ্ভিদের চলন বলে।
উদ্ভিদের চলন
│
┌───────────────────────┼───────────────────────┐
▼ ▼ ▼
ট্যাকটিক চলন ট্রপিক চলন ন্যাস্টিক চলন
(উদ্দীপকের গতিপথ ও (উদ্দীপকের গতিপথ (উদ্দীপকের তীব্রতা
তীব্রতা উভয় দ্বারা) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত)
ট্যাকটিক চলন (Tactic Movement / Induced Locomotion)
- সংজ্ঞা: উদ্দীপকের গতিপথ এবং তীব্রতা—উভয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বলে।
- প্রকারভেদ:
- ফটোট্যাকটিক (Phototactic): আলোর প্রভাবে ঘটে। উদাহরণ: ক্ল্যামাইডোমোনাস ও ভলভক্স কম আলো থেকে মাঝারি আলোর দিকে গমন করে।
- কেমোট্যাকটিক (Chemotactic): রাসায়নিক পদার্থের আকর্ষণে ঘটে। উদাহরণ: মসের শুক্রাণু সুক্রোজের আকর্ষণে এবং ফার্নের শুক্রাণু ম্যালিক অ্যাসিডের আকর্ষণে ডিম্বাণুর দিকে ধাবিত হয়।
- থার্মোট্যাকটিক (Thermotactic): উষ্ণতার প্রভাবে ঘটে।
ট্রপিক চলন (Tropic Movement / Directional Movement)
- সংজ্ঞা: উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ (Direction) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অঙ্গের প্রবৃদ্ধিজনিত চলনকে ট্রপিক চলন বলে।
- প্রকারভেদ:
- ফটোট্রপিক (Phototropic): আলোর উৎসের দিকে কাণ্ড ও পাতার বৃদ্ধি (অনুকূল ফটোট্রপিক) এবং আলোর বিপরীত দিকে মূলের বৃদ্ধি (প্রতিকূল ফটোট্রপিক)।
- হাইড্রোট্রপিক (Hydrotropic): জলের উৎসের দিকে মূলের বৃদ্ধি (অনুকূল হাইড্রোট্রপিক)।
- জিওট্রপিক (Geotropic): অভিকর্ষ বলের অভিমুখে মূলের বৃদ্ধি (অনুকূল জিওট্রপিক) এবং বিপরীত দিকে কাণ্ডের বৃদ্ধি (প্রতিকূল জিওট্রপিক)।
ন্যাস্টিক চলন (Nastic Movement / Diffuse Movement)
- সংজ্ঞা: উদ্দীপকের তীব্রতা (Intensity) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে ন্যাস্টিক চলন বলে।
- প্রকারভেদ:
- ফটোন্যাস্টি (Photonasty): আলোর তীব্রতায় ফুল ফোটে বা বোজে। উদাহরণ: সূর্যমুখী, পদ্ম ফুল তীব্র আলোতে ফোটে।
- থার্মোন্যাস্টি (Thermonasty): উষ্ণতার তীব্রতায় ঘটে। উদাহরণ: টিউলিপ ফুল বেশি উষ্ণতায় ফোটে।
- সিসমোন্যাস্টি (Seismonasty): স্পর্শ, ঘর্ষণ বা কম্পনের প্রভাবে ঘটে। উদাহরণ: লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে রসস্ফীতি চাপ (Turgor pressure) কমে গিয়ে পাতাগুলি বুজে যায়।
- কেমোন্যাস্টি (Chemonasty): কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থের তীব্রতায় ঘটে। উদাহরণ: সূর্যশিশির বা কলসপত্রী উদ্ভিদের পাতায় পতঙ্গ বসলে পতঙ্গটি আটকে যায়।
আরো পড়ুন: রাষ্ট্র: সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য:
উদ্ভিদের রাসায়নিক সমন্বয় (ফাইটোহরমোন):
উদ্ভিদের বৃদ্ধি, অঙ্গ বিভেদন ও সাড়াপ্রদানে রাসায়নিক সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে ফাইটোহরমোন।
প্রাকৃতিক হরমোনসমূহ
অক্সিন (Auxin) – C10H_9NO_2
- রাসায়নিক নাম: ইনডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড (IAA)।
- উৎস: ভাজক কলা, কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগ, ভ্রূণমুকুলাবরনী।
- প্রধান কাজ:
- অগ্রস্থ প্রকটতা (Apical Dominance): অগ্রমুকুলের উপস্থিতিতে পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া।
- কোষের দীর্ঘীকরণ: কোষ প্রাচীর নমনীয় করে কোষের আকার বৃদ্ধি।
- ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ: কাণ্ডে আলোর বিপরীত দিকে বেশি অক্সিন জমা হয়ে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়, ফলে কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যায়।
- পার্থেনোকার্পি (Parthenocarpy): নিষেখ ছাড়াই বীজহীন ফল সৃষ্টি।
জিব্বেরেলিন (Gibberellin) – C19-H22-O6
- রাসায়নিক নাম: জিব্বেরেলিক অ্যাসিড (GA_3)।
- উৎস: পরিপক্ক বীজ, অঙ্কুরিত চারাগাছ, পাতা।
- প্রধান কাজ:
- পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি: উদ্ভিদের উচ্চতা বৃদ্ধি করা।
- সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করা: বীজ ও মুকুলের সুপ্তাবস্থা ভেঙে অঙ্কুরোদ্গম ঘটানো।
- ফল গঠন: ফলের আকার বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটানো।
সাইটোকাইনিন (Cytokinin)
- রাসায়নিক প্রকৃতি: পিউরিন জাতীয় ক্ষারীয় হরমোন (যেমন: জিয়াটিন)।
- উৎস: নারকেলের ডাবের জল, অঙ্কুরিত বীজ, শস্য।
- প্রধান কাজ:
- কোষ বিভাজন (Cell Division): সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা।
- পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি: অগ্রস্থ প্রকটতা বিনষ্ট করে গাছকে ঝাঁকড়া করা।
- বার্ধক্য বিলম্বিত করা (Richmond-Lang Effect): পত্রহরিৎ বা ক্লোরোফিল বিনষ্ট হওয়া রোধ করে পাতা দীর্ঘদিন সবুজ রাখা।
কৃত্রিম হরমোন ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ
মানুষের কল্যাণে এবং কৃষিকাজে কৃত্রিম বা সংশ্লেষিত (Synthetic) হরমোনের ভূমিকা অপরিসীম:
- কলম তৈরিতে: NAA (ন্যাফথালিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড) ও IBA (ইনডোল বিউটাইরিক অ্যাসিড) ব্যবহারে শাখাকলমে দ্রুত মূল গজায়।
- বীজহীন ফল উৎপাদনে: নিষেখ ছাড়া অপত্য ফল তৈরিতে কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করা হয়।
- আগাছানাশক হিসেবে:2,4-D (2,4-ডাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড) ব্যবহার করে ধান বা গম ক্ষেতের দ্বিবীজপত্রী আগাছা ধ্বংস করা হয়।
- অকাল ফল ও পত্রমোচন রোধে: ফল ঝরে পড়া বন্ধ করতে কৃত্রিম অক্সিন ছিটানো হয়।
প্রাণীদের রাসায়নিক সমন্বয় (হরমোন):
প্রাণীদেহে হরমোন হলো রাসায়নিক বার্তাবহ (Chemical Messenger)। এটি অন্তঃক্ষরা বা অনাল গ্রন্থি থেকে নিসৃত হয়ে সরাসরি রক্ত বা লসিকায় মেসেজ পরিবহন করে।
অনাল, সনাল ও মিশ্র গ্রন্থি
│
┌───────────────────────┼───────────────────────┐
▼ ▼ ▼
অনাল গ্রন্থি সনাল গ্রন্থি মিশ্র গ্রন্থি
(নালীবিহীন, যেমন: পিটুইটারি) (নালীযুক্ত, যেমন: লালাগ্রন্থি) (উভয় বৈশিষ্ট্য, যেমন: অগ্ন্যাশয়)
মানবদেহের প্রধান অনাল গ্রন্থি ও নিশ্চিত হরমোন
পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland)
- অবস্থান: মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের নিচে, করোটীর স্প্যানয়েড অস্থির সেলা টারসিকা প্রকোষ্ঠে অবস্থিত।
- কেন একে ‘প্রভু গ্রন্থি’ (Master Gland) বলা হয়?
পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনসমূহ মানবদেহের অন্যান্য প্রধান প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন: থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, জনন গ্রন্থি) খরণ ও কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে প্রভু গ্রন্থি বলে। (নোট: হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারিকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে হাইপোথ্যালামাসকে ‘Supreme Commander’ বা প্রভুর প্রভু বলা হয়।) - প্রধান হরমোনসমূহ:
- STH / GH (সোমাটোট্রপিক / গ্রোথ হরমোন): দেহের অস্থি ও পেশীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়।
- অধ্যধিক ক্ষরণ:দৈত্যাকৃতি (Gigantism)।
- কম ক্ষরণ:বামনত্ব (Dwarfism)।
- TSH (থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন): থাইরয়েড গ্রন্থিকে থাইরক্সিন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
- ACTH (অ্যাড্রিনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন): অ্যাড্রিনাল কর্টেক্সকে উদ্দীপিত করে।
- GTH (গোনাডোট্রপিক হরমোন): FSH, LH, LTH — জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- ADH (অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন / ভ্যাসোপ্রেসিন): বৃক্কীয় নালিকায় জলের পুনঃশোষণ ঘটায়। এর অভাবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (মূত্রাতিসার) হয়।
- STH / GH (সোমাটোট্রপিক / গ্রোথ হরমোন): দেহের অস্থি ও পেশীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়।
থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland)
- অবস্থান: গ্রীবা অঞ্চলে শ্বাসনালীর দু’পাশে।
- হরমোন: থাইরক্সিন (T_4) এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (T_3)।
- কাজ:
- BMR (Basal Metabolic Rate) বা মৌল বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে ক্যালোরিজেনিক হরমোন বলে।
- লোহিত রক্তকণিকার পরিপক্কতা ঘটায়।
- ত্রুটিজনিত রোগ:
- আয়োডিনের অভাব:গলগণ্ড বা গয়টার (Goitre)।
- ছোটদের অভাব: ক্রেটিনিজম। বড়দের অভাব: মিক্সডিমা।
অগ্ন্যাশয় (Pancreas – মিশ্র গ্রন্থি)
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) অংশ থেকে হরমোন ক্ষরিত হয়।
- ইনসুলিন (beta-কোষ থেকে): রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় (গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত করে)।
- অভাবজনিত রোগ:ডায়াবেটিস মেলিশাস (Diabetes Mellitus) বা মধুমেহ।
- গ্লুকাগন ($\alpha$-কোষ থেকে): রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় (গ্লাইকোজেনোলাইসিস ঘটায়)।
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Suprarenal Gland)
- অবস্থান: প্রতিটি বৃক্কের ওপর টুপির মতো অবস্থিত।
- হরমোন: অ্যাড্রিনালিন (ইপিনেফ্রিন) ও নর-অ্যাড্রিনালিন।
- অ্যাড্রিনালিনকে ‘জরুরিভিত্তিক বা আপৎকালীন হরমোন’ বলা হয় কেন?
ভয়, রাগ, আনন্দ, উদ্বেগ বা বিপদের মতো মানসিক ও শারীরিক জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাড্রিনালিন দ্রুত ক্ষরিত হয়। এটি হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাসহার ও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে শরীরকে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এর ক্ষরণ কমে যায়।
জনন গ্রন্থি (Gonads)
- টেস্টোস্টেরন (শুক্রাশয়ের ইন্টারস্টিশিয়াল কোশ থেকে): পুরুষালি গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশ (যেমন: গোঁফ-দাড়ি গজানো, গলার স্বর গম্ভীর হওয়া)।
- ইস্ট্রোজেন (ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকল থেকে): নারীদেহে ত্বক মসৃণ করা, স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি ও ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ।
- প্রজেস্টেরন (করপাস লিউটিয়াম বা পীতগ্রন্থি থেকে): গর্ভাবস্থা বজায় রাখা ও ভ্রূণের রোপণে সাহায্য করা।
আরো পড়ুন: হরমোন: Hormone. প্রকারভেদ, কাজ এবং শরীরে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার উপায়:
প্রাণীদের ভৌত সমন্বয় (স্নায়ুতন্ত্র):
স্নায়ুতন্ত্র ভৌত সমন্বয়কারী হিসেবে দ্রুত উদ্দীপনা গ্রহণ, পরিবহন এবং উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিউরন (Neuron): স্নায়ুতন্ত্রের একক
নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক।
আদর্শ নিউরন
│
┌─────────────────────────┴─────────────────────────┐
▼ ▼
কোষদেহ (Soma) প্রবর্ধক (Processes)
(নিউক্লিয়াস, নিসল দানা, │
নিউরোফাইব্রিল যুক্ত) ┌──────────────────────┴──────────────────────┐
▼ ▼
ডেনড্রন (Dendron) অ্যাক্সন (Axon)
(উদ্দীপনা কোষে আনে) (উদ্দীপনা দূরে নিয়ে যায়)
অ্যাক্সনের প্রধান অংশসমূহ:
- অ্যাক্সোপ্লাজম ও অ্যাক্সোলেমা: অ্যাক্সনের সাইটোপ্লাজম ও আবরণী।
- মায়েলিন শিথ (Myelin Sheath): অ্যাক্সনের চারপাশের চর্বিজাতীয় স্তরের আবরণ।
- সোয়ান কোষ (Schwann Cell): মায়েলিন শিথের ওপর অবস্থিত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ।
- রানভিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier): দুটি মায়েলিন শিথের মধ্যবর্তী অনাবৃত অংশ, যা দ্রুত উদ্দীপনা পরিবহনে (Saltatory Conduction) সাহায্য করে।
- প্রান্তবুরুশ (End Brush): অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তের শাখা-প্রশাখা।
- সিন্যাপস (Synapse / স্নায়ুসন্নিধি): দুটি নিউরনের সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরনের অ্যাক্সন শেষ হয় এবং পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রন শুরু হয়। এখানে অ্যাসিটাইলকোলিন (Acetylcholine) নামক নিউরোট্রান্সমিটারের মাধ্যমে রাসায়নিক উপায়ে উদ্দীপনা পরিবাহিত হয়।
স্নায়ুতন্ত্রের বিভাজন ও মানব মস্তিষ্ক
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS)
- মস্তিষ্ক (Brain): করোটীর (Cranium) মধ্যে সুরক্ষিত। আবরণীকে মেনিনজেস (Meninges) বলে।
- গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum): মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ। চিন্তা, বুদ্ধি, যুক্তি, স্মৃতি, দৃষ্টি ও শ্রবণ কেন্দ্র পরিচালনা করে।
- লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum):দেহের ভারসাম্য (Postural Balance) এবং পেশীটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- সুযুম্নাশীর্ষক (Medulla Oblongata): হৃদস্পন্দন, শ্বাসকার্য, রক্তচাপ, বমি এবং লালাক্ষরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্বয়ংক্রিয় কেন্দ্র।
- হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus): দেহের তাপমাত্রা, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে।
- সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord): মেরুদণ্ডের সুষুম্নানালীর (Neural Canal) মধ্যে অবস্থিত। এটি প্রধানত প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action)
মস্তিষ্কের কোনো পূর্বচিন্তা ছাড়াই সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অনৈচ্ছিক, স্বতঃস্ফূর্ত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
- সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়া (জন্মগত): নবজাতকের স্তন্যপানের ইচ্ছা, চোখে আলো পড়লে তারা রন্ধ্র সংকুচিত হওয়া, কাঁটা ফুটলে পা তুলে নেওয়া।
- অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া (অ্যাভ্যাসগত): সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, টাইপ করা, প্যাভলভের কুকুরের ওপর পরীক্ষা (ঘণ্টাধ্বনিতে লালাক্ষরণ)।
প্রতিবর্ত চাপ (Reflex Arc)
প্রতিবর্ত ক্রিয়া যে নির্দিষ্ট পথে আবর্তিত হয় তাকে প্রতিবর্ত চাপ বলে। এর ৫টি উপাদান:
গ্রাহক (Receptor) \সংজ্ঞাবহ নিউরন \স্নায়ুকেন্দ্র (সুষুম্নাকাণ্ড) \আজ্ঞাবহ নিউরন \ কারক (Effector)
জ্ঞানেন্দ্রিয় — মানব চোখ (Human Eye):
চোখ হলো মানবদেহের অন্যতম সংবেদনশীল দর্শেন্দ্ৰিয়।
চোখের গোলক
│
┌─────────────────────────────┼─────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
বহিঃস্তর মধ্যস্তর অন্তঃস্তর
(শ্বেতমণ্ডল / Sclera (রক্তকোরক / Choroid (রেটিনা / Retina
ও স্বচ্ছচ্ছদ / Cornea) আইরিস ও লেন্স) রড ও কোণ কোষ)
চোখের প্রধান অংশ ও কাজ
- কর্নিয়া (Cornea): আলোর প্রতিসরণ ঘটিয়ে চোখে আলো প্রবেশে সাহায্য করে।
- আইরিস (Iris): তারা রন্ধ্রকে (Pupil) বড় বা ছোট করে চোখে আলোর প্রবেশ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লেন্স (Lens): দ্বিউত্তল ও স্থিতিস্থাপক। আলোকরশ্মিকে রেটিনায় ফোকাস করে।
- রেটিনা (Retina): চোখের আলোসংবেদী আবরণ।
- রড কোষ (Rod Cells): ‘রোডোপসিন’ রঞ্জকযুক্ত, মৃদু আলোতে দেখতে সাহায্য করে।
- কোণ কোষ (Cone Cells): ‘আয়োডোপসিন’ রঞ্জকযুক্ত, উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ (Color Vision) দর্শনে সাহায্য করে।
- পীতবিন্দু (Yellow Spot / Fovea Centralis): রেটিনার যে অংশে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
- অন্ধবিন্দু (Blind Spot): যে অংশ থেকে অপটিক স্নায়ু মস্তিষ্কে যায়, যেখানে কোনো দৃষ্টি কোষ থাকে না।
উপযোজন ও দৃষ্টির ত্রুটি
উপযোজন (Accommodation)
বস্তু কাছে বা দূরে যেখানেই থাকুক না কেন, সিলিয়ারি পেশী ও সাসপেনসরি লিগামেন্টের সাহায্যে লেন্সের বক্রতা ও ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করে রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠনের ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।
দৃষ্টির ত্রুটি এবং প্রতিকার:
| ত্রুটির নাম | কারণ | সমস্যা | প্রতিকার / লেন্স |
| মাইওপিয়া (Myopia / দূরদৃষ্টির ত্রুটি) | অক্ষিগোলক স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা হয়ে গেলে। | কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু দূরের বস্তু অস্পষ্ট লাগে। | অবতল লেন্স (Concave Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার। |
| হাইপারমেট্রেপিয়া (Hypermetropia / নিটল দৃষ্টি) | অক্ষিগোলক স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয়ে গেলে। | দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু কাছের বস্তু অস্পষ্ট লাগে। | উত্তল লেন্স (Convex Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার। |
| প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia) | বয়সবৃদ্ধির কারণে লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা কমে গেলে। | কাছের বস্তু দেখতে সমস্যা হয়। | বাইফোকাল লেন্স (Bifocal Lens)। |
| ছানি পড়া (Cataract) | লেন্স ঘোলাটে হয়ে গেলে। | দৃষ্টিশক্তি অস্পষ্ট বা অন্ধত্ব। | শল্যচিকিৎসা/অপারেশন করে কৃত্রিম লেন্স বসানো। |
প্রাণীদের গমন (Locomotion):
স্বাভাবিক প্রয়োজনে (খাদ্য অন্বেষণ, আত্মরক্ষা, প্রজনন, আশ্রয়) পেশী ও অস্থির সমন্বয়ে প্রাণীদের স্থান পরিবর্তন করাকে গমন বলে।
বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গ ও গমনের কৌশল
অ্যামিবা (Amoeba)
- গমনাঙ্গ: ক্ষণপদ (Pseudopodia)।
- পদ্ধতি: অ্যামিবয়েড গতি (Sol-Gel তত্ত্ব)।
প্যারামেসিয়াম (Paramecium)
- গমনাঙ্গ: সিলিয়া (Cilia)।
- পদ্ধতি: সিলিয়ার ছন্দবদ্ধ আন্দোলন (Ciliary Movement)।
ইউগ্লিনা (Euglena)
- গমনাঙ্গ: ফ্ল্যাজেলা (Flagella)।
মাছ (Fish)
- গমনাঙ্গ: মায়োটম পেশী (Myotome Muscle) এবং ৭টি পাখনা (বক্ষ, শ্রোণী, পৃষ্ঠ, পায়ু ও পুচ্ছ পাখনা)।
- গমনের ভূমিকা:
- মায়োটম পেশী: মেরুদণ্ডের দু’পাশে $V$ আকৃতির মায়োটম পেশী সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে মাছকে তরঙ্গের মতো সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- পুচ্ছ পাখনা: দিক পরিবর্তনের হাল হিসেবে কাজ করে।
পাখি (Bird)
- গমনাঙ্গ: উড্ডয়ন পেশী এবং পালক।
- উড্ডয়ন পেশী: পেক্টোরালিস মেজর (ডানা নিচে নামায়), পেক্টোরালিস মাইনর (ডানা ওপরে তোলে), এবং কোরাকোব্র্যাকিয়ালিস।
- পালক: ডানায় ২৩টি (রেমিজেস) এবং লেজে ১২টি (রেক্ট্রিসেস) উড্ডয়ন পালক থাকে।
মানুষ (Human Being)
- গমনের প্রকৃতি: দ্বিপদ গমন (Bipedal Locomotion)।
- সহযোগী অঙ্গ: অস্থি (ফিমার, টিবিয়া-ফিবুলা), পেশী এবং লঘুমস্তিষ্ক (ভারসাম্য)।
- প্রধান পেশীসমূহ:
- বাইসেপস (Biceps): ফ্লেক্সর পেশী (কনুই বাঁকাতে সাহায্য করে)।
- ট্রাইসেপস (Triceps): এক্সটেনসর পেশী (হাত সোজা করতে সাহায্য করে)।
- গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস: প্ল্যাট্যান্টার ফ্লেক্সর (পায়ের গোড়ালি তুলতে সাহায্য করে)।
জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ:
মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২ ও ৩ নম্বরের পার্থক্যের জন্য নিচের টেবিলগুলি মুখস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরী:
জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলন:
| বৈশিষ্ট্য | ট্রপিক চলন | ন্যাস্টিক চলন |
| উদ্দীপক | উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। | উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। |
| হরমোন | অক্সিন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত। | হরমোন দ্বারা প্রভাবিত নয়। |
| কোষীয় পরিবর্তন | এটি প্রবৃদ্ধিজনিত স্থায়ী চলন। | এটি রসস্ফীতিজনিত অস্থায়ী চলন। |
| উদাহরণ | ফটোট্রপিক, জিওট্রপিক। | ফটোন্যাস্টি, সিসমোন্যাস্টি। |
জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্র:
| বৈশিষ্ট্য | হরমোন (রাসায়নিক সমন্বয়ক) | স্নায়ুতন্ত্র (ভৌত সমন্বয়ক) |
| কার্যপদ্ধতি | ধীরগতিতে কাজ করে। | অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে। |
| স্থায়িত্ব | কাজ শেষ হওয়ার পর হরমোন বিনষ্ট হয়। | কাজ শেষ হওয়ার পর স্নায়ু উদ্দীপনা থেমে যায়। |
| পরিবহনের মাধ্যম | রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত। | নিউরনের মাধ্যমে পরিবাহিত। |
জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: ইনসুলিন ও গ্লুকাগন:
| বৈশিষ্ট্য | ইনসুলিন | গ্লুকাগন |
| উৎস | অগ্ন্যাশয়ের $\beta$ (বিটা) কোষ। | অগ্ন্যাশয়ের $\alpha$ (আলফা) কোষ। |
| রক্তে গ্লুকোজ | রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। | রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায়। |
| প্রক্রিয়া | গ্লাইকোজেনেসিস ঘটায়। | গ্লাইকোজেনোলাইসিস ঘটায়। |
জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: MCQ (সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো):
- লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করলে বুজে যাওয়া কী ধরনের চলন?
- (A) ট্রপিক (B) সিসমোন্যাস্টি (C) ফটোট্যাকটিক (D) কেমোন্যাস্টি
- উত্তর: (B) সিসমোন্যাস্টি
- ফল পাকাতে সাহায্যকারী গ্যাসীয় হরমোন কোনটি?
- (A) অক্সিন (B) জিব্বেরেলিন (C) ইথিলিন (D) কাইনিন
- উত্তর: (C) ইথিলিন
- মানবদেহের মাস্টার গ্ল্যান্ড বা প্রভু গ্রন্থি কোনটি?
- (A) থাইরয়েড (B) পিটুইটারি (C) অ্যাড্রিনাল (D) অগ্ন্যাশয়
- উত্তর: (B) পিটুইটারি
- চোখের মৃদু আলোতে দর্শনে সাহায্য করে কোনটি?
- (A) রড কোষ (B) কোণ কোষ (C) অন্ধবিন্দু (D) পীতবিন্দু
- উত্তর: (A) রড কোষ
- মাছের দেহের মায়োটম পেশীর আকৃতি কেমন?
- (A) U-আকৃতির (B) V-আকৃতির (C) S-আকৃতির (D) W-আকৃতির
- উত্তর: (B) V-আকৃতির
জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: VSAQ (এক কথায় উত্তর দাও):
- প্রশ্ন: বীজহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে কী বলে?
- উত্তর: পার্থেনোকার্পি (Parthenocarpy)।
- প্রশ্ন: জরুরিভিত্তিক বা আপৎকালীন হরমোন কোনটি?
- উত্তর: অ্যাড্রিনালিন।
- প্রশ্ন: স্নায়ুতন্ত্রের দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে কী বলে?
- উত্তর: সিন্যাপস (Synapse)।
- প্রশ্ন: মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে?
- উত্তর: লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum)।
- প্রশ্ন: মাইওপিয়া ত্রুটি দূর করতে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহার করা হয়?
- উত্তর: অবতল লেন্স (Concave Lens)।
উপসংহার (Conclusion):
পরিশেষে বলা যায়, জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কেবল পাঠ্যপুস্তকের একটি তাত্ত্বিক অধ্যায় নয়; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘটে চলা প্রতি মুহূর্তের এক জীবন্ত ইতিহাস। একটি উদ্ভিদের আলোর অভিমুখে বেঁকে যাওয়া থেকে শুরু করে মানবদেহের চোখ, মস্তিষ্ক এবং হরমোনের সুসংবদ্ধ নেটওয়ার্ক—সবকিছুই প্রমাণ করে যে প্রকৃতির প্রতিটি জীব এক সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক নিয়মে বাঁধা। জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে জীবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে উঠত।
WBBSE মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ এই অধ্যায়টি অত্যন্ত স্কোরিং। তবে এর জন্য অন্ধভাবে মুখস্থ না করে বিষয়গুলো বুঝে পড়া এবং পরীক্ষার খাতায় সঠিক কৌশলে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আদর্শ নিউরনের চিত্র, প্রতিবর্ত চাপের রেখাচিত্র, হরমোনের কাজের ছক এবং চোখের দৃষ্টির ত্রুটি ও প্রতিকার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো চিত্রসহ নিয়মিত প্র্যাকটিস করা জরুরি। পার্থক্যের প্রশ্নে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক ছক ব্যবহার করলে পরীক্ষকের কাছে আপনার খাতাটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
সঠিক নিয়ম মেনে রিভিশন দিলে এবং বিষয়গুলোকে ভালোবেসে শিখলে জীবন বিজ্ঞানে ১০০-তে ১০০ নম্বর পাওয়া অত্যন্ত সহজ। আশা করি, আমাদের এই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যসমৃদ্ধ নির্দেশিকাটি আপনার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলবে। নিয়মিত অনুশীলন করুন এবং আপনার স্বপ্নের সাফল্য ছিনিয়ে আনুন। আপনার আগামী মাধ্যমিক পরীক্ষার চমৎকার ফলাফলের জন্য শুভকামনা!