মালভূমি (Plateau): 9 Remarkable Characteristics and an Easy Guide to Understanding Plateaus.

মালভূমি (Plateau): 9 Remarkable Characteristics and an Easy Guide to Understanding Plateaus.

Table of Contents

ভূমিকা:

পৃথিবীর উপরিভাগ এক বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক ক্যানভাস। কোথাও আকাশছোঁয়া পর্বতমালা, কোথাও দিগন্তবিস্তৃত সমভূমি, আবার কোথাও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত খাড়া ঢালযুক্ত বিশাল সমতল ভূখণ্ড। প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টির মধ্যে মালভূমি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভূমিরূপ। এটি কেবল ভূগোলের পাঠ্যপুস্তকের কোনো নিছক সংজ্ঞা নয়, বরং পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস, রূপান্তর এবং মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশের এক জীবন্ত দলিল।

সাধারণ পাহাড় বা পর্বতের মতো এর কোনো সরু চুড়া বা খাড়া শৃঙ্গ থাকে না; বরং এর উপরিভাগ বিস্তৃত এবং টেবিলের মতো চ্যাপ্টা বা ঢেউখেলানো হওয়ায় ভৌগোলিক পরিভাষায় একে “টেবিলল্যান্ড” (Tableland) বলা হয়। কোটি কোটি বছর ধরে ভূত্বকের অভ্যন্তরীণ আলোড়ন, মহাদেশীয় পাতগুলোর ধাক্কা কিংবা অগ্নুৎপাতের ফলে নির্গত লাভার সঞ্চয়ের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের উৎপত্তি ঘটেছে। ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশগত ভারসাম্যের পাশাপাশি মানবজাতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব অপরিসীম। বিশ্বের অধিকাংশ শিল্পভিত্তিক খনিজ সম্পদের প্রধান উৎসই হলো এই অঞ্চলগুলো। তাই ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও গুরুত্ব অনুধাবনে এটি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

মালভূমি

আরো পড়ুন: ভূমিরূপ: (Landform) ভূমিরূপের ৩টি প্রধান ধরন ও এদের সৃষ্টির চমৎকার রহস্য:

মালভূমি কাকে বলে? (Definition of Plateau)

সাধারণ ভাষায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৩০০ মিটার (১,০০০ ফুট) বা তার বেশি উঁচুতে অবস্থিত, চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত এবং উপরিভাগ ঢেউখেলানো বা প্রায় সমতল বিস্তৃত ভূখণ্ডকে মালভূমি বলে।

ভৌগোলিক পরিভাষায়, ভূতাত্ত্বিক আলোড়ন, পলি সঞ্চয় কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্নানোৎপাতের ফলে ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকা যখন আশেপাশের অঞ্চল থেকে উঁচুতে উঠে আসে এবং যার উপরিভাগ টেবিলের মতো চ্যাপ্টা বা সমতল রূপ নেয়, তাকেই এই বিশেষ ভূমিরূপ বলা হয়।

মালভূমিকে “টেবিলল্যান্ড” (Tableland) বলা হয় কেন?

আপনি যদি একটি সাধারণ খাবার টেবিলের কথা চিন্তা করেন, তবে দেখবেন টেবিলের পায়াগুলো খাড়া এবং এর ওপরের অংশটি সমতল। ঠিক একইভাবে, এই ধরনের ভূমি রূপের চারপাশের ঢাল অত্যন্ত খাড়া হয় এবং এর উপরিভাগ তুলনামূলকভাবে সমতল বা হালকা ঢেউখেলানো থাকে। এই আকৃতিগত সাদৃশ্যের কারণেই বিশ্বজুড়ে এটিকে ভৌগোলিক পরিভাষায় “টেবিলল্যান্ড” বা “Tableland” নামে অভিহিত করা হয়।

মালভূমির বৈশিষ্ট্য:

এই ভূমিরূপকে অন্যান্য ভূমিরূপ (যেমন: পর্বত বা সমভূমি) থেকে আলাদা করার জন্য প্রধান ৯টি বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো:

  • উচ্চতা: এটি সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের বেশি উঁচু হয়ে থাকে। তবে অঞ্চলভেদে এর উচ্চতা কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
  • উপরিভাগের আকৃতি: পর্বতের মতো এর কোনো সরু চূড়া বা শিং থাকে না। এর উপরিভাগ বিস্তৃত, কিছুটা সমতল বা মৃদু ঢেউখেলানো হয়।
  • খাড়া প্রান্ত বা ঢাল: এর চারপাশের প্রান্তভাগ অত্যন্ত খাড়া ঢালযুক্ত হয়, যা একে আশেপাশের নিম্নাঞ্চল থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক করে।
  • টেবিলল্যান্ড গঠন: এর আকৃতি দেখতে হুবহু একটি বড় টেবিলের মতো।
  • খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার: বিশ্বের বেশিরভাগ খনিজ সম্পদ (যেমন: লোহা, কয়লা, তামা, সোনা ইত্যাদি) এই অঞ্চলে পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের ছোটনাগপুর অঞ্চল খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
  • নদী উপত্যকা ও জলপ্রপাত: এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় শিলাস্তরের কঠিন ও কোমলতার কারণে অসংখ্য জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
  • জলবায়ু: ভৌগোলিক উচ্চতার কারণে একই অক্ষাংশে অবস্থিত সমভূমির তুলনায় এখানকার জলবায়ু কিছুটা শীতল ও মনোরম হয়।
  • ক্ষয়প্রাপ্তি: প্রাচীন শিলা দিয়ে গঠিত হওয়ায় এগুলো যুগের পর যুগ ধরে নদী, বাতাস ও বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষয়ীভূত হতে থাকে।
  • বিক্ষিপ্ত বসতি: পাহাড়ি অঞ্চলের চেয়ে এখানে বসবাস সহজ হলেও সমভূমির মতো ঘনবসতি গড়ে ওঠে না।

মালভূমির সহজ শ্রেণীবিভাগ

উৎপত্তি, গঠনপ্রক্রিয়া এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মালভূমিকে প্রধানত ৫টি বিভাগে ভাগ করা হয়। নিচে প্রতিটি বিভাগের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau)

ভূত্বকের পাত সঞ্চালনের ফলে উঁচু ভঙ্গিল পর্বতমালা গড়ে ওঠার সময় মাঝের শিলাস্তর উঁচুতে উঠে এই প্রকার মালভূমি তৈরি হয়। এগুলো চারদিক থেকেই উঁচু পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা থাকে।

  • বৈশিষ্ট্য: এগুলো অত্যন্ত উঁচু ও বিস্তীর্ণ হয়।
  • উদাহরণ:
    • তিব্বত মালভূমি: এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ (গড় উচ্চতা ৪,০০০–৫,০০০ মিটার) ও বৃহত্তম মালভূমি। একে “পৃথিবীর ছাদ” বলা হয়।
    • বলিভিয়া মালভূমি: দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা দ্বারা পরিবেষ্টিত।

২. মহাদেশীয় মালভূমি (Continental Plateau)

কোনো পর্বতের সাথে যুক্ত না থেকে বিশাল মহাদেশীয় অঞ্চল জুড়ে যখন ভূখণ্ড চারপাশের নিচু ভূমির তুলনায় উঁচুতে অবস্থান করে, তখন তাকে মহাদেশীয় মালভূমি বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: এগুলো প্রাচীন কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরি শিলা দ্বারা গঠিত এবং অত্যন্ত বিস্তৃত হয়।
  • উদাহরণ:
    • ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।
    • গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফাবৃত মালভূমি।

৩. লাভা গঠিত বা আগ্নেয় মালভূমি (Volcanic Plateau)

ভূগর্ভস্থ গলিত লাভা যখন ভূত্বকের ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে (বিদার অগ্ন্যুত্পাত) কোনো বিশাল এলাকা জুড়ে স্তরে স্তরে জমা হয়ে জমাট বাঁধে, তখন লাভা গঠিত মালভূমি তৈরি হয়।

  • বৈশিষ্ট্য: সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নেমে আসা ভূমিরূপ দেখা যায় (যাকে ব্যাসল্ট ট্র্যাপ বলা হয়)।
  • উদাহরণ:
    • ভারতের দাক্ষিণাত্যের ডেকান ট্র্যাপ অঞ্চল।
    • উত্তর আমেরিকার কলাম্বিয়া-স্নেক নদী মালভূমি।

৪. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateau)

প্রাচীন ভূখণ্ড বা সমভূমি যখন হাজার হাজার বছর ধরে নদী, বায়ু, বৃষ্টিপাত ও হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ক্রমাগত ক্ষয়ীভূত হয়, তখন গভীর নদী উপত্যকাগুলো মূল ভূখণ্ডকে ছোট ছোট খণ্ডে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

  • বৈশিষ্ট্য: উপরিভাগ সমতল হলেও নদী উপত্যকাগুলো অত্যন্ত গভীর ও খাড়া হয়।
  • উদাহরণ:
    • ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি।
    • যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের উচ্চভূমি।

৫. পর্বত পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau)

উঁচু পর্বতের একদম নিচু অংশে বা পাদদেশে তৈরি হওয়া ভূখণ্ডকে পর্বত পাদদেশীয় মালভূমি বলে। এর একপাশে উঁচু পর্বত এবং অন্য পাশে নিচু সমভূমি বা সমুদ্র অবস্থান করে।

  • বৈশিষ্ট্য: পর্বত থেকে নেমে আসা নদী ও হিমবাহের বয়ে আনা পলি ও শিলাখণ্ড পর্বতের পাদদেশে জমে এর সৃষ্টি হয়।
  • উদাহরণ:
    • দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া মালভূমি (আন্দিজ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত)।
    • উত্তর আমেরিকার অ্যাপালেশিয়ান পাদদেশীয় মালভূমি।

এক নজরে প্রধান পার্থক্য (তুলনা)

প্রকারভেদসৃষ্টির মূল কারণপ্রধান বৈশিষ্ট্যবিখ্যাত উদাহরণ
পর্বতবেষ্টিতপাতের ধাক্কায় পর্বত সৃষ্টির সময় মাঝের অংশ উঠে গিয়েচারদিকে উঁচু পর্বত দিয়ে ঘেরাতিব্বত মালভূমি
মহাদেশীয়টেকটোনিক আলোড়নে বিশাল ভূখণ্ড উঁচুতে উঠেপ্রাচীন শিলা দিয়ে গঠিত বিস্তৃত এলাকাগ্রিনল্যান্ড ও দাক্ষিণাত্য
লাভা গঠিতভূগর্ভের লাভা ফাটল দিয়ে বের হয়ে জমেস্তরীভূত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিতডেকান ট্র্যাপ
ব্যবচ্ছিন্ননদী ও বাতাসের ক্ষয়কার্যের ফলে কাটাকাটি হয়েগভীর নদী উপত্যকা দ্বারা খণ্ডিতছোটনাগপুর মালভূমি
পর্বত পাদদেশীয়পর্বতের নিচু অংশে পলি ও শিলা জমেএকপাশে পর্বত, অন্যপাশে সমভূমি/সমুদ্রপাতাগোনিয়া

দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব:

মানবসভ্যতা ও অর্থনীতির বিকাশে এই ভৌগোলিক ভূখণ্ডের অবদান অপরিসীম:

  1. খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য: বিশ্বের অধিকাংশ খনি এগুলোতেই অবস্থিত। শিল্পায়নের মূল কাঁচামাল এখান থেকেই সংগৃহীত হয়।
  2. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: নদীগুলো খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসার সময় প্রচুর জলপ্রপাত সৃষ্টি করে, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
  3. পশুপালন: কিছু কিছু শুষ্ক অঞ্চলে প্রচুর তৃণভূমি থাকে, যা পশুপালনের জন্য উপযোগী।
  4. পর্যটন শিল্প: মনোরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক জলপ্রপাত এবং সুন্দর দৃশ্যের কারণে এই অঞ্চলগুলো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

আরো পড়ুন: ভারতের ভূপ্রকৃতি:

উপসংহার

সামগ্রিক আলোচনায় স্পষ্ট যে, মালভূমি কেবল পৃথিবীর একটি শুষ্ক বা উঁচু ভূমিরূপ নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবজীবনের এক অন্যতম চালিকাশক্তি। শিল্পায়নের জন্য আবশ্যক লোহা, কয়লা, তামা কিংবা সোনার মতো অমূল্য খনিজ সম্পদ সঞ্চিত রাখা থেকে শুরু করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা পর্যন্ত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর অবদান অনস্বীকার্য।

প্রকৃতির নদী, বাতাস ও হিমবাহের মতো ক্ষয়কারী শক্তিগুলো হাজার হাজার বছর ধরে একে নতুন রূপ দিয়ে চলেছে। তিব্বতের সুবিশাল উচ্চতা থেকে শুরু করে ভারতের ছোটনাগপুরের সমৃদ্ধ খনিজ ভাণ্ডার—প্রতিটি অঞ্চলেরই রয়েছে নিজস্ব প্রাকৃতিক স্বকীয়তা। জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণের এই যুগে ভূমিরূপটির স্থায়িত্ব ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ভূগোলের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক ভূখণ্ড ও এর সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে টেকসই পরিকল্পনার দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

১. মালভূমি কাকে বলে?

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৩০০ মিটার বা তার বেশি উঁচুতে অবস্থিত, চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত এবং উপরিভাগ বিস্তৃত সমতল বা মৃদু ঢেউখেলানো ভূখণ্ডকে মালভূমি বলে।

২. মালভূমিকে ‘টেবিলল্যান্ড’ বলা হয় কেন?

খাবার টেবিলের মতো এর চারপাশের প্রান্তভাগ অত্যন্ত খাড়া এবং উপরিভাগ চ্যাপ্টা ও সমতল হওয়ায় একে ভৌগোলিক পরিভাষায় “টেবিলল্যান্ড” (Tableland) বলা হয়।

৩. বিশ্বের সর্বোচ্চ মালভূমি কোনটি?

বিশ্বের সর্বোচ্চ মালভূমি হলো তিব্বত মালভূমি। এর গড় উচ্চতা প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মিটার।

৪. “পৃথিবীর ছাদ” কাকে এবং কেন বলা হয়?

তিব্বত মালভূমিকে “পৃথিবীর ছাদ” বলা হয়। অত্যন্ত বেশি উচ্চতা ও বিশাল আয়তনের কারণে একে এই নামে ডাকা হয়।

৫. মালভূমি ও পর্বতের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

পর্বতের চূড়া বা শৃঙ্গ অত্যন্ত সরু ও তীক্ষ্ণ হয়, কিন্তু মালভূমির কোনো সরু শৃঙ্গ থাকে না; এর উপরিভাগ টেবিলের মতো চ্যাপ্টা বা সমতল হয়।

৬. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কাকে বলে?

যে মালভূমি চারদিক থেকেই উঁচু পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা থাকে, তাকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে (যেমন: তিব্বত ও বলিভিয়া মালভূমি)।

৭. লাভা গঠিত বা আগ্নেয় মালভূমি কীভাবে তৈরি হয়?

আগ্নেয়গিরির অগ্নানোৎপাত বা ভূত্বকের ফাটল দিয়ে গলিত লাভা বাইরে বেরিয়ে এসে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে জমাট বেঁধে এই মালভূমি তৈরি করে (যেমন: ভারতের ডেকান ট্র্যাপ)।

৮. ‘ডেকান ট্র্যাপ’ বা ‘ট্র্যাপ’ শব্দের অর্থ কী?

সুইডিশ শব্দ ‘Trapp’ বা ‘Trap’ অর্থ সিঁড়ি। ভারতের দাক্ষিণাত্যের লাভা গঠিত মালভূমির ক্ষয়ীভূত অংশগুলো দেখতে ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়ির মতো হওয়ায় একে ডেকান ট্র্যাপ বলা হয়।

৯. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে?

প্রাচীন মালভূমি যখন হাজার হাজার বছর ধরে নদী ও বৃষ্টিপাতের ক্ষয়কার্যের ফলে গভীর নদী উপত্যকা দ্বারা ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়, তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে (যেমন: ছোটনাগপুর মালভূমি)।

১০. ভারতের খনিজ ভাণ্ডার কাকে বলা হয়?

ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমিকে ভারতের খনিজ ভাণ্ডার বলা হয়, কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণে লোহা, কয়লা, তামা, অভ্র ইত্যাদি পাওয়া যায়।

১১. পর্বত পাদদেশীয় মালভূমি বলতে কী বোঝায়?

উঁচু পর্বতের একদম নিচু অংশে বা পাদদেশে গঠিত মালভূমিকে পর্বত পাদদেশীয় মালভূমি বলে (যেমন: দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া মালভূমি)।

১২. মহাদেশীয় মালভূমি কোন শিলা দ্বারা গঠিত?

মহাদেশীয় মালভূমি মূলত অত্যন্ত প্রাচীন ও কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরি শিলা দিয়ে গঠিত।

১৩. মালভূমিতে জলপ্রপাত বেশি দেখা যায় কেন?

মালভূমির খাড়া ঢাল এবং নদীপথের কঠিন ও নরম শিলাস্তরের পার্থক্যের কারণে নদী নিচে নেমে আসার সময় প্রচুর জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।

১৪. ভারতের বৃহত্তম মালভূমি কোনটি?

ভারতের বৃহত্তম মালভূমি হলো দাক্ষিণাত্যের মালভূমি (Decan Plateau)।

১৫. মালভূমি অঞ্চলে জনবসতি কম হয় কেন?

বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, পাথুরে মাটি, অনুর্বর জমি এবং যাতায়াত ব্যবস্থার কাঠিন্যের কারণে সমভূমির তুলনায় মালভূমিতে জনবসতি কম থাকে।

১৬. মালভূমির সাধারণ উচ্চতা কত হয়ে থাকে?

সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটার (১,০০০ ফুট) থেকে শুরু করে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

১৭. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির একটি বিখ্যাত উদাহরণ দাও।

ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি এবং যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের উচ্চভূমি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির সেরা উদাহরণ।

১৮. অর্থনৈতিক দিক থেকে মালভূমির গুরুত্ব কী?

মালভূমি অঞ্চল অত্যন্ত সমৃদ্ধ খনিজ ভাণ্ডার সরবরাহ করে এবং এখানকার জলপ্রপাত থেকে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

১৯. মালভূমি অঞ্চলের জলবায়ু কেমন হয়?

উচ্চতা বেশি হওয়ার কারণে একই অক্ষাংশে অবস্থিত সমভূমির তুলনায় মালভূমির জলবায়ু তুলনামূলক শীতল, আরামদায়ক ও মনোরম হয়।

২০. ভারতের একটি শীতল মরুভূমি মালভূমির নাম কী?

ভারতের লদাখ হলো একটি বিখ্যাত শীতল মরুভূমি মালভূমি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *