www.gkpathya.in-এর প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই পোস্টে আমরা Class 8 History Chapter 8 Question Answer নিয়ে এসেছি। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় – ‘সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ’-এর পাঠ্যবইয়ের ‘ভেবে দেখো ও খুঁজে দেখো’ অংশসহ অন্যান্য সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর পেতে তোমরা যারা Class 8 History Chapter 8 Question Answer খুঁজছ, তাদের জন্য এই নিবন্ধটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে সহজ ও সরল ভাষায় Class 8 History Chapter 8 Question Answer সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। আশা করি এই Class 8 History Chapter 8 Question Answer সংকলনটি সবার খুব ভালো লাগবে।
ভূমিকা:
অষ্টম শ্রেণির পঠনপাঠন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে Class 8 History Chapter 8 (অধ্যায়: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আধুনিক ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ট্র্যাজিক এবং মোড় ঘোরানো অধ্যায় হলো এই সময়কালটি। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত যখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ শৃঙ্খল ভেঙে এক নতুন ভোরের সূচনা করছিল, ঠিক তখনই উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে জন্ম নিয়েছিল দুটি পৃথক রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তান। তবে এই দেশভাগ কোনো আকস্মিক রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল বিগত প্রায় এক শতক ধরে ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতিতে ধীরে ধীরে দানা বাঁধানো বিষাক্ত সাম্প্রদায়িকতার চূড়ান্ত রূপ।
Class 8 History Chapter 8-এ মূলত উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে শুরু করে কীভাবে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের সুপরিকল্পিত ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ (Divide and Rule) নীতি, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছিল তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ১৮৩৭ সালে সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসির স্থানে ইংরেজির প্রবর্তন থেকে শুরু করে ১৮৭২ সালের আদমশুমারি, ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কারের মাধ্যমে ‘ পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা’ (Separate Electorates) চালু করার ঘটনাগুলি এই দেশে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিপ্রস্তর শক্ত করেছিল।
পরবর্তীকালে ১৯৩০-এর দশকে ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ (Two-Nation Theory), ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৬ সালের বিভীষিকাময় ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ (Direct Action Day)-এর মতো চরমপন্থী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলি ভারতের অখণ্ডতার স্বপ্নকে চিরতরে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তক্ষরণ, শরণার্থী সংকট ও অভূতপূর্ব দাঙ্গার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ভারতীয় মহাদেশের অনিবার্য বিভাজন।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রস্তুতি ও প্রাঞ্জল অনুধাবনের সুবিধার্থে Class 8 History Chapter 8-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (SAQ), বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন ও উত্তর নিচে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হলো।

Class 8 History Chapter 8| সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ প্রশ্ন উত্তর:
১. পাকিস্তান প্রস্তাব বা লাহোর প্রস্তাব (Lahore Resolution) কবে উত্থাপিত হয়?
উত্তর: ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লিগের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
২. দ্বি-জাতি তত্ত্বের (Two-Nation Theory) প্রবক্তা কে?
উত্তর: দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন মহম্মদ আলি জিন্নাহ (Muhammad Ali Jinnah)।
৩. আলিগড় আন্দোলনের (Aligarh Movement) প্রবক্তা কে?
উত্তর: আলিগড় আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান (Sir Syed Ahmed Khan)।
৪. নিখিল ভারত মুসলিম লিগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
৫. ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) কবে ভারতে আসে?
উত্তর: ১৯৪৬ সালে ৩ সদস্যের ক্যাবিনেট মিশন ভারতে আসে।
৬. ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ (Direct Action Day) বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস কবে পালিত হয়?
উত্তর: মুসলিম লিগের আহ্বানে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ পালিত হয়।
৭. ভারত স্বাধীন আইন (Indian Independence Act) কবে পাস হয়?
উত্তর: ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত স্বাধীন আইন পাস হয়।
৮. র্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line) কী?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ কর্তৃক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে (বিশেষ করে বাংলা ও পাঞ্জাবে) চিহ্নিত সীমান্ত রেখাই হলো র্যাডক্লিফ লাইন।
৯. মুসলিম লিগ প্রথম কবে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করে?
উত্তর: ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর অধিবেশনে মুসলিম লিগ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করে।
১০. স্যার সৈয়দ আহমদ খান কোন্ ঘটনার পর হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি বলে মত প্রকাশ করেন?
উত্তর: ১৮৬৭ সালের হিন্দি-উর্দু বিতর্কের (Hindi-Urdu Controversy) পর তিনি এই মত প্রকাশ করেন।
১১. কৃষক প্রজা পার্টির (Krishak Praja Party) নেতা কে ছিলেন?
উত্তর: কৃষক প্রজা পার্টির নেতা ছিলেন এ. কে. ফজলুল হক (শের-ই-বাংলা)।
১২. মহম্মদ আলি জিন্নাহ কর্তৃক প্রথম ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ কবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারিত হয়?
উত্তর: ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে জিন্নাহ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বি-জাতি তত্ত্ব প্রচার করেন।
১৩. দেশভাগের সময় বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমান্ত কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: বাংলা ও পাঞ্জাব সীমান্ত কমিশনের সভাপতি ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ (Sir Cyril Radcliffe)।
১৪. মুসলিম লিগ কত সালে ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়?
উত্তর: ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগ ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়।
১৫. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (Mountbatten Plan) কবে ঘোষিত হয়?
উত্তর: ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাগের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
১৬. ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতার সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: স্বাধীনতার সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ক্লিমেন্ট অ্যাটলি (Clement Attlee)।
১৭. স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগদানের বিষয়ে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি মুসলমানদের জাতীয় কংগ্রেস ত্যাগ বা বর্জন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
১৮. পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস কবে পালিত হয়?
উত্তর: ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯. মুসলিম সমাজে আধুনিকীকরণের মূল উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
উত্তর: স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও চিন্তাধারা প্রসারের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন।
২০. কোন্ ঘটনা ভারত ভাগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও অনিবার্য করেছিল?
উত্তর: ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ এবং তৎপরবর্তী ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে।
২১. পুনা চুক্তি (Poona Pact) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তর: ১৯৩২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাত্মা গান্ধি ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২২. ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
উত্তর: ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন (Lord Louis Mountbatten)।
২৩. লিয়াকৎ আলি খান ১৯৪৬ সালের অন্তর্বর্তী সরকারে কোন্ পদে ছিলেন?
উত্তর: ১৯৪৬ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লিগ নেতা লিয়াকৎ আলি খান অর্থমন্ত্রী (Finance Minister) ছিলেন।
২৪. ঔপনিবেশিক শাসনের কোন্ ব্যবস্থাটি ভারতে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছিল?
উত্তর: ১৮৭২ সাল থেকে প্রতি ১০ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত ধর্মভিত্তিক আদমশুমারি (Census) সাম্প্রদায়িক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখে।
২৫. ১৯৩৫ সালের শাসন আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কোন্ দল ব্যাপক সাফল্য পায়?
উত্তর: ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বিপুল সাফল্য অর্জন করে।
২৬. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন।
২৭. ক্যাবিনেট মিশনের সদস্য সংখ্যা কতজন ছিলেন?
উত্তর: ক্যাবিনেট মিশনের সদস্য সংখ্যা ছিল ৩ জন (লর্ড পেথিক-লরেন্স, স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এ. ভি. আলেকজান্ডার)।
২৮. মর্লে-মিন্টো সংস্কার (Morley-Minto Reforms) কবে পাস হয়?
উত্তর: ১৯০৯ সালে মর্লে-মিন্টো সংস্কার (Indian Councils Act 1909) পাস হয়।
২৯. ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত শক্ত করার ক্ষেত্রে কোন্ আইনটি প্রধান ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন, যা মুসলমানদের জন্য প্রথম ‘পৃথক নির্বাচন’ (Separate Electorate) ব্যবস্থার সূচনা করে।
৩০. স্যার সৈয়দ আহমদ খান কত সালে এবং কোন্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: স্যার সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ সালে আলিগড়ে ‘মুহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ’ (MAO College) প্রতিষ্ঠা করেন।
আরো পড়ুন: Class 7 History Chapter 7/ জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি: সুলতানি ও মুঘল যুগ
Class 8 History Chapter 8| সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ: ঐতিহাসিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও সাম্প্রদায়িক বিকাশ (SAQ)
১. আলিগড় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: আলিগড় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যগুলি হলো —
- ইসলামীয় ধর্মতত্ত্বের সঙ্গে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের সম্মেলন ঘটিয়ে মুসলিম সমাজে আধুনিক ও উদার মনোভাবের বিকাশ ঘটানো।
- সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে মুসলমানদেরকে হিন্দুদের সমকক্ষ করে গড়ে তোলা।
- মূলত মুসলিম সমাজের ভেতর বিরাজমান অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও রক্ষণশীল মনোভাব দূর করে তাদেরকে অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করা।
২. স্বদেশি আন্দোলন বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?
উত্তর: স্বদেশি আন্দোলন বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ককে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল —
- স্বদেশি নেতৃবৃন্দ তাঁদের হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক-কেন্দ্রিক রাজনীতির মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সামাজিক বিভাজন আরও প্রকট করে তোলেন।
- বঙ্গভঙ্গবিরোধী নেতারা প্রচার করতে থাকেন যে হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানদের বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
- সাধারণ ও দরিদ্র কৃষকদের বিদেশি কাপড় বয়কট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করার ফলে এটি একপর্যায়ে হিন্দু-মুসলমান বিরোধে রূপ নেয়।
৩. ভারতীয় মুসলমানেরা খিলাফৎ আন্দোলন শুরু করেছিলেন কেন?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক ব্রিটেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে। তুরস্কের সুলতানকে সমস্ত মুসলিম জগতের ‘খলিফা’ বা ধর্মগুরু মনে করা হতো। যুদ্ধশেষে তুরস্ক পরাজিত হলে ব্রিটিশরা তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্যের অনেকটাই দখল করে এবং খলিফার ক্ষমতা হ্রাস করে। এই ঘটনায় ভারতীয় মুসলমানরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং খলিফাকে তাঁর পবিত্র স্থানগুলি ফেরত দেওয়ার দাবিতে ‘খিলাফৎ আন্দোলন’ শুরু করেন।
৪. ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ ভারতের হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: ১৯৩০-এর দশকটি দ্বি-জাতি তত্ত্বভিত্তিক সাম্প্রদায়িক বিচ্ছিন্নতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল, কারণ —
- ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম লিগের সভাপতি কবি মহম্মদ ইকবাল এবং পরবর্তীকালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরি রহমত আলি পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বালুচিস্তান ও কাশ্মীর নিয়ে মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূখণ্ড গঠনের প্রস্তাব দেন।
- চৌধুরি রহমত আলি স্পষ্টভাবে ‘পাকিস্থান’ (Pakistan) নামটির উল্লেখ করেছিলেন।
- ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ ঘোষণা করেন।
৫. ঔপনিবেশিক ভারতে কীভাবে সাম্প্রদায়িক বিকাশ ঘটেছিল?
উত্তর: ঔপনিবেশিক ভারতে সাম্প্রদায়িক বিকাশের মূল কারণগুলি হলো —
- ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া: ঔপনিবেশিক সরকার মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য মুছে দিয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান গণ্য করে, যার ফলে তারা নিজেদের হিন্দুদের থেকে আলাদা একটি সংগঠিত সম্প্রদায় ভাবতে শুরু করে।
- প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আদমশুমারি: ব্রিটিশদের ১০ বছর অন্তর আদমশুমারি (Census) জনসংখ্যাগত ধর্মীয় পরিচয় ফুটিয়ে তুলে সাম্প্রদায়িক সচেতনতা বাড়ায়।
- ফারসির পরিবর্তে ইংরেজি চালু: ১৮৩৭ সালে ফারসির বদলে ইংরেজিকে সরকারি ভাষা করার ফলে ইংরেজি শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা মুসলমান সম্প্রদায় সরকারি চাকরিতে পিছিয়ে পড়ে।
৬. সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসির বদলে ইংরেজির প্রবর্তন কীভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে স্পষ্ট করেছিল?
উত্তর: ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসির বদলে ইংরেজিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তৎকালীন মুসলিম সমাজে ইংরেজি শিক্ষার হার কম থাকায় সরকারি চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়ে, যেখানে হিন্দুরা এগিয়ে যায়। এর ফলে ১৯ শতকের শেষভাগ থেকে মুসলমানদের মধ্যে ধারণার সৃষ্টি হয় যে তারা বঞ্চিত হচ্ছে এবং হিন্দু-মুসলিম স্বার্থ পরস্পরবিরোধী।
৭. সম্প্রদায় হিসেবে হিন্দু ও মুসলমানের স্বার্থ যে পরস্পরবিরোধী, এই ভাবনা তৈরির পিছনে হিন্দু শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের কতটা ভূমিকা ছিল?
উত্তর: এই ভাবনার নেপথ্যে হিন্দু শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের ভূমিকা ছিল নিম্নরূপ —
- বাংলায় হিন্দু ভদ্রলোক সম্প্রদায়ের মধ্যে মুসলমানদের সম্পর্কে অনেক সময় নেতিবাচক ও তাচ্ছিল্যের মনোভাব দেখা যেত।
- হিন্দু ভদ্রলোকদের লেখাপত্রে বিভিন্ন মুসলিম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বিদ্বেষ প্রকাশ পেত।
- স্বদেশি আন্দোলনের সময় হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক-কেন্দ্রিক রাজনীতি (যেমন: শিবাজী উৎসব, গীতায় হাত রেখে শপথ ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়।
- বঙ্গভঙ্গবিরোধী নেতাদের প্রচার ছিল যে মুসলমানদের বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
Class 8 History Chapter 8| সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ: রচনাভিত্তিক ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন (১২০–১৬০টি শব্দ)
১. স্যার সৈয়দ আহমদ খান কীভাবে মুসলমান সমাজকে আধুনিকীকরণের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণের অভিযান শুরু হয় স্যার সৈয়দ আহমদ খানের ‘আলিগড় আন্দোলন’-এর মাধ্যমে।
- পাশ্চাত্য ও ইসলামীয় শিক্ষার সমন্বয়: তিনি ইসলামীয় ধর্মতত্ত্বের সঙ্গে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের মিলন ঘটিয়ে মুসলমান সমাজে এক আধুনিক ও উদার মনোভাবের বিকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন।
- মনোভাবের পরিবর্তন: স্যার সৈয়দ আহমদ দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিরোধ তৈরি করতে চাননি। তবে তিনি জাতীয় কংগ্রেসকে মূলত হিন্দুদের প্রতিনিধি সভা মনে করতেন, তাই মুসলিমদের কংগ্রেসে যোগ না দিয়ে শিক্ষা ও স্বনির্ভরতায় মন দিতে পরামর্শ দেন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন: মুসলিম তরুণদের ইংরেজি শিক্ষা ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে তিনি আলিগড়ে ‘মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ’ (MAO College) প্রতিষ্ঠা করেন। এর পাঠ্যক্রমে ইউরোপীয় দর্শনের সাথে ইসলামীয় ধর্মতত্ত্বের সহাবস্থান রাখা হয়েছিল।
- সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ: তিনি তৎকালীন মুসলিম সমাজকে ব্রিটিশ সরকারের প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সদ্ব্যবহারের আহ্বান জানান, যাতে তারা হিন্দুদের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, স্যার সৈয়দ আহমদের চিন্তাধারা ও কাজকর্ম ভারতবর্ষের মুসলমানদের মধ্যে এক নতুন চেতনার জন্ম দিয়েছিল।
২. কীভাবে উনিশ শতকে হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল? সাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরিতে ঐসব আন্দোলনগুলির ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: আন্দোলনের জন্ম: ঊনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু সমাজের সংস্কারমুখী ধারা থেকেই মূলত হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্ম হয়। এই পুনর্জাগরণভিত্তিক চিন্তাধারা থেকেই রাজনৈতিক চরমপন্থার সূচনা ঘটে, যেখানে হিন্দু পুরাণ, ঐতিহ্য ও প্রতীক চিহ্নের সাহায্যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়।
সাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা:
- হিন্দু ও ভারতের সমার্থকতা: পুনরুজ্জীবনবাদীরা প্রচার করতে থাকেন যে ‘ভারত’ এবং ‘হিন্দু’ সমার্থক, এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনের কারণেই প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার অধঃপতন ঘটেছে।
- প্রতীক ও উৎসবের ব্যবহার: অধিকাংশ বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী ভারতীয় সংস্কৃতিকে কেবল হিন্দুধর্মের সাথে তুলনা করেন। যেমন—বাল গঙ্গাধর তিলকের শিবাজী ও গণপতি উৎসব, অরবিন্দ ঘোষের দেশকে মাতৃবন্দনা ও জাতীয়তাবাদকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা এবং গীতায় হাত রেখে শপথ নেওয়া।
- মুসলমানদের বিচ্ছিন্নতা: এই জাতীয় হিন্দু প্রতীক ব্যবহারের ফলে শিক্ষিত মুসলিম সম্প্রদায় জাতীয় আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করে এবং উলেমা ও রক্ষণশীল রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
৩. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের পরে কীভাবে মুসলমান নেতাদের অনেকের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২২ সালে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পর কংগ্রেস ও মুসলিম নেতাদের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরে —
- খিলাফৎ আন্দোলনের সমাপ্তি: অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করায় খিলাফৎ আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্যে চিড় ধরে।
- উগ্র হিন্দু সংগঠন ও দাঙ্গা: ১৯২২-২৩ সালে বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। পাশাপাশি কংগ্রেসের ভেতরে মদনমোহন মালব্যের মতো গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী নেতাদের প্রভাব বাড়ে এবং ‘হিন্দু মহাসভা’-র মতো সংগঠনের সঙ্গে কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
- স্বরাজ্যপন্থীদের ব্যর্থতা: উগ্র হিন্দু নেতাদের বিরোধিতায় মোতিলাল নেহরুর মতো স্বরাজ্যপন্থী নেতারা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন।
- রাজনৈতিক অনাস্থা: ১৯২৬ সালের নির্বাচনে বাংলা ও পাঞ্জাবে কংগ্রেসের কোনো মুসলিম প্রার্থী ছিল না। এই ঘটনায় মহম্মদ আলি জিন্নাহ ও শওকত আলির মতো সম্প্রীতিবাদী মুসলিম নেতারা হতাশ হয়ে পড়েন, যার প্রভাব দেখা যায় পরবর্তীতে আইন অমান্য আন্দোলনে মুসলমানদের কম অংশগ্রহণের মধ্যে।
৪. ১৯৪০–১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কীভাবে ভারত-ভাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল? তোমার কী মনে হয় ভারত-বিভাগ সত্যিই অপরিহার্য ছিল? তোমার বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: ভারত ভাগ স্পষ্ট হওয়ার ঘটনাক্রম:
- লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০): ১৯৪০ সালে মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি তুলে ধরে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ গ্রহণ করা হয়।
- ব্রিটিশদের প্রতিশ্রুতি: ১৯৪০ সালে ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো আশ্বাস দেন যে মুসলিমদের সম্মতি ছাড়া কোনো সাংবিধানিক পরিবর্তন হবে না।
- ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা (১৯৪২): মুসলিম লিগ এই আন্দোলন থেকে দূরে থাকে।
- ব্যর্থ আলোচনা (১৯৪৪–৪৫): রাজাজীর প্রস্তাব (১৯৪৪) জিন্নাহ প্রত্যাখ্যান করেন এবং ১৯৪৫-এর সিমলা সম্মেলনে জিন্নাহ লিগকে ভারতীয় মুসলিমদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করায় সম্মেলন ব্যর্থ হয়।
- প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস (১৯৪৬): ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব নাকচ করে জিন্নাহ ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’-এর ডাক দেন, যার ফলে দেশজুড়ে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
মতামত ও সপক্ষে যুক্তি:
তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ নেতৃত্ব দেশভাগকে কার্যত মেনে নেন। তবে এই বিভাজনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সাধারণ মানুষ। ক্ষমতা হস্তান্তরের পাশাপাশি বীভৎস দাঙ্গা, গণহত্যা ও কোটি কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া স্বাধীনতাকে কালিমালিপ্ত করেছিল। তাই ভারত বিভাজন ভারতীয় ইতিহাসের এক অত্যন্ত অন্ধকারময় অধ্যায়।
আরো পড়ুন: সুলতানি যুগ (Delhi Sultanate)
Class 8 History Chapter 8| সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ: সংক্ষিপ্ত টীকা ও অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
১. কবি মহম্মদ ইকবাল
উত্তর: কবি মহম্মদ ইকবাল ছিলেন আধুনিক ভারতের এক বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক। তিনি তরুণ প্রজন্মের মুসলিমদের মধ্যে আত্মমর্যাদা ও দার্শনিক চেতনা জাগাতে বহু কবিতা রচনা করেন (যেমন: ‘সারে জাঁহাসে আচ্ছা, হিন্দুস্তাঁ হামারা’)। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মুসলিম লিগের সভাপতি হিসেবে এলাহাবাদ অধিবেশনে প্রথম উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক ভূখণ্ডের পক্ষে সওয়াল করেন।
২. পাকিস্তান প্রস্তাব (লাহোর প্রস্তাব)
উত্তর: ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে মহম্মদ আলি জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লিগের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেন স্যার সিকান্দার হায়াৎ খান এবং উত্থাপন করেন এ. কে. ফজলুল হক। এই প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলিকে নিয়ে একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়, যা ইতিহাসে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ বা ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামে পরিচিত।
৩. র্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line)
উত্তর: ১৯৪৭ সালের জুন মাসে মাউন্টব্যাটেনের ভারত ভাগ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমানা নির্ধারণের জন্য দুটি সীমান্ত কমিশন গঠন করা হয়। দুই কমিশনের প্রধান ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ। ভারত সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ভৌগোলিক জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি কৃত্রিম বিভাজন রেখা বা মানচিত্র তৈরি করেন, যা ‘র্যাডক্লিফ লাইন’ নামে পরিচিত। এর ফলে বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে।
৪. নিখিল ভারত মুসলিম লিগ (All India Muslim League)
উত্তর: ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থের প্রতি নজর রাখা এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকা। পরবর্তীতে এই দলই মহম্মদ আলি জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান দাবির প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়।
উপসংহার
সামগ্রিক আলোচনার নিরিখে বলা যায় যে, সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ (Class 8 History Chapter 8) —এই পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি কোনো একদিনে বা রাতারাতি ঘটে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে শুরু করে বিংশ শতকের চল্লিশের দশক পর্যন্ত ভারতীয় রাজনীতিতে জমতে থাকা ভয়াবহ সামাজিক অনাস্থা, রাজনৈতিক অবিবেচক সিদ্ধান্ত এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিভাজন নীতির ফলশ্রুতি। একদিকে জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বভারতীয় অখণ্ডতার প্রতি জোর দেওয়া হলেও, অন্যদিকে মুসলিম লিগের পৃথক রাষ্ট্রের দাবি এবং সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে ধর্মীয় মেরুকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গভীরে শেকড় গেড়েছিল।
১৯৪৬ সালের ‘কলকাতা দাঙ্গা’ এবং ‘নোয়াখালী ও বিহারের গণহত্যা’ তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতিকে এমন এক অচলবস্থায় এনে দাঁড় করায়, যেখানে অখণ্ড ভারত রক্ষার চেয়ে রক্তক্ষয় বন্ধ করাই প্রধান বিবেচ্য হয়ে উঠেছিল। ফলে দেশভাগের প্রস্তাবকে কেবল একটি রাজনৈতিক সমাধান হিসেবে নয়, বরং তৎকালীন রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে এক চরম নিষ্ঠুর ঐতিহাসিক বাস্তবতা হিসেবে জাতীয় নেতাবর্গ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা তাই বহু আকাঙ্খিত মুক্তি নিয়ে আসলেও, বাংলা ও পাঞ্জাবের মানচিত্রে সিরিল র্যাডক্লিফের পেনসিলের টানে কাটা সীমান্তরেখা চিরকালের জন্য লক্ষ লক্ষ পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছিল। দেশভাগের এই অভিজ্ঞতা ভারতীয় উপমহাদেশের সামাজিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে আজও এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে চলেছে। তাই ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ বিবর্তনকে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে অনুধাবন করা অপরিহার্য, যাতে অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্প্রীতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হয়।
অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের এই অধ্যায়টি কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যই নয়, বরং ভারতের ইতিহাস ও দেশভাগের মর্মান্তিক প্রেক্ষাপট বোঝার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। সঠিক অনুশীলনের জন্য তোমরা এই Class 8 History Chapter 8 Question Answer নোটসগুলি খাতায় তুলে নিতে পারো।
স্কুলের অন্যান্য অধ্যায়ের Class 8 History Chapter 8 Question Answer সহ গুরুত্বপূর্ণ নোটস, সাজেশন ও মডেল প্রশ্নপত্র পেতে নিয়মিত ভিজিট করো— www.gkpathya.in।



