ভারতের জরুরি অবস্থা: The Emergency in India.

ভারতের জরুরি অবস্থা: The Emergency in India.

ভারতের সংবিধান প্রণেতারা রাষ্ট্রের ঐক্য, অখণ্ডতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে জরুরি অবস্থার বিশেষ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সাধারণ পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বিভাজন থাকলেও, অসাধারণ সংকটকালে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অধিক কার্যকর ও কেন্দ্রীভূত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই কারণেই সংবিধানের ৩৫২, ৩৫৬ ও ৩৬০ নং ধারায় যথাক্রমে জাতীয় জরুরি অবস্থা, রাজ্য জরুরি অবস্থা (রাষ্ট্রপতি শাসন) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থার বিধান রাখা হয়েছে। যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহের ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়; কোনো রাজ্যে সংবিধানসম্মত শাসন ব্যাহত হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়; এবং দেশের আর্থিক স্থিতি বিপন্ন হলে আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষিত হতে পারে। তবে এই বিশেষ ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংসদের অনুমোদন, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষার মতো সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণও নির্ধারিত রয়েছে।

Table of Contents

জাতীয় জরুরি অবস্থা [National Emergency (352 নং ধারা)]:

  • ভারতীয় সংবিধানের 352 নং ধারা অনুসারে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা দেশের মধ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহের ফলস্বরূপ সমগ্র রাষ্ট্রে অথবা রাষ্ট্রের কোনো অংশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে অথবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে যদি রাষ্ট্রপতি মনে করেন তবে তিনি সমগ্র রাষ্ট্রে অথবা রাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট অংশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
  • 1976 সালে 42তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে ভারতের যে-কোনো অংশে আংশিক জরুরি অবস্থা জারী করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
  • আবার, 1978 সালের 44তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে মূল সংবিধানে ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগে’র পরিবর্তে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’ কথাটি সংযোজিত হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সশস্ত্র বিদ্রোহের ব্যাখ্যা সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়নি। 44তম সংশোধনী আইনে আরো বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার লিখিত সুপারিশ ছাড়া রাষ্ট্রপতি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন না।

জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার শর্তাবলি ও মেয়াদ:

জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে যেসমস্ত শর্তাবলি প্রযোজ্য সেগুলি হল-

  1. জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা সংসদের উভয় কক্ষে এক মাসের মধ্যে অনুমোদিত হতে হবে। অন্যথায় ওই ঘোষণা বাতিল হিসাবে গণ্য হবে।
  2. জাতীয় জরুরি অবস্থার ঘোষণা সংসদের প্রতিটি কক্ষে মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ, উপস্থিত ও ভোটপ্রদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ কর্তৃক সমর্থিত হওয়া প্রয়োজন।
  3. সংসদে অনুমোদিত হলে জাতীয় জরুরি অবস্থা 6 মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে। তবে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থার মেয়াদ পুনরায় 6 মাসের জন্য বৃদ্ধি করা যায়।
  4. সর্বাধিক কতদিন পর্যন্ত জাতীয় জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকতে পারে সে বিষয়ে সংবিধানে কোনো সুস্পষ্ট বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
  5. লোকসভার একদশমাংশ সদস্য জরুরি অবস্থার বিষয়ে আলোচনার জন্য নোটিশ দিলে 14 দিনের মধ্যে লোকসভায় বিশেষ অধিবেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

জাতীয় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার:

রাষ্ট্রপতির ঘোষণার মাধ্যমে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। লোকসভা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাস করলে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করতে হয়।

জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলাফল:

জাতীয় জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকাকালীন শাসনব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসে। জরুরি অবস্থা চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা ও প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। যেসমস্ত ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় সেগুলি হল-

  • সংসদ রাজ্য তালিকাভুক্ত যে-কোনো বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে। রাষ্ট্রপতি ওই বিষয়ে প্রয়োজনে অর্ডিনান্স জারি করতে পারেন।
  • রাজ্যগুলির শাসনকার্য পরিচালনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দিতে পারে।
  • লোকসভার মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করা যায়।
  • রাষ্ট্রপতি কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজস্ব বণ্টন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন।
  • সংসদ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করতে পারে। তবে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহৃত হলে রাজ্য বিধানসভা এবং লোকসভার মেয়াদ 6 মাসের বেশি কার্যকর থাকে না।
  • মৌলিক অধিকার কার্যকর করার জন্য সংবিধানের 32 এবং 226 নং ধারায় বর্ণিত আদালতের দারস্থ হওয়ার অধিকার রাষ্ট্রপতি বাতিল করতে পারেন।
  • এই সময় রাষ্ট্রপতি মৌলিক অধিকারগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী খর্ব করতে পারেন (ধারা 20 ও 21 ব্যাতীত)।
  • কেবলমাত্র বহিরাগত কারণে জরুরি অবস্থার সময় 19 নং ধারা স্থগিত রাখা যেতে পারে, কিন্তু আভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থার কারনে এই ধারা স্থগিত রাখা যায় না।

জাতীয় জাতীয় জরুরি অবস্থাসমূহ:

এখনো পর্যন্ত তিন বার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে-

  • 1962 সালের অক্টোবর মাসে ভারত-চিন যুদ্ধের সময়।
  • 1971 সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়।
  • 1975 সালের জুন মাসে অভ্যন্তরীণ গোলযোগের সময়। (Internal Rebellion).

রাজ্য জরুরি অবস্থা [State Emergency (356 নং ধারা)]:

ভারতীয় সংবিধানের 356 নং ধারা অনুযায়ী কোনো রাজ্যের রাজাপাল অথবা অন্য কোনো সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি যদি অবহিত হন যে, সেই রাজ্যের শাসনব্যবস্থা সংবিধান অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে না বা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না, সেই ক্ষেত্রে তিনি ওই রাজ্যে জরুরি অবস্থা বা শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। এইরূপ জরুরি অবস্থাকে সাধারণভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন (President’s Rule) বলা হয়। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান করেন।

রাজ্য জরুরি অবস্থার মেয়াদ:

কোনো অঙ্গরাজ্যে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে প্রথমাবস্থায় 6 মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। প্রয়োজনবোধে তা পরিবর্তীকালে আরো 6 মাস বৃদ্ধি করা যায়। ঘোষণাটিকে সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদের দ্বারা দু-মাসের মধ্যে অনুমোদিত হওয়া প্রয়োজন। এই জরুরি অবস্থার মেয়াদ সর্বাধিক 3 বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

রাজ্য জরুরি অবস্থার শর্তাবলি:

রাজ্য জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলি নিম্নরূপ-

  • অঙ্গরাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চলাকালীন রাষ্ট্রপতি সেই অঙ্গরাজ্যের বিধানসভা চালুও রাখতে পারেন আবার ভেঙেও দিতে পারেন।
  • সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের যাবতীয় শাসনকার্যের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি নিজে পালন করতে পারেন অথবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের ওপর অর্পণ করতে পারেন।
  • কোনো রাজ্যের শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা ঘোষণা করা হলে সেই রাজ্যের হাইকোর্টের কোনোপ্রকার ক্ষমতায় রাষ্ট্রপতি হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।
  • কোনো রাজ্যে জরুরি অবস্থা চলাকালীন লোকসভা অধিবেশন বন্ধ থাকলে রাষ্ট্রপতি সংসদের অনুমোদনসাপেক্ষ ভারতের সঞ্চিত তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জন্যে অর্থব্যয়ের অনুমতি দিতে পারেন।
  • কোনো অঙ্গরাজ্যের সরকার যদি ধর্মনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ না করে তাহলেও অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
  • প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, রাজ্যে জরুরি অবস্থা চলাকালীন সংসদ রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে।

আর্থিক জরুরি অবস্থা [Financial Emergency (360 নং ধারা)]:

  • সংবিধানের 360 নং ধারা অনুসারে ভারতবর্ষে অথবা তার কোনো অংশে যদি আর্থিক স্থায়িত্ব ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তাহলে রাষ্ট্রপতি আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
  • আর্থিক জরুরি অবস্থার ঘোষণাটিকে সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দ্বারা 2 মাসের মধ্যে অনুমোদিত হতে হয়।
  • একবার অনুমোদনপ্রাপ্ত হলে আর্থিক জরুরি অবস্থা 6 মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে তবে প্রয়োজন অনুসারে আর্থিক জরুরি অবস্থার মেয়াদ পুনরায় 6 মাসের জন্য বৃদ্ধি করা যায়।
  • সর্বাধিক কতদিন পর্যন্ত এই আর্থিক জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকতে পারে সে বিষয়ে সংবিধানে কোনো সুস্পষ্ট বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

আর্থিক জরুরি অবস্থা প্রয়োগ ও ফলাফল:

আর্থিক জরুরি অবস্থা প্রয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হল-

  • এই ঘোষণার ক্ষেত্রে সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
  • আর্থিক জরুরি অবস্থা জারি থাকাকালীন রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অধীন সকল শ্রেণির অথবা বিশেষ কোনো শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন অথবা ভাতা হ্রাস করতে পারেন।
  • আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণাকালীন সময়ে কেন্দ্রে, রাজ্যগুলিকে আর্থিক সমীচীনতা নীতি সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারে।
  • কেন্দ্র, রাজ্য আইনসভা দ্বারা গৃহীত সকল প্রকার অর্থবিলকে রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই বিলগুলি রাষ্ট্রপতির ভিটো ক্ষমতার অধীনস্ত হয়।

আজ পর্যন্ত আর্থিক জরুরী অবস্থা জারী হয়নি।

জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন:

সংশোধনীসালমূল বিষয়
38তম1975রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি চূড়ান্ত
42তম1976আংশিক জরুরি অবস্থা
44তম1978সশস্ত্র বিদ্রোহ, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা
68তম1991রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বৃদ্ধি
  • As on 2020, according to a RTI reply from the Ministry Home Affairs (MHA). President’s rule was impose maximum number of times in Uttar Pradesh (10 times) while President’s rule was in force for maximum number of days in Punjab.
  • By the 44th Amendment of 1978, “internal disturbance” was replaced with “armed rebellion”. Because from the experience of Emergency on grounds of Internal Disturbance done by Indira Gandhi in 1975, it was thought that disturbance” was a vague term and it could be misused.

জাতীয় জরুরি অবস্থা (ধারা 352), রাজ্য জরুরি অবস্থা (ধারা 356)আর্থিক জরুরি অবস্থা (ধারা 360)-র একটি তুলনামূলক আলোচনা:

বিষয়জাতীয় জরুরি অবস্থা (352)রাজ্য জরুরি অবস্থা (356)আর্থিক জরুরি অবস্থা (360)
সংশ্লিষ্ট ধারা352356360
ঘোষণার কারণযুদ্ধ, বহিরাক্রমণ, সশস্ত্র বিদ্রোহরাজ্যে সংবিধান অনুযায়ী শাসন সম্ভব নয়দেশের আর্থিক স্থিতি বিপন্ন
ঘোষণা করেনরাষ্ট্রপতিরাষ্ট্রপতিরাষ্ট্রপতি
মন্ত্রিসভার সুপারিশলিখিত সুপারিশ আবশ্যকপ্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেনমন্ত্রিসভার পরামর্শে
সংসদের অনুমোদন১ মাসের মধ্যে২ মাসের মধ্যে২ মাসের মধ্যে
প্রাথমিক মেয়াদ৬ মাস৬ মাস৬ মাস
সর্বোচ্চ মেয়াদনির্দিষ্ট নয়সর্বোচ্চ ৩ বছরনির্দিষ্ট নয়
কেন্দ্রের ক্ষমতারাজ্য তালিকায় আইন করতে পারেসংসদ রাজ্যের হয়ে আইন করেকেন্দ্র রাজ্যকে আর্থিক নির্দেশ দিতে পারে
বিধানসভামেয়াদ বাড়ানো যায়ভেঙে দেওয়া/স্থগিত রাখা যায়প্রযোজ্য নয়
মৌলিক অধিকারধারা 20 ও 21 স্থগিত নয়প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
বাস্তব প্রয়োগ৩ বার ঘোষিতবহুবার প্রয়োগকখনও প্রয়োগ হয়নি

ভারতের জরুরি অবস্থা (Emergency Provisions) থেকে পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ SAQ:

১. জাতীয় জরুরি অবস্থা কোন ধারায় উল্লেখ আছে?

উঃ ভারতীয় সংবিধানের ৩৫২ নং ধারায়।

২. জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ কী?

উঃ যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহ।

৩. ‘Internal Disturbance’ শব্দটি কোন সংশোধনীতে পরিবর্তিত হয়?

উঃ 44th Constitutional Amendment Act-এ ‘Armed Rebellion’ শব্দ ব্যবহৃত হয়।

৪. আংশিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা কোন সংশোধনীতে দেওয়া হয়?

উঃ 42nd Constitutional Amendment Act।

৫. জাতীয় জরুরি অবস্থা কত দিনের মধ্যে সংসদে অনুমোদিত হতে হয়?

উঃ ১ মাসের মধ্যে।

৬. একবার অনুমোদিত হলে জাতীয় জরুরি অবস্থা কতদিন বলবৎ থাকে?

উঃ ৬ মাস।

৭. জাতীয় জরুরি অবস্থায় কোন মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যায় না?

উঃ ধারা ২০ ও ২১।

৮. ধারা ১৯ কখন স্থগিত করা যায়?

উঃ কেবল বহিরাক্রমণ বা যুদ্ধের ক্ষেত্রে।

৯. এখন পর্যন্ত কতবার জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে?

উঃ ৩ বার (১৯৬২, ১৯৭১, ১৯৭৫)।

১০. ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা কার সময় জারি হয়?

উঃ Indira Gandhi-র আমলে।

১১. রাজ্য জরুরি অবস্থা কোন ধারায় উল্লেখ আছে?

উঃ ৩৫৬ নং ধারায়।

১২. রাজ্য জরুরি অবস্থাকে আর কী বলা হয়?

উঃ রাষ্ট্রপতি শাসন (President’s Rule)।

১৩. রাজ্য জরুরি অবস্থা প্রথমে কতদিনের জন্য জারি হয়?

উঃ ৬ মাস।

১৪. রাজ্য জরুরি অবস্থার সর্বোচ্চ মেয়াদ কত?

উঃ ৩ বছর।

১৫. রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চলাকালীন কে আইন প্রণয়ন করে?

উঃ সংসদ।

১৬. আর্থিক জরুরি অবস্থা কোন ধারায় উল্লেখ আছে?

উঃ ৩৬০ নং ধারায়।

১৭. আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ কী?

উঃ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হলে।

১৮. আর্থিক জরুরি অবস্থায় কার বেতন কমানো যেতে পারে?

উঃ কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের।

১৯. ভারতে কি কখনো আর্থিক জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে?

উঃ না, আজ পর্যন্ত হয়নি।

২০. ৩৮তম সংশোধনীর প্রধান বিষয় কী?

উঃ জরুরি অবস্থা ঘোষণায় রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টিকে চূড়ান্ত বলা হয়েছিল।

GKpathya.in হল সাধারণ জ্ঞান, সমসাময়িক বিষয় ও পরীক্ষামুখী তথ্যের ভাণ্ডার। আমি সুকান্ত দাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে এম.এ এবং পেশায় শিক্ষক। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য সহজ ও নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করি।

error: Content is protected !!