ভূমিকা (Introduction):
“মানুষ স্বভাবগতভাবেই একটি রাজনৈতিক জীব এবং যে সমাজে বাস করে না সে হয় পশু, না হয় দেবতা।” — অ্যারিস্টটল
আদিকাল থেকেই মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে অভ্যস্ত। আর এই দলবদ্ধ জীবনকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক করার প্রয়াস থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘রাষ্ট্র’ নামক প্রতিষ্ঠানের। সমাজবিজ্ঞানের যে সুনির্দিষ্ট শাখাটি এই রাষ্ট্র, সরকার, ক্ষমতা, রাজনীতি এবং মানুষের রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে গভীর ও সুশৃঙ্খল আলোচনা করে, তাকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science) বলা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান কোনো স্থির বা স্থবির বিষয় নয়; এটি অত্যন্ত গতিশীল এবং পরিবর্তনশীল। প্রাচীন গ্রিসের নগর-রাষ্ট্র (City-State) থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র (Welfare State) এবং বিশ্বায়নের এই যুগে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Political Science’ এসেছে গ্রিক শব্দ ‘Polis’ (যার অর্থ নগর) এবং ‘Polites’ (যার অর্থ নাগরিক) থেকে। অর্থাৎ, আদি যুগে নগর ও তার নাগরিকদের কার্যকলাপ নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করত, তা-ই ছিল রাজনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
বর্তমান যুগে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি কেবল রাষ্ট্রের চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতি (Geopolitics), জননীতি (Public Policy) এবং নাগরিক অধিকারের মতো বিশাল ক্ষেত্রকে স্পর্শ করেছে। তাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সঠিক প্রকৃতি এবং এর বিস্তৃতি বা পরিধি জানা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান কী? (Definition of Political Science)
সাধারণ ভাষায়, যে শাস্ত্র রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনা এবং রাজনৈতিক আচরণ বিশ্লেষণ করে, তাকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- গার্নার (Garner)-এর মতে: “রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শুরু ও সমাপ্তি রাষ্ট্রকে নিয়ে।”
- ল্যাসওয়েল ও ক্যাপলান (Lasswell & Kaplan): রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো ক্ষমতা গঠন ও ভাগাভাগির অনুশীলন।
আরো পড়ুন: ভারতের কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি (Nature of Political Science)
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি একদিকে যেমন তাত্ত্বিক, অন্যদিকে তেমনি ব্যবহারিক। এর প্রকৃতি নিচে আলোচনা করা হলো:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি বিজ্ঞান?
রাষ্ট্রবিজ্ঞান আদৌ বিজ্ঞান কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একদল চিন্তাবিদ (যেমন- অ্যারিস্টটল, হবস, লর্ড ব্রাইস) একে বিজ্ঞান বলতে চান। আবার বাকল বা কোঁৎ একে বিজ্ঞান মানতে নারাজ।
যুক্তি: রাষ্ট্রবিজ্ঞান পদার্থবিদ্যা বা রসায়নের মতো নিখুঁত না হলেও এটি সামাজিক তথ্য পর্যবেক্ষণ ও সুশৃঙ্খল বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই একে “সামাজিক বিজ্ঞান” বলা হয়।
পরিবর্তনশীল প্রকৃতি
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি স্থির নয়। প্রাচীনকালে এটি ছিল দর্শন নির্ভর, মধ্যযুগে ছিল ধর্ম নির্ভর এবং বর্তমান যুগে এটি অনেকটা আচরণবাদী ও তথ্য নির্ভর।
আদর্শনিষ্ঠ ও নীতিগত
রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধু ‘রাষ্ট্র কী’ তা নিয়ে আলোচনা করে না, বরং ‘রাষ্ট্রের কেমন হওয়া উচিত’ তা নিয়েও দিকনির্দেশনা দেয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি (Scope of Political Science)
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক এবং বিস্তৃত। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর সীমানাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাষ্ট্র বিষয়ক আলোচনা
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের উপাদান, রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিবর্তন এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই শাস্ত্র আলোচনা করে।
সরকার ও শাসনব্যবস্থা
সরকার ছাড়া রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের বিভিন্ন বিভাগ (আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ) এবং তাদের কার্যাবলি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে।
রাজনৈতিক মতাদর্শ (Political Ideology)
বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ যেমন—উদারতাবাদ, সমাজতন্ত্র, মার্ক্সবাদ, ফ্যাসিজম এবং গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম কাজ।
আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য
নাগরিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হলো আইন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলোচনা করে আইনের উৎস, প্রকারভেদ এবং ব্যক্তির স্বাধীনতা ও সাম্যের সাথে আইনের সম্পর্ক।
রাজনৈতিক দল ও জনমত
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং জনমতের ভূমিকা অপরিসীম। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এসব বিষয়ের প্রভাব ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সংগঠন
বর্তমান যুগে কোনো রাষ্ট্রই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জাতিসংঘ (UN) এবং বিশ্বশান্তি রক্ষার উপায়সমূহ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধির অন্তর্ভুক্ত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব (Importance of Political Science)
- নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা: এটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সরকার গঠনের পথ নির্দেশ করে।
- উদার দৃষ্টিভঙ্গি গঠন: রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূর করে বিশ্বভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আধুনিক প্রবণতা (Modern Trends)
বিংশ শতাব্দীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে “আচরণবাদী বিপ্লব” (Behavioral Revolution) শুরু হয়। এর ফলে এখন শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং মানুষের রাজনৈতিক আচরণ, মনস্তত্ত্ব এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান এখন রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলোচনা থেকে সরে এসে ‘ক্ষমতা’ (Power) ও ‘কর্তৃত্ব’ (Authority) এর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
উপসংহার (Conclusion):
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও অপরিহার্য শাখা। প্রাচীনকালে যেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে কেবল দর্শন বা ধর্মের একটি অংশ হিসেবে দেখা হতো, আধুনিক যুগে এসে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ এবং প্রায়োগিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীর আচরণবাদী বিপ্লব এবং একবিংশ শতাব্দীর তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে আরও বেশি বাস্তবমুখী ও বৈজ্ঞানিক করে তুলেছে।
একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠন, সুশাসন (Good Governance) প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং নাগরিকদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের কোনো বিকল্প নেই। এটি যেমন একদিকে অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ইতিহাস পর্যালোচনা করে, অন্যদিকে বর্তমানের রাজনৈতিক জটিলতা নিরসন করে ভবিষ্যতের একটি সুন্দর ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের পথ দেখায়।
পরিশেষে, বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা বুঝতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। রাষ্ট্র ও মানুষের সম্পর্ক যতদিন থাকবে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা এবং এর পরিধি দিন দিন ততই বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল একটি একাডেমিক পাঠ্য বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ পৃথিবী গড়ার দিকনির্দেশক।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান: প্রকৃতি ও পরিধি (100+ SAQ)
১. প্রাচীন গ্রিসে রাজনীতিতে নীতিবাদী শিক্ষার সূত্রপাত কারা করেছিলেন?
উত্তর: সোফিস্ট দার্শনিকগণ।
২. সোফিস্টরা মূলত কিসে বিশ্বাসী ছিলেন?
উত্তর: ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সমতায়।
৩. সক্রেটিস রাষ্ট্রশাসনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন?
উত্তর: জ্ঞান ও সত্যতাকে।
৪. কার মাধ্যমে সক্রেটিসের শিক্ষা পরিচিতি লাভ করেছিল?
উত্তর: প্লেটো।
৫. সক্রেটিসের মতে কারা রাষ্ট্রশাসনের উপযুক্ত?
উত্তর: জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি, যারা সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে।
৬. প্লেটোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম কী ছিল?
উত্তর: অ্যাকাডেমি।
৭. প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য রিপাবলিক’-এ কোন পদ্ধতির আলোচনা পাওয়া যায়?
উত্তর: অবরোহ পদ্ধতি।
৮. প্লেটো রাষ্ট্রশাসক হিসেবে কাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন?
উত্তর: দার্শনিক রাজা।
৯. প্লেটো কেমন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন?
উত্তর: ন্যায়নিষ্ঠ আদর্শ রাষ্ট্র।
১০. শাসকের লক্ষ্য হিসেবে প্লেটো ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন?
উত্তর: জনকল্যাণ।
১১. সিসেরো কোন দেশের রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ছিলেন?
উত্তর: রোমান রাষ্ট্রচিন্তাবিদ।
১২. সিসেরোর বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?
উত্তর: ডি রিপাবলিকা (De Republica)।
১৩. মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা কী নিয়ে আবর্তিত হয়েছিল?
উত্তর: ধর্মীয় চিন্তাধারা।
১৪. মধ্যযুগের দুজন বিখ্যাত চিন্তাবিদ কারা?
উত্তর: সেন্ট অগাস্টাইন ও টমাস অ্যাকুইনাস।
১৫. কাকে ‘নবজাগরণের শিশু’ বলা হয়?
উত্তর: মাকিয়াভেলিকে।
১৬. কাকে ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিউটন’ বলা হয়?
উত্তর: মাকিয়াভেলিকে।
১৭. ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ শব্দটির প্রথম প্রয়োগ কবে ঘটে?
উত্তর: ১৭০১ খ্রিস্টাব্দে।
১৮. “রাষ্ট্রবিজ্ঞান দীর্ঘ বিবর্তনের পথ ধরেই একটি সমাজশাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে”— এই কথাটি সত্য না মিথ্যা?
উত্তর: সত্য।
১৯. বিষয় হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিবর্তনের প্রাথমিক পর্ব কোথায় শুরু হয়েছিল?
উত্তর: গ্রিসে।
২০. ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ কথাটি প্রথম কোন রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ব্যবহার করেন?
উত্তর: লিবনিজ।
২১. রাষ্ট্রচিন্তার প্রথম প্রকাশ কোন দেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের হাত ধরে ঘটে?
উত্তর: প্রাচীন গ্রিসের।
২২. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিবর্তনের ইতিহাসের সঙ্গে কে ওতপ্রোতভাবে জড়িত?
উত্তর: ফ্রান্সিস লাইবার।
২৩. গ্রিক শব্দ ‘পোলিস’ (Polis) এর অর্থ কী?
উত্তর: নগররাষ্ট্র।
২৪. ‘পলিটিকস’ কথাটি কোন গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে?
উত্তর: পলিস।
২৫. অ্যারিস্টটল তাঁর ‘পলিটিকস’ গ্রন্থে কটি রাষ্ট্র বা সংবিধানের কথা বলেছেন?
উত্তর: ১৫৮টি।
২৬. প্রাচীন গ্রিসের দুজন খ্যতনামা দার্শনিকের নাম লেখো।
উত্তর: প্লেটো ও অ্যারিস্টটল।
২৭. রাষ্ট্রবিজ্ঞান কোন ধরনের বিজ্ঞান?
উত্তর: সামাজিক বিজ্ঞান।
2৮. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: অ্যারিস্টটলকে।
২৯. ‘পলিটিকস’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: অ্যারিস্টটল।
৩০. “রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি প্রগতিশীল বিজ্ঞান”— এ কথা কে বলেছেন?
উত্তর: লর্ড ব্রাইস।
৩১. রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেমন শাস্ত্র?
উত্তর: গতিশীল শাস্ত্র।
৩২. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ব্যবহারিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত বিষয় কী?
উত্তর: রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
৩৩. ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তর: প্লেটো।
৩৪. প্রাচীন গ্রিসে কোন ধরনের রাষ্ট্র ছিল?
উত্তর: নগররাষ্ট্র।
৩৫. ‘এ গ্রামার অফ পলিটিকস’ গ্রন্থটির লেখক কে?
উত্তর: এইচ. জে. লাস্কি।
৩৬. ‘The Elements of Politics’ গ্রন্থটির প্রণেতা কে?
উত্তর: সিজউইক।
৩৭. রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে ‘একটি নগর ও নাগরিক বিষয়ক শৃঙ্খলা’ কে বলেছেন?
উত্তর: গ্রিক দার্শনিকগণ।
৩৮. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলোচনার একজন প্রবক্তা কে?
উত্তর: ডেভিড ইস্টন।
৩৯. ‘The Founder of Scientific Politics’ বা ‘বৈজ্ঞানিক রাজনীতির জনক’ কাকে বলা হয়?
উত্তর: মাকিয়াভেলিকে।
৪০. থমাস হবসের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?
উত্তর: লেভিয়াথান।
৪১. হবস কোন ধরনের শাসনব্যবস্থার সমর্থক ছিলেন?
উত্তর: রাজতন্ত্র।
৪২. জন লক কোন অধিকারগুলিকে ব্যক্তির স্বাভাবিক অধিকার বলেছেন?
উত্তর: জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার।
৪৩. ‘সাধারণ ইচ্ছা’ (General Will) ধারণার প্রবক্তা কে?
উত্তর: রুশো।
৪৪. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?
উত্তর: মন্তেস্কু।
৪৫. মন্তেস্কুর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: দ্য স্পিরিট অফ লজ।
৪৬. ‘The Six Books of Commonwealth’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: বোঁদা।
৪৭. বোঁদার মতে রাষ্ট্র কিসের বৃহত্তর রূপ?
উত্তর: পরিবার সংগঠন।
৪৮. রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কে মার্কস ও এঙ্গেলসের মত কী নামে পরিচিত?
উত্তর: মার্কসবাদ।
৪৯. মার্কস কোন উপাদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন?
উত্তর: অর্থনৈতিক।
৫০. “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো রাষ্ট্রের জীবন ও ঘটনাবলি সম্পর্কিত বিজ্ঞান”— কে বলেছেন?
উত্তর: ব্লুন্টशলি।
৫১. “রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শুরু ও শেষ রাষ্ট্রকে নিয়ে”— উক্তিটি কার?
উত্তর: গার্নার।
৫২. কে রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেননি?
উত্তর: বার্জেস।
৫৩. প্রাচীন রোমের একজন বিখ্যাত রাষ্ট্রচিন্তাবিদের নাম লেখো।
উত্তর: সিসেরো।
৫৪. রাজার উদ্ভব ও ক্ষমতার উৎস সম্পর্কে কোন শাস্ত্রে আলোচনা হয়েছে?
উত্তর: অর্থশাস্ত্রে।
৫৫. ‘অর্থশাস্ত্র’-এর রচয়িতা কে?
উত্তর: কৌটিল্য।
৫৬. আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: মাকিয়াভেলিকে।
৫৭. নীতিশাস্ত্র থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে কে সর্বপ্রথম আলাদা করেন?
উত্তর: মাকিয়াভেলি।
৫৮. মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংঘ কত সালে গড়ে ওঠে?
উত্তর: ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে।
৫৯. ম্যাকিয়াভেলি রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে কিসের প্রভাব থেকে মুক্ত করেন?
উত্তর: ধর্ম ও নীতিশাস্ত্রের প্রভাব থেকে।
৬০. আধুনিক উদারনীতিবাদী ভাবনার একজন তাত্ত্বিক কে?
উত্তর: জন স্টুয়ার্ট মিল।
৬১. ‘সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক পরিমাণ হিতসাধন’—তত্ত্বটি কার?
উত্তর: জেরেমি বেন্থাম।
৬২. বেন্থামের হিতবাদকে কে সংশোধন করেন?
উত্তর: জন স্টুয়ার্ট মিল।
৬৩. একজন জার্মান ভাববাদী রাষ্ট্রচিন্তাবিদের নাম লেখো।
উত্তর: গেয়র্গ হেগেল।
৬৪. রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সার্বভৌমত্ব তত্ত্বের ধারণার অবতারণা করেন কোন ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী?
উত্তর: জঁ বোদাঁ।
৬৫. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘সাৰ্বিক ধারণা’র একজন প্রবক্তা কে?
উত্তর: হ্যারল্ড ল্যাসওয়েল।
৬৬. একজন নয়া-উদারনীতিবাদী তাত্ত্বিকের নাম লেখো।
উত্তর: رবার্ট নোজিক।
৬৭. শিকাগো গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত একজন আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কে?
উত্তর: ডেভিড ট্রুম্যান।
৬৮. ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে সমাজবিজ্ঞান গবেষণা পর্ষদ-এর সভাপতি কে নির্বাচিত হন?
উত্তর: ডেভিড ইস্টন।
৬৯. আচরণবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কোন তত্ত্বের উদ্ভব হয়?
উত্তর: উত্তর-আচরণবাদ।
৭০. রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর বিস্ময় হিসেবে পরিচিত কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী?
উত্তর: ডেভিড ইস্টন।
৭১. আচরণবাদের উদ্ভব কোন শতকে হয়?
উত্তর: বিংশ শতকে।
৭২. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের সম্পর্ক কেমন?
উত্তর: ইতিবাচক।
৭৩. আচরণবাদীদের মূল আলোচ্য বিষয় কী?
উত্তর: political দলগুলির আচরণ।
৭৪. ‘Human Nature in Politics’ গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: গ্রাহাম ওয়ালাস।
৭৫. ‘The Process of Government’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: আর্থার বেন্টলি।
৭৬. ‘System Analysis of Political Life’ গ্রন্থের লেখক কে?
উত্তর: ডেভিড ইস্টন।
৭৭. ‘Political System’ গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: ডেভিড ইস্টন।
৭৮. জন রলসের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?
উত্তর: A Theory of Justice.
৭৯. ‘সীমিত রাষ্ট্র’ (Minimal State)-এর ধারণা কে দেন?
উত্তর: রবার্ট নোজিক।
৮০. ‘Anarchy, State and Utopia’ গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: রবার্ট নোজিক।
৮১. ‘Madness of Civilization’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: উত্তর-আধুনিকতাবাদী মিশেল ফুকো।
৮২. ‘A Vindication of the Rights of Women’ গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: মেরি উলস্টোনক্র্যাফট।
৮৩. ‘The Second Sex’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
উত্তর: সিমোন দ্য বোভোয়ার।
৮৪. আচরণবাদ নীতিগত মূল্যবিদ্যা থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে মুক্ত করার পক্ষপাতী—একথা কে বলেছেন?
উত্তর: হ্যারল্ড ল্যাসওয়েল।
৮৫. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ মূল্যমান-নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা সম্ভব বলে মনে করেন কারা?
উত্তর: আচরণবাদীরা।
৮৬. ‘Systematic Politics’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: চার্লস মেরিয়াম।
৮৭. “রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো রাষ্ট্র ও সরকার”—একথা কে বলেছেন?
উত্তর: গিলক্রিস্ট।
৮৮. কার মতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেবলমাত্র সরকারকে নিয়ে আলোচনা করে?
উত্তর: স্টিফেন লিকক।
৮৯. রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে আবহবিজ্ঞানের সঙ্গে তুলনা করেছেন কে?
উত্তর: লর্ড ব্রাইস।
৯০. রাজনীতিতে অর্থনীতির গুরুত্ব প্রথম কে তুলে ধরেন?
উত্তর: কার্ল মার্কস।
৯১. “যেখানে রাজনীতি সেখানেই বিরোধ”—উক্তিটি কার?
উত্তর: অ্যালান বল।
৯২. “রাজনীতি হলো সমাজের প্রতিরোধ”—কে মনে করেন?
উত্তর: ডেভিড মিলার।
৯৩. রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে প্রথম কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পায়?
উত্তর: কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)।
৯৪. ‘পলিটিক্যাল সায়েন্স কোয়ার্টারলি’ পত্রিকা কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
৯৫. রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাস্ত্রের সর্বপ্রথম প্রকাশিত পত্রিকাটির নাম কী?
উত্তর: পলিটিক্যাল সায়েন্স কোয়ার্টারলি।
৯৬. “কী আছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেবল তা নিয়েই আলোচনা করে না, কী হওয়া উচিত তাও স্থির করে দেয়”—উক্তিটি কার?
উত্তর: লর্ড ব্রাইস।
৯৭. ‘রাষ্ট্রকে যারা স্পর্শ করে তারাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান’—কে বলেছেন?
উত্তর: র্যাফেল।
৯৮. হিতবাদী তত্ত্বের মূল প্রবক্তা কে?
উত্তর: জেরেমি বেন্থাম।
৯৯. ‘সাধারণ ইচ্ছা’ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
উত্তর: জঁ জ্যাক রুশো।
১০০. আধুনিক যুগের দুজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম লেখো।
উত্তর: নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি এবং হ্যারল্ড ল্যাসওয়েল।
১০১. উদারনীতিবাদের দুজন প্রবক্তা কে?
উত্তর: জন লক ও জন স্টুয়ার্ট মিল।
১০২. ফরাসি বিপ্লব কত খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল?
উত্তর: ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
১০৩. ‘Civil Liberty and Self Government’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: ফ্রান্সিস লাইবার।
১০৪. আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান কোন পদ্ধতির ওপর জোর দেয়?
উত্তর: আলোচনা পদ্ধতি।
১০৫. সমাজবিজ্ঞান পর্ষদ কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে।
১০৬. রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে ‘বিজ্ঞান’ বলতে অস্বীকার করেছেন কে?
উত্তর: মেইটল্যান্ড।
১০৭. কার মতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে?
উত্তর: গেটেল।
১০৮. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞান সুসংবদ্ধ ও শিক্ষাদানযোগ্য—একথা কে বলেছেন?
উত্তর: আর্নেস্ট বার্কার।
১০৯. নয়া উদারনীতিবাদের প্রবক্তা কাকে বলা হয়?
উত্তর: রবার্ট নোজিক-কে।
১১০. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সঙ্গে ‘ভিত্তি ও উপরি কাঠামো’র আলোচনাকে যুক্ত করেছেন কারা?
উত্তর: মার্কসবাদীরা।
১১১. ‘Modern Politics and Government’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: অ্যালান বল।
১১২. ডেভিড ইস্টন রাজনীতি বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: মূল্যের কর্তৃত্বমূলক বণ্টন।
১১৩. ‘দাস ক্যাপিটাল’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: কার্ল মার্কস।
১১৪. ‘Public Opinion’ গ্রন্থটির লেখক কে?
উত্তর: ওয়াল্টার লিপম্যান।
১১৫. প্যারিসে কত খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে।
১১৬. ‘Politics and Social Science’ গ্রন্থের লেখক কে?
উত্তর: ম্যাকেনঞ্জি।
১১৭. সংকীর্ণ অর্থে রাজনীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: political দলগুলির দ্বারা political ক্ষমতা দখলের কৌশল।