Class 8 History Chapter 7 (অষ্টম শ্রেনী ইতিহাস | সপ্তম অধ্যায়) ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন:
ভূমিকা:
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কেবল বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার লড়াই নয়, বরং তা ছিল ভারতীয় জনমানের রাজনৈতিক চেতনা ও আদর্শগত বিবর্তনের এক গৌরবোজ্জ্বল কাহিনী। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস Class 8 History Chapter 7 পাঠ্যবইয়ের সপ্তম অধ্যায় ‘ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন’-এ ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সময়পর্ব তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে উদ্ভূত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, ব্রিটিশ সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং পরবর্তীতে রাওলাট আইনের মতো কালো কানুন ভারতবাসীকে চরম অসন্তোষের দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতীয় জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চে আগমন ঘটে মহাত্মা গান্ধীর এবং তাঁর অনন্য ‘অহিংসা’ ও ‘সত্যাগ্রহ’-এর আদর্শের। জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস গণহত্যা, প্রথম সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলন হিসেবে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা এবং পরবর্তীকালে স্বরাজ্য দলের প্রতিষ্ঠা—সব মিলিয়ে এই অধ্যায়টি ভারতীয়দের সংগ্রামের কৌশলগত রূপান্তরের এক ঐতিহাসিক দলিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তার বহুমুখী প্রভাব
১৯১৪ থেকে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করে:
- অর্থনৈতিক সংকট: যুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের জোগান দিতে ব্রিটিশ সরকার সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ায়। খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।
- দুর্ভিক্ষ ও মহামারী: কৃষিজ পণ্য বিদেশে পাঠানোর ফলে ১৯১৮-১৯১৯ সালে দেশে ভয়াবহ খাদ্যাভাব দেখা দেয়। প্লেগ ও ইনফ্লুয়েনজার মতো মহামারীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান।
- রাজনৈতিক মোহভঙ্গ: যুদ্ধকালীন সহায়তার বিনিময়ে ব্রিটিশ সরকার ভারতকে স্বায়ত্তশাসন দেবে বলে আশা দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শেষে স্বশাসনের পরিবর্তে মেলে কঠোর দমননীতি, যা ভারতীয়দের রাজভক্তিতে চরম আঘাত হানে।
মহাত্মা গান্ধীর আগমন ও সত্যাগ্রহ:
১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শেষে ভারতে ফিরে আসেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- অহিংস সত্যাগ্রহের আদর্শ: গান্ধীজি ভারতীয় রাজনীতির মঞ্চে ‘অহিংসা’ ও ‘সত্যাগ্রহ’—এই দুই অভিনব অস্ত্রের প্রয়োগ ঘটান।
- আঞ্চলিক আন্দোলন: ১৯১৭-১৯১৮ সালের মধ্যে তিনি তিনটি সফল আঞ্চলিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন—১. বিহারের চম্পারণে নীলচাষীদের আন্দোলন (১৯১৭)।
২. গুজরাটের খেড়ায় রাজস্ব মকুবের আন্দোলন (১৯১৮)।
৩. আমেদাবাদে মিল শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে অনশন আন্দোলন (১৯১৮)। - স্বরাজ ভাবনা: ১৯০৯ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘হিন্দ স্বরাজ’ গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রকৃত স্বরাজ বলতে বোঝায় ‘স্ব-শাসন’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামকেন্দ্রিক স্বাবলম্বী অর্থনীতি গড়ে তোলা।
ব্রিটিশ দমননীতি ও জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যা:
ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দমনে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার রাওলাট আইন পাস করে, যার মাধ্যমে বিনা বিচারে যে কোনো ভারতীয়কে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়।
- হত্যাকাণ্ড: ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল রাওলাট আইনের প্রতিবাদে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ মাঠে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সভায় সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে অগণিত নিরস্ত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।
- প্রতিক্রিয়া: এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘নাইট’ (Sir) উপাধি ত্যাগ করেন এবং গান্ধীজি তাঁর ‘কায়সার-ই-হিন্দ’ পদক ফিরিয়ে দেন।
অহিংস অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০–১৯২২):
জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড ও খিলাফৎ প্রশ্নের উত্তরে ১৯২০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে প্রথম সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলন হিসেবে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- কর্মসূচি: সরকারি স্কুল-কলেজ, আদালত ও বিলাতি পণ্য বয়কটের পাশাপাশি চরকায় সুতো কাটা, স্বদেশী পণ্যের প্রচার ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়।
- সমাপ্তি: আন্দোলন যখন চরম শিখরে, তখন ১৯২২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরা গ্রামে উত্তেজিত জনতা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দিলে ২২ জন পুলিশকর্মী মারা যান। আন্দোলনের হিংসাত্মক মোড় দেখে গান্ধীজি আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
স্বরাজ্য দলের উত্থান (১৯২৩):
অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর জাতীয় কংগ্রেসের ভেতরে এক নতুন রাজনীতির জন্ম হয়।
- গঠন: ১৯২৩ সালের ১লা জানুয়ারি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ও মোতিলাল নেহরু ‘কংগ্রেস-খিলাফৎ স্বরাজ্য দল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- আদর্শ: এরা ‘স্বরাজ্যপন্থী’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল আইনসভা বয়কট না করে নির্বাচনের মাধ্যমে আইনসভায় প্রবেশ করা এবং সরকারের ভেতরে থেকে সাংবিধানিক অচল অবস্থা তৈরি করে ব্রিটিশ নীতির বিরোধিতা করা।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, Class 8 History Chapter 7-এ বর্ণিত ঘটনাবলী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক আঘাত ও জালিয়ানওয়ালাবাগের নারকীয় হত্যাকাণ্ড ব্রিটিশ শাসনের প্রতি ভারতীয়দের সমস্ত মোহ চুরমার করে দেয়। আর মহাত্মা গান্ধীর গণমুখী নেতৃত্ব সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও নারীদের এক ছাতার তলায় এনে জাতীয় আন্দোলনকে রাজপথের লড়াইয়ে পরিণত করে।

Class 8 History Chapter 7: অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান – ১):
ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা ও গান্ধীজি
১. ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ভারতের ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রধানতম নেতা কে ছিলেন?
উঃ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
২. ভারতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে গান্ধীজি কোথায় সত্যাগ্রহ আন্দোলন চালিয়েছিলেন?
উঃ দক্ষিণ আফ্রিকায়।
৩. দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীজির আন্দোলন প্রধানত কিসের বিরুদ্ধে ছিল?
উঃ বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে।
৪. ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘অহিংসা’—এই আদর্শ দুটির প্রবক্তা কে?
উঃ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
৫. সত্যাগ্রহ ও অহিংসা—এই আদর্শ দুটি পরস্পর সম্পর্কিত না কি সম্পর্কিত নয়?
উঃ পরস্পর সম্পর্কিত।
৬. ‘সত্যাগ্রহ’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ সত্যের প্রতি নিষ্ঠা বা সত্যের প্রতি আগ্রহ। গান্ধীজি মনে করতেন, সত্যের খোঁজ করাই মানবজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
৭. কবে, কোন গ্রন্থে গান্ধীজি তাঁর স্বরাজ বিষয়ক সামাজিক আদর্শগুলোকে স্পষ্ট করে বিশ্লেষণ করেছিলেন?
উঃ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘হিন্দ স্বরাজ’ গ্রন্থে।
৮. মন্টেগু-চেসমফোর্ড শাসন সংস্কার কবে প্রবর্তিত হয়?
উঃ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে।
৯. মন্টেগু কে ছিলেন?
উঃ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের ভারত সচিব (Secretary of State for India)।
১০. চেমসফোর্ড কে ছিলেন?
উঃ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের ভাইসরয় বা বড়লাট।
১১. ‘স্বরাজ সাধন’ প্রবন্ধটির লেখক কে?
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১২. কবে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফেরেন?
উঃ ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ই জানুয়ারি।
১৩. ভারতে আসার পর গান্ধীজির নেতৃত্বাধীন প্রথম তিনটি আঞ্চলিক পর্যায়ের সত্যাগ্রহ আন্দোলন কী কী ছিল?
উঃ
- বিহারের চম্পারণে নীলচাষীদের সপক্ষে আন্দোলন (১৯১৭)।
- গুজরাটের খেড়া জেলায় কৃষকদের সমর্থনে আন্দোলন (১৯১৮)।
- আহমেদাবাদে সুতিবস্ত্র মিল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন (১৯১৮)।
রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ ও খিলাফৎ আন্দোলন:
১৪. রাওলাট আইন কবে পাশ হয়?
উঃ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে।
১৫. রাওলাট আইনের বিরোধিতায় কবে ভারতে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়?
উঃ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ৬ই এপ্রিল।
১৬. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড কবে সংঘটিত হয়?
উঃ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল।
১৭. জালিয়ানওয়ালাবাগে কার নির্দেশে সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালানো হয়?
উঃ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ার (Reginald Dyer)। (দ্রষ্টব্য: তৎকালীন পাঞ্জাবের লেফট্যানেন্ট গভর্নর ছিলেন মাইকেল ও’ডায়ার)।
১৮. কে, কোন ঘটনার প্রতিবাদে ‘স্যার’ (নাইটহুড) উপাধি ত্যাগ করেন?
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে।
১৯. গান্ধীজির পরিচালিত প্রথম সর্বভারতীয় আন্দোলন কোনটি ছিল?
উঃ রাওলাট সত্যাগ্রহ (১৯১৯)।
২০. রাওলাট সত্যাগ্রহের পর গান্ধীজির পরিচালিত তিনটি প্রধান সর্বভারতীয় আন্দোলন কী কী ছিল?
উঃ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন।
২১. কবে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়?
উঃ ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে (১৯২০ খ্রিস্টাব্দের নাগপুর অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবের ভিত্তিতে)।
২২. কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়?
উঃ চৌরিচৌরা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।
২৩. চৌরিচৌরা ঘটনাটি কোথায় ঘটে?
উঃ উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে।
২৪. চৌরিচৌরা ঘটনাটি কবে ঘটে?
উঃ ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি (বহু পাঠ্যপুস্তকে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি উল্লিখিত)।
২৫. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেন কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে?
উঃ তুরস্কের বিরুদ্ধে।
২৬. কবে খিলাফৎ কমিটি গড়ে ওঠে?
উঃ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে।
২৭. সর্বভারতীয় খিলাফৎ কনফারেন্সের প্রধান কে ছিলেন?
উঃ মহাত্মা গান্ধী।
২৮. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে ইসলাম জগতের খলিফা কে ছিলেন?
উঃ তুরস্কের সুলতান।
স্বরাজ দল ও আইন অমান্য আন্দোলন:
২৯. কংগ্রেসের মধ্যে কারা গান্ধীজির পন্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন?
উঃ চিত্তরঞ্জন দাস ও মোতিলাল নেহরু।
৩০. কারা, কবে ‘কংগ্রেস-খিলাফৎ স্বরাজ্য দল’ তৈরি করেন?
উঃ ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে (১লা জানুয়ারি, ১৯২৩) চিত্তরঞ্জন দাস ও মোতিলাল নেহরু।
৩১. চিত্তরঞ্জন দাস কবে মারা যান?
উঃ ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে।
৩২. কবে সাইমন কমিশন গঠিত হয়?
উঃ ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
৩৩. কী উদ্দেশ্যে সাইমন কমিশন গঠিত হয়?
উঃ ভারতীয়দের সাংবিধানিক অধিকার ও শাসন সংস্কার পর্যালোচনা করার জন্য।
৩৪. কার নেতৃত্বে সাইমন কমিশন গঠিত হয়?
উঃ স্যার জন সাইমন।
৩৫. ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সাইমন কমিশনের বিরোধিতা করেছিল কেন?
উঃ সাইমন কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিলেন না।
৩৬. কবে কংগ্রেস ‘পূর্ণ স্বরাজ’ ঘোষণা করে?
উঃ ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের লাহোর অধিবেশনে (জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে)।
৩৭. কবে, কোথায় আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়?
উঃ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৬ই এপ্রিল গুজরাটের ডান্ডি উপকূলে গান্ধীজি সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে প্রতীকীভাবে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন।
৩৮. ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে কার নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন সংগঠিত হয়?
উঃ খান আব্দুল গফফর খান।
৩৯. খান আব্দুল গফফর খান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির নাম কী?
উঃ ‘খুদাই খিদমতগার’ (অর্থ: ঈশ্বরের সেবক)।
৪০. খান আব্দুল গফফর খানের অনুগামীরা কী নামে পরিচিত ছিলেন?
উঃ লালকুর্তা বা লালকুর্তা বাহিনী।
৪১. কে ‘সীমান্ত গান্ধী’ নামে পরিচিত?
উঃ খান আব্দুল গফফর খান।
৪২. নাগা অঞ্চলে কার নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালিত হয়?
উঃ তরুণী রানি গৈদিমলিউ (Rani Gaidinliu)।
৪৩. সিলেট, ময়মনসিংহ ইত্যাদি অঞ্চলে আইন অমান্য আন্দোলন ও কৃষক আন্দোলন পরিচালনা করেন কে?
উঃ মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
৪৪. গান্ধী-আরউইন চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ৫ই মার্চ।
৪৫. গান্ধী-আরউইন চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ মহাত্মা গান্ধী ও ভাইসরয় লর্ড আরউইনের মধ্যে।
৪৬. কোন চুক্তি অনুসারে স্থির হয় যে গান্ধীজি লন্ডনে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন?
উঃ গান্ধী-আরউইন চুক্তি (১৯৩১)।
৪৭. কবে, কোথায় প্রথম গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়?
উঃ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে, লন্ডনে।
৪৮. প্রথম গোলটেবিল বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় কী ছিল?
উঃ সাইমন কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা।
৪৯. দ্বিতীয় দফায় আইন অমান্য আন্দোলন কবে শুরু হয়?
উঃ ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে।
৫০. কবে আইন অমান্য আন্দোলন নিঃশর্তভাবে তুলে নেওয়া হয়?
উঃ ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে।
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন ও শহীদবৃন্দ
৫১. ‘মাস্টারদা’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
উঃ সূর্য সেন।
৫২. চট্টগ্রামে কার নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে?
উঃ মাস্টারদা সূর্য সেন।
৫৩. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নায়ক কে ছিলেন?
উঃ মাস্টারদা সূর্য সেন।
৫৪. কবে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অভিযান সংগঠিত হয়েছিল?
উঃ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই এপ্রিল।
৫৫. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর বিদ্রোহীরা কোথায় আশ্রয় গ্রহণ করেন?
উঃ জালালাবাদ পাহাড়ে।
৫৬. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধে সূর্য সেনের কয়েকজন সঙ্গীর নাম বলো।
উঃ গণেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, লোকনাথ বল, নির্মল সেন, হিমাংশু সেন, বিনোদ দত্ত প্রমুখ।
৫৭. কবে সূর্য সেনের ফাঁসি হয়?
উঃ ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি।
৫৮. অলিন্দ যুদ্ধ (Verandah Battle) কবে সংগঠিত হয়?
উঃ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ই ডিসেম্বর।
৫৯. অলিন্দ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবী কারা ছিলেন?
উঃ বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত (বি-বা-দী)।
৬০. রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করে বিপ্লবীরা কাকে হত্যা করেন?
উঃ কারাবিভাগের ইনস্পেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে।
৬১. অলিন্দ যুদ্ধ চলাকালীন কে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন?
উঃ বাদল গুপ্ত।
৬২. অলিন্দ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কোন বিপ্লবীর ফাঁসি হয়?
উঃ দীনেশ গুপ্ত (১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই)।
৬৩. ভগৎ সিং কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উঃ নওজোয়ান ভারত সভা (১৯২৬)।
৬৪. কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা কবে, কাদের বিরুদ্ধে করা হয়?
উঃ ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে, রামপ্রসাদ বিসমিল, আসফাকউল্লা খান, রোশন সিং প্রমুখের বিরুদ্ধে সরকারি ট্রেন ডাকাতির অভিযোগে।
৬৫. কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলায় কাদের ফাঁসি হয়?
উঃ রামপ্রসাদ বিসমিল, আসফাকউল্লা খান, রোশন সিং এবং রাজেন্দ্র লাহিড়ী।
৬৬. ভগৎ সিং কোন পুলিশ অফিসারকে, কেন হত্যা করেছিলেন?
উঃ লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ভগৎ সিং ও তাঁর সঙ্গীরা লাহোরের সহকারী পুলিশ সুপার জে. পি. স্যান্ডার্সকে হত্যা করেন।
৬৭. কারা, কবে কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপ করেন?
উঃ ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ৮ই এপ্রিল ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত।
৬৮. কবে, কেন দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়?
উঃ স্যান্ডার্স হত্যা ও কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপের অভিযোগে ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্ত, সুখদেব ও রাজগুরুর বিরুদ্ধে।
৬৯. ভগৎ সিং ও তাঁর সহযোগীদের প্রধান স্লোগান কী ছিল?
উঃ ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
৭০. ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কথাটির অর্থ কী?
উঃ বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
৭১. ভারত ছাড়ো আন্দোলন কবে শুরু হয়?
উঃ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে।
৭২. “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” (করব অথবা মরব)—কথাটি কার?
উঃ মহাত্মা গান্ধী।
৭৩. “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” আহ্বানটি কোন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?
উঃ ভারত ছাড়ো আন্দোলন।
৭৪. ভারত ছাড়ো আন্দোলন চলাকালীন কোন দিনে প্রথম সারির নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়?
উঃ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ৯ই আগস্ট ভোরে (অপারেশন জিরো আওয়ার)।
৭৫. কোন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়?
উঃ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলন।
৭৬. কবে, কার নেতৃত্বে, কোথায় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়?
উঃ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই ডিসেম্বর, সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমায়।
৭৭. কত দিন পর্যন্ত তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার টিকে ছিল?
উঃ ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত।
৭৮. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন কে একতরফাভাবে ভারতকে ‘যুদ্ধরত দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করেন?
উঃ ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো (১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে)।
৭৯. ক্রিপস মিশন কবে, কার নেতৃত্বে ভারতে আসে?
উঃ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে।
৮০. রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন পূর্ণ স্বরাজ-এর সমর্থক—ঠিক না ভুল?
উঃ ঠিক।
৮১. কোন আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে সুভাষচন্দ্রকে প্রথম জেলে যেতে হয়?
উঃ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন (১৯২১)।
৮২. কার নেতৃত্বে সুভাষচন্দ্র রাজনীতিতে যোগদান করেন?
উঃ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
৮৩. কবে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হয়?
উঃ ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই জুন।
৮৪. কবে, কোন অধিবেশনে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস বনাম পূর্ণ স্বরাজ নিয়ে সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে গান্ধীজির স্পষ্ট মতামত পার্থক্য দেখা যায়?
উঃ ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের কলকাতা অধিবেশনে।
৮৫. কবে সুভাষচন্দ্র আই.সি.এস (ICS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?
উঃ ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এবং পরে পদত্যাগ করেন)।
৮৬. সুভাষচন্দ্র কোন কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন এবং কেন তাঁকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়?
উঃ প্রেসিডেন্সি কলেজ। ইংরেজির অধ্যাপক ই. এফ. ওটেন-এর ভারতবিরোধী মন্তব্যের জেরে ছাত্র বিক্ষোভের কারণে।
৮৭. কোন কলেজ থেকে সুভাষচন্দ্র বি.এ. পাস করেন?
উঃ স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে (দর্শন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণীতে)।
৮৮. ইংল্যান্ডে সুভাষচন্দ্র কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন?
উঃ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
৮৯. কবে, ইতালির কোন রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের সাক্ষাৎ ঘটে?
উঃ ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৯৩৩-৩৫ পর্বের ইউরোপ সফরে), বেনিটো মুসোলিনির সঙ্গে।
৯০. কংগ্রেসের হরিপুরা অধিবেশন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
উঃ ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে (সুভাষচন্দ্র বসু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হন)।
৯১. ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের কংগ্রেসের ত্রিপুরী অধিবেশনের তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা কী ছিল?
উঃ গান্ধীজি মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে সুভাষচন্দ্র বসু পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন।
১০০. কে, কবে ফরওয়ার্ড ব্লক (Forward Bloc) গঠন করেন?
উঃ সুভাষচন্দ্র বসু, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ই মে।
১০১. কে, কবে বাংলায় হলওয়েল মনুমেন্ট সরানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন?
উঃ সুভাষচন্দ্র বসু, ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে।
১০২. কেন সুভাষচন্দ্র বসু হলওয়েল মনুমেন্ট সরানোর দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন?
উঃ হলওয়েল বর্ণিত অন্ধকূপ হত্যার সত্যতা কাল্পনিক ছিল এবং ওই স্মৃতিস্তম্ভটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অপপ্রচারের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
১০৩. কে, কবে, কোথায় আজাদ হিন্দ ফৌজ (Azad Hind Fauj) গঠন করেন?
উঃ ক্যাপ্টেন মোহন সিং ও রাসবিহারী বসু, ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে, সিঙ্গাপুরে।
১০৪. রাসবিহারী বসুর প্রধান সামরিক সহযোগী কে ছিলেন?
উঃ ক্যাপ্টেন মোহন সিং।
১০৫. রাসবিহারী বসু কাকে আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বময় দায়িত্ব অর্পণ করেন?
উঃ সুভাষচন্দ্র বসুকে (১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে)।
১০৬. কে, কবে, কোথায় আজাদ হিন্দ সরকার (আরজি হুকুমত-ই-আজাদ হিন্দ) প্রতিষ্ঠা করেন?
উঃ সুভাষচন্দ্র বসু, ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২১শে অক্টোবর, সিঙ্গাপুরে।
১০৭. আজাদ হিন্দ সরকারের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
উঃ সুভাষচন্দ্র বসু।
১০৮. কবে, কোন ছদ্মবেশে সুভাষচন্দ্র বসু ভারত ত্যাগ (মহানিষ্ক্রমণ) করেছিলেন?
উঃ ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই জানুয়ারি মধ্যরাতে, ‘মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন’ ছদ্মবেশে।
১০৯. সুভাষচন্দ্রকে এলগিন রোডের বাড়ি থেকে পলায়ন করতে কে সাহায্য করেছিলেন?
উঃ তাঁর ভাইপো শিশির কুমার বসু।
১১০. কোন স্টেশন থেকে, কোন ট্রেনে চেপে সুভাষচন্দ্র যাত্রা করেছিলেন?
উঃ গোমো স্টেশন থেকে, দিল্লি-কালকা মেল ধরে।
১১১. আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী বাহিনীর নাম কী ছিল?
উঃ ঝাঁসির রানি বাহিনী (Rani of Jhansi Regiment)।
১১২. ঝাঁসির রানি বাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?
উঃ ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন (সহগল)।
১১৩. “দিল্লি চলো” ও “জয় হিন্দ”—কার আহ্বান ছিল?
উঃ সুভাষচন্দ্র বসু।
১১৪. আজাদ হিন্দ বাহিনী কবে প্রথম ভারতের মাটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে?
উঃ ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে মার্চ (মণিপুরের মৈরাং-এ)।
১১৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে জাপান কোণঠাসা হয়ে পড়ে—ঠিক না ভুল?
উঃ ঠিক।
১১৬. কোন ঘটনায় সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হয়?
উঃ তাইওয়ানের তাইহোকু বিমানবন্দরে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই আগস্ট এক বিমান দুর্ঘটনায়।
১১৭. আজাদ হিন্দ বাহিনীর কোন কোন সেনাপতির বিরুদ্ধে লালকেল্লায় বিচার শুরু হয়?
উঃ কর্নেল প্রেম সেহগাল, গুরুবক্স সিং ধিলোঁ এবং শাহনওয়াজ খান।
১১৮. আজাদ হিন্দ বাহিনীর ঐতিহাসিক বিচার কোথায় শুরু হয়?
উঃ দিল্লির লালকেল্লায় (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে)।
১১৯. নৌবিদ্রোহ কবে শুরু হয়?
উঃ ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই থেকে ২৩শে ফেব্রুয়ারি।
১২০. কোন জাহাজে প্রথম নৌবিদ্রোহ শুরু হয়?
উঃ মুম্বাইয়ের ‘এইচ.এম.আই.এস. তলোয়ার’ (HMIS Talwar) জাহাজে।
১২১. ‘রশিদ আলী দিবস’ কবে পালিত হয়?
উঃ ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ই ফেব্রুয়ারি (আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলীর কারাদণ্ডের প্রতিবাদের)।
আরো পড়ুন: ভূমিরূপ: (Landform) ভূমিরূপের ৩টি প্রধান ধরন ও এদের সৃষ্টির চমৎকার রহস্য:
Class 8 History Chapter 7: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
১. ‘অহিংসা সত্যাগ্রহ’ কাকে বলে?
উত্তর: গান্ধিজির ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘অহিংসা’র আদর্শ দুটি পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই দুটিকে একত্রে ‘অহিংসা সত্যাগ্রহ’ বলা হয়। অহিংসা হলো কোনো প্রাণীর প্রতি মনে বা কর্মে হিংসা প্রকাশ না করা। আর সত্যাগ্রহ হলো সত্যের প্রতি নিষ্ঠা বা আগ্রহ।
২. গান্ধিজির সত্যাগ্রহ আদর্শের মূল ভাবনা কী ছিল?
উত্তর: সত্যাগ্রহ হলো মহাত্মা গান্ধি প্রবর্তিত একটি আদর্শ ও অহিংস প্রতিরোধের মূল দর্শন। গান্ধিজি মনে করতেন, সত্যের সন্ধান করাই মানবজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তাই সত্যের প্রতি নিষ্ঠাই রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রধান অস্ত্র হওয়া উচিত। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে এবং ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি এই আদর্শ প্রয়োগ করেন।
৩. গান্ধিজির পাশ্চাত্য ও যন্ত্রনির্ভর সভ্যতা বিরোধী বক্তব্যের দুটি ত্রুটি উল্লেখ করো।
উত্তর: গান্ধিজির যন্ত্রনির্ভর সভ্যতা বিরোধী মতবাদের দুটি প্রধান ত্রুটি হলো:
- তিনি নিজের চিন্তাভাবনা ও বার্তা প্রচারের জন্য আধুনিক যন্ত্রনির্ভর মাধ্যম ‘সংবাদপত্র’ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিলেন।
- দেশজুড়ে যাতায়াত ও আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি আধুনিক রেল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতেন।
৪. গান্ধিজি নিজের ব্যক্তিত্বের কীরূপ পরিবর্তন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের ‘আপনজন’ হয়ে ওঠেন?
উত্তর: রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি গান্ধিজি নিজের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনেন। হাঁটু পর্যন্ত সাধারণ ধুতি পরা, মেঠো ও সহজ ভাষায় কথা বলা এবং গ্রামজীবনের লোকধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করার মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি সাধারণ ভারতবাসীর কাছে পরম ‘আপনজন’ হয়ে উঠেছিলেন।
৫. গান্ধিজির জনপ্রিয় লোকধর্ম ব্যবহারের অসুবিধা কী ছিল?
উত্তর: রামরাজ্য বা তুলসীদাসী রামায়ণের মতো হিন্দু লোকধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার উত্তর ও মধ্য ভারতের হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও, তা দেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী (বিশেষ করে মুসলিম) মানুষদের থেকে আন্দোলনকে কিছুটা দূরত্বে ঠেলে দিয়েছিল। ফলে গান্ধিজির আন্দোলনের সর্বজনীনতা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৬. রাওলাট সত্যাগ্রহ কী?
উত্তর: ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে স্যর সিডনি রাওলাটের নেতৃত্বে প্রণীত দমনমূলক আইনের প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধি যে সর্বভারতীয় অহিংস আন্দোলনের ডাক দেন, তা ‘রাওলাট সত্যাগ্রহ’ নামে পরিচিত। ১৯১৯ সালের ৬ই এপ্রিল সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
৭. রাওলাট আইন কাকে বলে?
উত্তর: ভারতে জাতীয়তাবাদী বিপ্লব ও গণ-আন্দোলন কঠোরহাতে দমনের উদ্দেশ্যে বিলেতের বিচারপতি স্যার সিডনি রাওলাটের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় আইনসভায় যে দমনমূলক আইন পাশ হয়, তাকে ‘রাওলাট আইন’ বলা হয়। এই আইনে বিনাবিচারে গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়।
৮. খিলাফৎ আন্দোলন কাকে বলে?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিজয়ী মিত্রশক্তি কর্তৃক তুরস্কের সুলতান তথা মুসলিম জগতের ‘খলিফা’র ধর্মীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা খর্ব করার প্রতিবাদে ভারতের মুসলিম সমাজ (আলী ভ্রাতৃদ্বয় ও অন্যান্যদের নেতৃত্বে) যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে, তাকে ‘খিলাফৎ আন্দোলন’ বলা হয়।
৯. চৌরিচোরার ঘটনা কাকে বলে?
উত্তর: ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি (মতান্তরে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি) উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে ক্ষুব্ধ জনতা থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এই অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন পুলিশকর্মী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। এই হিংসাত্মক ঘটনাটিই ‘চৌরিচোরার ঘটনা’ নামে পরিচিত, যার কারণে গান্ধিজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
১০. গান্ধিজি কীভাবে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন?
উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৬ই এপ্রিল গুজরাটের ডান্ডি সমুদ্র উপকূলে পৌঁছ রাজনৈতিক পদযাত্রা শেষে গান্ধিজি নিজ হাতে সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করেন। প্রতীকীভাবে ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইন ভঙ্গ করার মাধ্যমেই সারা ভারতে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয়।
১১. কাকে, কেন ‘সীমান্ত গান্ধি’ বলা হয়?
উত্তর: খান আব্দুল গফফর খানকে ‘সীমান্ত গান্ধি’ বলা হয়। কারণ, ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে তিনি সম্পূর্ণ অহিংস ও গান্ধীবাদী আদর্শ অনুসরণ করে পাঠানদের আইন অমান্য আন্দোলনে শামিল করেছিলেন।
১২. খুদা-ই-খিদমদগার কাকে বলে?
উত্তর: ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে খান আব্দুল গফফর খানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অহিংস ও অনুগত স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনকে ‘খুদা-ই-খিদমদগার’ (অর্থ: ঈশ্বরের সেবক) বলা হয়। এই সংগঠনের সদস্যরা ‘লালকুর্তা’ বা লাল জামা পরিধান করতেন।
১৩. কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা কী?
উত্তর: ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে উত্তরপ্রদেশের কাকোরি স্টেশনের কাছে একটি সরকারি যাত্রীবাহী ট্রেন থামিয়ে বিপ্লবীদের ডাকাতি করার ঘটনায় ব্রিটিশ সরকার যে মামলা দায়ের করে, তা ‘কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে পরিচিত। এই মামলায় রামপ্রসাদ বিসমিল, আসফাকউল্লা খান, রোশন সিং ও রাজেন্দ্র লাহিড়ীর ফাঁসি হয়।
১৪. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা কাকে বলে?
উত্তর: ১৯২৮ সালে পুলিশ অফিসার স্যান্ডার্স হত্যা এবং ১৯২৯ সালের ৮ই এপ্রিল কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা ফেলার অভিযোগে ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্ত, রাজগুরু ও সুখদেবসহ বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার যে মামলা রুজু করে, তা ‘দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা’ (১৯২৯) নামে পরিচিত। এই মামলার রায়ে ১৯৩১ সালের ২৩শে মার্চ ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুর ফাঁসি হয়।
১৫. ভারত ছাড়ো আন্দোলন কি গান্ধীর অহিংস সত্যাগ্রহের আদর্শ মেনে চলেছিল?
উত্তর: ভারত ছাড়ো আন্দোলন সম্পূর্ণরূপে অহিংস সত্যাগ্রহের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গান্ধিজি নিজে ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (করব অথবা মরব) ডাক দিয়ে আন্দোলনের ধার বদলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হলে এই আন্দোলন সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও তীব্র সশস্ত্র রূপ ধারণ করে।
১৬. সাইমন কমিশন কাকে বলে?
উত্তর: ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার ভারতীয়দের সাংবিধানিক অধিকার ও শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে, যা ‘সাইমন কমিশন’ নামে পরিচিত। এই কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিলেন না। ফলে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দল এই কমিশন বয়কট করে এবং দেশজুড়ে ‘সাইমন ফিরে যাও’ (Simon Go Back) ধ্বনি তুলে কালো পতাকা দেখানো হয়।
১৭. আইন অমান্য আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণের চরিত্র কেমন ছিল?
উত্তর: আইন অমান্য আন্দোলন খুব দ্রুত দেশজুড়ে গণ-আন্দোলনের রূপ নেয়। জনগণের অংশগ্রহণের প্রধান দিকগুলি হলো:
- সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল, পিকেটিং ও মিছিলে যোগ দেয়।
- কর ও রাজস্ব বন্ধের পাশাপাশি বিদেশি দ্রব্য ও বস্ত্র বয়কট করা হয়।
- ব্যাপক সংখ্যায় নারী ও ছাত্র সমাজ আন্দোলনের সামনের সারিতে চলে আসেন।
- গ্রামবাংলায় কৃষক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
১৮. আইন অমান্য আন্দোলনের ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর: আইন অমান্য আন্দোলনের প্রধান ফলাফলগুলি হলো:
- ব্রিটিশ সরকার আন্দোলন দমনে চরম লাঠিচার্জ, গুলি ও দমননীতির আশ্রয় নেয়।
- জাতীয় কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়।
- সাইমন কমিশনের রিপোর্ট আলোচনার জন্য ১৯৩০ সালে লন্ডনে প্রথম গোলটেবিল বৈঠক ডাকা হয়। কংগ্রেস প্রথম বৈঠক বয়কট করলেও পরবর্তীতে ‘গান্ধী-আরউইন চুক্তি’ (১৯৩১)-র মাধ্যমে গান্ধীজি দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হন।
১৯. আইন অমান্য আন্দোলনের ত্রুটিগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: আইন অমান্য আন্দোলনের প্রধান ত্রুটিগুলি হলো:
- অসহযোগ আন্দোলনের মতো এই আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ে ওঠেনি; মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশ নিষ্ক্রিয় ছিল।
- শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং শিল্প শ্রমিকদের যোগদান তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
- আন্দোলনের একপর্যায়ে কংগ্রেস স্বরাজের মূল ধারার চেয়ে সাংবিধানিক ও নির্বাচনী রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ে।
২০. টীকা লেখো: মাস্টারদা সূর্য সেন ও জালালাবাদের যুদ্ধ।
উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামে ‘মাস্টারদা’ সূর্য সেনের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’র বিপ্লবীদের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ঘটে। ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন। এরপর ২২শে এপ্রিল বিপ্লবীরা জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নিলে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে অসমান যুদ্ধ শুরু হয়। এই জালালাবাদের যুদ্ধে ১১ জন বিপ্লবী শহীদ হন। এরপর তারা গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে সূর্য সেন ধরা পড়েন এবং ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি তাঁর ফাঁসি হয়।
২১. টীকা লেখো: বিনয়, বাদল, দীনেশ ও অলিন্দ অভিযান।
উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ই ডিসেম্বর বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত (বি-বা-দী) কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং (মহাকরণ) আক্রমণ করেন, যা ‘অলিন্দ অভিযান’ নামে পরিচিত। তাঁরা অলিন্দে ঢুকে অত্যাচারী কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে হত্যা করেন। ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াই চলে। ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে বাদল গুপ্ত পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন এবং আহত বিনয় বসু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সুস্থ হওয়ার পর বিচার শেষে ১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই দীনেশ গুপ্তের ফাঁসি হয়।
২২. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রকৃতি কেমন ছিল?
উত্তর: ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রকৃতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও গণ-অভ্যুত্থানমূলক:
- আন্দোলনের শুরুতে শহরের ছাত্র ও যুবসমাজ আন্দোলনকে চালিত করে।
- আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় আন্দোলন গ্রামবাংলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কৃষকেরা এতে মূল ভূমিকা নেন।
- টেলিগ্রাফের তার কাটা, রেললাইন উপড়ানো এবং সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়।
- আন্দোলনকারীরা মেদিনীপুরের তমলুক, মহারাষ্ট্রের সাতারা ও উড়িষ্যার তালচেরে নিজেদের ‘জাতীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠা করেন।
২৩. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: ভারত ছাড়ো আন্দোলন চলাকালীন মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমা দখল ও ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে ৭৩ বছর বয়সী বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরার নেতৃত্বে প্রায় ছয় হাজার নারী-পুরুষের এক বিশাল মিছিল তমলুক থানার দিকে অগ্রসর হয়। পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল থামাতে গেলে বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী তা অমান্য করে এগিয়ে যান। পুলিশ পর পর তিনবার তাঁকে গুলি করে—কপাল ও দুই হাতে গুলি লাগা সত্ত্বেও তিনি জাতীয় পতাকা শক্ত হাতে উঁচিয়ে ধরে ‘বান্দে মাতরম’ ধ্বনি দিতে দিতে ১৯৪২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর বীরের মতো মৃত্যুবরণ করেন।
২৪. টীকা লেখো: তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার।
উত্তর: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমায় বীর বিপ্লবী সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই ডিসেম্বর ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ গঠিত হয়। এই সরকার নিজস্ব পুলিশ বাহিনী, বিচার বিভাগ (সশস্ত্র ‘বিদ্যুৎ বাহিনী’) এবং অর্থ দপ্তর গড়ে তোলে। মেদিনীপুরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও দুর্ভিক্ষের সময় এই জাতীয় সরকার সরকারি সাহায্য না পেয়ে দুর্গত মানুষের মধ্যে ব্যাপক ত্রাণ বিতরণ ও ধানের বিলিবণ্টন করে। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গান্ধীজির নির্দেশে ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত এই সরকার সাফল্যের সঙ্গে টিকে ছিল।
২৫. জাতীয় রাজনীতিতে সুভাষচন্দ্র বসুর উত্থানের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ভারতীয় রাজনীতিতে সুভাষচন্দ্র বসুর উত্থান ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ। তিনি শুরু থেকেই ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর সমর্থক ছিলেন। ১৯২০ সালে আই.সি.এস (ICS) পরীক্ষায় ৪র্থ স্থান অর্জন করেও তা ত্যাগ করে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে কারাবরণ করেন। দেশবন্ধুর মৃত্যুর পর (১৯২৫) সুভাষচন্দ্র যুবসমাজের আইকন হয়ে ওঠেন। গান্ধীজির নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও তাঁর অহিংসা ও ধীরগতির নীতির বদলে সুভাষ চন্দ্র সশস্ত্র পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষপাতী ছিলেন।
২৬. সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক চিন্তার ওপর কোন কোন বিষয় ছাপ ফেলেছিল?
উত্তর: সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক দর্শনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় মতাদর্শের প্রভাব পড়েছিল:
- স্বামী বিবেকানন্দের সেবাধর্ম ও আত্মত্যাগের ভাবধারা সুভাষচন্দ্রকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- বিংশ শতকের ইউরোপীয় (বিশেষ করে জার্মান ও ইতালীয়) তীব্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারা।
- সোভিয়েত রাশিয়ার সমাজতন্ত্র, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সাম্যবাদী আদর্শ।
- কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইংল্যান্ডের মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক তর্কবিতর্কের সংস্কৃতি।
২৭. টীকা লেখো: কংগ্রেসের হরিপুরা ও ত্রিপুরী অধিবেশন।
উত্তর: ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের হরিপুরা অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র বসু সর্বসম্মতিক্রমে কংগ্রেসের সভাপতি হন। কিন্তু অতি-বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ও পূর্ণ স্বরাজের জোরালো দাবির কারণে প্রবীণ গান্ধীবাদী নেতাদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যপ্রদেশের ত্রিপুরী অধিবেশনে গান্ধীজি মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে হারিয়ে সুভাষচন্দ্র পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। গান্ধীজি এই হারকে ‘নিজের হার’ বলে উল্লেখ করলে সৃষ্টি হওয়া মনস্তাত্ত্বিক সংকটে সুভাষচন্দ্র ইস্তফা দেন এবং দলের মধ্যে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ গঠন করেন। পরবর্তীতে তাঁকে কংগ্রেস থেকে তিন বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়।
২৮. ১৯৩০-এর দশকে কংগ্রেসের মধ্যে মতবিরোধ বা ফাটল সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর: ১৯৩০-এর দশকে কংগ্রেসের মধ্যে ফাটল সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:
- প্রবীণ ও রক্ষণশীল নেতাদের স্বায়ত্তশাসনের ধীর নীতি এবং সুভাষচন্দ্র ও জওহরলালের মতো তরুণ নেতাদের ‘পূর্ণ স্বরাজ’ ও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার দ্বন্দ্ব।
- ব্রিটিশদের সঙ্গে আপস-আলোচনা বনাম সরাসরি সশস্ত্র ও বিপ্লবী গণ-সংগ্রামের কর্মসূচির তীব্র মতপার্থক্য।
- ভবিষ্যৎ স্বাধীন ভারতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা (গান্ধীজির কুটির শিল্প বনাম সুভাষচন্দ্র-জওহরলালের বৃহৎ শিল্পায়ন) নিয়ে মতভেদ।
২৯. ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্তর: ক্যাপ্টেন মোহন সিং ও রাসবিহারী বসু কর্তৃক গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের (INA) দায়িত্ব ১৯৪৩ সালে সুভাষচন্দ্র বসু গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ বাহিনী সিঙ্গাপুরে ‘আজাদ হিন্দ সরকার’ প্রতিষ্ঠা করে। জাপানের সহায়তায় এই বাহিনী ভারত অভিমুখে অভিযান চালায় এবং ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে মার্চ মণিপুরের মৈরাঙে প্রথম স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। এ ছাড়া, ভারতীয় নারীদের নিয়ে ভারতের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র নারী রেজিমেন্ট ‘ঝাঁসির রানি বাহিনী’ (নেতৃত্বে ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন) গঠন করা নেতাজির এক অনন্য ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
৩০. আজাদ হিন্দ বাহিনীর অভিযান কেন ব্যর্থ হয়?
উত্তর: আজাদ হিন্দ বাহিনীর ব্যর্থতার মূল কারণগুলি ছিল:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষলগ্নে অক্ষশক্তি জাপানের শোচনীয় পরাজয় ও মার্কিন বিমান হামলার কারণে বিমান ও রসদ সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- আসাম-বর্মা সীমান্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অঝোর বৃষ্টি ও বন্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেয়।
- রসদ, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং ম্যালেরিয়া ও মহামারীতে বহু সৈনিকের মৃত্যু।
তবে সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভারতের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করতে আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী।
৩১. টীকা লেখো: নৌ-বিদ্রোহ।
উত্তর: ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই থেকে ২৩শে ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ‘এইচ.এম.আই.এস. তলোয়ার’ (HMIS Talwar) জাহাজে ভারতীয় রয়্যাল নেভির ভারতীয় নাবিকরা (তালওয়ার নাবিক) বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। চরম বর্ণবৈষম্য, নিম্নমানের খাবার, বেতন বৈষম্য এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দী সেনাদের মুক্তির দাবিতে এই বিদ্রোহ শুরু হয়। নাবিকরা জাহাজের মাস্তুলে কংগ্রেস, মুসলিম লিগ ও কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা একসঙ্গে বেঁধে দেন। সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ বিদ্রোহের পাশে দাঁড়ালেও জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ শীর্ষ নেতৃত্ব এই সশস্ত্র বিদ্রোহকে সমর্থন করেনি। অবশেষে সরদার প্যাটেল ও জিন্নাহর অনুরোধে নাবিকেরা আত্মসমর্পণ করলেও এই নৌ-বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসনের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছিল।
Class 8 History Chapter 7: আদর্শ রচনাধর্মী উত্তরমালা
১. ভারতের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংঘটিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন এনেছিল।
- অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি: সামরিক খাতে ব্রিটিশ সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। সরকার করের বোঝা বাড়ায় এবং সাধারণ জনগণের ওপর আয়কর আরোপ করে।
- খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ: কৃষিজাত পণ্য বিশেষ করে খাদ্যশস্য যুদ্ধের প্রয়োজনে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ফলে ১৯১৮-১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতে ভয়াবহ খাদ্যাভাব, দুর্ভিক্ষ এবং প্লেগ ও ইনফ্লুয়েনজার মতো সংক্রামক ব্যাধিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।
- রাজনৈতিক মোহভঙ্গ: ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলি (নরমপন্থী ও চরমপন্থী) স্বায়ত্তশাসনের আশায় যুদ্ধপ্রচেষ্টায় ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল। কিন্তু যুদ্ধশেষে সরকারের দমনমূলক নীতি দেখে ভারতীয়দের রাজভক্তি ও ভ্ৰান্ত আশা ভেঙে যায়।
- শ্রমিক আন্দোলনের উত্থান: যুদ্ধের সময় ভারতীয় শিল্পের কিছুটা প্রসার ঘটলেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। ফলে শ্রমিক শ্রেণি সংগঠিত হতে শুরু করে এবং ভারতে আধুনিক শ্রমিক আন্দোলনের সূচনা হয়।
- জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জোরদার হওয়া: অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও সামাজিক অসন্তোষ ভারতীয় জনগণকে অ্যান্টি-ইম্পিরিয়াল বা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণ-আন্দোলনের দিকে পরিচালিত করে, যার ফলশ্রুতি ১৯১৯ সালের রাওলাট সত্যাগ্রহ ও অসহযোগ আন্দোলন।
২. দক্ষিণ আফ্রিকার আন্দোলন মহাত্মা গান্ধির রাজনৈতিক জীবনে কী প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর: ভারতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে ১৮৯৩ থেকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাক্ষেত্র ছিল।
- ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘অহিংসা’ ধারণার জন্ম: দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ ও ভারতীয়দের ওপর শ্বেতাঙ্গ সরকারের বর্ণবৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েই গান্ধীজি তাঁর অমোঘ অস্ত্র ‘সত্যাগ্রহ’ (সত্যের প্রতি নিষ্ঠা) ও ‘অহিংসা’-র তত্ত্ব ও প্রয়োগ আবিষ্কার করেন।
- সর্বধর্ম ও সর্বশ্রেণীর ঐক্য প্রতিষ্ঠা: দক্ষিণ আফ্রিকায় আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি হিন্দু, মুসলিম, তামিল, গুজরাটি, ধনী ব্যবসায়ী ও দরিদ্র শ্রমিক—সকল ধর্মের ও ভাষার মানুষকে এক ছাতার তলায় আনতে সক্ষম হন। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে ভারতে আন্দোলন পরিচালনায় কাজে লাগে।
- আঞ্চলিক পরিচয়মুক্ত ভাবমূর্তি: ভারতে ফিরে আসার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার সাফল্য গান্ধীজিকে দেশজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছিল। ভারতের তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা (যেমন—তিলক, গোখলে) নির্দিষ্ট অঞ্চলে জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু গান্ধীজি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নেতা না হয়ে শুরু থেকেই সর্বভারতীয় এক অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন ভাবমূর্তি লাভ করেন।
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন: দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তিনি ‘ফিনিক্স ফার্ম’ ও ‘টয়স্টয় ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করে সরল, আড়ম্বরহীন ও স্বাবলম্বী জীবনযাপনের চর্চা শুরু করেন।
৩. টীকা লেখো: মন্টেগু-চেসমফোর্ড সংস্কার আইন (১৯১৯)
উত্তর:
- প্রেক্ষাপট: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতীয়রা স্বশাসনের দাবি তোলে এবং হোম রুল আন্দোলন জোরদার হয়। ভারতীয়দের অসন্তোষ প্রশমিত করতে ১৯১৭ সালে ভারত সচিব এডউইন মন্টেগু এবং ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ড একটি সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেন, যা ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ‘ভারত শাসন আইন (১৯১৯)’ বা ‘মন্টেগু-চেসমফোর্ড সংস্কার’ নামে পাস হয়।
- প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:১. প্রাদেশিক দ্বৈত শাসন: প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়—’সংরক্ষিত বিষয়’ (যেমন: অর্থ, পুলিশ, রাজস্ব—যা গভর্নরের হাতে ছিল) এবং ‘হস্তান্তরিত বিষয়’ (যেমন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য—যা ভারতীয় মন্ত্রীদের হাতে দেওয়া হয়)।২. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করা হয়—উচ্চকক্ষ (কাউন্সিল অফ স্টেট) এবং নিম্নকক্ষ (লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি)।
- ব্যর্থতা ও প্রতিক্রিয়া: এই আইনে প্রকৃত ক্ষমতা গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরদের হাতেই কুক্ষিগত ছিল। ফলে ভারতীয়রা একে ‘প্রতারণামূলক’ বলে মনে করে। মহাত্মা গান্ধী, কংগ্রেস ও ভারতের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল এই অসার সংস্কার আইন প্রত্যাখ্যান করে।
৪. গান্ধির স্বরাজ ভাবনা সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর: ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে অবস্থানকালে জাহাজে বসে গান্ধীজি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হিন্দ স্বরাজ’ (Hind Swaraj) রচনা করেন। এই গ্রন্থে তাঁর স্বরাজ ভাবনার সুস্পষ্ট প্রকাশ দেখা যায়।
- স্বরাজের সংজ্ঞা: গান্ধীজির কাছে ‘স্বরাজ’ মানে কেবল ব্রিটিশ শাসনের অবসান বা রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না; স্বরাজ শব্দের অর্থ ছিল ‘স্ব-শাসন’ বা নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা (Self-rule)।
- পাশ্চাত্য ও যন্ত্রনির্ভর সভ্যতার বিরোধিতা: গান্ধীজি মনে করতেন, আধুনিক পশ্চিমা শিল্পসভ্যতা ও যন্ত্রনির্ভরতা মানুষকে যন্ত্রের দাসে পরিণত করে এবং মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। তিনি আধুনিক রেলপথ, হাসপাতাল, আইনজীবী ও আধুনিক কলকারখানাকে ভারতীয় সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ বলে মনে করতেন।
- গ্রাম কেন্দ্রিক রামরাজ্য: গান্ধীজি বিকেন্দ্রীভূত সমাজব্যবস্থার সমর্থক ছিলেন। তিনি ভারতের ঐতিহ্যবাহী গ্রামভিত্তিক অর্থনীতি, কুটির শিল্প (চরকা ও খাদি) এবং স্বাবলম্বী ‘গ্রাম স্বরাজ’-এর ওপর জোর দেন।
- আদর্শের প্রয়োগ: তাঁর মতে, প্রকৃত স্বরাজ পেতে হলে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ধরে আসা আধুনিক বিলাসী জীবনধারাও বিসর্জন দিতে হবে।
৫. দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতবর্ষে ফিরে গান্ধীজি কোন তিনটি আঞ্চলিক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন? সেগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ই জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফেরার পর গোপালকৃষ্ণ গোখলের পরামর্শে গান্ধীজি এক বছর ভারত ভ্রমণ করেন। এরপর ১৯১৭ থেকে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি তিনটি আঞ্চলিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন:
- চম্পারণ নম্বর নীলচাষীদের আন্দোলন (১৯১৭): বিহারের চম্পারণে ব্রিটিশ কুঠিয়ালরা ভারতীয় কৃষকদের ওপর ‘তিনকাঠিয়া ব্যবস্থা’ চাপিয়ে দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে নীলচাষ করাত। গান্ধীজি সেখানে গিয়ে সত্যাগ্রহ শুরু করেন। সরকারের গঠিত চম্পারণ কৃষি কমিটির সুপারিশে শেষপর্যন্ত তিনকাঠিয়া ব্যবস্থার অবসান ঘটে। এটি ছিল ভারতে গান্ধীজির প্রথম সফল সত্যাগ্রহ।
- খেড়া কৃষক আন্দোলন (১৯১৮): গুজরাটের খেড়া জেলায় খরা ও দুর্ভিক্ষের কারণে ফসলহানি হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার রাজস্ব মকুব করতে অস্বীকার করে। গান্ধীজি ও সরদার বল্লভভাই প্যাটেল কৃষকদের নিয়ে কর না দেওয়ার আন্দোলন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সরকার নতিস্বীকার করে কেবল সক্ষম কৃষকদের কাছ থেকেই রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
- আমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (১৯১৮): আমেদাবাদের সুতিবস্ত্র মিল মালিকরা শ্রমিকদের ‘প্লেগ বোনাস’ বন্ধ করে দিলে গান্ধীজি হস্তক্ষেপ করেন। তিনি শ্রমিকদের ৩৫% মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে অহিংস আন্দোলনের ডাক দেন এবং ভারতে প্রথমবার অনশন শুরু করেন। মিল মালিকরা শেষ পর্যন্ত ৩৫% মজুরি বৃদ্ধিতে সম্মত হয়।
৬. টীকা লেখো: জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড
উত্তর:
- পটভূমি: ১৯১৯ সালের দমনমূলক রাওলাট আইনের প্রতিবাদে পাঞ্জাবে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। সরকার ড. সাইফুদ্দিন কিচলু এবং ড. সত্যপালকে গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
- ঘটনা: ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল বৈশাখী উৎসবের দিনে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ নামক একটি প্রাচীরঘেরা মাঠে প্রায় ১০,০০০ নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভার জন্য সমবেত হন।
- হত্যাকাণ্ড: অমৃতসরের সামরিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ার মাঠের একমাত্র সংকীর্ণ প্রবেশপথটি সাঁজোয়া গাড়ি দিয়ে অবরুদ্ধ করেন। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই তিনি নিরস্ত্র ও অসহায় ভিড়ের ওপর একটানা ১০ মিনিট ধরে ১৬৫০ রাউন্ড গুলি চালানোর নির্দেশ দেন।
- হতাহত ও প্রতিক্রিয়া: সরকারি হিসেবে ৩৭৯ জন নিহত এবং ১২০০ জন আহত হলেও, বেসরকারি মতে নিহতের সংখ্যা ছিল হাজারের বেশি। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাইটহুড (‘স্যার’) উপাধি এবং গান্ধীজি ‘কায়সার-ই-হিন্দ’ পদক বর্জন করেন।
৭. টীকা লেখো: স্বরাজ্য দল
উত্তর:
- প্রতিষ্ঠা ও প্রবর্তক: ১৯২২ সালে চৌরিচৌরা ঘটনার পর গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে কংগ্রেসে হতাশা তৈরি হয়। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এবং মোতিলাল নেহরু ‘কংগ্রেস-খিলাফৎ স্বরাজ্য দল’ গঠন করেন। চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন এর সভাপতি এবং মোতিলাল নেহরু সম্পাদক।
- উদ্দেশ্য ও মূল নীতি:১. কাউন্সিল বা আইনসভা বয়কট না করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আইনসভার ভেতরে প্রবেশ করা।২. আইনসভার ভেতরে সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বাধা সৃষ্টি করা (‘অচল অবস্থা’ তৈরি করা)।৩. সরকারি অন্যায্য বিল ও প্রস্তাবগুলি প্রত্যাখ্যান করে ভারতের স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি উত্থাপন করা।
- অবদান ও গুরুত্ব: স্বরাজ্য দল ১৯২৩ সালের নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য পায় এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভায় প্রবেশ করে সরকারের বহু দমনমূলক বিল আটকে দিতে সক্ষম হয়। তবে ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের আকস্মিক মৃত্যুর পর এই দল ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
৮. স্বরাজ্যপন্থী কাদের বলা হতো? স্বরাজ্যপন্থীদের মূল দাবি কী ছিল?
উত্তর:
- সংজ্ঞা: ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর জাতীয় কংগ্রেসের ভেতরে একটি নতুন ভাবধারার জন্ম হয়। যাঁরা আইনসভা বয়কটের নীতি ত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আইনসভার ভেতর থেকে ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতা করার পক্ষপাতী ছিলেন, তাঁদের ‘স্বরাজ্যপন্থী’ বা ‘পরিবর্তনকামী’ (Pro-changers) বলা হতো। প্রধান প্রবক্তা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস ও মোতিলাল নেহরু।
- স্বরাজ্যপন্থীদের মূল দাবি ও কর্মসূচি:১. আইনসভায় প্রবেশ: আইনসভা বয়কট না করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরিষদীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়া।২. প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি: আইনসভার ভেতরে ব্রিটিশ সরকারের গণবিরোধী আইন ও বাজেটে নিরবচ্ছিন্নভাবে বাধা প্রদান করে সরকারি কাজ অচল করে দেওয়া।৩. সাংবিধানিক সংস্কার: আইনসভার মঞ্চ ব্যবহার করে ভারতের জন্য পূর্ণ দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা ও সংবিধান রচনার দাবি তোলা।৪. দেশাত্মবোধ প্রচার: জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রচারের জন্য পরিষদীয় মঞ্চকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।
৯. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল? এই আন্দোলন রদ করা বিষয়ে গান্ধির সিদ্ধান্তের সঙ্গে কি তুমি একমত? তোমার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর:
অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- নেতিবাচক বর্জন কর্মসূচি: সরকারি খেতাব ও পদক ত্যাগ করা, সরকারি স্কুল-কলেজ, আদালত ও সরকারি চাকরি বয়কট করা এবং বিলাতি পণ্য ও বস্ত্র বর্জন করা।
- ইতিবাচক গঠনমূলক কর্মসূচি: স্বদেশী বস্ত্র ও খাদি পোশাকের ব্যবহার, জাতীয় বিদ্যালয় (যেমন: কাশীয় বিদ্যাপীঠ, জামিয়া মিলিয়া) স্থাপন, চরকায় সুতো কাটা, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ এবং তিলক স্বরাজ তহবিল গঠন।
- অপূর্ব গণ-অংশগ্রহণ: সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-যুব সম্প্রদায় এবং ভারতীয় নারীরা প্রথমবার কোনো আন্দোলন বিপুল সংখ্যায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
- হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি: খিলাফৎ আন্দোলনকে অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে এক অভূতপূর্ব হিন্দু-মুসলিম ঐক্য তৈরি হয়।
আন্দোলন রদ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও যুক্তি:
১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি (মতান্তরে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি) উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে ক্রুদ্ধ জনতা থানায় আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ২২ জন পুলিশকর্মী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। এই হিংসাত্মক ঘটনার খবর পেয়ে গান্ধীজি ১২ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
গান্ধীজির এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হওয়ার স্বপক্ষে যুক্তি:
- আন্দোলনের দর্শনের পরিপন্থী: গান্ধীজির আন্দোলনের মূল স্তম্ভই ছিল ‘অহিংসা’। হিংসার পথ ধরে যে আন্দোলন চালিত হয়, তা তাঁর সত্যাগ্রহের নীতিবিরোধী ছিল।
- রাষ্ট্রীয় দমনের ঝুঁকি: আন্দোলনের আন্দোলনকারীরা সশস্ত্র হিংসায় লিপ্ত হলে বিশাল সামরিক শক্তিধর ব্রিটিশ সরকার সহিংসতাকে অজুহাত করে চরম নৃশংস দমননীতি প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়ে যেত, যার ফলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে আন্দোলন সম্পূর্ণ ধ্বংস হতো।
- নিয়ন্ত্রণহীনতার আশঙ্কা: সাধারণ মানুষ তখনও সম্পূর্ণভাবে অহিংস সত্যাগ্রহের কঠিন শৃঙ্খলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। আন্দোলন পথভ্রষ্ট হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
দীর্ঘমেয়াদী গণ-সংগ্রামের স্বার্থে নৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে গান্ধীজির এই কঠিন সিদ্ধান্তটি দূরদর্শী ছিল।
[…] 08/30/2026 Class 8 History Chapter 7 (অষ্টম শ্রেনী ইতিহাস | সপ্তম অধ্যায়) ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন: 08/26/2026 ভূমিরূপ: (Landform) ভূমিরূপের ৩টি প্রধান ধরন ও এদের সৃষ্টির চমৎকার রহস্য: 08/08/2026 জীবনের প্রবাহমানতা: Continuity of Life: 08/07/2026 জীবজগতের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান ১ম অধ্যায়: (Madhyamik Life Science Chapter 1) 08/06/2026 ভারতের কৃষি: Agriculture in India. 08/04/2026 ভারতের নদ-নদী: Rivers of India. 07/11/2026 মেসোপটেমিয়া সভ্যতা: Mesopotamian civilization. 07/05/2026 ভারতের নির্বাচন কমিশন: গঠন, কার্যাবলী ও ক্ষমতা | Election Commission of India. 06/25/2026 রাষ্ট্র: সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য: State: Definition and Characteristics. 05/26/2026 রাষ্ট্রবিজ্ঞান: প্রকৃতি ও পরিধি (Nature and Scope of Political Science). 05/03/2026 বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ: অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্নোত্তর. Air Pressure Belts and Air Currents. 05/01/2026 ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র: অষ্টম শ্রেণী ইতিহাস ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর: Characteristics of Colonial Economy. 04/22/2026 প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা: রাজনৈতিক বিকাশ, শিল্প-স্থাপত্য ও ধর্মের ইতিহাস: Ancient Egyptian Civilization. 04/02/2026 ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারিদের অবদান: The Contribution of Christian Missionaries to the Expansion of Western Education in India. 04/02/2026 কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও ভারতে চিকিৎসাবিদ্যার বিকাশ: Calcutta Medical College. 03/31/2026 নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজ: Netaji Subhas Chandra Bose and the Azad Hind Fauj. 03/27/2026 নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলন কী? নব্যবঙ্গ আন্দোলনের উদ্দেশ্য: নব্যবঙ্গ আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ: Young Bengal Movement: Objectives and Causes of Failure. 03/16/2026 পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান: Raja Rammohan Roy’s Contribution to the Spread of Western Education. 03/13/2026 নারীশিক্ষা বিস্তারে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের ভূমিকা: Drinkwater Bethune’s Role in the Expansion of Women’s Education. 03/12/2026 নারী শিক্ষা বিস্তারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান | Women Education Contribution of Vidyasagar. 03/11/2026 উডের ডেসপ্যাচ 1854, ভারতের শিক্ষানীতির ম্যাগনা কার্টা : wood-despatch-1854. 03/11/2026 মেকলে মিনিট (Macaulay’s Minute): 03/05/2026 ‘নীলদর্পণ’ (Neeldarpan) নাটক থেকে উনিশ শতকের বাংলার সমাজের কীরূপ প্রতিফলন পাওয়া যায়? অথবা, নীলদর্পন নাটকে সমকালীন সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনের কী পরিচয় পাওয়া যায়? 03/03/2026 হিন্দু প্যাট্রিয়ট (Hindu Patriot) পত্রিকা থেকে উনিশ শতকের বাংলায় কী ধরনের সমাজচিত্র পাওয়া যায়? 03/02/2026 বামাবোধিনী পত্রিকা (Bamabodhini patrika) থেকে উনিশ শতকের নারী সমাজ: শিক্ষা, সংস্কার ও সামাজিক অবস্থার বিশ্লেষণ (Class 10 History Notes). 03/02/2026 ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (Grambarta Publisher) পত্রিকা থেকে উনিশ শতকের বাংলার কী ধরনের সমাজচিত্র পাওয়া যায়? 02/20/2026 ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, কার্যাবলী ও পদমর্যাদা: Prime Minister of India: Powers, Functions and Rank. 02/15/2026 সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং দেশীয় রাজ্যগুলির একত্রীকরণ: Sardar-patel-indian-states-integration. 02/13/2026 ভারতের জরুরি অবস্থা: The Emergency in India. 01/24/2026 উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী: ‘ইউ. এন. রায় অ্যান্ড সন্স’: Upendrakishore Ray Chowdhury and ‘U. N. Ray and Sons’. 01/24/2026 বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট: স্বদেশি আন্দোলন ও বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশ: Bengal Technical Institute. 01/24/2026 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিতে ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা: rabindranath-thakur-dristite-british-uponibeshik-shikshabyabastha. 01/13/2026 উদারনীতিবাদ কাকে বলে? | উদারনীতিবাদের সংজ্ঞা, রূপ, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব: Definition, form, characteristics and importance of liberalism. 01/11/2026 নয়া উদারনীতিবাদ: প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব (Neo-liberalism). The nature, characteristics and importance of neoliberalism 01/06/2026 নেহরু–লিয়াকৎ চুক্তি (১৯৫০): উদ্বাস্তু সমস্যা, শর্ত ও ফলাফল (nehru-liaquat-pact-1950-refugee-problem). 01/06/2026 ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস্ পার্টি (১৯২৮): গঠন, উদ্দেশ্য ও কার্যকলাপ (Workers and Peasants Party). 01/04/2026 পৃথিবীর অন্দরমহল: স্তরবিন্যাস, বৈশিষ্ট্য ও বিস্তারিত আলোচনা: prithibir-andarmahal-class-8-geography. 01/02/2026 বিরসা মুন্ডা ও মুন্ডা বিদ্রোহ: Munda rebellion. 01/02/2026 চুয়াড় বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল: Chuar Rebellion. 12/31/2025 ভারতে ওয়াহাবী আন্দোলন: উৎস, বিস্তার ও গুরুত্ব: The Wahhabi movement in India. 12/30/2025 মুদ্রাস্ফীতি কী? What Is Inflation? 12/27/2025 ভারতের জাতীয় আন্দোলন (১৯০৫–১৯৪০) – The Indian National Movement (1905–1940). 12/17/2025 ভূমিকম্পের কারণ ও ফলাফল: Earthquakes. 12/12/2025 সার্বভৌমত্বের একত্ববাদী তত্ত্ব (Monistic Theory of Sovereignty): 12/10/2025 লোকসভা এবং রাজ্যসভার মধ্যে সম্পর্ক: Relationship between Lok Sabha and Rajya Sabha. 12/09/2025 ১৯৪৬ সালের নৌ বিদ্রোহ: কারণ, ঘটনা, বিশ্লেষণ ও গুরুত্ব: Naval mutiny of 1946. 12/08/2025 বৃষ্টিপাত (rainfall) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা: 12/03/2025 হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা: Urban planning of the Harappan civilization. 12/03/2025 ভারতের রাষ্ট্রপতি -র ক্ষমতা ও পদমর্যাদা: Powers and rank of the President of India. 11/24/2025 ভারতের সুপ্রিম কোর্ট : গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী: Supreme Court of India: Structure, Powers and Functions. History […]