প্রিয় শিক্ষার্থীরা, gkpathya.in-এ তোমাদের স্বাগতম!
আজকের পর্বে আমরা দশম শ্রেণীর (Class 10 – WBBSE) বাংলা পাঠ্যবইয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’-এর সেরা ও বাছাই করা প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকে প্রতি বছরই পরীক্ষায় বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় সম্পূর্ণ নোটসটি প্রস্তুত করেছি। আশা করি ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ অধ্যায়ের এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো মনোযোগ সহকারে পড়লে তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেক সহজ ও মসৃণ হবে এবং তোমরা পরীক্ষায় বেশ ভালো ফলাফল করতে পারবে।

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধের বিষয়সংক্ষেপ:
রাজশেখর বসু (ছদ্মনাম পরশুরাম) রচিত বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্য ও বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রচনা। এই প্রবন্ধে লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন কীভাবে মাতৃভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞান চর্চাকে সহজ, সাবলীল ও ফলপ্রসূ করা সম্ভব। একই সঙ্গে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রধান সমস্যা, ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং তা সমাধানের দিকনির্দেশনাও তিনি এখানে প্রদান করেছেন।
পাঠকশ্রেণী বিভাজন
প্রাবন্ধিকের মতে, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার পাঠকদের প্রধানত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
১. প্রথম শ্রেণী: যারা ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে। এদের বিজ্ঞানের সাথে পূর্বপরিচয় নেই, তাই এদের বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো ব্যাকরণগত বা ভাষাগত সংস্কারের বাধা থাকে না। এদের কাছে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান উপস্থাপন করা সহজ।
২. দ্বিতীয় শ্রেণী: যারা কিছুটা ইংরেজি জানে এবং ইংরেজির মাধ্যমেই কিছুটা বিজ্ঞান পড়েছে। এই পাঠকদের মনের মধ্যে ইংরেজি পরিভাষা ও বাক্যোরীতির একটি সংস্কার গড়ে ওঠে। ফলে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান পড়তে গিয়ে এদের একটু বেশি মানসিক চেষ্টা করতে হয়।
প্রধান সমস্যা ও বাধা
প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু মৌলিক বাধার কথা আলোচনা করা হয়েছে:
- উপযুক্ত পরিভাষার অভাব: একসময় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আলাদাভাবে পারিভাষিক শব্দ তৈরির চেষ্টা হলেও তার মধ্যে সমন্বয় ছিল না। ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘পরিভাষা সমিতি’ গঠিত হওয়ার পর এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়, তবুও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
- ইংরেজি রচনার অন্ধ অনুকরণ (মাছিমারা নকল): অনেক লেখক ইংরেজিতে চিন্তা করে বাংলায় হুবহু আক্ষরিক অনুবাদ করেন। ফলে বাক্যগঠন আড়ষ্ট ও কৃত্রিম হয়ে পড়ে। যেমন—’Sensitized paper’-এর অনুবাদ ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ করা অত্যন্ত উৎকট।
- অলঙ্কারের অতিব্যবহার: বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনার ভাষা হওয়া উচিত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল। কাব্যের মতো রূপক, অতিশয়োক্তি বা ব্যঞ্জনা ব্যবহার করলে বৈজ্ঞানিক সত্য বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- অসম্পূর্ণ জ্ঞান ও ভুল তথ্য: অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক পত্রিকায় অপূর্ণ জ্ঞান নিয়ে নিবন্ধ লেখা হয়, যা সাধারণ পাঠকের ক্ষতি করে। যেমন—অক্সিজেন অপেক্ষা ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর বলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া।
সমাধানের পথ
প্রাবন্ধিকের মতে, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে—
- ১. প্রামাণিক পরিভাষা না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে মূল ইংরেজি শব্দকেই বাংলা বানানে গ্রহণ করতে হবে।
- ২. ইংরেজি বাক্যের মাছিমারা নকল না করে বাংলা ভাষার নিজস্ব ভাব ও প্রকাশরীতির প্রতি নজর দিতে হবে।
- ৩. সম্পাদকদের উচিত কোনো অপ্রসিদ্ধ লেখকের বৈজ্ঞানিক লেখা প্রকাশের আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দিয়ে তা যাচাই করে নেওয়া।
সর্বোপরি, বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসার এবং লেখকদের সচেতনতার মাধ্যমেই বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনা জনপ্রিয় ও সফল হয়ে উঠতে পারে।
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ — বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধটির লেখক কে?
- ক) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
- খ) জগদীশচন্দ্র বসু
- গ) রাজশেখর বসু
- ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
২) যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয়, তাদের মোটামুটি কত-টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
- ক) চারটি
- খ) পাঁচটি
- গ) দুটি
- ঘ) তিনটি
৩) একটি নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরলরেখার ওপর কী অঙ্কন করতে হবে?
- ক) সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ
- খ) বিষমবাহু ত্রিভুজ
- গ) সমকোণী ত্রিভুজ
- ঘ) সমবাহু ত্রিভুজ
৪) জলের মতো আর একটি উদ্বায়ী পদার্থ কোনটি?
- ক) আয়োডিন
- খ) ক্রোটন
- গ) কর্পূর
- ঘ) বেঞ্জিন
৫) পিতলের চেয়ে অ্যালুমিনিয়াম কেমন?
- ক) ভারী
- খ) হালকা
- গ) ওজনদার
- ঘ) মসৃণ
৬) লাউ, কুমড়ো জাতীয় গাছে ফুল হয় —
- ক) একরকম
- খ) দু-রকম
- গ) তিনরকম
- ঘ) চাররকম
৭) আজন্ম ইজার পরা লোকের পক্ষে হঠাৎ অভ্যাস করা শক্ত —
- ক) ধুতি পরা
- খ) লুঙ্গি পরা
- গ) কোট-প্যান্ট পরা
- ঘ) কোট-প্যান্ট-টাই পরা
৮) কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের (পরিভাষা) সংকলন খুব বড়ো নয়?
- ক) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ) বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
- গ) উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ) কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়
৯) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করে —
- ক) ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে
- খ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে
- গ) ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে
- ঘ) ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে
১০) ‘প্যারাডাইক্লোরোবেনজিন’ একটি —
- ক) রাসায়নিক তথ্য
- খ) রাসায়নিক প্রক্রিয়া
- গ) রাসায়নিক বস্তু
- ঘ) উদ্ভিজ্জ বস্তু
১১) ‘International’ শব্দের বাংলা পরিভাষা হল —
- ক) সর্বজাতীয়
- খ) সকলজাতিক
- গ) সর্বস্বজাতীয়
- ঘ) সার্বজাতিক
১২) বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বোঝার জন্য অবশ্য প্রয়োজন —
- ক) বিজ্ঞানের জ্ঞান
- খ) বিজ্ঞানের পরিভাষা
- গ) কিঞ্চিৎ প্রাথমিক বিজ্ঞান
- ঘ) বিজ্ঞানের সামগ্রিক জ্ঞান
১৩) সাধারণে পপুলার বিজ্ঞান বুঝতে পারে —
- ক) এশিয়া ও ইউরোপে
- খ) ইংল্যান্ড ও আমেরিকায়
- গ) ইউরোপে ও আমেরিকায়
- ঘ) আমেরিকায় ও জার্মানিতে
১৪) “বাংলা প্রতিশব্দেরও ঠিক তাই হওয়া চাই।” — ‘ঠিক তাই’ বলতে বোঝায় —
- ক) অর্থবোধ
- খ) অর্থবিস্তার
- গ) অর্থব্যাপ্তি
- ঘ) অর্থান্তরন্যাস
১৫) কোন পরিভাষা লিখলে ‘Sensitized Paper’-এর অনুবাদ ঠিক হবে?
- ক) সুগ্রাহী কাগজ
- খ) সুসংবেদী কাগজ
- গ) স্পর্শকাতর কাগজ
- ঘ) শোষক কাগজ
১৬) “যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া নেই” — কথাটি যার বদলে লেখা যেতে পারে তা হল —
- ক) শিরহীন
- খ) অমেরুদণ্ডী
- গ) শিরাবিহীন
- ঘ) মেরুদণ্ডী
১৭) পরিভাষার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য —
- ক) অর্থ যথাযথ করা
- খ) অর্থ নির্দিষ্ট করা
- গ) অর্থ সুনির্দিষ্ট করা
- ঘ) অর্থ প্রকাশ করা
১৮) আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের কত ধরনের কথা বলেছেন?
- ক) একক
- খ) ত্রিবিধ
- গ) দ্বৈত
- ঘ) কোনোটিই নয়
১৯) “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড” — এই উক্তিটি কার?
- ক) জয়দেবের
- খ) রূপ গোস্বামীর
- গ) কালিদাসের
- ঘ) শ্রীজীব গোস্বামীর
২০) ‘অরণ্যে রোদন’ কথাটির অর্থ কী?
- ক) নিষ্ফল আবেদন
- খ) ভূমিকা
- গ) সংকীর্ণমনা
- ঘ) দীর্ঘসূত্রতা
২১) কোন প্রবাদটি প্রমাণ হিসেবে সাময়িক প্রশ্নাদিতে পাওয়া যায়?
- ক) গৌরচন্দ্রিকা
- খ) অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী
- গ) ডুমুরের ফুল
- ঘ) হাতের পাঁচ
২২) অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে এবং অল্পশিক্ষিত বয়স্ক লোক যে শ্রেণিতে পড়ে, সেটি হল —
- ক) দ্বিতীয়
- খ) তৃতীয়
- গ) প্রথম
- ঘ) চতুর্থ
২৩) যারা ইংরাজি জানে, তারা পড়ে —
- ক) দ্বিতীয় শ্রেণিতে
- খ) তৃতীয় শ্রেণিতে (পাঠ্যাংশ অনুযায়ী যারা ইংরেজি জানে ও অল্পাধিক বিজ্ঞান পড়েছে, তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠক; কিন্তু প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী অনুযায়ী উত্তর নির্ধারিত)
- গ) প্রথম শ্রেণিতে
- ঘ) চতুর্থ শ্রেণিতে
২৪) বিজ্ঞানের সঙ্গে পূর্বপরিচয় নেই কোন শ্রেণির পাঠকদের?
- ক) প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের
- খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠকদের
- গ) মধ্যম শ্রেণীর পাঠকদের
- ঘ) তৃতীয় শ্রেণীর পাঠকদের
২৫) “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড” — এই উক্তিটি কীসের উপযুক্ত?
- ক) ভূগোলের
- খ) কাব্যের
- গ) বিজ্ঞানের
- ঘ) ইতিহাসের
২৬) কালিদাসকে বলা হয় —
- ক) মহাকবি
- খ) কবি
- গ) সাহিত্যিক
- ঘ) ঔপন্যাসিক
২৭) ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ — এটি ভাষার কোন বিষয়?
- ক) সমাস
- খ) অলংকার
- গ) ছন্দ
- ঘ) প্রবাদ
২৮) অবিখ্যাত লেখকের বৈজ্ঞানিক রচনা প্রকাশের আগে সম্পাদকের কী করা উচিত?
- ক) অভিজ্ঞ লেখক দিয়ে যাচাই করে নেওয়া
- খ) নিজে যাচাই করে নেওয়া
- গ) যাচাই না করেই প্রকাশ করা
- ঘ) পূর্বোক্ত কোনোটিই নয়
২৯) প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের সাথে বিজ্ঞানের —
- ক) প্রথম থেকেই পরিচিতি আছে
- খ) পূর্বপরিচয় নেই
- গ) অল্প স্বল্প পরিচয় আছে
- ঘ) অত্যধিক পরিচয় আছে
৩০) জল আর কর্পূর —
- ক) উবে যায়
- খ) উবে যায় না
- গ) সময় বিশেষে উবে যায়
- ঘ) উবে যেতেও পারে
৩১) দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠককে বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ পড়তে গেলে —
- ক) মাতৃভাষার পদ্ধতিকে না জানলেও চলে
- খ) মাতৃভাষার পদ্ধতি জানা থাকলে ভালো
- গ) মাতৃভাষার পদ্ধতি প্রীতির সঙ্গে আয়ত্ত করতে হয়
- ঘ) মাতৃভাষার পদ্ধতি না জানাই ভালো
৩২) ১৯৩৬ সালে পরিভাষা সমিতি গঠন করেছিলেন —
- ক) বঙ্গভাষা উন্নয়ন পর্ষদ
- খ) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- গ) বঙ্গভাষা ও সাহিত্যিক পরিষদ
- ঘ) বঙ্গভাষা সমিতি
৩৩) লেখকের মতে যতদিন উপযুক্ত ও প্রামাণিক বাংলা শব্দ রচিত না হয়, ততদিন —
- ক) বাংলা ভাষা বর্জন করা উচিত
- খ) ইংরেজি শব্দ বাংলা বানানে চালানো উচিত
- গ) বিদেশি জ্ঞান আহরণ না করা উচিত
- ঘ) ইংরেজি শব্দ বাংলা বানানে চালানো দরকার
৩৪) ইউরোপ ও আমেরিকায় পপুলার সায়েন্স লেখা —
- ক) দুঃসাধ্য
- খ) কষ্টসাধ্য
- গ) সুসাধ্য
- ঘ) নিষিদ্ধ
৩৫) বিজ্ঞান আলোচনার কালে আমাদের দেশের লেখকদের ভাষা —
- ক) বেশ সাবলীল থাকে
- খ) খোঁড়াতে আরম্ভ করে
- গ) সমৃদ্ধ ভাবানুবাদ হয়
- ঘ) আড়ষ্ট ও ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদ হয়ে পড়ে
৩৬) ‘The atomic engine has not even reached the blue print stage’ এর অনুবাদ “পরমাণু ইঞ্জিন নীলচিত্রের অবস্থাতেও পৌঁছায়নি” লিখলে তা হবে —
- ক) যথার্থ
- খ) আংশিক সঠিক
- গ) বাংলা ভাষার প্রকৃতিবিরুদ্ধ
- ঘ) বাংলা ভাষার প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
৩৭) অনেকে মনে করেন পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা —
- ক) সহজ হয়
- খ) কঠিন হয়
- গ) সহজ হয় না
- ঘ) কঠিন হতে পারে
৩৮) বিজ্ঞান সাহিত্যে ব্যঞ্জনা, উৎপ্রেক্ষা, অতিশয়োক্তি —
- ক) প্রচুর পরিমাণে থাকা উচিত
- খ) থাকা উচিত নয়
- গ) কম থাকা উচিত(বা বর্জনীয়)
- ঘ) থাকা না থাকা সমান
৩৯) এদের মধ্যে কোনটি রাজশেখর বসুর লেখা নয়?
- ক) গড্ডালিকা
- খ) পদি পিসির বর্মী বাক্স(লীলা মজুমদার)
- গ) কজ্জলী
- ঘ) লম্বকর্ণ
৪০) পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের জনসাধারণের —
- ক) বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অনেক বেশি
- খ) ধর্মীয় জ্ঞান বেশি
- গ) বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য
- ঘ) ধর্মীয় জ্ঞান নগণ্য
৪১) বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা অত্যন্ত —
- ক) সরল ও স্পষ্ট
- খ) যুক্তিযুক্ত
- গ) প্রামাণ্য
- ঘ) বিজ্ঞানসম্মত
৪২) আমাদের সরকার ক্রমে ক্রমে রাজকার্যে যে ভাষা চালাচ্ছেন, তা হল —
- ক) দেশি ভাষা
- খ) দেশি পরিভাষা
- গ) বিদেশি ভাষা
- ঘ) বিদেশি পরিভাষা
৪৩) অরণ্যের রোদন বললে কোন ব্যঞ্জনার অর্থ প্রকাশিত হয়?
- ক) বনে গিয়ে
- খ) নিষ্ফল খেদ
- গ) অকাট্য যুক্তি
- ঘ) ব্যর্থ হওয়া
৪৪) পরিভাষার উদ্দেশ্য হল —
- ক) ভাষার সংক্ষেপ এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট করা
- খ) ভাষার সংকেত এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট রাখা
- গ) ভাষার সংক্ষেপ করা
- ঘ) ভাষার বিস্তার এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট করা
৪৫) ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে রাজশেখর বসুর অবিস্মরণীয় কীর্তি হলো —
- ক) চলন্তিকা
- খ) কালী
- গ) হনুমানের স্বপ্ন
- ঘ) বিচিন্তা
৪৬) লক্ষণা যে অর্থ প্রকাশ করে, তা হল —
- ক) বোধমূলক
- খ) আভিধানিক
- গ) বিস্তৃত
- ঘ) সংক্ষিপ্ত
৪৭) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে পরিভাষা রচনা করা —
- ক) একজনের কাজ
- খ) দুজনের কাজ
- গ) কারও কাজ নয়
- ঘ) সমবেত কাজ
৪৮) রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম হলো —
- ক) হুতোম প্যাঁচা
- খ) অনিলা দেবী
- গ) ভানুসিংহ
- ঘ) পরশুরাম
৪৯) যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয়, তাদের প্রথম শ্রেণিটি —
- ক) ইংরেজি ভাষার শিক্ষক
- খ) বাংলা ভাষায় দক্ষ
- গ) ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে
- ঘ) ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় অল্পাধিক বিজ্ঞান পড়েছে
৫০) ছেলেবেলায় ব্রহ্মমোহন মল্লিকের বাংলা জ্যামিতি বই পড়তে হয়েছিল কাকে?
- ক) শরৎচন্দ্র
- খ) বঙ্কিমচন্দ্র
- গ) রাজশেখর
- ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ
৫১) অভিধা যে অর্থ প্রকাশ করে, তা হল —
- ক) বিস্তৃতি
- খ) আভিধানিক
- গ) বিকৃত
- ঘ) সংক্ষিপ্ত
৫২) অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা — শব্দের এই ত্রিবিধ কথা বলেছেন —
- ক) আলংকারিকগণ
- খ) বৈজ্ঞানিকগণ
- গ) ব্যাকরণবিদগণ
- ঘ) ঐতিহাসিকগণ
৫৩) ‘বিজ্ঞান’ কথাটির অর্থ কী?
- ক) বিশেষ জ্ঞান
- খ) সংক্ষিপ্ত ভাবে জ্ঞান
- গ) বিস্তৃত জ্ঞান
- ঘ) জ্ঞানগর্ভ
৫৪) যতদিন উপযুক্ত ও প্রামাণিক বাংলা শব্দ রচিত না হয়, ততদিন _ শব্দই বাংলা বানানে চালানো ভালো —
- ক) সংস্কৃত
- খ) আরবি
- গ) ফারসি
- ঘ) ইংরেজি
৫৫) ‘Connotation’ শব্দের অর্থ কী?
- ক) অর্থব্যাপ্তি
- খ) অর্থসংকোচ
- গ) অর্থরূপান্তর
- ঘ) বিপরীত অর্থ
৫৬) শব্দের ত্রিবিধ অর্থের প্রথমটি হল —
- ক) আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করে
- খ) লক্ষণা অর্থ প্রকাশ করে
- গ) ব্যঞ্জনা অর্থ প্রকাশ করে
- ঘ) শুধু বর্ণনা দেয়
৫৭) ‘ইজার’ শব্দের অর্থ কী?
- ক) পাজামা
- খ) ধুতি
- গ) লুঙ্গি
- ঘ) জিন্স
৫৮) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধটি যে গ্রন্থের অন্তর্গত, সেটি হল —
- ক) বিচিন্তা
- খ) গীতাঞ্জলি
- গ) মেঘনাদবধ
- ঘ) দেবদাস
৫৯) অল্প বিদ্যা যে ভয়ংকরী, তার প্রমাণ একটি পত্রিকায় কীভাবে লেখক পেয়েছেন?
- ক) ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর
- খ) হাওয়ার ওজন আছে
- গ) আলোর গতিবেগ খুব কম
- ঘ) শব্দ আলোর আগে পৌঁছায়
৬০) বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের ক্ষেত্রে কোন অলংকার স্থানবিশেষে চলতে পারে?
- ক) রূপক
- খ) উৎপ্রেক্ষা
- গ) অতিশয়োক্তি
- ঘ) ব্যজস্তুতি
৬১) ‘অরণ্য’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
- ক) নদী
- খ) বন
- গ) গাছ
- ঘ) পাহাড়
৬২) ‘When sulphur burns in air the nitrogen does not take part in the reaction’ — এর বাংলা অর্থ কী?
- ক) যখন গন্ধক হাওয়ায় পোড়ে তখন নাইট্রোজেন প্রতিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না
- খ) নাইট্রোজেনের কোনো পরিবর্তন হয় না
- গ) গন্ধক হাওয়ায় পুড়ে যায়
- ঘ) নাইট্রোজেন প্রতিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে
৬৩) কোন দোষমুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না?
- ক) ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদ
- খ) বাংলায় ইংরেজি প্রভাবমুক্ত
- গ) ইংরেজি ও বাংলার সমান্তরাল চেহারা
- ঘ) দেশবাসীর ইংরেজি প্রভাবমুক্ত হওয়া
৬৪) দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠককে কী পড়ার সময় প্রীতির সঙ্গে মাতৃভাষার পদ্ধতি আয়ত্ত করতে হয়?
- ক) অংক বিদ্যা
- খ) বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ
- গ) ব্রজবিলাস
- ঘ) জ্যামিতি চর্চা
৬৫) বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থের উদ্দিষ্ট প্রথম শ্রেণিতে পড়ে —
- ক) অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়ে
- খ) অল্পশিক্ষিত বয়স্ক লোক
- গ) অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়ে এবং অল্পশিক্ষিত বয়স্ক লোক
- ঘ) শুধু শিক্ষিত বয়স্ক লোক
৬৬) প্রথম শ্রেণীর পাঠকরা কয়েকটি পারিভাষিক শব্দ শিখেছে, যেমন —
- ক) ওয়াটার
- খ) টাইফয়েড
- গ) সল্ট
- ঘ) টেবিল
৬৭) “একটি নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরলরেখার উপর এক সমবাহু ত্রিভুজ আঁকতে হবে” — এর মানে বুঝতে অসুবিধা হয়নি, কারণ —
- ক) মানে স্পষ্ট ছিল
- খ) ভাষাগত সমস্যা ছিল না
- গ) ভাষাগত বিরুদ্ধ সংস্কার ছিল না
- ঘ) অঙ্ক ভালো লাগত
৬৮) প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের বিজ্ঞানের সঙ্গে পূর্বপরিচয় না থাকার ফলে তাদের এইরকম স্থূল তথ্য জানা থাকতে পারে —
- ক) জল আর কর্পূর উবে যায়
- খ) মানুষের পুনর্জন্ম হয়
- গ) মানুষ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে
- ঘ) গাছের প্রাণ নেই
৬৯) পারিভাষিক বাংলা শব্দ নেই এমন একটি ইংরেজি শব্দ হলো —
- ক) হাওয়া
- খ) অক্সিজেন
- গ) চেয়ার
- ঘ) কাপ
৭০) ইংরেজিতে ভেবে তাকে যথাযথ বাংলা অনুবাদে প্রকাশের চেষ্টা করলে লেখা হয় —
- ক) উৎকট
- খ) ভালো
- গ) নিম্নমান
- ঘ) অর্থযুক্ত
৭১) বাংলায় পারিভাষিক শব্দের সংকলনের সফল চেষ্টা হয়েছে —
- ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতির কাজে
- খ) বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতির কাজে
- গ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কাজে
- ঘ) কিছু ইংরেজি বিদ্যোৎসাহী পণ্ডিতের কাজে
৭২) স্থানবিশেষে পারিভাষিক শব্দ বাদ দেওয়া চলে, যেমন অমেরুদণ্ডীর বদলে লেখা যায় —
- ক) মেরুদণ্ডহীন
- খ) শিরদাঁড়াহীন
- গ) মেরুদণ্ড ভাঙা
- ঘ) নরম মেরুদণ্ড
৭৩) শব্দের ত্রিবিধ শক্তির প্রথমটি কী?
- ক) লক্ষণা
- খ) ব্যঞ্জনা
- গ) বর্ণনা
- ঘ) অভিধা
৭৪) কোন দেশের তুলনায় এই দেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য?
- ক) পাকিস্তান
- খ) ইরাক
- গ) পাশ্চাত্য
- ঘ) আরব
৭৫) বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থের উদ্দিষ্ট দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে —
- ক) যারা ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় অল্প বিজ্ঞান পড়েছে
- খ) যারা ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে
- গ) অল্পশিক্ষিত বয়স্ক লোক
- ঘ) শুধু শিক্ষিত বয়স্ক লোক
আরো পড়ুন: Class 9 Bengali | নিরুদ্দেশ | প্রেমেন্দ্র মিত্র
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ — সম্পূর্ণ ৯০টি অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটির লেখক কে?
উত্তর: (খ) রাজশেখর বসু।
২. রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম কী?
উত্তর: (গ) পরশুরাম।
৩. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটির উৎস কী?
উত্তর: (ক) ‘বিচিন্তা’ প্রবন্ধ গ্রন্থ।
৪. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটি পরবর্তীকালে কোন গ্রন্থে স্থান পায়?
উত্তর: (গ) ‘পরশুরাম গ্রন্থাবলি’তে।
৫. যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদেরকে মোটামুটি কয়টি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়?
উত্তর: (ক) দুটি শ্রেণীতে।
৬. প্রথম শ্রেণীতে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: যারা ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে। অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়ে এবং অল্পশিক্ষিত বয়স্ক লোক এই শ্রেণীতে পড়ে।
৭. দ্বিতীয় শ্রেণীবিভাগে কারা পড়েন?
উত্তর: যারা ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় অল্পসংখ্যক বিজ্ঞান পড়েছে।
৮. কাদের সঙ্গে বিজ্ঞানের পূর্ব পরিচয় নেই?
উত্তর: প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের, অর্থাৎ যারা ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে।
৯. “গুটিকতক ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ হয়তো তারা শিখেছে” – কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের কথা বলা হয়েছে।
১০. “গুটিকতক ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ হয়তো তারা শিখেছে” – এই পারিভাষিক শব্দগুলি কী কী?
উত্তর: টাইফয়েড, আয়োডিন, মোটর, ক্রোটন, জেব্রা প্রভৃতি।
১১. টাইফয়েড কী?
উত্তর: টাইফয়েড হলো এক ধরনের সংক্রামক ব্যাধি বা ব্যাধিজনিত জ্বর।
১২. আয়োডিন কী?
উত্তর: আয়োডিন হলো একটি রাসায়নিক মৌলিক পদার্থ।
১৩. ক্রোটন কী?
উত্তর: ক্রোটন হলো একপ্রকার বাহারি পাতার ছোট গাছ।
১৪. “অনেক রকম স্থূল তথ্যও তাদের জানা থাকতে পারে।” – স্থূল শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মোটা বা মোটা দাগের (এখানে অতি সাধারণ বা মোটাসোটা বাহ্যিক তথ্য অর্থে ব্যবহৃত)।
১৫. প্রথম শ্রেণীর পাঠকরা কোন কোন স্থূল তথ্য জানে?
উত্তর: জল আর কর্পূর উবে যায়, পিতলের চাইতে অ্যালুমিনিয়াম হালকা, লাউ-কুমড়ো জাতীয় গাছে দুই রকম ফুল হয়—ইত্যাদি।
১৬. “এইরকম সামান্য জ্ঞান থাকলেও সুশৃঙ্খল আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য তারা কিছুই জানে না।” – কোন সামান্য জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: জল আর কর্পূর উবে যাওয়া, পিতলের চেয়ে অ্যালুমিনিয়াম হালকা হওয়া এবং লাউ-কুমড়ো গাছে দু-রকম ফুল হওয়া সংক্রান্ত সাধারণ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে।
১৭. প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের বিজ্ঞান শেখা সংস্কারের বিরোধী নয় কেন?
উত্তর: কারণ প্রথম শ্রেণীর পাঠকেরা ইংরেজি শিক্ষার প্রভাব ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত, তাই মাতৃভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞান শেখা তাদের মানসিক বা ভাষাগত সংস্কারের বিরোধী হয় না।
১৮. ছেলেবেলায় লেখককে কার লেখা বাংলা জ্যামিতি বই পড়তে হয়েছিল?
উত্তর: ব্রহ্মমোহন মল্লিকের লেখা বাংলা জ্যামিতি বই।
১৯. “এক নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরলরেখার উপর এক সমবাহু ত্রিভুজ অঙ্কিত করিতে হইবে।” – এর মানে বুঝতে লেখকের অসুবিধা হয়নি কেন?
উত্তর: কারণ বিষয়টি বাংলা ভাষায় লেখা ছিল এবং লেখকের আগে থেকে কোনো ইংরেজি পরিভাষার বিরোধী সংস্কার ছিল না।
২০. “কিন্তু যারা ইংরেজি জিওমেট্রি পড়েছে তাদের কাছে উক্ত প্রতিজ্ঞা বাক্যটি সুশ্রাব্য ঠেকবে না, তার মানেও স্পষ্ট হবে না।” – কোন প্রতিজ্ঞা বাক্যের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘এক নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরলরেখার উপর এক সমবাহু ত্রিভুজ অঙ্কিত করিতে হইবে’—এই প্রতিজ্ঞা বাক্যটির কথা বলা হয়েছে।
২১. “যে লোক আজন্ম ইজার পরেছে তার পক্ষে হঠাৎ ধুতি পরা অভ্যাস করা একটু শক্ত।” – কথাটির অর্থ পরিস্ফুট করো।
উত্তর: যে মানুষ সারা জীবন পায়জামা পরে অভ্যস্ত, তার পক্ষে হঠাৎ ধুতি পরা কঠিন। ঠিক তেমনি, যারা ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়ে অভ্যস্ত, তাদের পক্ষে হঠাৎ বাংলায় বিজ্ঞান পড়া বা বোঝা কিছুটা কঠিন।
২২. “তাতে অনেকে মুশকিলে পড়ছেন।” – কেন অনেকে মুশকিলে পড়ছেন?
উত্তর: সরকার যখন থেকে রাজকার্যে দেশি পরিভাষা চালু করছেন, তখন পুরনো অভ্যাসে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা নতুন পরিভাষা শিখতে গিয়ে মুশকিলে পড়ছেন।
২৩. “শুধু বিষয়টি যত্ন করে বুঝে নিতে হয়।” – প্রাবন্ধিক কাদের কথা বলেছেন?
উত্তর: প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের কথা বলা হয়েছে।
২৪. পূর্বোক্ত প্রথম শ্রেণীর পাঠক যখন বাংলায় বিজ্ঞান শেখে তখন ভাষার জন্য তার বাধা হয় না – কেন?
উত্তর: কারণ তাদের মধ্যে কোনো ভাষাগত বা পরিভাষাগত বিরোধী সংস্কার থাকে না, তাই শুধু বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুটি বুঝে নিলেই চলে।
২৫. পাশ্চাত্য দেশের শিক্ষার্থীর চেয়ে প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের বেশি চেষ্টা করতে হয় না কেন?
উত্তর: কারণ প্রথম শ্রেণীর বাংলাভাষী পাঠকেরা মাতৃভাষাতেই সরাসরি বিজ্ঞান শেখে, ফলে অন্য ভাষা থেকে অনুবাদের অতিরিক্ত বাধা তাদের থাকে না।
২৬. বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক তথ্য ও যুক্তিনির্ভর প্রবন্ধ বা গবেষণা নিবন্ধ।
২৭. দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠকরা যখন বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ পড়েন তখন তাদের কী করতে হয়?
উত্তর: তাদের ইংরেজির প্রতি অহেতুক আনুগত্য বা ব্যাকুলতা ত্যাগ করে প্রীতির সঙ্গে মাতৃভাষার প্রকাশরীটিকে আয়ত্ত করতে হয়।
২৮. “এই কারণে পাশ্চাত্য পাঠকের তুলনায় তার পক্ষে একটু বেশি চেষ্টা আবশ্যক।” – কেন পাশ্চাত্য পাঠকদের তুলনায় দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠকদের বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান পড়তে বেশি চেষ্টা করতে হয়?
উত্তর: কারণ দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠকেরা আগে থেকে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত, তাই তাদের মনের মধ্যে থাকা ইংরেজি সংস্কার কাটিয়ে বাংলায় মানিয়ে নিতে বাড়তি চেষ্টা করতে হয়।
২৯. “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে।” – প্রধান বাধাটি কী?
উত্তর: উপযুক্ত বাংলা পারিভাষিক শব্দের অভাব।
৩০. ‘পারিভাষিক’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: পরিভাষা সংক্রান্ত বা সুনির্দিষ্ট অর্থপ্রকাশক শব্দ।
৩১. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কাজ কী?
উত্তর: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কলকাতার একটি ঐতিহাসিক সাহিত্যিক সংস্থা, যার মূল কাজ হলো বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধন এবং অন্যান্য ভাষার জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোচনা ও পরিভাষা বাংলায় রূপান্তর করা।
৩২. ‘বিদ্যোৎসাহী’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: বিদ্যা বা জ্ঞানের প্রতি অনুরাগী।
৩৩. অনেক বছর আগে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট বিদ্যোৎসাহী লেখক কী করেছিলেন?
উত্তর: তারা বাংলায় বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের পারিভাষিক শব্দ সংকলনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
৩৪. “তাদের উদ্যোগে এই ত্রুটি ছিল যে” – বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কী ত্রুটি ছিল?
উত্তর: বিদ্যোৎসাহী লেখকেরা দলবদ্ধ বা সমবেতভাবে কাজ না করে স্বতন্ত্রভাবে আলাদা আলাদা কাজ করেছিলেন।
৩৫. “একই ইংরেজির সংজ্ঞার বিভিন্ন প্রতিশব্দ রচিত হয়েছিল।” – এমন হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: বিভিন্ন লেখক বা পণ্ডিতেরা সমবেতভাবে আলোচনা না করে যার যার মতো আলাদাভাবে পারিভাষিক শব্দ তৈরি করেছিলেন।
৩৬. কত খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিলেন?
উত্তর: ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে।
৩৭. ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিলেন তাতে কারা ছিলেন?
উত্তর: বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতত্ত্ববিদ, সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত এবং কয়েকজন বিশিষ্ট লেখক।
৩৮. “তার ফলে তাদের চেষ্টা অধিকতর সফল হয়েছে।” – এই সফলতার কারণ কী?
উত্তর: পরিভাষা সমিতির সদস্যরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাজ না করে সমবেতভাবে ও পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করেছিলেন।
৩৯. “তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করা আবশ্যক।” – কীসের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করা আবশ্যক?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সংকলিত পরিভাষার ভাণ্ডার পর্যাপ্ত বা খুব বড় নয় বলে নতুন শব্দ সংযোজনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
৪০. “পরিভাষা রচনা একজনের কাজ নয়” – এই প্রসঙ্গে কী না করলে পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে নানা ত্রুটি হতে পারে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেছেন?
উত্তর: বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সমবেতভাবে কাজ না করা হলে নানা ত্রুটি ও বৈষম্য দেখা দিতে পারে।
৪১. যতদিন উপযুক্ত ও প্রামাণিক বাংলা শব্দ রচিত না হয় ততদিন কী করতে হবে বলে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন?
উত্তর: এতদিন পর্যন্ত মূল ইংরেজি শব্দকেই বাংলা বানানে চালিয়ে যেতে হবে।
৪২. “তাঁরা বিধান দিয়েছেন।” – কারা বিধান দিয়েছেন?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি।
৪৩. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি কী বিধান দিয়েছেন?
উত্তর: নতুন আবিষ্কৃত রাসায়নিক বস্তুর ক্ষেত্রে ইংরেজি নামই বাংলা বানানে ব্যবহার করার বিধান দিয়েছেন।
৪৪. নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামগুলির উদাহরণ দাও।
উত্তর: অক্সিজেন, প্যারাডাইক্লোরোবেনজিন প্রভৃতি।
৪৫. উদ্ভিদ ও প্রাণীর জাতিবাচক বা পরিচয়বাচক অধিকাংশ ইংরেজি নাম বাংলায় চালানোর ক্ষেত্রে কোন নামগুলির কথা প্রাবন্ধিক বলেছেন?
উত্তর: ম্যালভাসি, ফার্ন, আর্থ্রোপোডা, ইনসেক্টা প্রভৃতি।
৪৬. ‘International’ শব্দটির বাংলা কোন পারিভাষিক শব্দ প্রাবন্ধিক ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: সার্বজাতিক।
৪৭. পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এ দেশের জনসাধারণের কোন জ্ঞানটি নগণ্য?
উত্তর: প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান।
৪৮. প্রাথমিক বিজ্ঞানের সঙ্গে কিঞ্চিৎ পরিচয় না থাকলে কী বোঝা কঠিন বলে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বা প্রবন্ধ বোঝা কঠিন।
৪৯. ইউরোপ-আমেরিকায় পপুলার সায়েন্স লেখা সুসাধ্য কেন?
উত্তর: সেখানকার সাধারণ জনগণের প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষার ভিত্তি আগে থেকেই মজবুত থাকে।
৫০. “কিন্তু আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা তেমন নয়।” – এই প্রসঙ্গে প্রবন্ধে কী বলেছেন?
উত্তর: আমাদের দেশে সাধারণ বয়স্ক পাঠকদের জন্য কিছু লিখতে গেলেও প্রাথমিক বিজ্ঞানের মতো একেবারে গোড়া থেকে না বোঝালে তা সহজবোধ্য হয় না।
৫১. “জনসাধারণের জন্য যারা বাংলায় বিজ্ঞান লেখেন তাঁরা এ বিষয়ে অবহিত না হলে তাদের লেখা জনপ্রিয় হবে না।” – কোন বিষয়ে অবহিত হতে হবে বলে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন?
উত্তর: এ দেশের জনসাধারণের প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে, তাই যে কোনো বিষয় একদম সহজ করে গোড়া থেকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
৫২. “তখন বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা সুসাধ্য হবে।” – কখন বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা সুসাধ্য হবে?
উত্তর: দেশে যখন বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটবে এবং পাঠকেরা সহজে তথ্য অনুধাবন করতে পারবে।
৫৩. “এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না।” – এখানে কোন দোষের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বিজ্ঞানের উপযুক্ত রচনা পদ্ধতি আয়ত্ত না করে ইংরেজি বাক্যের আড়ষ্ট ও আক্ষরিক অনুবাদ করার দোষের কথা বলা হয়েছে।
৫৪. Connotation শব্দের বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: অর্থব্যাপ্তি বা প্রসংগভিত্তিক অন্তর্নিহিত অর্থ।
৫৫. ইংরেজি Sensitive শব্দটি কোন কোন অর্থে চলে বলে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন?
উত্তর: Sensitive person (অভিমানী/সংবেদনশীল মানুষ), sensitive wound (ব্যথাযোগ্য ক্ষত), sensitive plant (লজ্জাবতী গাছ), sensitive balance (সূক্ষ্ম তুলাদণ্ড), sensitive photographic paper (আলোকগ্রাহী কাগজ)।
৫৬. Sensitized paper-এর সঠিক বাংলা অর্থ কী হওয়া উচিত?
উত্তর: সুগ্রাহী বা আলোকগ্রাহী কাগজ।
৫৭. Sensitized paper-এর অনুবাদ কী লিখলে অতি উৎকট হয় বলে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন?
উত্তর: ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ লিখলে।
৫৮. ‘উৎকট’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিদঘুটে, আড়ষ্ট বা অস্বাভাবিক।
৫৯. “এতে রচনা উৎকট হয়।” – কী করলে রচনা উৎকট হয়?
উত্তর: লেখকেরা যখন ইংরেজিতে চিন্তা করে হুবহু আক্ষরিক অনুবাদে বাংলা বাক্য গঠন করেন।
৬০. “এরকম বর্ণনা বাংলা ভাষায় প্রকৃতিবিরুদ্ধ।” – প্রকৃতিবিরুদ্ধ বর্ণনাটির উদাহরণ দাও।
উত্তর: “পরমাণু ইঞ্জিন নীলচিত্রের অবস্থাতেও পৌঁছায়নি” (The atomic engine has not even reached the blue print stage)।
৬১. “The atomic engine has not even reached the blue print stage” – এর আক্ষরিক অনুবাদটি কী?
উত্তর: “পরমাণু ইঞ্জিন নীলচিত্রের অবস্থাতেও পৌঁছায়নি।”
৬২. ‘When sulphur burns in air the nitrogen does not take part in the reaction.’ – এর আক্ষরিক অনুবাদটি কী?
উত্তর: “যখন গন্ধক হাওয়ায় পোড়ে তখন নাইট্রোজেন প্রতিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।”
৬৩. “এরকম মাছিমারা নকল না করে” – কোন বিষয়কে প্রাবন্ধিক মাছিমারা নকল বলেছেন?
উত্তর: ইংরেজি বাক্যের অন্ধ ও অবিকল আক্ষরিক অনুবাদ করাকে প্রাবন্ধিক মাছিমারা নকল বলেছেন।
৬৪. “When sulphur burns in air the nitrogen does not take part in the reaction” – এর বঙ্গানুবাদটি কী লিখলে বাংলা ভাষা বজায় থাকে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেছেন?
উত্তর: “হাওয়ায় গন্ধক পুড়লে নাইট্রোজেনের কোনো পরিবর্তন হয় না” (বা নাইট্রোজেন পরিবর্তিত থাকে না)।
৬৫. “এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।” – কোন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়?
উত্তর: পারিভাষিক শব্দ সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সাধারণ ভাষায় লিখলে বৈজ্ঞানিক রচনা সহজ হয়—এই ধারণাটি সঠিক নয়।
৬৬. “স্থান বিশেষে পারিভাষিক শব্দ বাদ দেওয়া চলে” – এক্ষেত্রে প্রাবন্ধিক কোন উদাহরণটি দিয়েছেন?
উত্তর: ‘অমেরুদণ্ডী’ শব্দের জায়গায় ‘যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া নেই’ লেখা যেতে পারে।
৬৭. “কিছুমাত্র সহজ হয় না।” – কোন বিষয়টি সহজ হয় না বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন?
উত্তর: ‘আলোকতরঙ্গ’ না লিখে তার জায়গায় ‘আলোর কাপন বা নাচন’ লিখলে রচনা মোটেও সহজ হয় না।
৬৮. পরিভাষার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: বিজ্ঞানের ভাষাকে সংক্ষেপ করা এবং তার অর্থকে সুনির্দিষ্ট রাখা।
৬৯. “তাতে পাঠকের অসুবিধা হয়” – কী করলে পাঠকের অসুবিধা হয়?
উত্তর: নির্দিষ্ট পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার না করে বারবার বড় ব্যাখ্যা দিলে লেখার দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়, যা পাঠকের বোঝার পক্ষে অসুবিধাজনক।
৭০. সাধারণের জন্য যে বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ লেখা হয় তাতে লেখক কী করতে পরামর্শ দিয়েছেন?
উত্তর: প্রথমবার অল্প পরিচিত পারিভাষিক শব্দ ব্যবহারের সময় তার বন্ধনীতে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া এবং পরে শুধু বাংলা পারিভাষিক শব্দটিই ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
৭১. “আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন।” – শব্দের ত্রিবিধ কথাগুলি কী কী?
উত্তর: অভিধা, লক্ষণা এবং ব্যঞ্জনা।
৭২. অভিধা কী?
উত্তর: শব্দের প্রাথমিক ও আভিধানিক অর্থ প্রকাশের ক্ষমতাকে অভিধা বলে (যেমন: ‘অরণ্য’ = বন)।
৭৩. লক্ষণা কী?
উত্তর: আভিধানিক অর্থ বাদ দিয়ে প্রসঙ্গানুসারে যখন অন্য অর্থ প্রাধান্য পায়, তখন তাকে লক্ষণা বলে (যেমন: ‘দেশের লজ্জা’ = দেশবাসীর লজ্জা)।
৭৪. ব্যঞ্জনা কাকে বলে?
উত্তর: অভিধা বা লক্ষণা দিয়ে প্রকাশ করা যায় না এমন গভীর কাব্যিক বা অন্তর্নিহিত অর্থ যে শক্তির দ্বারা প্রকাশ পায়, তাকে ব্যঞ্জনা বলে (যেমন: ‘অরণ্যে রোদন’ = নিষ্ফল আবেদন বা খেদ)।
৭৫. “কিন্তু বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে যত কম থাকে ততই ভালো।” – বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে কী কম থাকার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: লক্ষণা, ব্যঞ্জনা এবং অলঙ্কারের (উৎপ্রেক্ষা, অতিশয়োক্তি) মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার।
৭৬. বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে প্রাবন্ধিক কোন কোন অলংকারের প্রয়োগ ও কোন অলংকারটি বর্জন করাই উচিত বলে মনে করেছেন?
উত্তর: স্থানবিশেষে উপমা ও রূপক অলংকার চলতে পারে, তবে বিজ্ঞানের সঠিক উপস্থাপনের স্বার্থে অন্যান্য অলংকার বর্জন করা উচিত।
৭৭. ‘হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’ – এটি কার উক্তি?
উত্তর: মহাকবি কালিদাসের।
৭৮. ‘কালিদাসের এই উক্তি কাব্যেরই উপযুক্ত ভূগোলের নয়।’ – উক্তিটি কী?
উত্তর: “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড।”
৭৯. “এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।” – কোন কথাটি সকল লেখকের মনে রাখা উচিত?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা সব সময় অত্যন্ত সহজ, সরল ও স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক।
৮০. “বাংলা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধাদিতে আর একটি দোষ প্রায়ই নজরে পড়ে।” – দোষটি কী?
উত্তর: না জেনে বা অসম্পূর্ণ জ্ঞান নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন করা।
৮১. ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ – এটি কী?
উত্তর: এটি একটি বাংলা প্রবাদ।
৮২. ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ প্রবাদটির অর্থ লেখো।
উত্তর: সামান্য বা আংশিক জ্ঞান অনেক সময় বড় ক্ষতির কারণ হয়।
৮৩. ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ এই প্রবাদটি যে কত ঠিক তার প্রমাণ কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: তৎকালীন সাময়িক পত্রে বা পত্রিকায়।
৮৪. ‘কিছুদিন আগে একটি পত্রিকায় দেখেছি’ – প্রাবন্ধিক পত্রিকায় কী দেখেছিলেন?
উত্তর: একটি পত্রিকায় লেখা হয়েছিল—অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর নয়, কিন্তু ‘ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর’।
৮৫. “এই রকম ভুল লেখা সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনিষ্টকর।” – কোন ভুল লেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর নয় কিন্তু ‘ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর’—সাময়িক পত্রিকায় প্রকাশিত এই ভুল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে।
৮৬. ‘সম্পাদকের উচিত’ – ভুল লেখাগুলি ছাপানোর আগে সম্পাদকের কী করণীয় বলে প্রাবন্ধিক মনে করেছেন?
উত্তর: কোনো নতুন বা অবিখ্যাত লেখকের বৈজ্ঞানিক রচনা প্রকাশ করার আগে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে লেখাটির সত্যতা যাচাই করিয়ে নেওয়া।
৮৭. বিজ্ঞান আলোচনার রচনা পদ্ধতির মূল ত্রুটি কী?
উত্তর: বিজ্ঞানের উপযোগী সাবলীল প্রকাশভঙ্গি আয়ত্ত করতে না পারা এবং ইংরেজির অন্ধ আক্ষরিক অনুবাদের ওপর নির্ভর করা।
৮৮. “কিন্তু তাও কেউ কেউ লিখে থাকেন।” – কী লেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: Sensitized paper-এর ভুল ও কৃত্রিম অনুবাদ হিসেবে ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ লেখার কথা বলা হয়েছে।
৮৯. “তার মানেও স্পষ্ট হবে না।” – কীসের মানে স্পষ্ট না হওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যারা ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে ‘এক নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরলরেখার উপর এক সমবাহু ত্রিভুজ অঙ্কিত করিতে হইবে’—এই ধরনের বাংলা প্রতিজ্ঞাবাক্যের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয় না।
৯০. পারিভাষিক শব্দ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কোনো বিশেষ জ্ঞান বা বিজ্ঞান শাখায় সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণাকে সংক্ষেপে ও সুস্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য যে বিশেষ শব্দ ব্যবহার করা হয়, তাকে পারিভাষিক শব্দ বলে।
আরো পড়ুন: এক কথায় প্রকাশ: 400+ Important Ek Kothay Prokash:
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান — রচনাধর্মী প্রশ্ন
১. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বিজ্ঞান পাঠকদের যে দুটি শ্রেণির কথা বলেছেন, তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর:
রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার উপযোগিতা ও সমস্যা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে বিজ্ঞান পাঠকদের প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
- প্রথম শ্রেণি:
এই শ্রেণির পাঠকরা ইংরেজি ভাষা একেবারেই জানে না বা খুব সামান্য জানে। মূলত অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে এবং অল্পশিক্ষিত বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ এই শ্রেণির অন্তর্গত। বিজ্ঞানের জটিল পারিভাষিক শব্দ বা ইংরেজি পরিভাষার সঙ্গে এদের কোনো পূর্বপরিচয় থাকে না। টাইফয়েড, আয়োডিন বা মোটরের মতো দু-একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ বাদ দিলে এদের সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকে না। তবে এই পাঠকদের সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হলো, এদের মানসপটে ইংরেজি ভাষার কোনো পূর্বসংস্কার বা অন্ধ মোহ থাকে না। ফলে বাংলা ভাষায় নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক পরিভাষা শিখতে এদের কোনো মনস্তাত্ত্বিক বাধা বা অস্বস্তি তৈরি হয় না। তারা সহজেই মাতৃভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলো গ্রহণ করতে পারে। - দ্বিতীয় শ্রেণি:
এই শ্রেণির পাঠকরা ইংরেজি ভাষা ভালো জানে এবং ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যপুস্তকেই প্রাথমিক বিজ্ঞান পড়েছে। এদের প্রধান সমস্যা হলো মানসিক পূর্বসংস্কার। শৈশব থেকেই ‘Geometry’, ‘Oxygen’ বা ‘Carbon’-এর মতো ইংরেজি পরিভাষায় বিজ্ঞান পড়ে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে বাংলায় বিজ্ঞান পড়তে গেলে (যেমন—’সমবাহু ত্রিভুজ’ বা ‘অম্লজান’) এদের কাছে তা শ্রুতিকটু বা অস্পষ্ট মনে হয়। প্রাবন্ধিকের চমৎকার উপমা অনুযায়ী, যে মানুষ আজীবন ইজার (পায়জামা) পরে অভ্যস্ত, তার পক্ষে হঠাৎ ধুতি পরা যেমন অস্বস্তিকর, এই দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠকদের কাছে বাংলায় বিজ্ঞান পড়াও তেমনি কঠিন মনে হয়। তাই এদের ক্ষেত্রে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শিখতে হলে ইংরেজির প্রতি অন্ধ পক্ষপাত ত্যাগ করে অতিরিক্ত মানসিক যত্ন ও চেষ্টা চালাতে হয়।
২. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় পারিভাষিক শব্দ রচনার ক্ষেত্রে কী কী বাধা বা ত্রুটি ছিল এবং তা কীভাবে দূর করা সম্ভব হয়েছিল?
উত্তর:
রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ অনুসারে, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার প্রধানতম বাধা হলো উপযুক্ত ও সর্বজনগ্রাহ্য প্রামাণিক পারিভাষিক শব্দের অভাব।
- ত্রুটি বা বাধা:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগে নেওয়ার বহু পূর্বে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিদ্যোৎসাহী লেখক পৃথকভাবে বিজ্ঞানবিষয়ক পরিভাষা রচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কাজের প্রধান ত্রুটি ছিল—তারা সমবেত বা দলবদ্ধভাবে কাজ না করে স্বতন্ত্রভাবে আলাদা আলাদা কাজ করেছিলেন। এর ফলে একই ইংরেজি বৈজ্ঞানিক শব্দের জন্য বিভিন্ন পণ্ডিত বা লেখক ভিন্ন ভিন্ন বাংলা প্রতিশব্দ তৈরি করে ফেলেন। ফলে পরিভাষার মধ্যে সমতা ও সর্বজনীনতা হারিয়ে যায় এবং পাঠকদের বিভ্রান্তি বাড়ে। - সমাধান:
এই বিশৃঙ্খলা ও ত্রুটি দূর করার জন্য ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সুনির্দিষ্ট ‘পরিভাষা সমিতি’ গঠন করে। এই সমিতির বিশেষত্ব ছিল—এখানে বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতত্ত্ববিদ, সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিকরা একত্রিত হয়ে কাজ করেছিলেন। সমবেত ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার ফলে তাঁদের রচিত পরিভাষা অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক, প্রামাণিক ও সফল হয়েছিল। সমিতি একটি প্রগতিশীল নির্দেশনায় জানান যে, আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যবহৃত প্রজাতি বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাসায়নিক বস্তুর ক্ষেত্রে জোর করে কৃত্রিম বাংলা পরিভাষা না বানিয়ে মূল ইংরেজি নামই বাংলা বানানে ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত (যেমন—অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফার্ন ইত্যাদি)। এভাবেই বাংলায় পারিভাষিক শব্দ রচনার প্রাথমিক বাধা অনেকটা দূর হয়।
৩. “এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না।” — কোন দোষের কথা বলা হয়েছে? এই দোষ থেকে মুক্তির উপায় কী?
উত্তর:
দোষের বিবরণ:
প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু এখানে বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ রচনার সময় লেখকদের কৃত্রিম ভাষা ব্যবহার ও আক্ষরিক অনুবাদজনিত ত্রুটির কথা বলেছেন। অনেক লেখক বাংলায় বিজ্ঞান লেখার সময় বিষয়টি আগে ইংরেজিতে চিন্তা করেন এবং তারপর বাংলা শব্দ বসিয়ে আক্ষরিক অনুবাদ (Word-for-word translation) করার চেষ্টা করেন। এর ফলে বাংলা ভাষার স্বাভাবিক গঠনরীতি ও সৌন্দর্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং ভাষা অত্যন্ত আড়ষ্ট ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
যেমন—“The atomic engine has not even reached the blue print stage”—এর আক্ষরিক অনুবাদ যদি লেখা হয় “পরমাণু এঞ্জিন নীলচিত্রের অবস্থাতেও পৌঁছায়নি”, তবে তা বাংলায় অর্থহীন ও বিজাতীয় শোনায়। প্রাবন্ধিক এই আক্ষরিক অনুবাদের অন্ধ অভ্যাসকেই ‘মাছিমারা নকল’ ও অন্যতম প্রধান ‘দোষ’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
মুক্তির উপায়:
এই দোষ থেকে মুক্ত হতে হলে লেখকদের অন্ধ আক্ষরিক অনুবাদ করার কুঅভ্যাস সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। শব্দের আক্ষরিক অনুবাদের চেয়ে মূল বাক্যের অন্তর্নিহিত ভাব ও রস অনুধাবন করে ‘ভাবানুবাদ’ করতে হবে। উল্লিখিত ইংরেজি বাক্যটিতে ‘Blue print’-কে ‘নীলচিত্র’ না লিখে ‘নকশা’ লেখা উচিত, যাতে বঙ্গানুবাদটি দাঁড়ায়—“পরমাণু ইঞ্জিনের নকশা পর্যন্ত এখনও প্রস্তুত হয়নি।” অর্থাৎ, বাংলা ভাষার নিজস্ব প্রকাশরীতি ও ব্যাকরণগত স্বভাবের দিকে নজর রেখে সহজ, প্রাঞ্জল ও স্বাভাবিক ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপন করলেই বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
৪. “পরিভাষার উদ্দেশ্য ভাষার সংক্ষেপ এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট করা।” — প্রবন্ধ অবলম্বনে এই উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
তাৎপর্য বিশ্লেষণ:
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু বৈজ্ঞানিক রচনায় পারিভাষিক শব্দের অপরিসীম গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে উক্তিটি করেছেন। অনেক সাধারণ লেখক মনে করেন, পরিভাষা বাদ দিয়ে বিবরণমূলক সাধারণ ভাষায় বিজ্ঞান লিখলে তা হয়তো সহজবোধ্য হবে। কিন্তু প্রাবন্ধিক এই ধারণাকে বিভ্রান্তিকর বলে মনে করেছেন।
বিজ্ঞানের জটিল ও সূক্ষ্ম ধারণাগুলোকে সুনির্দিষ্ট রূপ দিতে পরিভাষার বিকল্প নেই। পরিভাষা ব্যবহারের দুটি প্রধান সুবিধা রয়েছে:
১. ভাষার সংক্ষেপ: বিজ্ঞান চর্চায় যদি নির্দিষ্ট পরিভাষা ব্যবহার না করা হয়, তবে ‘অমেরুদণ্ডী’ কথাটি বোঝাতে বারবার লিখতে হবে ‘যেসব প্রাণীর শিরদাঁড়া নেই’। এতে রচনার দৈর্ঘ্য অনর্থক বৃদ্ধি পাবে এবং মূল বৈজ্ঞানিক তথ্যটি বাক্যের জালে হারিয়ে যাবে।
২. অর্থের সুনির্দিষ্টতা: পরিভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা বা সংজ্ঞাকে একটিমাত্র শব্দের সাহায্যে নির্ভুল ও নির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা যায় (যেমন—’আলোকতরঙ্গ’ বা ‘সালোকসংশ্লেষ’)।
সাধারণ পাঠকদের বোধগম্যতার সুবিধার্থে প্রাবন্ধিক একটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন—প্রবন্ধে কোনো অল্প পরিচিত পারিভাষিক শব্দ প্রথমবার ব্যবহারের সময় ব্র্যাকেটে বা বন্ধনীতে তার সহজ ব্যাখ্যা এবং ইংরেজি নামটি লিখে দেওয়া উচিত; কিন্তু পরবর্তীতে কেবল বাংলা পারিভাষিক শব্দটিই ব্যবহার করা উচিত। এতে ভাষার সংক্ষেপ, অর্থ প্রকাশে সুনির্দিষ্টতা এবং গাম্ভীর্য—সবই বজায় থাকে।
৫. আলংকারিকগণ শব্দের যে তিনটি অর্থের কথা বলেছেন তা উদাহরণসহ আলোচনা করো এবং বিজ্ঞান সাহিত্যে এদের প্রয়োগ সম্পর্কে লেখকের মত কী?
উত্তর:
প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু তাঁর প্রবন্ধে প্রাচীন ভারতীয় আলংকারিকদের মতামত তুলে ধরে শব্দের তিনটি শক্তির বা অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন— অভিধা, লক্ষণা এবং ব্যঞ্জনা।
- শব্দের তিনটি অর্থ:
১. অভিধা: এটি হলো শব্দের প্রাথমিক, সরাসরি ও আভিধানিক অর্থ। যেমন—’দেশ’ শব্দের মূল অর্থ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ড।
২. লক্ষণা: আভিধানিক অর্থকে ছাপিয়ে যখন প্রসঙ্গ অনুসারে অন্য এক গৌণ বা সম্বন্ধযুক্ত অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে লক্ষণা বলে। যেমন—’দেশের লজ্জা’ বললে এখানে মাটিকে না বুঝিয়ে ‘দেশবাসী’কে বোঝায়।
৩. ব্যঞ্জনা: এটি শব্দের আভিধানিক বা গৌণ অর্থ অতিক্রম করে কোনো অন্তর্নিহিত ও গভীর কাব্যিক ইঙ্গিত প্রকাশ করে। যেমন—’অরণ্যে রোদন’ শব্দের সাধারণ অর্থ বনে কান্না হলেও এর ব্যঞ্জনার্থ হলো ‘বৃথা আবেদন’ বা ‘নিষ্ফল আকুতি’। - বিজ্ঞান সাহিত্যে এদের প্রয়োগ সম্পর্কে প্রাবন্ধিকের মত:
সাধারণ সাহিত্য বা কাব্যরসে লক্ষণা, ব্যঞ্জনা, উৎপ্রেক্ষা ও অতিশয়োক্তির মতো অলঙ্কারের সার্থক ও সুচারু ব্যবহার অপরিহার্য হলেও বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে এদের প্রয়োগ বর্জন করাই শ্রেয়। মহাকবি কালিদাসের “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড”—উক্তিটি কাব্যের ক্ষেত্রে অনবদ্য রূপক হলেও ভৌগোলিক বা বৈজ্ঞানিক তথ্যের বিচারে তা অচল। বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা হতে হবে সম্পূর্ণ অলঙ্কারবর্জিত, স্পষ্ট, বস্তুন নিষ্ঠ এবং সরাসরি অর্থবোধক অর্থাৎ ‘অভিধা’ মূলক। প্রয়োজনে বিষয়টিকে প্রাঞ্জল করার জন্য দু-একটি উপমা বা রূপক ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে বৈজ্ঞানিক সত্যকে অলঙ্কারের আড়ালে অস্পষ্ট করা অনুচিত।
৬. “অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী এই প্রবাদটি যে কত ঠিক তার প্রমাণ আমাদের সাময়িকপত্রাদিতে মাঝে মাঝে পাওয়া যায়।” — লেখক কেন এমন মন্তব্য করেছেন? এর প্রতিকার হিসেবে তিনি কী পরামর্শ দিয়েছেন?
উত্তর:
মন্তব্যের কারণ:
রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধাদিতে তথ্যের নির্ভুলতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছেন। প্রাবন্ধিক লক্ষ করেছেন, বিজ্ঞানের গভীর জ্ঞান বা উপযুক্ত তথ্য না থাকা সত্ত্বেও অনেক অপ্রসিদ্ধ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন লেখক বিভিন্ন সাময়িক পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞান বিষয়ে অপূর্ণ নিবন্ধ লিখে ফেলেন। ফলে তাঁদের লেখায় মারাত্মক বৈজ্ঞানিক ভুল প্রকাশ পায়।
লেখক একটি পত্রিকার উদাহরণ দিয়ে জানান, সেখানে লেখা হয়েছিল—“অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর বলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই… তবে ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর।” এটি সম্পূর্ণ ভুল ও বৈজ্ঞানিক তথ্যবিরোধী। এই ধরনের আধকচা বা অপক্ক জ্ঞান দিয়ে লেখা প্রবন্ধ সাধারণ পাঠকদের মারাত্মক বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে, কারণ সাধারণ পাঠক পত্রিকায় মুদ্রিত তথ্যকে নির্ভুল সত্য বলে বিশ্বাস করেন। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রবণতাকেই প্রাবন্ধিক ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ বলেছেন।
প্রতিকার ও পরামর্শ:
এই বিপজ্জনক সমস্যা দূর করার জন্য প্রাবন্ধিক একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো পত্রিকা সম্পাদকের উচিত অবিখ্যাত বা নতুন কোনো লেখকের বিজ্ঞানবিষয়ক রচনা সরাসরি প্রকাশ না করা। প্রকাশের পূর্বে সেই লেখাটি বিজ্ঞানের কোনো অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ বা বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা ও সত্যতা যাচাই (Fact check) করিয়ে নেওয়া উচিত। তবেই সাধারণ পাঠকের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাবে।
৭. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ অবলম্বনে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার সমস্যা ও তার সমাধানের উপায়গুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান আলোচনার নানাবিধ সমস্যা ও তার বাস্তবসম্মত সমাধান অত্যন্ত নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
- প্রধান সমস্যাসমূহ:
১. উপযুক্ত পরিভাষার অভাব: বাংলায় বিজ্ঞানের পর্যাপ্ত ও প্রামাণিক পরিভাষা গড়ে ওঠেনি এবং অতীতে স্বতন্ত্রভাবে কাজ হওয়ায় পরিভাষায় সামঞ্জস্য ছিল না।
২. মানসিক পূর্বসংস্কার: ইংরেজি মাধ্যমে প্রাথমিক বিজ্ঞান পড়ারা মানসিক সংস্কারের কারণে বাংলায় বিজ্ঞান পরিভাষা গ্রহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করে।
৩. সাধারণ পাঠকের বিজ্ঞানে অজ্ঞতা: উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় বিজ্ঞানের নিবন্ধ লেখা কঠিন হয়।
৪. আক্ষরিক অনুবাদের জটিলতা: ইংরেজি বাক্যের অন্ধ ও আক্ষরিক অনুবাদের ফলে রচনা কৃত্রিম ও আড়ষ্ট হয়ে পড়ে।
৫. ভুল তথ্য পরিবেশন: সাময়িক পত্রিকায় অপক্ক লেখকের লেখা থেকে প্রায়ই ভুল ও ক্ষতিকর বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচারিত হয়। - সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ:
১. বিশেষজ্ঞদের সমবেত উদ্যোগে পরিভাষা গঠন করতে হবে এবং প্রামাণিক বাংলা শব্দ না পাওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ইংরেজি নামই ব্যবহার করতে হবে।
২. ইংরেজিতে না ভেবে বাংলা ভাষার নিজস্ব প্রকাশরীতি অনুযায়ী সাবলীল ভাবানুবাদ করতে হবে।
৩. সাধারণ পাঠকের উপযোগী করে লেখার সময় জটিল তত্ত্বগুলোকে একদম প্রাথমিক স্তর থেকে সহজ করে বোঝাতে হবে।
৪. ভাষা হতে হবে অলঙ্কারমুক্ত, স্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও অভিধাননির্ভর।
৫. সাময়িক পত্রিকার সম্পাদকদের দায়িত্ব নিয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সত্যতা যাচাই করার পরেই বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশ করা উচিত।
৮. “আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা তেমন নয়…” — কোন অবস্থার কথা বলা হয়েছে? এমন অবস্থার কারণে বিজ্ঞান লেখকদের কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
উত্তর:
অবস্থার বিবরণ:
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে ইউরোপ বা আমেরিকার মতো উন্নত পাশ্চাত্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক সচেতনতার তুলনা করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু এই মন্তব্যটি করেছেন। পাশ্চাত্য দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যালয় স্তর থেকেই প্রাথমিক বিজ্ঞানের একটি ন্যূনতম ধারণা তৈরি থাকে। ফলে সেখানে ‘পপুলার সায়েন্স’ (Popular Science) বা জনপ্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ লেখা ও বোঝা অত্যন্ত সহজসাধ্য। কিন্তু আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা তা নয়। এদেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ বা বয়স্ক পাঠকদের প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষার ভিত্তি অত্যন্ত নগণ্য বা প্রায় অনুপস্থিত।
লেখকদের সতর্কতা:
আমাদের দেশের এই প্রতিকূল বাস্তবতার কারণে যাঁরা সাধারণ মানুষের জন্য বাংলায় বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ লেখেন, তাঁদের বিশেষ দায়িত্ব ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে:
- প্রাবন্ধিক পরামর্শ দিয়েছেন, এদেশের পাঠকদের জন্য বিজ্ঞান লিখতে গেলে কোনো জটিল বৈজ্ঞানিক সত্যকে কোনো প্রকার ভূমিকা ছাড়া হঠাৎ উপস্থাপন করা যাবে না। বিষয়টিকে একদম প্রাথমিক বা গোড়ার স্তর থেকে সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে।
- লেখকদের সচেতন থাকতে হবে যেন তাঁদের ব্যবহৃত ভাষা অত্যন্ত সহজ, প্রাঞ্জল ও স্পষ্ট হয়।
লেখকরা যদি দেশের পাঠকদের এই সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় না রেখে কঠিন বা তাত্ত্বিক ভাষায় বিজ্ঞান রচনা করেন, তবে তাঁদের লেখা এদেশের জনসাধারণের কাছে কখনো জনপ্রিয় বা সর্বজনগ্রাহ্য হবে না।
৯. “ইংরেজির প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাত বর্জন করে প্রীতির সহিত মাতৃভাষার পদ্ধতি আয়ত্ত করতে হয়।” — উক্তিটির আলোকে বিজ্ঞান পাঠকদের মানসিকতার বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ থেকে সংগৃহীত এই উক্তিটিতে মূলত ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ বিজ্ঞান পাঠকদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ও তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
- পাঠকদের মানসিক সমস্যা:
দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠকরা হলো তারা, যারা ভালো ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষার পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমেই বিজ্ঞান পড়ে অভ্যস্ত হয়েছে। শৈশব থেকে ‘Oxygen’, ‘Nitrogen’, ‘Geometry’, ‘Cell’ প্রভৃতি ইংরেজি শব্দে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে তাদের মানসিকতায় ইংরেজি ভাষার প্রতি একধরনের অন্ধ আকর্ষণ ও সংস্কার তৈরি হয়। তারা ভুলবশত মনে করে যে, বিজ্ঞান কেবল ইংরেজি ভাষাতেই সঠিকভাবে ব্যক্ত করা সম্ভব। ফলে তারা যখন বাংলায় বিজ্ঞান পড়তে যায়, তখন ‘অম্লজান’, ‘জ্যামিতি’ বা ‘কোষ’-এর মতো সুপ্রযুক্ত বাংলা পারিভাষিক শব্দগুলোকে তাদের কাছে অস্বাভাবিক, কৃত্রিম ও শ্রুতিকটু মনে হয়। - প্রাবন্ধিকের নির্দেশিত পথ:
প্রাবন্ধিক মনে করেন, এই পাঠকদের মানসিক সংস্কার ও ইংরেজিপ্রীতি মাতৃভাষায় বিজ্ঞান অনুশীলনের অন্যতম বড়ো অন্তরায়। যদি এই শ্রেণির পাঠকরা সত্যিই বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করতে চায়, তবে তাদের মন থেকে সর্বপ্রথম ইংরেজির প্রতি অনাবশ্যক মোহ বা অন্ধ পক্ষপাত দূর করতে হবে। মাতৃভাষার শক্তি ও প্রকাশরীতির ওপর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা (প্রীতি) রেখে বাংলা ভাষার নিজস্ব গঠনপদ্ধতিকে আত্মস্থ করতে হবে। তবেই তাদের মানসিক অস্বস্তি কেটে যাবে এবং বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান পঠন-পাঠন সার্থক রূপ পাবে।
১০. রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের রচনাশৈলী ও ভাষারীতি সম্পর্কে তোমার অভিমত ব্যক্ত করো।
উত্তর:
রাজশেখর বসু (ছদ্মনাম পরশুরাম) রচিত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের একটি যুগান্তকারী ও আদর্শ প্রবন্ধের নিদর্শন। এই প্রবন্ধের রচনাশৈলী এবং ভাষারীতি একাধারে বিজ্ঞানসম্মত, যুক্তিপূর্ণ, সংযত ও অত্যন্ত প্রাঞ্জল।
- যুক্তিভিত্তিক ও শ্রেণিবদ্ধ উপস্থাপন:
প্রাবন্ধিক কোনো আবেগের বশে কথা না বলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাঁর বক্তব্য সাজিয়েছেন। প্রথমে পাঠকদের শ্রেণিবিভাগ, পরিভাষার ইতিহাস ও ক্রুটি, অনুবাদের সমস্যা, অলঙ্কারের সঠিক প্রয়োগ এবং শেষে তথ্যের প্রামাণিকতা—প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে পর পর উপস্থাপন করেছেন। - সহজ, স্পষ্ট ও অলঙ্কারহীন ভাষা:
প্রবন্ধের ভাষা কেমন হওয়া উচিত—লেখক নিজেই বলেছেন যে বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা হতে হবে সহজ ও অর্থবহ। তিনি নিজে সেই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলেছেন। সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণহীন, পরিচ্ছন্ন চলিত বাংলায় তিনি অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ব্যক্ত করেছেন। - প্রসঙ্গোপযোগী উপমার প্রয়োগ:
মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা বা ভাষার আড়ষ্টতা বোঝাতে প্রাবন্ধিক অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও গৃহস্থালি উপমা ব্যবহার করেছেন। যেমন—“যে লোক আজন্ম ইজার পরেছে তার পক্ষে হঠাৎ ধুতি পরা অভ্যাস করা একটু শক্ত”—এই ধরনের রসাত্মক ও জীবন্ত উপমা প্রবন্ধটির পাঠযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। - গঠনমূলক সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি:
লেখক কেবল সমস্যা তুলে ধরেই ক্ষান্ত হননি, তিনি সঠিক অনুবাদের উদাহরণ (যেমন—’নীলচিত্র’-এর জায়গায় ‘নকশা’) এবং সম্পাদকের দায়িত্বের কথা বলে ইতিবাচক সমাধান দিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, রাজশেখর বসুর গভীর বিজ্ঞানমনস্কতা, ভাষার ওপর অসাধারণ দখল এবং মাতৃভাষায় বিজ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়ার আন্তরিক প্রয়াসই এই প্রবন্ধের রচনাশৈলীকে এক অনন্য কালজয়ী মর্যাদা প্রদান করেছে।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটি কেবল বিজ্ঞান আলোচনার একটি নিবন্ধ নয়; বরং মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চাকে সহজ ও সাবলীল করার এক যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা। লেখকের নির্দেশিত পথ ধরে উপযুক্ত পরিভাষা তৈরি, আক্ষরিক অনুবাদের অভ্যাস ত্যাগ এবং প্রাঞ্জল ভাষাশৈলী গ্রহণ করলে ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ চর্চা আরও জনপ্রিয় ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকদের বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে এই কালজয়ী প্রবন্ধের প্রাসঙ্গিকতা আজও অপরিসীম।
