শেরশাহ: শাসন ব্যবস্থা ও সংস্কার: Sher Shah: Administration and Reforms:
ভূমিকা:
ভারতের মধ্যযুগীয় ইতিহাসে যে কজন শাসক নিজেদের অসাধারণ শাসনদক্ষতা এবং দূরদর্শিতার কারণে অমর হয়ে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সম্রাট শেরশাহ সূরি (Sher Shah Suri) অন্যতম। মাত্র পাঁচ বছর (১৫৪০–১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্ব করলেও, তিনি ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে কনৌজের যুদ্ধে পরাজিত করে তিনি দিল্লিতে দ্বিতীয় আফগান সাম্রাজ্য বা সূরি বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
অধ্যাপক কে. আর. কানুনগোর মতে, “শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা ছিল মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রগতিশীল শাসন ব্যবস্থা।” তিনি কেবল একজন দিগ্বিজয়ী বীরই ছিলেন না, বরং একাধারে দক্ষ প্রশাসক, দূরদর্শী সংস্কারক এবং প্রজাবৎসল সম্রাট ছিলেন। পরবর্তীকালে মুঘল সম্রাট আকবর তাঁর বিখ্যাত শাসন ব্যবস্থার বহু অংশই শেরশাহের কাঠামো থেকে ধার করেছিলেন। এই কারণে শেরশাহকে ‘আকবরের অগ্রদূত’ বলা হয়। এই নিবন্ধে আমরা শেরশাহের শাসন ব্যবস্থার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করব।
শেরশাহের কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা (Central Administration)
শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা ছিল মূলত স্বৈরতান্ত্রিক ও কেন্দ্রাভিমুখী। সমস্ত ক্ষমতার উৎস ছিলেন স্বয়ং সম্রাট। তবে তাঁর স্বৈরতন্ত্র ছিল জনকল্যাণকামী। শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি সমগ্র প্রশাসনকে কয়েকটি প্রধান সরকারি বিভাগে বিভক্ত করেছিলেন। প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বে একজন করে বিশ্বস্ত মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিযুক্ত থাকতেন।
প্রধান সরকারি বিভাগসমূহ:
- দিওয়ান-ই-ওয়াজিরাত (Diwan-i-Wizarat): এটি ছিল মূলত অর্থ বিভাগ। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয় এবং রাজস্ব ব্যবস্থার তদারকি করা ছিল এই বিভাগের প্রধান কাজ। এর প্রধানকে বলা হতো ‘ওয়াজির’।
- দিওয়ান-ই-আরিজ (Diwan-i-Ariz): এটি ছিল সামরিক বিভাগ। সেনাবাহিনীর নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, রসদ সরবরাহ এবং শৃঙ্খলার দায়িত্ব ছিল এই বিভাগের ওপর।
- দিওয়ান-ই-রসালাত (Diwan-i-Rasalat): এই বিভাগটি বিদেশি রাষ্ট্র ও রাজদূতদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা এবং পররাষ্ট্র নীতি দেখাশোনা করত।
- দিওয়ান-ই-ইনশা (Diwan-i-Insha): এটি ছিল সরকারি চিঠিপত্র এবং রাজকীয় আদেশ (ফরমান) লিখন ও নথিবদ্ধকরণের বিভাগ।
প্রাদেশিক ও স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা (Provincial & Local Administration)
শেরশাহ তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য একটি বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। তিনি সমগ্র সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রশাসনিক স্তরে ভাগ করেন:
┌────────────────────────┐
│ সাম্রাজ্য (Emperor) │
└───────────┬────────────┘
▼
┌────────────────────────┐
│ সরকার (Sarkar) │
└───────────┬────────────┘
▼
┌────────────────────────┐
│ পরগনা (Pargana) │
└───────────┬────────────┘
▼
┌────────────────────────┐
│ গ্রাম (Village) │
└────────────────────────┘
সরকার (Sarkar)
সাম্রাজ্যকে কয়েকটি জেলা বা ‘সরকার’-এ বিভক্ত করা হয়েছিল। শেরশাহের অধীনে মোট ৪৭টি ‘সরকার’ ছিল (মতান্তরে পাঞ্জাবের বাইরে ৬৬টি)। প্রতিটি সরকারের প্রধান দুই কর্মকর্তা ছিলেন:
- শিকদার-ই-শিকদারান: তিনি ছিলেন প্রধান সামরিক কর্মকর্তা। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল।
- মুন্সিফ-ই-মুন্সিফান: তিনি ছিলেন প্রধান দেওয়ানি বিচারক ও রাজস্ব পরিদর্শক।
পরগনা (Pargana)
প্রতিটি ‘সরকার’ আবার কয়েকটি ‘পরগনা’ বা থানায় বিভক্ত ছিল। পরগনার প্রধান কর্মকর্তারা হলেন:
- শিকদার: পরগনার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজস্ব আদায়ে সাহায্য করা।
- আমিন বা মুন্সিফ: ভূমি জরিপ ও রাজস্ব নির্ধারণ করা।
- ফতেদার: পরগনার কোষাধ্যক্ষ বা ক্যাশিয়ার।
- কারকুন: ফার্সি ও হিন্দি ভাষায় হিসাবরক্ষক।
গ্রামীণ শাসন ব্যবস্থা (Village Administration)
শাসনের সর্বনিম্ন স্তর ছিল গ্রাম। শেরশাহ গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। গ্রামের প্রধান বা ‘মুকদ্দম’ বা ‘চৌধুরী’ এবং হিসাবরক্ষক ‘পাটওয়ারী’ গ্রামীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজস্ব আদায়ের কাজ দেখাশোনা করতেন।
ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা ও কৃষি সংস্কার (Land Revenue Reforms)
শেরশাহের শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল তাঁর ভূমি রাজস্ব সংস্কার। কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রজাহিতৈষী নীতি গ্রহণ করেন।
| সংস্কারের বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| ১. জমি জরিপ | শেরশাহ সিকান্দরি গজ (৩২ ইঞ্চি) এবং জরিব (রশি) ব্যবহার করে সাম্রাজ্যের সমস্ত চাষযোগ্য জমি সঠিকভাবে পরিমাপ করার ব্যবস্থা করেন। |
| ২. জমির শ্রেণীবিভাগ | উর্বরতার ওপর ভিত্তি করে জমিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়—উত্তম, মধ্যম ও অনুত্তম। |
| ৩. রাজস্বের হার | উৎপাদিত ফসলের গড় মূল্যের ১/৩ অংশ (এক-তৃতীয়াংশ) রাজস্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। কৃষকরা নগদ টাকা বা শস্য—যেকোনো মাধ্যমে এই রাজস্ব দিতে পারত। |
| ৪. রায়তওয়ারী ব্যবস্থা | মধ্যস্বত্বভোগীদের অত্যাচার বন্ধ করতে শেরশাহ সরাসরি কৃষকদের সাথে রাষ্ট্রের যোগাযোগ স্থাপন করেন, যা ‘রায়তওয়ারী ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত। |
কবুলিয়ত ও পাট্টা (Kabubliyat & Patta)
কৃষকদের অধিকার সুরক্ষায় শেরশাহ দুটি ঐতিহাসিক দলিল প্রবর্তন করেন:
- পাট্টা: এটি ছিল রাষ্ট্র কর্তৃক কৃষককে দেওয়া একটি অধিকারপত্র বা সরকারি দলিল, যেখানে কৃষকের নাম, জমির পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট রাজস্বের হার লিখিত থাকত।
- কবুলিয়ত: পাট্টা পাওয়ার পর কৃষকরা নির্দিষ্ট রাজস্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারকে যে সম্মতিপত্র সই করে দিত, তাকে ‘কবুলিয়ত’ বলা হতো।
সামরিক সংস্কার ও দাগ-হুলিয়া প্রথা (Military Reforms)
একটি শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী ছাড়া সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব অসম্ভব—এটি শেরশাহ ভালোভাবেই জানতেন। তাই তিনি সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক রদবদল ঘটান:
- স্থায়ী সেনাবাহিনী: তিনি সুলতানি আমলের জায়গিরদারি প্রথার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরাসরি কেন্দ্রের অধীনে একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন।
- দাগ ও হুলিয়া প্রথা (Dag and Huliya): আলাউদ্দিন খিলজীর সামরিক নীতি অনুসরণ করে শেরশাহ সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি রুখতে ঘোড়া চিহ্নিতকরণের জন্য ‘দাগ’ প্রথা এবং প্রতিটি সৈনিকের শারীরিক বিবরণ নথিবদ্ধ করার জন্য ‘হুলিয়া’ প্রথার কড়াকড়ি পুনর্নবীকরণ করেন।
- নগদ বেতন: সৈন্যদের জায়গিরের পরিবর্তে সরাসরি রাজকোষ থেকে নগদ অর্থ বা বেতনের ব্যবস্থা করা হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (Communication and Transport)
ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি এবং দ্রুত সামরিক যাতায়াতের জন্য শেরশাহ ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন।
গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (Grand Trunk Road / GT Road)
শেরশাহের যোগাযোগ ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ‘সড়ক-ই-আজম’, যা আজকের দিনে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (Grand Trunk Road) নামে বিশ্ববিখ্যাত। এটি পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) সোনারগাঁও থেকে শুরু করে কলকাতা, দিল্লি ও লাহোর হয়ে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল (প্রায় ১৫০০ মাইল)। এছাড়া তিনি আগ্রা থেকে বোরহানপুর, আগ্রা থেকে যোধপুর এবং লাহোর থেকে মূলতান পর্যন্ত বহু সংযোগকারী সড়ক নির্মাণ করেন।
সরাইখানা ও ডাক চৌকি (Sarais and Postal System)
- সরাইখানা: পথিক ও ব্যবসায়ীদের বিশ্রামের জন্য সড়কের ধারে প্রতি দুই ক্রোশ (প্রায় ৪ মাইল) অন্তর অন্তর প্রায় ১,৭০০টি সরাইখানা বা পান্থশালা নির্মাণ করা হয়। এখানে হিন্দু ও মুসলিমদের জন্য পৃথক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
- ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা: এই সরাইখানাগুলো একই সাথে ‘ডাক চৌকি’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ঘোড়সওয়ার ডাকবাহকদের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে রাজকীয় খবরাখবর আদান-প্রদান করা হতো।
বিচার ও পুলিশ ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তা
শেরশাহের বিচার ব্যবস্থা ছিল নিরপেক্ষ ও কঠোর। আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই সমান ছিল।
- বিচার ব্যবস্থা: সুলতান নিজে প্রতি বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বা সর্বোচ্চ আদালতে বিচার করতেন। পরগনা স্তরে ‘মুন্সিফ’ এবং সরকার স্তরে ‘মুন্সিফ-ই-মুন্সিফান’ দেওয়ানি মামলার বিচার করতেন। ফৌজদারি মামলার জন্য কাজি ও মুফতিরা নিযুক্ত ছিলেন।
- পুলিশ ব্যবস্থা ও যৌথ দায়িত্ব নীতি: শেরশাহ পৃথক কোনো পুলিশ বাহিনী গঠন করেননি; সামরিক কর্মকর্তারাও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করতেন। তবে তিনি ‘যৌথ দায়িত্ব নীতি’ চালু করেন। কোনো গ্রামে চুরি বা ডাকাতি হলে, সেই গ্রামের প্রধান বা ‘মুকদ্দম’-কে চোর ধরতে হতো। চোর ধরতে না পারলে প্রধানকে সেই ক্ষতির জরিমানা দিতে হতো। এই কঠোর নিয়মের ফলে সাম্রাজ্যে অপরাধের সংখ্যা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছিল।
মুদ্রা ও বাণিজ্য সংস্কার (Currency & Trade)
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে শেরশাহ পুরনো জরাজীর্ণ মুদ্রা ব্যবস্থা বাতিল করে এক নতুন ও বৈজ্ঞানিক মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করেন।
- টাকা ও দাম: তিনি ১৭৮ গ্রেন ওজনের খাঁটি রুপোর মুদ্রা চালু করেন, যার নাম দেওয়া হয় ‘রুপিয়া’ বা ‘টাকা’ (Rupia)। এর পাশাপাশি তিনি কপার বা তামার তৈরি ‘দাম’ (Dam) নামক মুদ্রারও প্রচলন করেন। এই মুদ্রা ব্যবস্থা এতটাই নিখুঁত ছিল যে পরবর্তীকালে মুঘল এবং ব্রিটিশ আমলেও এর কাঠামো বজায় রাখা হয়েছিল।
- শুল্ক মুক্ত বাণিজ্য: শেরশাহ সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে যত্রতত্র শুল্ক আদায় বন্ধ করে দেন। কেবল পণ্য উৎপাদনের স্থানে এবং দেশের সীমান্তে—এই দুই জায়গায় শুল্ক নেওয়া হতো, যা বাণিজ্যের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
শেরশাহ ও আকবরের শাসন ব্যবস্থার তুলনামূলক
| শাসনের ক্ষেত্র | শেরশাহের অবদান | আকবরের পরবর্তী রূপান্তর |
| ভূমি রাজস্ব | জমি জরিপ করে ফসলের ১/৩ অংশ রাজস্ব নির্ধারণ করেন (পাট্টা ও কবুলিয়ত)। | শেরশাহের এই ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই টোডরমল ‘জাবতি প্রথা’ বা দহশালা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। |
| সামরিক বাহিনী | ‘দাগ’ ও ‘হুলিয়া’ প্রথার আধুনিকীকরণ করেন। | এই ব্যবস্থার পরিমার্জন করে আকবর ‘মনসবদারি প্রথা’ চালু করেন। |
| মুদ্রা ব্যবস্থা | খাঁটি রুপোর ‘রুপিয়া’ বা মুদ্রা প্রবর্তন করেন। | মুঘল মুদ্রা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে এটিই গৃহীত হয়। |
উপসংহার:
মাত্র পাঁচ বছরের সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালে শেরশাহ যে অসাধারণ শাসন কাঠামো তৈরি করেছিলেন, তা শুধু মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসেই নয়, আধুনিক ভারতের অনেক প্রশাসনিক সংস্কারের অনুপ্রেরণা। ইংরেজ ঐতিহাসিক এইচ. জি. কিন (H.G. Keene) যথার্থই বলেছেন:
“কোনো মহান রাজাই শেরশাহের চেয়ে বেশি প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পারেননি।”
তিনি সংকীর্ণ ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেছিলেন। তাঁর তৈরি ভূমি রাজস্ব, মুদ্রা এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই বলা যায়, শেরশাহ কেবল দিল্লির সুলতানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রজাদের প্রকৃত হিতৈষী এক মহান রাষ্ট্রনায়ক।