ভূমিকা:
ভারতবর্ষের মধ্যযুগীয় ইতিহাসে এমন কিছু শাসক এসেছেন যাদের প্রভাব শতাব্দী পেরিয়ে আজও অনুভব করা যায়। এই শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও পরাক্রমশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন শেরশাহ সুরি। যদিও তার শাসনকাল ছিল মাত্র পাঁচ বছর (১৫৪০–১৫২৪), কিন্তু এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি যে প্রশাসনিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করেছিলেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লিতে সুরি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করার পর, শেরশাহ কেবল একজন বিজয়ী বীর হিসেবেই থেমে থাকেননি; তিনি নিজেকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন। তার প্রবর্তিত শাসন ব্যবস্থা এতই নিখুঁত ও প্রভাবশালী ছিল যে পরবর্তীকালে মহান মুঘল সম্রাট আকবর এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরাও তার প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই তাদের সরকার পরিচালনা করেছিলেন। এই নিবন্ধে আমরা শেরশাহ এর জীবন, তার শাসন নীতি এবং ৭টি অনন্য বিপ্লবী সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
শেরশাহ এর প্রাথমিক জীবন ও উত্থান:
শেরশাহ এর মূল নাম ছিল ফরিদ খান। তিনি আনুমানিক ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে হরিয়ানার হিসার ফিরোজা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাসান খান সুরি ছিলেন বিহারের সাসারামের একজন আফগান জমিদারের অধীনস্থ জায়গিরদার। ফরিদের শৈশব খুব একটা সুখের ছিল না, কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশই তাকে আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ করে তোলে।
ফরিদ খান তার কর্মজীবন শুরু করেন বিহারের সুবেদার বাহার খান লোহানীর অধীনে। বলা হয়ে থাকে, শিকার করার সময় তিনি খালি হাতে একটি প্রকাণ্ড বাঘ হত্যা করেছিলেন। এই বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে বাহার খান তাকে শের খান উপাধিতে ভূষিত করেন। পরবর্তীতে তিনি তার অসাধারণ কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক দক্ষতার জোরে সমগ্র বিহারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।
মুঘলদের সাথে সংঘর্ষ ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা:
১৫৩০-এর দশকে মুঘল সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শেরশাহ তার শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
- চৌসার যুদ্ধ (১৫৩৯): শেরশাহ মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে চৌসার যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।
- কনৌজের যুদ্ধ (১৫৪০): কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধে হুমায়ুনকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে শেরশাহ দিল্লি ও আগ্রার সিংহাসন অধিকার করেন এবং ‘শেরশাহ শাহ সুলতান-ই-আদিল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
শেরশাহ এর ৭টি বিপ্লবী প্রশাসনিক সংস্কার:
শেরশাহ এর শাসনকালের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তার জনকল্যাণমুখী মানসিকতা এবং শাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনয়ন। নিচে তার প্রধান ৭টি সংস্কার বিশদে আলোচনা করা হলো:

১. ভূমি ও রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন:
শেরশাহ বুঝতে পেরেছিলেন যে একটি সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব নির্ভর করে কৃষকদের উন্নতির ওপর। তাই তিনি তৎকালীন ভূমি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটান।
- ভূমি জরিপ: তিনি সমগ্র সাম্রাজ্যের জমি মেপে তা উর্বরতার ভিত্তিতে তিন ভাগে (উত্তম, মধ্যম ও নিম্ন) বিভক্ত করেন।
- পাট্টা ও কবুলিয়ত: তিনি কৃষকদের সুরক্ষার জন্য পাট্টা (জমির মালিকানা ও করের বিবরণ সম্বলিত দলিল) এবং কবুলিয়ত (কৃষক কর্তৃক নির্দিষ্ট কর দেওয়ার অঙ্গীকারপত্র) প্রথার প্রচলন করেন।
- মধ্যস্বত্বভোগী লোপ: কৃষক ও সরকারের মাঝখানে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব তিনি অনেকাংশে দূর করেন।
আরো পড়ুন: মুঘল সাম্রাজ্য: (Mughal Empire).
২. মুদ্রা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও ‘রুপিয়া’ প্রবর্তন
মুদ্রা ব্যবস্থার ইতিহাসে শেরশাহ এর অবদান চিরস্মরণীয়। তার সময়কাল পর্যন্ত বাজারে বহু ধরনের ভেজাল ও নিম্নমানের মুদ্রা প্রচলিত ছিল।
- রুপিয়া প্রবর্তন: শেরশাহ ১৭৮ গ্রেইন ওজনের বিশুদ্ধ রৌপ্য মুদ্রা চালু করেন, যার নাম দেওয়া হয় রুপিয়া (Rupiya)। এই রুপিয়াই আধুনিক ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালের মুদ্রার মূল উৎস।
- তামার দাম (Dam): সাধারণ কেনাকাটার জন্য তিনি ‘দাম’ নামক তামার মুদ্রার প্রচলন করেন।
- মান নির্ধারণ: সোনা, রূপা ও তামার মুদ্রার ওজনের অনুপাত নির্দিষ্ট করে দেন, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনে।
৩. যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (GT Road)
সাম্রাজ্য রক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে শেরশাহ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি ঘটান।
- সড়ক-ই-আজম: তিনি সোনারগাঁ (বাংলাদেশ) থেকে শুরু করে কলকাতা, দিল্লি ও লাহোর হয়ে পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ পথ পুনর্নির্মাণ ও প্রসারিত করেন। একে বলা হতো সড়ক-ই-আজম, যা পরবর্তীতে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা GT Road নামে পরিচিত হয়।
- সরাইখানা নির্মাণ: রাস্তার দুধারে ছায়াদার বৃক্ষ রোপণ করা হয় এবং প্রতি ২ কোশ (প্রায় ৪ মাইল) অন্তর মোট ১,৭০০টি সরাইখানা (পান্থশালা) তৈরি করা হয়।
- ডাক ব্যবস্থা: সরাইখানাগুলোকে ডাক চৌকি হিসেবে ব্যবহার করে ঘোড়ার সাহায্যে দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের আধুনিক ডাক ব্যবস্থা চালু করেন শেরশাহ।
৪. কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো (সরকার ও পরগনা)
শেরশাহ তার বিশাল সাম্রাজ্যকে পরিচালনার সুবিধার্থে কয়েকটি স্তরে ভাগ করেছিলেন:
- সাম্রাজ্য (Empire): সর্বোচ্চ স্তর।
- সরকার (District): সাম্রাজ্যকে ৪৭টি ‘সরকার’ বা জেলায় বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি সরকারের দায়িত্বে থাকতেন শিকদার-ই-শিকদারান (আইন-শৃঙ্খলা) এবং মুন্সেফ-ই-মুন্সেফান (বিচার ও রাজস্ব)।
- পরগনা (Sub-district): প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল। পরগনার দায়িত্বে ছিলেন শিকদার, আমিল, ফোটাদার (কোষাধ্যক্ষ) ও কানুনগো।
- গ্রাম (Village): প্রশাসনিক ব্যবস্থার সর্বনিম্ন একক। স্বায়ত্তশাসনের দায়িত্ব ছিল পঞ্চায়েত ও গ্রামপ্রধানদের হাতে।
৫. সামরিক বাহিনীর সংস্কার (দাগ ও হুলিয়া প্রথা)
আলাউদ্দিন খিলজীর সামরিক সংস্কার নীতি অনুসরণ করে শেরশাহ সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত করেন।
- দাগ (Dag): সেনাবাহিনীতে নিম্নমানের ঘোড়া পরিবর্তন রোধ করতে ঘোড়ার গায়ে গরম লোহার ছাপ বা ‘দাগ’ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
- হুলিয়া (Huliya): ভুয়ো সৈন্য রোধে প্রতিটি সৈনিকের শারীরিক বিবরণ সম্বলিত রেজিস্টার বা ‘হুলিয়া’ নথিভুক্ত করা হতো।
- নগদ বেতন: শেরশাহ মধ্যস্থতাকারী সামন্তদের বাদ দিয়ে সৈন্যদের সরাসরি রাজকোষ থেকে নগদ বেতন দিতেন।
৬. সুনির্দিষ্ট বিচার ব্যবস্থা ও কঠোর আইন-শৃঙ্খলা
শেরশাহ এর শাসনে বিচার ছিল নিরপেক্ষ এবং কঠোর। রাজা বা প্রজা—সবার জন্যই একই আইন প্রযোজ্য ছিল।
- কাজী ও মুফতি: প্রধান কাজী সম্রাটের অধীনে বিচার কাজ পরিচালনা করতেন। স্থানীয় স্তরে কাজী ও মুফতিরা দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করতেন।
- স্থানীয় দায়িত্ববোধ নীতি: শেরশাহ এমন এক নীতি চালু করেন যেখানে কোনো গ্রামে চুরি বা ডাকাতি হলে সেখানকার গ্রাম প্রধান বা চৌধুরীকে অপরাধীকে ধরে দিতে হতো। অপরাধী না পাওয়া গেলে গ্রাম প্রধানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতো। ফলে অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
৭. বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি সহজীকরণ
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে শেরশাহ অভ্যন্তরীণ পথকর ও অযৌক্তিক শুল্ক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ তুলে দেন।
- দুই স্থানে শুল্ক: সমগ্র সাম্রাজ্যে মাত্র দুটি স্থানে পণ্য শুল্ক আদায় করা হতো—
- দেশে পণ্য প্রবেশের সময় বা সীমানায়।
- বিক্রয় কেন্দ্রে বা বাজারে।
- বণিকদের সুরক্ষা: সরাইখানা ও সড়কে বণিকদের নিরাপত্তার সুব্যবস্থা করার ফলে দেশি ও বিদেশি বাণিজ্যে ব্যাপক জোয়ার আসে।
আরো পড়ুন:সুলতানি যুগ (Delhi Sultanate)
শেরশাহ এর জীবনের শেষ সময় ও ঐতিহাসিক স্মৃতি
১৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দে বুন্দেলখণ্ডের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধের সময় একটি বারুদ বিস্ফোরণে শেরশাহ মারাত্মকভাবে আহত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দুর্গের পতনের সংবাদ শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন।
বিহারের সাসারাম শহরে কৃত্রিম হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত একটি চমৎকার অষ্টভুজাকৃতির সৌধে শেরশাহ এর সমাধিসৌধ অবস্থিত। এই স্থাপত্যশৈলী আফগান এবং ভারতীয় শিল্পরীতির এক অসাধারণ নিদর্শন।
শেরশাহ এর শাসন ব্যবস্থার ঐতিহাসিক গুরুত্ব
শেরশাহ মাত্র পাঁচ বছর শাসন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। যদি তিনি আরও কয়েক বছর বেঁচে থাকতেন, তবে ভারতবর্ষের ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। তবে তার প্রবর্তিত নীতিগুলো ধ্বংস হয়ে যায়নি।
- আকবরের ওপর প্রভাব: সম্রাট আকবর তার বিখ্যাত রাজস্ব মন্ত্রী রাজা টোডরমলকে শেরশাহ এর ভূমি ও রাজস্ব নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- আধুনিক ভারতের ভিত্তি: আজকের আধুনিক ডাক ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শাসনের বিভাজন এবং টাকার রূপ রেখা—সবকিছুর পেছনেই শেরশাহ এর চিন্তাভাবনার ছাপ রয়েছে।
Top 10 FAQ (সাধারণত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী)
১. শেরশাহ কে ছিলেন?
উত্তর: শেরশাহ সুরি ছিলেন উত্তর ভারতের সুরি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন দূরদর্শী শাসক। তিনি ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
২. শেরশাহ এর প্রকৃত নাম কি ছিল?
উত্তর: শেরশাহ এর প্রকৃত নাম ছিল ফরিদ খান। বাঘ মারার বীরত্ব প্রদর্শন করায় তাকে ‘শের খান’ এবং পরবর্তীতে সম্রাট হওয়ার পর ‘শেরশাহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
৩. শেরশাহ কত বছর শাসন করেছিলেন?
উত্তর: শেরশাহ মাত্র ৫ বছর (১৫৪০ থেকে ১৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত) ভারত শাসন করেছিলেন।
৪. ‘রুপিয়া’ মুদ্রা কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: শেরশাহ প্রথমে ১৭৮ গ্রেইন ওজনের বিশুদ্ধ রৌপ্য মুদ্রা হিসেবে ‘রুপিয়া’ প্রবর্তন করেন, যা বর্তমান ভারতীয় উপমহাদেশীয় মুদ্রার আদি রূপ।
৫. গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা GT Road কে নির্মাণ করেন?
উত্তর: শেরশাহ প্রাচীন পথ পুনর্নির্মাণ ও প্রসারিত করে ‘সড়ক-ই-আজম’ তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (GT Road) নামে পরিচিত হয়।
৬. পাট্টা ও কবুলিয়ত প্রথা কি?
উত্তর: পাট্টা হলো কৃষকদের জমির মালিকানা ও রাজস্বের বিবরণ দেওয়া সরকারি দলিল, এবং কবুলিয়ত হলো কৃষক কর্তৃক নির্দিষ্ট রাজস্ব দেওয়ার অঙ্গীকারপত্র। এই প্রথা শেরশাহ চালু করেন।
৭. শেরশাহ এর শাসনকালে সাম্রাজ্য কীভাবে বিভক্ত ছিল?
উত্তর: তার সাম্রাজ্য ৪৭টি ‘সরকার’ (জেলা) এবং প্রতিটি সরকার একাধিক ‘পরগনা’ (উপজেলা) এবং গ্রামে বিভক্ত ছিল।
৮. শেরশাহ কীভাবে মারা যান?
উত্তর: ১৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দে কালিঞ্জর দুর্গ জয়ের সময় বারুদাগারে আকস্মিক বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে শেরশাহ মৃত্যুবরণ করেন।
৯. শেরশাহ এর সমাধিসৌধ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: শেরশাহ এর সমাধিসৌধ বিহারের সাসারাম নামক স্থানে একটি কৃত্রিম হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত।
১০. দাগ ও হুলিয়া প্রথা শেরশাহ কেন চালু করেছিলেন?
উত্তর: সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি ও ভুয়ো সৈন্য রোধ করতে এবং গুণমান বজায় রাখতে শেরশাহ ঘোড়া চিহ্নিত করার জন্য ‘দাগ’ এবং সৈন্যদের শারীরিক বিবরণের জন্য ‘হুলিয়া’ প্রথা চালু করেন।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, শেরশাহ কেবল একজন সামরিক বিজেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রজা হিতৈষী ও সুশাসক। মধ্যযুগীয় ভারতে যেখানে শাসকগণ প্রায়শই নিজস্ব ভোগবিলাস বা যুদ্ধবিগ্রহে ব্যস্ত থাকতেন, সেখানে শেরশাহ তার প্রজাদের কল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সুশাসনের দিকে নজর দিয়েছিলেন। তার প্রবর্তিত প্রশাসনিক নীতি ও সংস্কারসমূহ পরবর্তীকালের মুঘল ও ব্রিটিশ শাসনের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। সংক্ষিপ্ত শাসনকাল সত্ত্বেও ভারতীয় প্রশাসনিক ইতিহাসে শেরশাহ এর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
