Class 8 History | অতীত ও ঐতিহ্য | All Chapters Notes & Solutions (2026).

Class 8 History | অতীত ও ঐতিহ্য | All Chapters Notes & Solutions (2026).

Table of Contents

ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইতিহাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নম্বর তোলার উপযোগী বিষয়। কিন্তু সঠিক পাঠ্যপুস্তক বিশ্লেষণের অভাব এবং যথাযথ উত্তরের অভাবে অনেকেই ইতিহাসে আশানুরূপ নম্বর পায় না। WBBSE-এর অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস (Class 8 History) পাঠ্যবই ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ কেবল একটি সাধারণ ইতিহাস বই নয়; এটি আধুনিক ভারত, ঔপনিবেশিক শাসন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার এক অনবদ্য ঐতিহাসিক রূপরেখা।

তোমরা যারা স্কুলের প্রথম ইউনিট টেস্ট (1st Unit Test), দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট (2nd Unit Test) কিংবা ফাইনাল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ, তাদের সুবিধার্থে Class 8 History পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের মূল ভাব, সংক্ষেপ এবং ‘ভেবে দেখো খুঁজে দেখো’ অংশের সম্পূর্ণ অনুশীলনী সমাধান নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। এই গাইডটি অনুসরণ করলে ইতিহাস বিষয়ে তোমাদের ভয় দূর হবে এবং পরীক্ষায় ১০০% নম্বর পেতে সাহায্য করবে।

কেন পড়বে এই সম্পূর্ণ সমাধান?

স্কুলের প্রথম ইউনিট টেস্ট, দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট কিংবা বার্ষিক পরীক্ষা—যেকোনো পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি প্রশ্ন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়া জরুরি। বিশেষ করে ‘ভেবে দেখো খুঁজে দেখো’ অংশের প্রশ্নগুলির মানসম্মত উত্তর ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে এবং বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করতে সাহায্য করে। তোমরা নিচে দেওয়া নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করে তোমাদের প্রয়োজনীয় অধ্যায়ের নোটস ও প্রশ্নোত্তর খুব সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারো।

Class 8 History  অতীত ও ঐতিহ্য

Class 8 History: ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ পাঠ্যবইয়ের অধ্যায়ভিত্তিক পরিচিতি (Overview)

অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস (Class 8 History) সিলেবাসে মোট ৯টি অধ্যায় রয়েছে। প্রতিটি অধ্যায় ভারতের ইতিহাসের একেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে প্রতিনিধিত্ব করে। এক নজরে দেখে নাও প্রতিটি অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু:

অধ্যায়অধ্যায়ের নামমূল আলোচ্য বিষয়
প্রথম অধ্যায়ইতিহাসের ধারণাইতিহাস পাঠের গুরুত্ব, আধুনিক ইতিহাস চর্চার উপাদান ও ইতিহাস চেতনার বিকাশ।
দ্বিতীয় অধ্যায়আঞ্চলিক শক্তির উত্থানমুঘল সাম্রাজ্যের পতন, বাংলা, হায়দরাবাদ ও অযোধ্যায় আঞ্চলিক শক্তির উত্থান।
তৃতীয় অধ্যায়ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল, আমলাতন্ত্র, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা।
চতুর্থ অধ্যায়ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্রভূমিরাজস্ব নীতি, কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ, অবশিল্পায়ন ও সম্পদের নির্গমন (Drain of Wealth)।
পঞ্চম অধ্যায়ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়াপাশ্চাত্য শিক্ষা, নবজাগরণ, সমাজ সংস্কার, উপজাতি বিদ্রোহ ও ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহ।
ষষ্ঠ অধ্যায়জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশসভা-সমিতির যুগ, জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা, নরমপন্থী ও চরমপন্থী পর্ব, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন।
সপ্তম অধ্যায়ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তনগান্ধীজির গণআন্দোলন (অসহযোগ, আইন অমান্য, ভারত ছাড়ো), সশস্ত্র বিপ্লব ও আজাদ হিন্দ ফৌজ।
অষ্টম অধ্যায়সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগব্রিটিশদের ভাগ করো শাসন করো নীতি, দ্বিজাতি তত্ত্ব, ১৯৪৭-এর দেশভাগ ও শরণার্থী সমস্যা।
নবম অধ্যায়ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকারসংবিধান গঠন, প্রস্তাবনা, মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য, সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা।

Class 8 History পাঠ্যবই সম্পূর্ণ সমাধান WBBSE

Class 8 History অধ্যায়ভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও সংক্ষিপ্ত নোটস

১. প্রথম অধ্যায়: ইতিহাসের ধারণা

  • মূল ভাব: আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিহাস পাঠের প্রাসঙ্গিকতা ও নতুন ইতিহাস চর্চার ধারা।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য: ইতিহাস কেবল রাজা-বাদশাহদের যুদ্ধ বা রাজনৈতিক জয়-পরাজয়ের গল্প নয়। ইতিহাস হলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির সামগ্রিক পরিবর্ধন। আধুনিক ইতিহাসে ম্যাপ, প্রাচীন চিঠি, সরকারি নথি, সাহিত্য এবং আলোকচিত্র (Photo) গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২. দ্বিতীয় অধ্যায়: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

  • মূল ভাব: ১৭০৭ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতা এবং বিভিন্ন স্বাধীন/আধা-স্বাধীন আঞ্চলিক রাজ্যের বিকাশ।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • বাংলা: মুর্শিদকুলি খানের নেতৃত্বে সুবা বাংলায় স্বায়ত্বশাসন শুরু হয়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে ভারতে ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
    • হায়দরাবাদ: ১৭২৪ সালে মীর কমরউদ্দিন খান দিকি (নিজাম-উল-মুলক) হায়দরাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
    • অযোধ্যা: ১৭২২ সালে সাদাত খান (বুরহান-উল-মুলক) অযোধ্যায় নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

৩. তৃতীয় অধ্যায়: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা

  • মূল ভাব: একটি সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতীয় উপমহাদেশে সার্বভৌম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় রূপান্তর।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • কোম্পানির আইনকানুন: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট এবং ১৭৮৪ সালের পিটের ভারত শাসন আইন (Pitt’s India Act)-এর মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ সরকারের নজরদারি বাড়ে।
    • প্রশাসনিক কাঠামো: লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত সিভিল সার্ভিস (আমলাতন্ত্র), আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা এবং কোর্ট-কাচারি বা বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন সুসংহত হয়।
    • সামরিক শক্তি: দেশীয় সিপাহিদের নিয়ে শক্তিশালী ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলা হয়।

৪. চতুর্থ অধ্যায়: ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র

  • মূল ভাব: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষণের ফলে ভারতের সনাতন অর্থনীতির পতন ও চরম আর্থিক সংকট।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • ভূমিরাজস্ব নীতি: লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বাংলায় স্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন। এছাড়া দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে রায়তওয়ারি এবং উত্তর ভারতে মহলওয়ারি বন্দোবস্ত চালু হয়।
    • কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ: খাদ্যশস্যের বদলে জোর করে চা, নীল, পাট ও আফিমের মতো অর্থকরী ফসল চাষ করানো হতে থাকে।
    • অবশিল্পায়ন (De-industrialization): বিলেতের শিল্পবিপ্লবের সস্তা কাপড়ের সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে ভারতের ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও কুটির শিল্প ধ্বংস হয়।
    • সম্পদের নির্গমন: দাদাভাই নওরোজীর মতে, ভারতের সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্রিটেনে পাচার হয়ে যায়, যাকে ‘Drain of Wealth’ বা সম্পদের নির্গমন বলা হয়।

৫. পঞ্চম অধ্যায়: ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া: সহযোগিতা ও বিদ্রোহ

  • মূল ভাব: ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতীয় সমাজের দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া—একদিকে সংস্কার ও সহযোগিতা, অন্যদিকে সশস্ত্র সশস্ত্র সংঘাত ও বিদ্রোহ।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • সমাজ ও শিক্ষা সংস্কার: রাজা রামমোহন রায় (সতীদাহ প্রথা রদ), ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (বিধবা বিবাহ প্রবর্তন), হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন)।
    • কৃষক ও উপজাতি বিদ্রোহ: সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬), নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯)। সিধু, কানু, রফিক মণ্ডল প্রমুখ নেতারা এই বিদ্রোহ পরিচালনা করেন।
    • ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ: মঙ্গল পান্ডে, লক্ষ্মীবাই, নানা সাহেব, তাঁতিয়া তোপীর নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। এর ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ মুকুট (রাণী ভিক্টোরিয়া)-এর হাতে যায়।

৬. ষষ্ঠ অধ্যায়: জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ

  • মূল ভাব: সংগঠিত রাজনীতি ও আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সূচনাপর্ব।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • সভা-সমিতির যুগ: ভারত সভা (১৮৭৬), পুনা সার্বজনিক সভা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হয়।
    • জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫): অ্যালাম অক্টোভিয়ান হিউমের উদ্যোগে মুম্বাইয়ে উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে।
    • নরমপন্থী ও চরমপন্থী: দাদাভাই নওরোজী, গোপালকৃষ্ণ গোখলে ছিলেন নরমপন্থী; অন্যদিকে বাল গঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায়, বিপিনচন্দ্র পাল (লাল-বাল-পাল) ছিলেন চরমপন্থী।
    • বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫): লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগ করলে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়।

৭. সপ্তম অধ্যায়: ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন

  • মূল ভাব: গণআন্দোলন এবং জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • গান্ধীবাদী যুগ: মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে সত্যাগ্রহ, অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০) এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)।
    • সশস্ত্র বিপ্লববাদ: ভগৎ সিং, সূর্য সেন (চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন), বিনয়-বাদল-দীনেশ।
    • নেতাজি ও INA: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ (Free India Legion / INA) গঠন ও ভারতের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা।

৮. অষ্টম অধ্যায়: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ

  • মূল ভাব: ঔপনিবেশিক নীতির শিকার হয়ে ধর্মীয় বিভাজন এবং ভারত-পাকিস্তান বন্টন।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • ভাগ করো ও শাসন করো (Divide and Rule): ইংরেজ সরকার হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করে (১৯০৯-এর মর্লে-মিন্টো সংস্কার)।
    • মুসলিম লীগ ও দ্বিজাতি তত্ত্ব: ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ (Two-Nation Theory)।
    • দেশভাগ (১৯৪৭): ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়, কিন্তু মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান দুটি পৃথক রাষ্ট্র জন্ম নেয়, যার ফলে গৃহহীন হন লক্ষ লক্ষ শরণার্থী।

৯. নবম অধ্যায়: ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার

  • মূল ভাব: স্বাধীন ভারতের শাসনতান্ত্রিক ভিত্তি ও নাগরিক পরিচিতি।
  • সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    • সংবিধান রচনা: ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে খসড়া কমিটি ভারতীয় সংবিধান রচনা করে। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি সংবিধান কার্যকর হয়।
    • প্রস্তাবনা: ভারতকে একটি ‘সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
    • অধিকার ও কর্তব্য: সংবিধানে ৬টি মৌলিক অধিকার এবং মৌলিক কর্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

Class 8 History পরীক্ষার প্রস্তুতি: ‘ভেবে দেখো খুঁজে দেখো’ অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর (Sample Exercise Q&A)

প্রশ্ন ১: অবশিল্পায়ন কাকে বলে?

উত্তর: ব্রিটিশ শাসনকালে বিলেতের শিল্পবিপ্লবের ফলে উৎপাদিত সস্তা ও উন্নতমানের সুতি বস্ত্র ভারতে অবাধে আমদানি করা হতে থাকে। এর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে ভারতের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় তাঁত ও কুটির শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ভারতের হস্তশিল্পের এই অবক্ষয় বা পতনকে ইতিহাসে ‘অবশিল্পায়ন’ (De-industrialization) বলা হয়।

প্রশ্ন ২: স্থায়ী বন্দোবস্ত কে, কবে চালু করেন? এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: ১৭৯৩ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলায় স্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।

উদ্দেশ্য: নির্দিষ্ট দিনে সূর্য ডোবার আগে সূর্যাস্ত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমিরাজস্ব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদান করা। এর ফলে ব্রিটিশ সরকারের নির্দিষ্ট রাজস্ব আয় সুনিশ্চিত হয় এবং জমিদারেরা জমির স্থায়ী মালিকানা লাভ করে।

প্রশ্ন ৩: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে কি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা যায়?

উত্তর: বহু ঐতিহাসিক ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ এই প্রথম সিপাহি, কৃষক, উপজাতি এবং দেশীয় নৃপতিরা একত্রিত হয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে ভারত থেকে উৎখাত করার জন্য সর্বাত্মক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। যদিও এর মধ্যে সর্বভারতীয় সর্বজনীন রূপের অভাব ছিল, তবুও এটি পরবর্তী জাতীয় আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

WBBSE Class 8 History পরীক্ষার প্রস্তুতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১. টেক্সট বই খুঁটিয়ে পড়া: WBBSE-এর পরীক্ষার প্রশ্নে শর্ট কোশ্চেন (MCQ ও VSA) প্রচুর আসে। তাই ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ বইটির প্রতিটি অধ্যায় ভালো করে রিডিং পড়া উচিত।

২. সাল ও তারিখের তালিকা তৈরি: ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেমন—পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭), বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫), ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)-এর একটি চার্ট বা টাইমলাইন তৈরি করে পড়ার ঘরে টানিয়ে রাখো।

৩. পয়েন্ট করে উত্তর লেখা: পরীক্ষায় বড় প্রশ্নের (৪ বা ৮ নম্বরের) উত্তর লেখার সময় ভূমিকা, মূল উত্তর পয়েন্ট আকারে (Bullet Points) এবং শেষে একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহার বা মূল্যায়ন অবশ্যই লিখবে।

৪. নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়া: সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ করার পর নিয়মিত অধ্যায়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং বিগত বছরের প্রশ্নপত্র (Previous Year Question Papers) অনুশীলন করা জরুরি।

উপসংহার:

আশা করি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের Class 8 History বিষয়টির এই অধ্যায়ভিত্তিক গাইডলাইন ও প্রশ্নোত্তর আলোচনা তোমাদের পড়াশোনাকে অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক করে তুলবে। ইতিহাস কেবল বিগত দিনের তারিখ ও সাল মনে রাখার বিষয় নয়, বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গঠনের এক অন্যতম মাধ্যম।

তোমাদের যেকোনো অধ্যায়ের কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা খটকা থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারো। নিয়মিত নোটস, অধ্যায়ভিত্তিক সমাধান ও মক টেস্টের জন্য আমাদের ওয়েবসাইট www.gkpathya.in নিয়মিত ভিজিট করো এবং তোমার সহপাঠী বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না। তোমাদের শুভকামনা জানাই!

আরো পড়ুন:

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *