বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ: অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্নোত্তর. Air Pressure Belts and Air Currents.
নমস্কার বন্ধুরা, gkpathya.in-এ তোমাদের স্বাগতম। আজকে আমরা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণীর ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বায়ুর চলাচল ও চাপের তারতম্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক প্রক্রিয়া। সূর্যের তাপ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সমানভাবে পড়ে না, ফলে কোথাও বায়ু গরম হয়ে হালকা হয় এবং কোথাও ঠান্ডা হয়ে ভারী হয়। এই তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে পৃথিবীর উপর বিভিন্ন বায়ুচাপ বলয় (Pressure Belts) সৃষ্টি হয়।
এই বায়ুচাপ বলয়গুলির মধ্যে বায়ুর চলাচলই হলো বায়ুপ্রবাহ (Wind System)। বায়ু সবসময় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এই প্রবাহের মাধ্যমে পৃথিবীর জলবায়ু, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, মরুভূমি গঠন প্রভৃতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
অতএব, বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মানবজীবনের উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
আরো পড়ুন: পৃথিবীর গতি: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি
বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ: এক কথায় উত্তর :
১. নিয়ত বায়ু কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: নিয়ত বায়ু তিন প্রকার, যথা— আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।
২. কোন বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলির পশ্চিম দিকে মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: আয়ন বায়ুর প্রভাবে।
৩. ITCZ কী?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলে যেখানে মিলিত হয়, তাকে ITCZ (Intertropical Convergence Zone) বলে।
৪. ITCZ-এর অন্য নাম কী?
উত্তর: ITCZ-এর অন্য নাম নিরক্ষীয় শান্তবলয়।
৫. নিয়ত বায়ু কাকে বলে?
উত্তর: সারাবছর ধরে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে একই দিকে এবং একই গতিবেগে প্রবাহিত বায়ুকে নিয়ত বায়ু বলে।
৬. চিনুক শব্দের অর্থ কী? এটি কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: চিনুক শব্দের অর্থ ‘তুষার ভক্ষক’। উত্তর আমেরিকার রকি পার্বত্য অঞ্চলে চিনুক দেখা যায়।
৭. চিনুক বায়ুর প্রকৃতি কেমন?
উত্তর: চিনুক বায়ুর প্রকৃতি শুষ্ক ও উষ্ণ।
৮. বোরা কেমন বায়ু?
উত্তর: বোরা হলো এক প্রকার শুষ্ক ও শীতল প্রকৃতির বায়ু।
৯. কর্কটীয় ও মকরীয় অঞ্চলে কোন ধরনের বায়ুচাপ বলয় অবস্থান করে?
উত্তর: উচ্চচাপ বলয় অবস্থান করে।
১০. পম্পেরো কী?
উত্তর: পম্পেরো এক ধরনের স্থানীয় বায়ু।
১১. পম্পেরো কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ থেকে পম্পেরো বায়ুর উৎপত্তি লাভ করে।
১২. আমাদের রাজ্যে গরমকালে বিকেলের দিকে কোন ঝড় হয়?
উত্তর: কালবৈশাখী ঝড় হয়।
১৩. নিরক্ষীয় অঞ্চলে কী ধরনের বায়ুচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে।
১৪. বায়ুর গতিবেগ কোন যন্ত্রের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায়?
উত্তর: অ্যানিমোমিটার যন্ত্রের মাধ্যমে।
১৫. মেরু বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়?
উত্তর: উভয় গোলার্ধের মেরু অঞ্চল থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলের দিকে মেরু বায়ু প্রবাহিত হয়।
১৬. বায়ু চলাচলের অন্যতম প্রধান কারণ কী?
উত্তর: দুটি অঞ্চলের মধ্যে বায়ুচাপের পার্থক্য হলো বায়ু চলাচলের অন্যতম প্রধান কারণ।
১৭. মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলে বায়ুর চাপ সাধারণত কেমন থাকে?
উত্তর: মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলে বায়ুর চাপ সাধারণত নিম্নচাপ থাকে।
১৮. আয়ন বায়ুর আরেক নাম কী?
উত্তর: আয়ন বায়ুর আরেক নাম বাণিজ্য বায়ু।
১৯. মিস্ট্রাল কোন প্রকার বায়ু?
উত্তর: মিস্ট্রাল একটি স্থানীয় শীতল বায়ু।
২০. কোন অঞ্চলে সর্বদা উচ্চচাপ বিরাজ করে?
উত্তর: মেরু অঞ্চলে সর্বদা উচ্চচাপ বিরাজ করে।
২১. বায়ুপ্রবাহ কী?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ুর আনুভূমিক চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
২২. বায়ুস্রোত কী?
উত্তর: বায়ুর উল্লম্ব বা খাড়া চলাচলকে বায়ুস্রোত বলে।
২৩. কোন অঞ্চলকে ডোলড্রামস বলে?
উত্তর: নিরক্ষীয় নিম্নচাপ শান্তবলয়কে ডোলড্রামস বলে।
২৪. অশ্ব অক্ষাংশ কোন অঞ্চলকে বলে?
উত্তর: ২৫° – ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
২৫. কোরিওলিস বল কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: কোরিওলিস বল বায়ুপ্রবাহের দিকের সাথে সমকোণে কাজ করে।
২৬. বায়ুপ্রবাহের কীভাবে নামকরণ হয়?
উত্তর: বায়ু যে দিক থেকে প্রবাহিত হয় সেই দিক অনুযায়ী বায়ুর নামকরণ হয়।
২৭. বাইস ব্যালট সূত্র কবে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে বাইস ব্যালট সূত্র আবিষ্কৃত হয়।
২৮. নিরক্ষীয় অঞ্চল কোনটি?
উত্তর: নিরক্ষরেখার দু-পাশে ০° থেকে ৫° অক্ষরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল হলো নিরক্ষীয় অঞ্চল।
২৯. সিরক্কো কেমন বায়ু? এর প্রভাবে আফ্রিকার উপকূল কেমন হয়?
উত্তর: সিরক্কো শুষ্ক, উষ্ণ ও ধূলিপূর্ণ বায়ু। এর প্রভাবে আফ্রিকার উত্তর উপকূল শুষ্ক ও ধূলিপূর্ণ হয়।
৩০. ‘ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ’ কী?
উত্তর: ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর প্রচণ্ড গতিতে প্রবাহিত পশ্চিমাবায়ুকে ‘ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ’ বলে।
৩১. ‘তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট’ কী?
উত্তর: ৬০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর তীক্ষ্ণ শব্দে প্রবাহিত পশ্চিমাবায়ুকে ‘তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট’ বলা হয়।
৩২. আয়ন বায়ুর অপর নাম কী?
উত্তর: আয়ন বায়ুর অপর নাম বাণিজ্য বায়ু।
৩৩. ITCZ কী?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর মিলন অঞ্চলকে আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল বা ITCZ বলে। এর পুরো নাম ইন্টার ট্রপিক্যাল কনভারজেন্স জোন।
৩৪. সাময়িক বায়ু কাকে বলে?
উত্তর: যে বায়ু বছরের একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে কিংবা দিন ও রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাহিত হয়, তাকে সাময়িক বায়ু বলে। যেমন— মৌসুমি বায়ু।
৩৫. উত্তর গোলার্ধে আয়ন বায়ুর গতিবেগ কত?
উত্তর: উত্তর গোলার্ধে আয়ন বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬ কিমি।
৩৬. বায়ুর উষ্ণতার প্রধান উৎস কী?
উত্তর: বায়ুর উষ্ণতার প্রধান উৎস হলো সূর্য।
৩৭. মেরু বায়ুর কারণে কোথায় তুষারঝড় সৃষ্টি হয়?
উত্তর: মেরু বায়ুর কারণে রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় তুষারঝড় সৃষ্টি হয়।
৩৮. ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ কী?
উত্তর: ৪০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর পশ্চিম থেকে পূর্বে সশব্দে প্রবাহিত পশ্চিমাবায়ু ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ নামে পরিচিত।
৩৯. আয়ন বায়ুর প্রভাবে কোন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটে না?
উত্তর: আয়ন বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলির পশ্চিম অংশে বৃষ্টিপাত ঘটে না।
৪০. পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহ পথে কী সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহ পথে মহাদেশগুলির পূর্ব ও মধ্য অংশে নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে।
৪১. ITCZ কী?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলে মিলিত হয়ে যে অভিসরণ অঞ্চল তৈরি করে, তাই ITCZ।
৪২. ফন কোথায় প্রবাহিত হয়?
উত্তর: ফন আল্পস পার্বত্য অঞ্চলের উত্তর ঢাল বেয়ে নিচে নেমে মধ্য ইউরোপে প্রবাহিত হয়।
৪৩. তুন্দ্রা অঞ্চলে শীতকাল কতদিন স্থায়ী হয়?
উত্তর: তুন্দ্রা অঞ্চলে শীতকাল সাধারণত ৮-৯ মাস স্থায়ী হয়।
৪৪. সাময়িক বায়ু কখন প্রবাহিত হয়?
উত্তর: সাময়িক বায়ু বছরের নির্দিষ্ট ঋতুতে কিংবা দিন ও রাতের নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাহিত হয়।
৪৫. ভারতে প্রবাহিত দুটি স্থানীয় বায়ুর নাম উল্লেখ করো।
উত্তর: লু (Loo) ও আঁধি।
৪৬. কোথায় সবচেয়ে বেশি স্থানীয় বায়ুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে সবচেয়ে বেশি স্থানীয় বায়ুর প্রাধান্য দেখা যায়।
৪৭. উত্তর আমেরিকার রকি পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ুর নাম কী?
উত্তর: চিনুক।
৪৮. কোন ধরনের ঘূর্ণবাতের সাথে মেঘমুক্ত, শুষ্ক ও রোদঝলমলে অবস্থা যুক্ত থাকে?
উত্তর: প্রতীপ ঘূর্ণবাতের সাথে।
৪৯. সিরক্কো বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়ে থাকে?
উত্তর: সিরক্কো বায়ু সাহারা মরুভূমি থেকে লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয়।
৫০. আকস্মিক বায়ুর উদাহরণ দাও।
উত্তর: ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত হলো আকস্মিক বায়ুর উদাহরণ।
৫১. সমুদ্রবায়ুর প্রভাব কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: সমুদ্রের উপকূলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রায় ১৫০ কিমি পর্যন্ত সমুদ্রবায়ুর প্রভাব দেখা যায়।
৫২. স্থলবায়ুর প্রভাব কখন বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: স্থলবায়ুর প্রভাব সাধারণত ভোররাতের দিকে বৃদ্ধি পায়।
৫৩. কাকে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর বৃহৎ সংস্করণ বলা হয়?
উত্তর: মৌসুমি বায়ুকে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর বৃহৎ সংস্করণ বলা হয়।
৫৪. চিনুক বায়ুর প্রভাবে কোথায় পশুপালন হয়?
উত্তর: চিনুক বায়ুর প্রভাবে উত্তর আমেরিকার প্রেইরি তৃণভূমি অঞ্চলে পশুপালন করা সহজ হয়।
আরো পড়ুন: পৃথিবীর অন্দরমহল: স্তরবিন্যাস, বৈশিষ্ট্য ও বিস্তারিত আলোচনা
বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ: অতি সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)
১. ফন বায়ুর প্রকৃতি কীরূপ? এই বায়ুর প্রভাবে কী হয়?
উত্তর: ফন (Foehn) বায়ুর প্রকৃতি শুষ্ক ও উষ্ণ। এই বায়ুর প্রভাবে মধ্য ইউরোপের তাপমাত্রা খুব অল্প সময়ের মধ্যে বেড়ে গিয়ে জমে থাকা বরফ গলিয়ে দেয় এবং অনেক সময় বনাঞ্চলে দাবানলের সৃষ্টি করে।
২. হারমাটান বায়ু কেমন? এটি কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: হারমাটান (Harmattan) বায়ু অত্যন্ত শুষ্ক ও উষ্ণ। এই বায়ু উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার পূর্ব দিক থেকে গিনি উপকূলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
৩. হারমাটানকে ‘The Doctor’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ক্রান্তীয় অঞ্চলের অস্বস্তিকর গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াকে হারমাটান বায়ু তার শুষ্কতা দিয়ে আরামদায়ক করে তোলে। এই স্বস্তিদায়ক প্রভাবের কারণেই একে ‘The Doctor’ বলা হয়।
৪. বোরা কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: আল্পস পর্বতের দক্ষিণ ঢাল বরাবর নিচের দিকে নেমে এসে আদ্রিয়াটিক উপকূলবর্তী অঞ্চলে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।
৫. শীতকালীন মৌসুমি বায়ু কাকে বলে?
উত্তর: শীতকালে স্থলভাগ থেকে যে শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে শীতকালীন মৌসুমি বায়ু বলে।
৬. গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু কাকে বলে?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়, একে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু বলে।
৭. ঘূর্ণবাত কাকে বলে?
উত্তর: কোনো স্বল্পপরিসর জায়গায় উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ বায়ুর চাপ কমে গিয়ে কেন্দ্রে শক্তিশালী নিম্নচাপ এবং বাইরে উচ্চচাপ সৃষ্টি হলে, উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু কেন্দ্রের দিকে প্রবল গতিতে ছুটে আসে। একেই ঘূর্ণবাত বলে।
৮. আকস্মিক বায়ু কী?
উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে চাপের পার্থক্যের কারণে হঠাৎ করে অনিয়মিতভাবে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে আকস্মিক বায়ু বলে।
৯. পৃথিবীপৃষ্ঠের একই জায়গায় বায়ুর উষ্ণতা ও চাপের পরিবর্তন ঘটে কেন?
উত্তর: সূর্যের বার্ষিক আপাত গতির কারণে একই জায়গায় প্রতিদিন মধ্যাহ্নে সূর্যরশ্মির পতন কোণের মান সমান হয় না। ফলে সেই স্থানের বায়ুর উষ্ণতা ও চাপের তারতম্য ঘটে।
১০. সূর্যের আপাত বার্ষিক গতির কারণে নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে কী হয়?
উত্তর: এর ফলে নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের বায়ুচাপ বলয়গুলো মেরুবৃত্ত ও মেরুদেশীয় বায়ুচাপ বলয়গুলোর তুলনায় তুলনামূলক বেশি স্থান পরিবর্তন করে।
১১. বাইস ব্যালটের সূত্রটি কী?
উত্তর: ১৮৫৭ সালে ডাচ আবহবিদ বাইস ব্যালট এটি আবিষ্কার করেন। সূত্রানুসারে, উত্তর গোলার্ধে বায়ু যেদিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে সেদিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে ডানদিকে উচ্চচাপ এবং বামদিকে নিম্নচাপ অনুভূত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা ঘটে।
১২. অ্যানাবেটিক বায়ু কাকে বলে?
উত্তর: দিনের বেলা সূর্যতাপে পার্বত্য উপত্যকার ঢালের বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এই ঊর্ধ্বগামী বায়ুকে উপত্যকা বায়ু বা অ্যানাবেটিক বায়ু বলে।
১৩. ক্যাটাবেটিক বায়ু কাকে বলে?
উত্তর: রাত্রিবেলা তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতের ওপরের ঢালের বায়ু দ্রুত শীতল ও ভারী হয়ে উপত্যকার নিচে নামতে থাকে। একে পার্বত্য বায়ু বা ক্যাটাবেটিক বায়ু বলে।
১৪. বায়ুচাপ বলয় কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠের ওপর নির্দিষ্ট দূরত্বের ব্যবধানে সমধর্মী বায়ুস্তর হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে পৃথিবীকে বলয়ের আকারে বেষ্টন করে থাকে, একে বায়ুচাপ বলয় বলে।
১৫. বাতাসে ঘুড়ি উড়তে পারে কেন?
উত্তর: ঘুড়ি ওড়ানোর সময় গতিশীল বাতাস ঘুড়ির ওপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল বা চাপ সৃষ্টি করে যা ঘুড়িকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
১৬. নিরক্ষীয় শান্তবলয় কাকে বলে?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণ ও হালকা বায়ু সোজা ওপরের দিকে উঠে যায় (বায়ুস্রোত), ফলে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনো বায়ু প্রবাহিত হয় না। এই শান্ত আবহাওয়ার কারণে একে নিরক্ষীয় শান্তবলয় বলে।
১৭. ডোলড্রামস (Doldrums) নামকরণের কারণ কী?
উত্তর: প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজগুলো এই শান্ত অঞ্চলে এসে বাতাসের অভাবে গতিহীন হয়ে পড়ত। তাই নাবিকরা এই অঞ্চলের নাম দিয়েছিলেন ‘ডোলড্রামস’ বা শান্ত অবস্থা।
বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ: রচনাধর্মী ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (LAQ)
১. চিত্রসহ পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলির পরিচয় দাও।
উত্তর: পৃথিবীতে মোট সাতটি বায়ুচাপ বলয় রয়েছে:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (১০° উ: – ১০° দ:): লম্ব সূর্যরশ্মি ও অধিক জলীয় বাষ্পের কারণে এখানে নিম্নচাপ তৈরি হয়।
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (২৫° – ৩৫° উ: ও দ:): নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ু শীতল ও সংকুচিত হয়ে এখানে নেমে আসে বলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়।
- সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় (৬০° – ৭০° উ: ও দ:): পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে বায়ু ছিটকে যাওয়ায় এখানে নিম্নচাপ হয়।
- সুমেরু ও কুমেরু উচ্চচাপ বলয় (৮০° – ৯০° উ: ও দ:): প্রচণ্ড ঠান্ডার জন্য বাতাস এখানে অত্যন্ত ভারী ও সংকুচিত থাকে।

অশ্ব অক্ষাংশ ও বাণিজ্য বায়ু
২. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) নামকরণের কারণ কী?
উত্তর: ২৫° থেকে ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে বায়ুর কোনো সমান্তরাল প্রবাহ না থাকায় প্রাচীনকালে ঘোড়াভর্তি জাহাজগুলো গতিহীন হয়ে পড়ত। পানীয় জল ও খাবারের সংকট এড়াতে এবং জাহাজের ভার কমাতে নাবিকরা জ্যান্ত ঘোড়া সমুদ্রে ফেলে দিতেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে একে ‘অশ্ব অক্ষাংশ’ বলে।
৩. আয়ন বায়ু (Trade Wind) কাকে বলে?
উত্তর: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিয়মিতভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে আয়ন বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
৪. মৌসুমি বায়ুকে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর বৃহৎ সংস্করণ বলা হয় কেন?
- উত্তর: সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু যেমন প্রতিদিনের তাপমাত্রার পার্থক্যে সৃষ্টি হয়, মৌসুমি বায়ু ঠিক তেমনি ঋতুভেদে (শীত ও গ্রীষ্ম) বিশাল এলাকা জুড়ে স্থলভাগ ও জলভাগের উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়। এর কার্যপদ্ধতি সমুদ্র ও স্থলবায়ুর মতোই বৃহৎ পরিসরে ঘটে বলে একে ‘বৃহৎ সংস্করণ’ বলা হয়।
সংক্ষেপে মনে রাখার টিপস:
- উষ্ণতা বাড়লে চাপ কমে।
- উচ্চতা বাড়লে চাপ কমে।
- জলীয় বাষ্প বাড়লে চাপ কমে।
বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহের বিস্তারিত আলোচনা
১. মেরু অঞ্চলে দুটি উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টির কারণ কী?
- অত্যধিক শীতলতা: এই অঞ্চল সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে, ফলে বাতাস ভীষণ শীতল ও ভারী হয়।
- জলীয় বাষ্পের অভাব: প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না বললেই চলে, যা বায়ুর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
- বায়ুর অবরোহন: মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উঠে আসা বায়ুর কিছু অংশ এখানে নেমে আসে, ফলে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
২. নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টির কারণ কী?
- লম্ব সূর্যরশ্মি: এখানে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়।
- জলভাগের আধিক্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে জলভাগ বেশি হওয়ায় বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু শুষ্ক বায়ুর চেয়ে হালকা হয়।
- পৃথিবীর আবর্তন: নিরক্ষরেখায় আবর্তন গতি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় বায়ু দুই পাশে (উত্তরে ও দক্ষিণে) ছিটকে যায়, ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায়।
৩. কর্কটীয় ও মকরীয় অঞ্চলে উচ্চচাপ বলয় কেন সৃষ্টি হয়?
- বায়ুর নিমজ্জন: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ বায়ু ওপরে উঠে শীতল ও ভারী হয় এবং পৃথিবীর আবর্তনের কারণে এই ক্রান্তীয় অঞ্চলে নেমে আসে।
- মেরুর বায়ুর প্রভাব: মেরু অঞ্চল থেকে আসা শীতল বায়ুও এই অঞ্চলে মিলিত হয়।
- ঘনত্ব বৃদ্ধি: দুই দিক থেকে আসা বায়ু এখানে জমা হওয়ায় বায়ুর পরিমাণ ও ঘনত্ব বেড়ে যায়, ফলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়।
৪. আয়ন বায়ুর প্রভাবে মহাদেশের পশ্চিমাংশে মরুভূমি কেন সৃষ্টি হয়েছে?
আয়ন বায়ু যখন সাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন প্রচুর জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে মহাদেশের পূর্ব উপকূলে বৃষ্টি ঘটায়। কিন্তু এই বায়ু যখন মহাদেশের পশ্চিম দিকে পৌঁছায়, তখন তাতে আর জলীয় বাষ্প থাকে না। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মহাদেশের পশ্চিমাংশে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে (যেমন— আফ্রিকার সাহারা ও কালাহারি)।
৫. সমুদ্র বায়ু ও স্থলবায়ু সৃষ্টির কারণ কী?
| বৈশিষ্ট্য | সমুদ্র বায়ু (Sea Breeze) | স্থলবায়ু (Land Breeze) |
| প্রবাহের সময় | দিনের বেলা (বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায়) প্রবাহিত হয়। | রাত্রিবেলা (বিশেষ করে শেষরাত ও ভোরে) প্রবাহিত হয়। |
| উৎপত্তি | সমুদ্র বা জলভাগ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। | স্থলভাগ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। |
| অভিমুখ | সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। | স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। |
| প্রকৃতি | এই বায়ু শীতল ও আর্দ্র (জলীয় বাষ্পযুক্ত) হয়। | এই বায়ু শুষ্ক ও ঠান্ডা হয়। |
| প্রভাব | উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা কমিয়ে আরামদায়ক করে। | উপকূলীয় আবহাওয়াকে খুব একটা প্রভাবিত করে না। |
৬. ফেরেলের সূত্র ও কোরিওলিস বল বলতে কী বোঝো?
- কোরিওলিস বল: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে যে বল তৈরি হয়, তাকে কোরিওলিস বল বলে। এটি বায়ুর গতির দিক পরিবর্তন করে।
- ফেরেলের সূত্র: এই বলের প্রভাবে বায়ু সোজাপথে না চলে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। একেই ফেরেলের সূত্র বলে।
৭. ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য কী?
| বৈশিষ্ট্য | ঘূর্ণবাত (Cyclone) | প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone) |
| বায়ুর চাপ | কেন্দ্রে নিম্নচাপ এবং বাইরে উচ্চচাপ থাকে। | কেন্দ্রে উচ্চচাপ এবং বাইরে নিম্নচাপ থাকে। |
| বায়ুর অভিমুখ | বায়ু বাইরে থেকে কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। | বায়ু কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়। |
| আবহাওয়ার প্রকৃতি | প্রবল ঝড়, বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখা যায়। | আকাশ পরিষ্কার, শান্ত ও রোদঝলমলে আবহাওয়া থাকে। |
| ঘূর্ণনের দিক | উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং দক্ষিণে কাঁটার দিকে। | উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং দক্ষিণে কাঁটার বিপরীতে। |
| স্থায়িত্ব | এটি স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী। | এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং ধীরগতিসম্পন্ন। |
৮. বায়ুচাপের তারতম্যের কারণগুলি আলোচনা করো।
বায়ুচাপ সব জায়গায় সমান না হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
- উষ্ণতা: উষ্ণ বায়ু হালকা ও শীতল বায়ু ভারী হয়।
- জলীয় বাষ্প: বায়ুতে জলীয় বাষ্প বাড়লে বায়ু হালকা হয়ে যায়।
- উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ওপরে উঠলে বায়ুস্তর পাতলা হয়, ফলে চাপ কমে।
- পৃথিবীর আবর্তন: আবর্তন গতির কারণে বায়ু বিক্ষিপ্ত হয়ে চাপের পরিবর্তন ঘটায়।
- জলভাগ ও স্থলভাগ: উভয়ের তাপ গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় বায়ুচাপের পার্থক্য হয়।
৯. অ্যানাবেটিক ও ক্যাটাবেটিক বায়ুর মূল পার্থক্য কী?
| বৈশিষ্ট্য | অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind) | ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind) |
| অন্য নাম | একে উপত্যকা বায়ু বলা হয়। | একে পার্বত্য বায়ু বলা হয়। |
| সময় | মূলত দিনের বেলা সূর্যতাপে প্রবাহিত হয়। | মূলত রাত্রিবেলা তাপ বিকিরণের ফলে প্রবাহিত হয়। |
| প্রবাহের দিক | বায়ু নিচ থেকে পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে ওঠে। | বায়ু ওপর থেকে পর্বতের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নামে। |
| কারণ | উপত্যকার বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে ওঠে। | পর্বতের ওপরের বায়ু শীতল ও ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে। |
বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুস্রোতের পার্থক্য কী?
| বৈশিষ্ট্য | বায়ুপ্রবাহ (Wind) | বায়ুস্রোত (Air Current) |
| চলাচলের দিক | বায়ু ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে আনুভূমিকভাবে চলাচল করে। | বায়ু ভূপৃষ্ঠের সাথে লম্বভাবে উল্লম্বভাবে চলাচল করে। |
| কারণ | বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়। | উষ্ণতার পার্থক্যে পরিচলন পদ্ধতিতে সৃষ্টি হয়। |
| অনুভব | এটি সহজেই অনুভব করা যায় এবং এর গতিবেগ মাপা যায়। | এটি সহজে অনুভব করা যায় না। |
আয়ন বায়ু ও পশ্চিমা বায়ুর পার্থক্য কী?
| বৈশিষ্ট্য | আয়ন বায়ু (Trade Wind) | পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) |
| উৎস | কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উৎপন্ন হয়। | কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উৎপন্ন হয়। |
| গন্তব্য | নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। | মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। |
| বৃষ্টিপাত | মহাদেশের পূর্ব উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। | মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। |
| মরুভূমি সৃষ্টি | মহাদেশের পশ্চিমাংশে মরুভূমি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। | এটি মূলত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলকে প্রভাবিত করে। |
উপসংহার:
বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি মৌলিক নিয়ামক। বায়ুচাপের পার্থক্যের ফলে বায়ুর সঞ্চালন ঘটে এবং এর মাধ্যমেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর বৈচিত্র্য, বৃষ্টিপাতের ধরণ এবং মরুভূমির বিস্তার নির্ধারিত হয়।
অতএব, এই অধ্যায়টি শুধু তাত্ত্বিক নয়, বাস্তব জীবনে আবহাওয়া ও কৃষির ওপর এর গভীর প্রভাব রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।