হিমবাহ (Glacier): সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও ভূমিরূপ: 7 Extraordinary Types & Breathtaking Landforms (Ultimate Guide).

হিমবাহ (Glacier): সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও ভূমিরূপ: 7 Extraordinary Types & Breathtaking Landforms (Ultimate Guide).

Table of Contents

ভূমিকা

প্রকৃতির অন্যতম শক্তিশালী ও বিস্ময়কর রূপ হলো হিমবাহ। ভূপৃষ্ঠের রূপ পরিবর্তনে বহিজাত প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে এটি কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এবং উচ্চ অক্ষাংশের মেরুপ্রদেশে বরফের বিশাল স্তূপ যখন অভিকর্ষের টানে ধীরগতিতে নিচের দিকে নেমে আসে, তখন তা পারিপার্শ্বিক ভূপ্রকৃতিকে আমূল বদলে দেয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চতর ভূগোলের পাঠ্যক্রমে হিমবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এর ক্ষয়কার্য ও সঞ্চয়কার্যের ফলে গড়ে ওঠা চোখধাঁধানো ভূমিরূপগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য। আজকের নিবন্ধে আমরা হিমবাহ-এর সংজ্ঞা, সৃষ্টির প্রক্রিয়া, প্রকারভেদ এবং এর দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন ভূমিরূপ পানির মতো সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করব।

হিমবাহ

হিমবাহ কাকে বলে বা হিমবাহ কী?

সাধারণ সহজ ভাষায়, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বা মেরুপ্রদেশে বছরের পর বছর ধরে তুষার জমে জমাট বেঁধে গঠিত বিশাল বরফের স্তূপ, যা অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে ভূমির ঢাল বেয়ে ধীরগতিতে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে হিমবাহ (Glacier) বলে।

  • উৎপত্তিগত অর্থ: ‘হিম’ শব্দের অর্থ বরফ এবং ‘বাহ’ শব্দের অর্থ প্রবাহ। অর্থাৎ এটি হলো বরফের নদী।
  • গতিবেগ: নদী বা জলের প্রবাহের মতো এর গতি দ্রুত নয়। এটি অত্যন্ত ধীরগতিতে গড়ে প্রতিদিন কয়েক সেন্টিমিটার থেকে কয়েক মিটার পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে।
  • হিমরেখা (Snowline): যে কাল্পনিক সীমার ওপরে সারাবছর বরফ জমে থাকে এবং নিচে বরফ গলে যায়, তাকে হিমরেখা বলে।
  • হিমশৈল (Iceberg): মহাদেশীয় হিমবাহ থেকে বরফের বিশাল খণ্ড ভেঙে সমুদ্রে ভেসে চললে তাকে হিমশৈল বলে। এর মাত্র ১/৯ অংশ জলের ওপরে থাকে এবং ৮/৯ অংশ জলের নিচে ডুবে থাকে।

তুষার থেকে হিমবাহ সৃষ্টির প্রক্রিয়া

হাঁটাহাঁটির জন্য তুলতুলে যে তুষার আমরা দেখি, তা সরাসরি কিন্তু কঠিন বরফে পরিণত হয় না। একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বিশাল স্তূপে রূপ নেয়:

  1. নেভে (Névé): সদ্য পতিত হাল্কা তুষার জমাট বেঁধে দানাদার ও কিছুটা ঘন বরফে পরিণত হলে তাকে নেভে বলে।
  2. ফার্ন (Firn): নেভের ওপর বছরের পর বছর অতিরিক্ত চাপের ফলে বাতাস বের হয়ে গিয়ে তা আরও বেশি ঘন ও শক্ত দানাযুক্ত তুষারে পরিণত হয়, একে ফার্ন বলে।
  3. কঠিন বরফ বা হিমবাহ: ফার্নের ওপর ধারাবাহিক চাপে তা নীলচে রঙের স্ফটিকাকার কঠিন বরফের খণ্ডে পরিণত হয়ে ঢাল বেয়ে বইতে শুরু করে।

হিমবাহের প্রকারভেদ বা রূপসমূহ

অবস্থান ও আকৃতি অনুসারে হিমবাহ-কে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। নিচে এদের বিশদ বিবরণ দেওয়া হলো:

পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ (Valley Glacier)

উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমরেখার ওপরে সৃষ্ট তুষার জমাট বেঁধে বরফে পরিণত হয়ে যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে পর্বতের উপত্যকা বা উপত্যকা দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ বলে।

  • উদাহরণ: আলাস্কার ‘হাবার্ড’ (বিশ্বের দীর্ঘতম উপত্যকা হিমবাহ), ভারতের ‘সিয়াচেন’ (ভারতের দীর্ঘতম, দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২ কিমি)।

মহাদেশীয় হিমবাহ (Continental Glacier)

মেরু অঞ্চলে বা অতিতুInteractive জলবায়ু অঞ্চলে সুবিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং কয়েক হাজার মিটার পুরু বরফের আস্তরণকে মহাদেশীয় হিমবাহ বলে। এগুলিতে কোনো পর্বত বা উপত্যকার সীমাবদ্ধতা থাকে না।

  • উদাহরণ: অ্যান্টার্কটিকার ‘লেম্বার্ট’ (বিশ্বের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ), গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তূপ।

পদদেশীয় হিমবাহ (Piedmont Glacier)

উচ্চ পর্বত থেকে উপত্যকা হিমবাহ যখন পর্বতের পাদদেশে এসে একাধিক হিমবাহের সাথে মিলিত হয়ে সমতল ভূমিতে বিস্তৃত বরফের ক্ষেত্র তৈরি করে, তাকে পাদদেশীয় হিমবাহ বলে।

  • উদাহরণ: আলাস্কার ‘মালাসপিনা’ (বিশ্বের বিখ্যাত পাদদেশীয় হিমবাহ)।

অন্যান্য রূপসমূহ

  • হিমছত্র (Ice Cap): মহাদেশীয় বরফের স্তূপের চেয়ে ছোট কিন্তু নির্দিষ্ট পর্বতের চূড়াকে ঢেকে রাখা বরফক্ষেত্র।
  • হিমপ্রপাত (Icefall): কোনো খাড়া পর্বতের ঢাল দিয়ে তুষার যখন খাড়াভাবে নিচে নেমে আসে।

আরো পড়ুন: জোয়ার ও ভাটা: (High Tide and Low Tide) 

হিমবাহের ক্ষয়কার্য ও প্রক্রিয়া

প্রবাহের সময় হিমবাহ প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ায় ভূপ্রকৃতিকে ক্ষয় করে থাকে:

  1. উৎপাটন প্রক্রিয়া (Plucking): যখন প্রবাহিত বরফ পর্বতের গায়ের ফাটলের ভেতর ঢুকে বরফে পরিণত হয় এবং প্রসারণ ঘটিয়ে শিলাখণ্ডকে আলগা করে তুলে নিয়ে আসে।
  2. অবঘর্ষ প্রক্রিয়া (Abrasion): হিমবাহের তলদেশে আটকে থাকা পাথর, বালি ও নুড়ি যখন নিচের শিলাতলের ওপর দিয়ে ঘষে ঘষে চলে, তখন শিলাতল মসৃণ হয় এবং আঁচড়ের দাগ পড়ে।

হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে পর্বতগাত্রে এবং উপত্যকায় চমৎকার সব ভূমিরূপ গড়ে ওঠে:

সার্ক বা করি (Cirque or Corrie)

উচ্চ পর্বতের ঢালে উৎপাটন ও অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে যে চামচের মতো বা হাতলওয়ালা চেয়ারের মতো বেসিনের আকারের গর্ত তৈরি হয়, তাকে সার্ক (ফ্রান্সে) বা করি (স্কটল্যান্ডে) বলে।

  • সার্ক হ্রদ (Tarn): সার্কের গর্তে জল জমে যে হ্রদ গঠিত হয়, তাকে সার্ক হ্রদ বা টার্ন বলে।

অ্যারীত ও এরিটে (Arête)

দুটি পাশাপাশি অবস্থিত সার্কের মধ্যবর্তী অংশ ক্ষয় পেতে পেতে যখন একটি ধারালো করাতের মতো বা তলোয়ারের মতো চূড়ায় পরিণত হয়, তাকে অ্যারীত বলে।

পিরামিড চূড়া (Pyramidal Peak)

একটি পর্বতের চতুর্দিক থেকে একাধিক সার্ক তৈরি হলে পর্বতের শীর্ষদেশটি একটি সূঁচালো পিরামিডের মতো আকৃতি ধারণ করে। একে পিরামিড চূড়া বলে।

  • উদাহরণ: সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতের ‘ম্যাটারহর্ন’ এবং ভারতের ‘নীলকণ্ঠ’ চূড়া।

U-আকৃতির উপত্যকা বা হিমদ্রোণী (U-Shaped Valley or Trough)

নদী উপত্যকা দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হলে তা উপত্যকার তলদেশ এবং দু-পাশ সমানভাবে ক্ষয় করে। ফলে উপত্যকাটি দেখতে ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। একে হিমদ্রোণী বলে।

ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley)

প্রধান হিমবাহ উপত্যকায় যেমন ছোট ছোট উপশাখা এসে মেশে, তেমনি ছোট ছোট উপত্যকা হিমবাহ এসে প্রধান হিমবাহে মিলিত হয়। প্রধান হিমবাহের ক্ষয় ক্ষমতা বেশি হওয়ায় তা উপত্যকাকে গভীর করে ফেলে। ফলে উপশাখা উপত্যকাগুলোকে প্রধান উপত্যকার ওপর ঝুলন্ত বলে মনে হয়।

  • জলপ্রপাত সৃষ্টি: ঝুলন্ত উপত্যকা থেকে বরফ গলে জল নিচে নামলে সুন্দর জলপ্রপাত তৈরি হয়।

রসে মুতোনে (Roches Moutonnées)

প্রবাহের পথে কোনো কঠিন শিলা অবস্থান করলে, হিমবাহের আগমন দিকে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় শিলাটি মসৃণ হয় এবং বিপরীত দিকে উৎপাটন প্রক্রিয়ায় এবড়োখেবড়ো ও খাঁজকাটা রূপ ধারণ করে। একে রশে মুতোনে বলে।

ফিয়র্ড (Fiord)

উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত গভীর হিমদ্রোণী সমুদ্রের জলতলের নিচে নিমজ্জিত হলে যে সংকীর্ণ ও গভীর জলপথের সৃষ্টি হয়, তাকে ফিয়র্ড বলে। নরওয়েকে ‘ফিয়র্ডের দেশ’ বলা হয়।

হিমবাহের সঞ্চয়কার্য ও প্রক্রিয়া

প্রবাহের শেষসীমায় উষ্ণ আবহাওয়ায় বরফ গলতে শুরু করলে তা বয়ে আনা পাথর, বালি, কাদা ও নুড়ি সঞ্চিত করতে শুরু করে। একে হিমবাহের সঞ্চয়কার্য বলা হয়।

হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

গ্রাবরেখা (Moraine)

ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখণ্ড, বালি, কাদা ইত্যাদি যখন হিমবাহের সাথে বয়ে এসে প্রান্তভাগে, দু-পাশে বা তলে সঞ্চিত হয়, তাকে গ্রাবরেখা বলে।

  • প্রান্ত গ্রাবরেখা (Terminal Moraine): প্রবাহের শেষপ্রান্তে সঞ্চিত।
  • পার্শ্ব গ্রাবরেখা (Lateral Moraine): প্রবাহের দুই পাশে সঞ্চিত।
  • মধ্য গ্রাবরেখা (Medial Moraine): দুটি পাশাপাশি প্রবাহের সংযোগস্থলে সঞ্চিত।

ড্রামলিন (Drumlin)

হিমবাহের তলে নুড়ি, বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে উল্টানো চামচ বা অর্ধেক কাটা ডিমের মতো ঢিবি তৈরি করলে তাকে ড্রামলিন বলে।

  • ডিম ভর্তি ঝুড়ি (Basket of Eggs Topography): একটি অঞ্চলে প্রচুর ড্রামলিন একসাথে অবস্থান করলে তা দেখতে ডিম ভর্তি ঝুড়ির মতো মনে হয়।

এসকার (Esker)

হিমবাহের তলদেশে জলস্রোতের মাধ্যমে নুড়ি, বালি ও পাথর সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ, সংকীর্ণ ও আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো প্রাক-প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়, তাকে এসকার বলে।

কেম (Kame)

হিমবাহের প্রান্তভাগে জল ও নুড়ি-বালি সঞ্চিত হয়ে যে ত্রিভূজাকার ডেল্টা বা টিলার মতো ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে কেম বলে।

হিমবাহ সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহের তুলনামূলক তালিকা

নিচে এক নজরে ক্ষয়জাত ও সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের তুলনা তুলে ধরা হলো:

ভূমিরূপের নামপ্রক্রিয়াপ্রধান আকৃতি/বৈশিষ্ট্যপ্রধান উদাহরণ
সার্ক / করিক্ষয়কার্যহাতলওয়ালা চেয়ারের মতোআল্পস পর্বতের ‘করবেনি’
হিমদ্রোণীক্ষয়কার্যইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতোহিমালয়ের গঙ্গোত্রী উপত্যকা
রশে মুতোনেক্ষয়কার্যএকদিকে মসৃণ, অন্যদিকে এবড়োখেবড়োকাশ্মীরের লিডার উপত্যকা
গ্রাবরেখাসঞ্চয়কার্যপাথর ও কাদার দীর্ঘ সারিতিস্তা নদীর উচ্চ অববাহিকা
ড্রামলিনসঞ্চয়কার্যউল্টানো চামচ বা অর্ধেক ডিমআয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সমভূমি
এসকারসঞ্চয়কার্যদীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা শৈলশিরাফিনল্যান্ডের এসকার অঞ্চল

আরো পড়ুন: ভারতের ভূপ্রকৃতি:

হিমবাহ গলনের কারণ ও প্রভাব

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতি দ্রুত গতিতে বরফ গলতে শুরু করেছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  1. বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming): বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
  2. অনিয়ন্ত্রিত দূষণ: শিল্প কারখানা ও যানবাহনের ক্ষতিকর ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বাড়াচ্ছে।

এর ক্ষতিকর প্রভাব:

  • সমুদ্রপৃষ্ঠের জলস্তর বৃদ্ধি: উপকূলীয় অঞ্চল জলমগ্ন হওয়ার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • পানীয় জলের সংকট: মিষ্টি জলের প্রধান উৎস বরফ গলে নিঃশেষ হয়ে গেলে তীব্র জলসংকট দেখা দেবে।
  • জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের (যেমন: মেরু ভালুক, পেঙ্গুইন) আবাসস্থল দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, হিমবাহ কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস নয়; এটি পৃথিবীর আবহাওয়া ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। একদিকে এটি ভূপ্রকৃতিকে ক্ষয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে মনমুগ্ধকর সব ভূমিরূপে রূপান্তর করে, অন্যদিকে বিশ্বের পানীয় জলের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা এবং পৃথিবীর এই সুবিশাল বরফক্ষেত্রগুলোকে রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

হিমবাহ সম্পর্কিত সেরা ১০টি FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর)

১. হিমবাহ কাকে বলে?

উত্তর: উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল বা মেরুপ্রদেশে বছরের পর বছর ধরে তুষার জমাট বেঁধে গঠিত বিশাল বরফের স্তূপ, যা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূমির ঢাল বেয়ে ধীরগতিতে নিচের দিকে নেমে আসে, তাকে হিমবাহ (Glacier) বলে।

২. হিমরেখা (Snowline) কী?

উত্তর: ভূপৃষ্ঠের যে কাল্পনিক সীমার ওপরে সারাবছর উঁচুতে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বরফ জমে থাকে এবং যে সীমার নিচে উষ্ণতার কারণে বরফ গলে যায়, তাকে হিমরেখা বলে।

৩. হিমশৈল (Iceberg) কাকে বলে?

উত্তর: মহাদেশীয় হিমবাহ থেকে বরফের সুবিশাল খণ্ড ভেঙে সমুদ্রে ভেসে চললে তাকে হিমশৈল বলে। ভাসমান হিমশৈলের মাত্র ১/৯ অংশ জলের ওপরে ভেসে থাকে এবং ৮/৯ অংশ জলের নিচে ডুবে থাকে।

৪. তুষার কীভাবে কঠিন বরফে পরিণত হয়?

উত্তর: সদ্য পতিত আলগা তুষার ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে দানাদার ‘নেভে’ (Névé)-তে পরিণত হয়। চাপের ফলে নেভে থেকে বাতাস বের হয়ে তৈরি হয় আরও ঘন ‘ফার্ন’ (Firn)। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে অতিরিক্ত চাপে এই ফার্নই স্ফটিকাকার কঠিন বরফ বা হিমবাহে রূপ নেয়।

৫. বিশ্বের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ কোনটি?

উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার ‘লেম্বার্ট’ (Lambert Glacier) হলো বিশ্বের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ।

৬. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ কোনটি?

উত্তর: হিমালয়ের কারাকোরাম পর্বতমালার ‘সিয়াচেন’ (Siachen Glacier) হলো ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ (দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২ কিমি)।

৭. U-আকৃতির উপত্যকা বা হিমদ্রোণী কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: পার্বত্য উপত্যকা দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় উপত্যকার তলদেশ ও দুই পাশ সমানভাবে ক্ষয় করতে থাকে। এর ফলে উপত্যকাটি চওড়া ও সমতল তলদেশযুক্ত হয়ে ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো আকৃতি ধারণ করে।

৮. ঝুলন্ত উপত্যকা থেকে কীভাবে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়?

উত্তর: প্রধান হিমবাহ উপত্যকায় যখন ছোট উপ-হিমবাহ এসে মেশে, তখন মূল হিমবাহের বেশি ক্ষয়ক্ষমতার কারণে মূল উপত্যকাটি অনেক গভীর হয়ে যায়। এর ফলে উপ-উপত্যকাটিকে মূল উপত্যকার ওপর ঝুলন্ত মনে হয়। বরফ গলে জল যখন ঝুলন্ত উপত্যকা থেকে নিচে নেমে আসে, তখন জলপ্রপাত তৈরি হয়।

৯. ‘ডিম ভর্তি ঝুড়ি’ (Basket of Eggs Topography) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে যখন অনেকগুলো ড্রামলিন (উল্টানো চামচের মতো ঢিবি) একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাশাপাশি অবস্থান করে, তখন দূর থেকে সেই ভূপ্রকৃতিকে দেখতে ডিম ভর্তি ঝুড়ির মতো মনে হয়।

১০. হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রধান কারণ কী?

উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming), বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়ন্ত্রিত দূষণের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত গতিতে হিমবাহ গলতে শুরু করেছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *